বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কুমিল্লা নগরের অন্তত তিন বিশিষ্ট ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, পূজামণ্ডপের ঘটনায় পুলিশের তদন্তে অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে। কাউন্সিলর সোহেল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পূজামণ্ডপের বিষয়টির যোগসূত্র থাকা অমূলক নয়।

পবিত্র কোরআন অবমাননা ও কারা এর প্ররোচনা দিয়েছেন, সেটি নিয়ে এখনই কিছু বলতে চাই না। তদন্ত চলছে। কোনো জনপ্রতিনিধির যোগসূত্র ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
খান মুহাম্মদ রেজোয়ান, বিশেষ পুলিশ সুপার, সিআইডি

জানতে চাইলে কুমিল্লা ও নোয়াখালী বিভাগের সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার খান মুহাম্মদ রেজোয়ান প্রথম আলোকে বলেন, ‘পবিত্র কোরআন অবমাননা ও কারা এর প্ররোচনা দিয়েছেন, সেটি নিয়ে এখনই কিছু বলতে চাই না। তদন্ত চলছে। কোনো জনপ্রতিনিধির যোগসূত্র ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা র‌্যাব ও পুলিশ এ নিয়ে ভাবছে না। তারা কাউন্সিলর সোহেল ও তাঁর সহযোগী হরিপদ সাহা হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারে তৎপর।

গতকাল বৃহস্পতিবার হত্যা মামলার ৯ নম্বর আসামি মাসুমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বেলা একটায় কুমিল্লার চান্দিনা বাসস্ট্যান্ডের অদূরে দেবীদ্বার সড়ক থেকে মাসুমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বাড়ি নগরের সংরাইশ বেকারি গলি এলাকায়। আগের দিন এজাহারনামীয় আসামি সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে গতকাল মানববন্ধন করেছেন মেয়র ও কাউন্সিলররা। বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত টানা আধা ঘণ্টা কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সামনে ওই মানববন্ধন হয়। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা দাবি করা হয়। এ সময় মেয়র মো. মনিরুল হক বলেন, ‘ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ অন্য আসামিরা গ্রেপ্তার হননি। আমরা সব আসামির গ্রেপ্তার দাবি করছি।’

■ পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখা ব্যক্তি ইকবাল হোসেন কাউন্সিলর সোহেলের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ■ অনেকের মতে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পূজামণ্ডপের বিষয়টির যোগসূত্র থাকা অমূলক নয়।

এদিকে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কুমিল্লা-৬ আসনের সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিন গতকাল দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ চিকিত্সাধীন ব্যক্তিদের দেখতে যান। সেখানে সাংসদ গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘অস্ত্র উদ্ধারের পর বলা হলো, এগুলো সোহেল হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়েছে। আমি বলি, একটা অস্ত্রও সোহেল হত্যায় ব্যবহার করা হয়নি।...এখানে কোনো ডাব্বা ও পিস্তল ব্যবহার করা হয়নি। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অস্ত্র উদ্ধার ও আসামিদের ধরতে হবে।’

জানতে চাইলে র‌্যাব-১১ কুমিল্লার অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন গতকাল বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা একটা ছায়া তদন্ত করছি। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। এগুলো বিশ্লেষণ করছি। আসামি গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

আসামিদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

কাউন্সিলর সোহেল ও তাঁর সহযোগী হরিপদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি নগরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সুজানগর বউবাজার এলাকার বাসিন্দা শাহ আলম। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, পুলিশের ওপর হামলা, মাদক, ছিনতাই, জবরদখল, মারামারিসহ অন্তত ছয়টি মামলা আছে। ১০ বছর আগে শাহ আলমের বাবা জানু মিয়াকে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার পর তাঁর বাবার হত্যাকারীকে তিনি প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেন বলে অভিযোগ আছে। শাহ আলম একসময় ছাত্রশিবিবের রাজনীতি করতেন। এখন তিনি আওয়ামী লীগের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের এক নেতার অনুসারী। দলে তাঁর কোনো পদবি নেই। ২০১৫ সালে মাদক ব্যবসা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাঁর গোলাগুলি হয়। ওই সময় তিনি জখম হন।

মামলার দ্বিতীয় আসামি নবগ্রাম এলাকার সোহেল ওরফে ‘জেল সোহেল’ শাহ আলমের ঘনিষ্ঠ। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। মামলার তৃতীয় আসামি সুজানগর পানির ট্যাংকি এলাকার বাসিন্দা মো. সাব্বির হোসেন শাহ আলমের বন্ধু। তাঁর বিরুদ্ধেও অস্ত্রবাজি, জবরদখল ও মাদকের মামলা রয়েছে। সুমন ও সাজন মাদক মামলার আসামি, আশিকুর রহমান রকির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও মাদকের মামলা আছে। অপর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধেও মামলা আছে।

প্রসঙ্গত, ২২ নভেম্বর বিকেল সাড়ে চারটায় নগরের পাথুরিয়াপাড়া থ্রি স্টার এন্টারপ্রাইজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কাউন্সিলর মো. সোহেল ও তাঁর সহযোগী হরিপদ সাহাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময় আরও কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। এই ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাত সোয়া ১২টায় কাউন্সিলর মো. সোহেলের ছোট ভাই সৈয়দ মো. রুমন বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন