হরতাল চলাকালে নোয়াখালীতে ইটের আঘাতে স্কুলশিক্ষিকার মৃত্যুর জন্য ‘সরকারি এজেন্টদের’ দায়ী করেছে বিএনপি। দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ সোমবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন। তাঁর দাবি, হরতালের আগের রাতে যানবাহনে আগুন দেওয়ার সঙ্গেও সরকারের লোকজন জড়িত। বিরোধী দলের হরতালের বিরুদ্ধে অপবাদ দেয়ার জন্য সরকার ‘অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড’ করছে।

সারা দেশের হরতাল পরিস্থিতি তুলে ধরতে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। মির্জা ফখরুল দাবি করেন, দেশবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে হরতালে সমর্থন দিয়েছে। হরতালকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে অন্তত ৪৪২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন ১১০ জন।

নোয়াখালী শহরের উজ্জ্বলপুর এলাকায় পিকেটারের ছোড়া ইটের আঘাতে শামসুন নাহার (৩৭) নামের এক শিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে। আজ সকাল পৌনে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ​লোকজনের শাস্তি দাবি করে ফখরুল বলেন, ‘নোয়াখালীতে সরকারি এজেন্টদের কর্তৃক স্কুল শিক্ষিকাকে হত্যা করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং এই ঘৃণ্য অপকর্মের সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

হরতালকেন্দ্রিক নাশকতার জন্য সরকারকে দায়ী করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আবারও বিরোধী দলের আন্দোলন থেকে জনদৃষ্টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে সরকার নিখুঁত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। হরতালের প্রাক্কালে গতকাল থেকে পুরোনো কৌশলের পুনরাবৃত্তি করে আবারও যানবাহনে অগ্নিসংযোগ আর পেট্রলবোমা ছুড়ে জীবনহানির ন্যায় মানবতাবিরোধী সহিংস কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সরকারি এজেন্টদের দিয়ে তারা এ ধরনের অমানবিক কর্মকাণ্ড ৫ জানুয়ারির তামাশার নির্বাচনের পূর্বাপর ঘটিয়েছিল।’

গতকাল ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ-এর কার্যালয়ে পুলিশের অভিযান চেষ্টার সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, ‘পুলিশি হানার মাধ্যমে গণমাধ্যমকে চাপ সৃষ্টি করা এই সরকারের একটি চিরচেনা কৌশল। নিউ এজ অফিসে পুলিশি হানার উদ্দেশ্যই হচ্ছে পত্রিকার নির্ভীক সম্পাদক জনাব নুরুল কবিরকে ভয় দেখানো। কারণ সরকার ও শাসকদলের ছাত্রসংগঠনের হুমকির মুখেও জনাব নুরুল কবিরকে তার শাণিত উচ্চারণ থেকে বিরত রাখা যায়নি।’

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন