১৯ বছর পর পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা।

গত শুক্রবার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ হাকিম হাওলাদার ৫৯ সদস্যবিশিষ্ট উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন। তিনি এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি কমিটির আহ্বায়ককে দিয়েছেন। অপর দিকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাংসদ এ কে এম এ আউয়াল এ কমিটিকে অবৈধ আখ্যা দিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, কমিটিতে সাংসদ আউয়ালের অনুসারীদের রাখা হয়নি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে নেছারাবাদ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে নূর মোহাম্মদ হাওলাদারকে সভাপতি এবং এস এম ফুয়াদকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়। ১৯৯৯ সালে নূর মোহাম্মদ হাওলাদারের মৃত্যুর পর সহসভাপতি মো. আবদুল হামিদ প্রথমে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও পরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০ সালে কমিটির মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু নতুন করে কমিটি না করায় ওই কমিটিই দায়িত্ব পালন করে আসছিল। গত শুক্রবার এম এ হাকিম হাওলাদার স্বাক্ষরিত ৫৯ সদস্যবিশিষ্ট নেছারাবাদ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সৈয়দ শহীদ উল আহসানকে আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম মুইদুল ইসলাম, আবদুস সালাম শিকদার, সুব্রত কুমার ঠাকুর, মো. শরিফ আহমেদ এবং এম এ সালাম রেজাকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। ১ নম্বর সদস্য করা হয়েছে সাবেক সাংসদ ও জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক মো. শাহ আলমকে। তবে কমিটিতে স্বরূপকাঠি পৌরসভার মেয়র মো. গোলাম কবিরসহ স্থানীয় সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আউয়ালের অনুসারীদের রাখা হয়নি।

আহ্বায়ক কমিটির তিন-চারজন সদস্য জানান, পিরোজপুর-১ (সদর-নাজিরপুর-নেছারাবাদ) আসনের সাংসদ আউয়াল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। আউয়ালের সঙ্গে তাঁর ভাই পিরোজপুর পৌরসভার মেয়র হাবিবুর রহমান, আরেক ভাই সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান, এম এ হাকিম হাওলাদার ও জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক শাহ আলমের বিরোধ রয়েছে। শাহ আলম তাঁর অনুসারী সৈয়দ শহীদ উল আহসানকে আহ্বায়ক এবং এস এম মুইদুল ইসলামকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক করে পছন্দের লোকদের নিয়ে আহ্বায়ক কমিটি করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে দিয়ে অনুমোদন করেন। তবে এ কমিটিতে আউয়ালের অনুমোদন নেই।

স্বরূপকাঠি পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. গোলাম কবির বলেন, ‘আমরা শুনেছি উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে সবাইকে ডেকে আলোচনা করে কমিটি গঠন করা উচিত ছিল। গোপনে এভাবে কমিটি করার ফলে দলের মধ্যে বিভক্তি দেখা দেবে।’

এ কে এম এ আউয়াল গতকাল রোববার প্রথম আলোকে বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এভাবে আহ্বায়ক কমিটি করতে পারেন না। করে থাকলে ওই কমিটি অবৈধ।

এম এ হাকিম হাওলাদার বলেন, ‘১২ মার্চ দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক চিঠিতে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোর সম্মেলন করার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বলেন। ওই চিঠি পাওয়ার পর গত শুক্রবার নেছারাবাদ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে আগামী ছয় মাসের মধ্যে সম্মেলন করার জন্য বলেছি।’ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দাবি নাকচ করে দিয়ে এম এ হাকিম বলেন, ‘সভাপতি সভায় উপস্থিত থাকেন না। জেলা কমিটি রেজ্যুলেশন করে আমাকে কমিটি করার দায়িত্ব দিয়েছে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন