সন্ত্রাসের বিপক্ষে ও শান্তির পক্ষে ২০ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সারা দেশে গণমিছিল করবে ১৪ দল। এ ছাড়া সন্ত্রাসের বিপক্ষে ২৩ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর কাটাখালীতে সমাবেশ করবে জোটটি।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে গতকাল রোববার ১৪ দলের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো দেশ কখনো কোনো নাশকতা, সন্ত্রাস, জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে আপস করেনি। যদি আপস করত, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আইএস এবং তালেবানের সঙ্গে বৈঠক করত। এর (বিএনপির আন্দোলন) মধ্যে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র আছে। যার কারণে পাকিস্তান দূতাবাসের এক কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি হাতেনাতে ধরা পড়েছেন। এখানে বিএনপি-জামায়াত নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নাশকতা সৃষ্টির জন্য তাঁরা টাকাপয়সা খরচ করছেন। আজকেও (রোববার) পত্রিকায় দেখেন, পাকিস্তানের পিআইএর (পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস) ক্রুদের কাছে অনেক বৈদেশিক ও ভারতীয় মুদ্রা পাওয়া গেছে। তার মানে পাকিস্তান পুরোপুরিভাবে খালেদা জিয়ার আন্দোলনকে সহায়তা দিচ্ছে। কী কারণে? একাত্তরের পরাজয়ের বদলা নিতে।’
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। যারা সন্ত্রাস ও জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত, তাদের সঙ্গে কোনো সংলাপ হবে না।’ ৫ জানুয়ারি বিএনপিকে সমাবেশ করতে না দেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, এখন তিনি (খালেদা জিয়া) যেমন গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান করছেন, ঠিক সে কাজটি করতে চেয়েছিলেন নয়াপল্টনে। তিনি চেয়েছিলেন দেশে একটা অরাজকতা, নাশকতা করে কঠিন অবস্থায় নিয়ে যেতে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘যাঁরাই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন; মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেন, জাতিসংঘ বলেন—প্রত্যেকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।’
সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, আগুন-সন্ত্রাসী ও দানবের সঙ্গে কোনো সংলাপ হতে পারে না।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, কোনো খুনির সঙ্গে, বোমাবাজদের সঙ্গে, শিশু হত্যাকারী ও নারী হত্যাকারীদের সঙ্গে কোনো দিন সংলাপ হবে না।
কর্মসূচি: ২০ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হিসেবে বিকেল চারটায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তন পর্যন্ত গণমিছিল হবে। একই সময়ে দেশের সব বিভাগীয় শহর, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়েও গণমিছিল হবে। গণমিছিল সফল করার জন্য ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করবে ১৪ দল।
১৪ দলের বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আবদুছ ছাত্তার, সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়ুয়া, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ফজলে হোসেন বাদশা, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের ওয়াজেদুল ইসলাম খান, অসিত বরণ রায়, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টির জাকির হোসেন, গণ-আজাদী লীগের এস কে শিকদার প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন