বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন ঘিরে ১২ জেলায় সংঘাত, সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে ২৪ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে নরসিংদী, মাগুরা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও কক্সবাজার—এই পাঁচ জেলায় গুলিতে নিহত হয়েছেন ১৬ জন। বাকি আটজন মারা গেছেন প্রতিপক্ষের পিটুনি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে। যেসব এলাকায় গুলির ঘটনা ঘটেছে, সেসব স্থানে দেশীয় কিছু অস্ত্র উদ্ধার হলেও কোনো আগ্নেয়াস্ত্র পায়নি পুলিশ। সংশ্লিষ্ট এলাকার নির্বাচন কর্মকর্তারাও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালাতে পুলিশকে কোনো তাগিদ দেননি।

জানতে চাইলে সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ভোটের আগেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়ে বৈধ অস্ত্র জমা রাখা ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করতে ইসিকে নির্দেশ দিতে হয়। কিন্তু এখন কোনো কিছুই হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানটিকে এই কমিশন একেবারে ধ্বংস করে দিয়েছে। এরা কেবল তফসিল ঘোষণা করছে আর যে ফলাফল পাঠানো হচ্ছে তাতে সিল মেরে বৈধতা দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ভোটের আগে ও ভোটের দিন আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার কীভাবে হচ্ছে; এর দায় নির্বাচন কমিশনের।

৫ জেলায় গুলিতে নিহত ১৬

দ্বিতীয় ধাপে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে নরসিংদীতে। সদর ও রায়পুরা উপজেলায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সহিংসতায় ৯ জন নিহত হন। এর মধ্যে নির্বাচনের আগে ৬ জন এবং নির্বাচনের দিন সহিংসতায় নিহত হন আরও ৩ জন। এঁদের সবাই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার সম্পর্কে জানতে চাইলে নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাহেব আলী পাঠান প্রথম আলোকে বলেন, তিন চরাঞ্চলে বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়ে পুলিশ আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ টেঁটা, ককটেল ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এ সময় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে উদ্ধারকৃত অস্ত্রের পরিমাণ বলতে পারেননি তিনি।

সহিংসতা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কোনো চিঠি দেওয়া হয়েছিল কি না জানতে চাইলে নরসিংদীর জ্যেষ্ঠ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মেছবাহ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে আলাদা করে কোনো চিঠি দিইনি।’

সদ্য সমাপ্ত ইউপি নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা মাগুরায়। মাগুরা সদর উপজেলার জগদল ইউপি নির্বাচন নিয়ে দুই সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের বিরোধে নির্বাচন-পূর্ব সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এতে চারজন নিহত হন। এরপর পুলিশ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালায়। এ ব্যাপারে মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল হাসান জানান, ঘটনার পর পুলিশ বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি চালিয়ে কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে। আর রিটার্নিং কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলছেন, অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি।

অবশ্য নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। রূপগঞ্জে মুড়াপাড়া ইউপি নির্বাচনে ওয়ার্ড সদস্য প্রার্থীদের বিরোধকে কেন্দ্র করে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়। র‌্যাব অভিযান চালিয়ে একটি শটগান ও ১১টি কার্তুজ উদ্ধার করে। পরে র‌্যাব ও পুলিশ একাধিক অভিযান চালিয়েও কোনো অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি বলে নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (গ সার্কেল) আবির হোসেন জানিয়েছেন।

এ ছাড়া কুমিল্লা ও কক্সবাজারে একজন করে গুলিতে নিহত হন। এসব এলাকাতেও আসামি গ্রেপ্তার, দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার ছাড়া অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ব্যাপারে আর কোনো তৎপরতা নেই। কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার মানিকারচর ইউপিতে সংঘর্ষে গোলাগুলিতে ১ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হন। আহতদের বেশির ভাগের শরীরে গুলির চিহ্ন ছিল। জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, পুলিশ নির্বাচনের দিন তিতাস উপজেলা থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে। মেঘনা থেকে কোনো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়নি।

ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত ৮

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাথুলী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীনারায়ণপুর বিল ধলা গ্রামে দুই গোষ্ঠীর বিরোধের জেরে দুই সহোদর হত্যার ঘটনা ঘটে। ধারালো অস্ত্রের কোপে মারা যান তাঁরা। নির্বাচনের আগে-পরে ধারালো অস্ত্রের কোপে নিহতের ঘটনা আরও আছে। ফরিদপুর, সিলেট, চট্টগ্রাম, পাবনা, গাইবান্ধা ও রংপুরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে একজন করে মোট ছয়জন নিহত হয়েছেন।

ফরিদপুরের সালথায় দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়ে পরে মারা যান মারিজ সিকদার (৩৫) নামের এক ব্যক্তি। গত ২৪ অক্টোবর উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

সালথার থানার ওসি মো. আশিকুজ্জামান বলেন, থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। এ পর্যন্ত ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ঢাল, সড়কি, বল্লমসহ শতাধিক দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গোপালঘাটা ভোটকেন্দ্রের কাছে তিন সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় ছুরিকাঘাতে এক প্রার্থীর সমর্থক মুহাম্মদ শফিউল আলম (৫৫) নামের এক দোকানি নিহত হন। এ ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি মাহবুল আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

[প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার নিজস্ব প্রতিবেদকপ্রতিনিধিরা]

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন