এ সময়সীমার মধ্যেই ১০ বছরের দণ্ড নিয়ে গত শনিবার কঠোর গোপনীয়তায় দেশ ছাড়েন আওয়ামী লীগ নেতা হাজি সেলিম। তাঁর এই দেশত্যাগ নিয়ে সমালোচনা হয়।

হাজি সেলিমের আইনজীবী সাঈদ আহমেদ আজ বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, হাইকোর্ট হাজি সেলিমকে আত্মসমর্পণ করতে ৩০ দিন সময় বেঁধে দিয়েছেন। অর্থাৎ দণ্ডিত হলেও নির্ধারিত ৩০ দিন পর তা কার্যকর হবে। তাই এই সময়ে তিনি একধরনের জামিন সুবিধায় আছেন। হাইকোর্টের রায় বিচারিক আদালত গত ২৫ এপ্রিল গ্রহণ করেন। এ হিসাবে ২৫ মে পর্যন্ত তাঁর আত্মসমর্পণ করার সময় আছে। এ সময়ের মধ্যে বিশেষ করে ১৬ মের পর তিনি বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। পাশাপাশি হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করা হবে।

এর আগে আজ দুপুরে সচিবালয়ে হাজি সেলিমের বিদেশযাত্রা ও দেশে ফেরা নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘তিনি ইমার্জেন্সি চিকিৎসার জন্য ব্যাংককে গিয়েছিলেন। তিনি আবার ফেরত চলে এসেছেন।’

প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আইনগত যেটুকু প্রশ্ন আসে, হাইকোর্ট থেকে এ নির্দেশ দিয়েছিল, তিনি সেসব সামলে রেখেই গেছেন। তিনি একজন মাননীয় সংসদ সদস্য। তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইনকে মাথায় রেখেই তিনি গেছেন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রশ্নের জবাব এভাবেই দিচ্ছি, উনি (হাজি সেলিম) আইন মেনেই গিয়েছিলেন এবং আইন মেনেই ফেরত চলে এসেছেন।’

এদিকে হাজি সেলিমের ঘনিষ্ঠ সূত্রের তথ্যমতে, গত শনিবার বিকেলে হাজি সেলিম হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক যান।

দুর্নীতির ওই মামলায় এক যুগ আগে বিচারিক আদালতের রায়ে সাংসদ হাজি সেলিমের ১৩ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল। সাজার রায়ের বিরুদ্ধে হাজি সেলিম হাইকোর্টে আপিল করেন। এই আপিলের শুনানি নিয়ে গত বছরের ৯ মার্চ হাইকোর্ট রায় দেন। তাতে হাজি সেলিমের ১০ বছরের সাজা বহাল থাকে। গত ফেব্রুয়ারিতে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এরপর হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়সহ নথিপত্র গত ২৫ এপ্রিল বিচারিক আদালতে পাঠানো হয়।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন