বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মির্জা ফখরুল বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষি খাতে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিয়ে মানুষের জীবন বাঁচানো ও ঝুঁকি মোকাবিলার বাজেট চায় বিএনপি। কারণ, সবার আগে জীবন। তাই এবারের বাজেট হওয়া উচিত জীবন বাঁচানোর বাজেট; ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকি মোকাবিলার বাজেট। এবারের বাজেট হবে করোনাভাইরাসের নিয়ন্ত্রণ ও অভিঘাত থেকে উত্তরণের বাজেট।

এবারের (২০২১-২০২২) বাজেটকে কেবল নির্দিষ্ট অর্থবছরের হিসাবের চেয়ে আগামী দিনের অর্থনীতির সুনির্দিষ্ট পথনির্দেশের সূচনাবিন্দু হিসেবে দেখতে চায় বিএনপি। এ জন্য বাজেটে ভবিষ্যতের অর্থনীতির নীতিকৌশল হিসেবে ‘সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ অর্থনীতি’ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার প্রয়োজন বলে মনে করছে তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ২৪ দফা বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। এ সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।

২৪ দফা প্রস্তাবনায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষি খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের কথা তুলে ধরে বিএনপির মহাসচিব বলেন, স্বাস্থ্য খাতকে বাজেটের সর্বাধিক তালিকায় রাখতে হবে। চলমান বৈশ্বিক মহামারি প্রতিরোধ ও চিকিৎসা দুটিই সমানতালে চালিয়ে যাওয়ার জন্য সর্বোত্তম ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ, বৃত্তি প্রদান, প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, কোভিডকালে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষায়তনে আর্থিক সহায়তা প্রদান, গবেষণা ও অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উচ্চশিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের বহুমুখীকরণ, উৎপাদন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, উৎপাদনশীলতা ও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মতো কৌশলগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কৃষি খাতে জিডিপির ৫% অর্থ বরাদ্দ করতে হবে।

২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ২৮ পৃষ্ঠার বাজেট ভাবনায় বিএনপি কর্মহীন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য জিডিপির ৬ থেকে ৭ শতাংশ, ‘দিন আনে দিন খায়’ শ্রেণির মানুষের জন্য রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে ১৫ হাজার টাকা করে তিন মাসের প্রণোদনা প্রদান, নিরপেক্ষভাবে দুস্থ উপকারভোগীর তালিকা প্রণয়ন করে ‘দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা সহায়তা প্যাকেজ’-এর আওতায় আনার প্রস্তাব করেছে।

এ ছাড়া কৃষি কমিশন গঠন, রপ্তানি বহুমুখীকরণে বিকল্প বাজারের অনুসন্ধান, টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় মহামারির মতো সংকট মোকাবিলায় পর্যাপ্তসংখ্যক বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ, জাতীয় স্বাস্থ্য কার্ড চালু, প্রতি জেলায় ডেডিকেটেড সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, করোনাকালে জেলা হাসপাতালগুলোয় করোনা বেড, আইসিইউর সংখ্যা বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় উৎস থেকে বিদেশি অনুদান বাড়ানোর কথাও বাজেট প্রস্তাবনায় উল্লেখ করেছে বিএনপি। শীর্ষ অর্থনীতিবিদদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ে একটি ‘অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদ’ গঠন করতে সরকারের প্রতি বিএনপির পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়।

বিদায়ী অর্থবছরের মতো এবারও মেগা প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দে পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর ও মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করে অর্থ বরাদ্দের নামে দুর্নীতি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ফখরুল। তিনি বলেন, ‘মেগা প্রকল্পের মেগা দুর্নীতির সব কাহিনি আপনারা সবাই জানেন। দেখা গেছে যে সরকার সাধারণ মানুষের সার্বিক আর্থসামাজিক উন্নয়নের চেয়ে মেগা প্রকল্প গ্রহণেই বেশি আগ্রহী।’

কালো টাকা: এরা কারা?

কালো টাকা সাদা করার সরকারি নীতির কঠোর সমালোচনা করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আসছে বাজেটেও কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, যত দিন অপ্রদর্শিত আয় থাকবে, তত দিন এই সুযোগ থাকবে। হরিলুট করে সঞ্চিত কালো টাকা জায়েজ করার দরজা অবারিত করে দিলেন অর্থমন্ত্রী, যা অনৈতিক এবং ন্যায়নীতি মেনে আইন পালনকারী নাগরিকদের প্রতি অবিচার বলে আমরা মনে করি।’

সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, কোভিডকালে এত কালো টাকা কারা আয় করেছেন? জাতি জানতে চায়, এরা কারা? যদিও এরই মধ্যে সরকারদলীয় ও তাদের মদদপুষ্ট অনেক রাঘব বোয়ালের নাম বেরিয়ে পড়েছে। অপ্রদর্শিত আয়ের একটি বিরাট অংশ মানিলন্ডারিং হয়ে যাচ্ছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইনটিগ্রিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশ থেকে অস্বাভাবিক হারে টাকা পাচার বেড়েছে। বছরে লাখো–কোটি টাকার অধিক পাচার হয়। প্রকৃত চিত্র আরও ভয়াবহ। যে পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে, তা দিয়ে চারটি পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্ভব হতো।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা শ্যামা ওবায়েদ, সৈয়দ এমরান সালেহ, শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শামসুজ্জামান দুদু, শওকত মাহমুদ, হারুন আল রশিদ, ইসমাইল জবিউল্লাহ, সুকোমল বড়ুয়া, শাহজাদা মিয়া, তাহসিনা রুশদীর, অনিন্দ্য ইসলাম, জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু প্রমুখ।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন