বিএনপির নেতা-কর্মীদের গুম-খুনের জন্য বর্তমান সরকারকে দায়ী করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘নিখোঁজদের সন্ধান করতে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছি। দেশে বলেছি, আন্তর্জাতিক ফোরামে বলেছি। কোনো লাভ হয়নি। এ কোন রাষ্ট্র? কোন গণতন্ত্র? যে রাষ্ট্র আমার নিখোঁজ ছেলেদের খোঁজ দিতে পারে না।’

গতকাল রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির সিঙ্গাপুর শাখা আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ৩০০ নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে, ৬৫ জনকে গুম করা হয়েছে। এর জবাব শেখ হাসিনাকে দিতে হবে।’

ফখরুল বলেন, নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনার পর প্রমাণিত হয়েছে ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য, নির্বাচন পার করার জন্য সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করেছে।

বিএনপির নেতা-কর্মীদের গুম, খুন ও নির্যাতনের প্রতিবাদে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় নিখোঁজ হওয়া ২০ ব্যক্তির স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন। সিঙ্গাপুর বিএনপির পক্ষ থেকে প্রত্যেক পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়।

এ সময় পল্লবী থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলামের বাবা নূরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ছেলেকে যারা গুম করেছে, তাদের কি বিচার হবে না?’ এ সময় দর্শকসারিতে বসা তরিকুলের মা উচ্চ স্বরে কাঁদতে থাকেন। তাঁর কান্না ছড়িয়ে পড়ে অন্য স্বজনদের মধ্যেও।

বংশাল থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি সোহেলের বাবা শামসুর রহমান বলেন, ‘চোখের পানি ফেলতে ফেলতে আমার চোখের আলো কমে গেছে। আল্লাহর ওয়াস্তে আপনারা আমার ছেলেকে ফিরাইয়ে দ্যান।’

সূত্রাপুর থানা ছাত্রদলের সভাপতি সেলিম রেজার বোন রেহানা বানু বলেন, ‘আমার ভাইয়ের গায়ে জ্বর ছিল। একটা সোয়েটার পরার সময় দেয়নি। প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে তারা ভাইকে তুলে নিয়ে যায়।’

সূত্রাপুর থানার ৭৯ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্রদলের নেতা খালেদ হাসান সোহেলের স্ত্রী সৈয়দা শাম্মী সুলতানা বলেন, ‘আমাদের দুঃখ কেউ বোঝে না। আমাদের কষ্ট কাউকে বোঝাতে পারি না। আমাদের অপেক্ষার প্রহর শেষ হয় না।’

নিখোঁজ হওয়া বিএনপির নেতা-কর্মীদের স্বজনদের সান্ত্বনা দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই জঘন্য সরকারকে বিদায় করে তাদের খুঁজে বের করব। তা না পারলে এ ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিচার করব। এ জন্য এই সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে, পরাজিত করতে হবে।’

সিঙ্গাপুর বিএনপির সভাপতি আবদুল কাদেরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম খান, আসাদুজ্জামান (রিপন‍), সিঙ্গাপুর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কামরুল প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন