চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগ

'চাপা' বিরোধ চাঙা হচ্ছে

বিজ্ঞাপন

লালদীঘি মাঠের একটি সমাবেশকে ঘিরে আবারও চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই নেতার ‘চাপা’ বিরোধ এবার চাঙা হচ্ছে। বর্ধিত হারে হোল্ডিং ট্যাক্স (গৃহকর) আদায়ের সিদ্ধান্ত বাতিল এবং মৎস্যজীবীদের অধিকার আদায়ে ডাকা হয়েছে এই সমাবেশ। সোনালী যান্ত্রিক মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির ব্যানারে এই সমাবেশ ডাকা হলেও এর পেছনে রয়েছেন চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। সমাবেশের প্রধান অতিথিও তিনি।

অন্যদিকে আগামী সোমবার ডাকা সমাবেশকে ‘নজিরবিহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। সমাবেশ সফল করতে মহিউদ্দিন চৌধুরীর পক্ষে নগরে মাইকিং ও প্রচারপত্র বিলি করা হচ্ছে। প্রচারণায় বলা হচ্ছে, নগরবাসীর স্বার্থে সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী মাঠে নেমেছেন। এ বিষয়ে নাছিরের অভিযোগ, সাবেক মেয়র নগরবাসীকে বিভ্রান্ত করছেন।

মহিউদ্দীন চৌধুরী চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি। আ জ ম নাছির উদ্দীন নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক। দুই নেতার পুরোনো বিরোধ আবারও প্রকাশ্যে চলে আসায় বিব্রত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। লালদীঘি ময়দানের সমাবেশ নাছিরের বিরুদ্ধে ডাকা হয়েছে বলে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। তাঁরা বলেন, মেয়র গত ফেব্রুয়ারি মাসে নগরের সবচেয়ে বড় মাছের আড়ত (মৎস্য অবতরণকেন্দ্র) পাথরঘাটা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে রাজাখালীতে স্থানান্তর করেন। এ ছাড়া গত বছরের ২১ মার্চ নগরের ১১টি ওর্য়াডের গৃহকর পুনর্মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু করেন। মেয়রের এই দুটি সিদ্ধান্তের ঘোর বিরোধিতা করে আসছেন এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী।

অবশ্য বর্ধিত হারে গৃহকর আদায়ের কার্যক্রম সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে সম্প্রতি স্থগিত হয়েছে। আর রাজাখালীর মাছের আড়তটি গত মাসে মহিউদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে আবার পাথরঘাটায় নিয়ে আসা হয়েছে।

রাজাখালীতে মাছের আড়ত স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত দুজনের বিরোধকে উসকে দিয়েছে বলে দলীয় নেতা-কর্মীরা মনে করছেন। আড়ত স্থানান্তরপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির একজন কর্মকর্তার অপসারণ ও শাস্তি দাবি করেছেন মহিউদ্দিন চৌধুরী।

মৎস্যকেন্দ্র স্থানান্তরের বিষয়ে নাছির উদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে সেটা রাজাখালীতে স্থানান্তর হয়েছে। উনি (মহিউদ্দিন) কি মৎস্যজীবী? সব বিতর্কের মধ্যে তিনি নাক গলান কেন? তাঁর কাজ দলকে সংগঠিত করা, গতিশীল করা। কোটারি স্বার্থে তিনি জনসভা ডেকেছেন।

তবে মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ওয়াকফ এস্টেটের জায়গা দখল করে রাজাখালীতে মাছের আড়ত করা হয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্ত না মেনে সেখানে আড়ত করা হয়েছে। রাজাখালীতে আড়ত করা নিয়ে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এই টাকা আড়তদারদের ফেরত দিতে হবে। মাছ বিক্রেতাদের স্বার্থে দেড় শ বছরের পুরোনো জায়গায় (পাথরঘাটা) আবার আড়ত ফিরেয়ে আনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘সবাইকে নিয়ে আমার রাজনীতি। সবার স্বার্থ দেখতে হয়।’

বর্ধিত গৃহকর আদায়ের কার্যক্রম নিয়ে মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘এটি নগরবাসীর ওপর একটি বড় আঘাত। কিন্তু ন্যূনতম আঘাত এলে আমিও পাল্টা আঘাত করব। এ জন্য সমাবেশ ডেকেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘সে (মেয়র নাছির) নগরবাসীর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে। যোগ্যতা থাকলে আয়বর্ধক প্রকল্প নিয়ে নগরকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন সম্ভব। আমি করে দেখিয়েছি। সরকারের গেজেট অনুযায়ী আমি কোনো বাড়তি ট্যাক্স নিইনি।’

সাবেক মেয়র বলেন, ‘বর্ধিক ট্যাক্স নেওয়া হলে আগামী নির্বাচনে আমরা কি ভোট চাইতে পারব? সে (নাছির) আওয়ামী লীগকে অজনপ্রিয় করতে এজেন্ডা নিয়ে নেমেছে। এই এজেন্ডা আমি বাস্তবায়ন হতে দেব না।’

এ বিষয়ে নাছির বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যাচার করে তিনি (মহিউদ্দিন চৌধুরী) নগরের উন্নয়ন ও রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করছেন। প্রয়োজনে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে পারেন। ওখানে না গিয়ে চট্টগ্রামবাসীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, রাজস্ব আদায় না হলে নগরের উন্নয়ন সম্ভব নয়। এমনকি করপোরেশেনর কর্মচারীর বেতন দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, ‘আমি সরকারের নীতিমালার আলোকে রাজস্ব (গৃহকর) আদায়ের উদ্যোগ নিই। তিনি কেন পানি ঘোলা করছেন? তাঁর কর্মকাণ্ড সরকারের বিরুদ্ধে। এ জন্য কি সমাবেশ ডাকতে হবে? এটা তো নজিরবিহীন।’

দুই শীর্ষ নেতার বিরোধ প্রকাশ্যে আসার বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ফয়সল ইকবাল চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, গৃহকর মেয়র নির্ধারণ করেননি। করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তাঁর দাবি, মহিউদ্দিন চৌধুরী সরকার ও দলের বিরুদ্ধে সমাবেশ ডেকেছেন। নেতিবাচক কর্মসূচি দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন²করবে। এটা সমর্থন করা যায় না।

এ বিষয়ে নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরী ও নাছির উদ্দীন দলের কান্ডারি। তাঁদের প্রকাশ্য বিরোধ দলের জন্য শোভন নয়। সাবেক মেয়রের পরামর্শ নিয়ে বর্তমান মেয়র সিটি করপোরেশন চালালে এই সমস্যা হতো না।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন