default-image

রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক দাবি করেছেন, বিএনপি এখন লাইফ সাপোর্টে আছে। তাঁর অভিযোগ, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান নাশকতাকারীদের লালন-পালন করছেন। অন্যদিকে বিএনপিতে কিছু ভালো নেতা আছেন, যাঁরা এসব সমর্থন করেন না। ভালো নেতারা বিএনপি থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন।
গতকাল শনিবার সকালে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন রেলপথমন্ত্রী। চট্টগ্রাম-নাজিরহাট রেলপথে ডেমু ট্রেনের যাত্রা শুরু উপলক্ষে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিএনপি রেলকে ধ্বংসের পথে নিয়ে গিয়েছিল। পুরোনো অনেক রেলপথ বন্ধ করে দেয় তাদের সরকার। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে রেলওয়ের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় করেন। রেলকে নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক যোগাযোগব্যবস্থায় পরিণত করতে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ জন্য ৪৮টি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার এবং ঘুমদুম পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ করতে পাঁচ বিলিয়ন ডলার খরচ হবে। এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক অর্থের জোগান দেবে।
মুজিবুল হক বলেন, চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথের কালুরঘাট রেলসেতুর পাশে নতুন আরেকটি রেলসেতু নির্মাণে কোরীয় সরকারের সঙ্গে অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ দল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করবে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম থেকে রাউজানের চুয়েট ক্যাম্পাস পর্যন্ত সরকারি অর্থায়নে নতুন রেললাইন নির্মাণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কমল কৃষ্ণ ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাংসদ এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, সাংসদ মঈন উদ্দীন খান বাদল, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহম্মদ, রেলওয়ের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. মোজাম্মেল হক প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
সাংসদ এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী জানান, রেলের উন্নয়নে আগামী পাঁচ বছরে ২ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকার কাজ হবে। ৪৮টি প্রকল্প তদারকির জন্য প্রতি মাসে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক হচ্ছে। রেলওয়ের ৬৫ হাজার একর জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়েও কাজ চলছে।
সাংসদ মঈন উদ্দীন খান বাদল বলেন, আসাম বেঙ্গল রেলের সদর দপ্তর ছিল চট্টগ্রামে। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সে ঐতিহ্য হারিয়ে গেছে। হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে কাজ করতে হবে। রেলের জায়গা কোথায়, কার কাছে এবং কী অবস্থায় আছে তা জানাতে হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0