বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের ডাকা চলতি সপ্তাহের হরতালের প্রথম দিন ছিল গতকাল রোববার।
কমলাপুর হয়ে পরে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে কুমিল্লাগামী এশিয়া ট্রান্সপোর্ট নামের বাসে উঠে দেখা গেল শিশুসন্তান নিয়ে মাত্র একজন যাত্রী বসে আছেন। আধা ঘণ্টা হাঁকডাকের পর একজন নারীসহ সব মিলিয়ে ছয়জন যাত্রী ওঠেন বাসে। তাঁদের নিয়েই নয়টা ২৬ মিনিটে বাস ছাড়ে কুমিল্লার উদ্দেশে। পরে পথে আরও সাতজন যাত্রী ওঠেন। অথচ বাসটি ৪৬ সিটের। চালক শাহ আলম জানালেন, সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস হওয়ায় আজ সকালে কুমিল্লায় মানুষ যাচ্ছে কম, আসছে বেশি। সকাল সাড়ে ছয়টায় তিনিই কুমিল্লা থেকে ৫২ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকায় এসেছেন। হরতালে বাস চালাতে ভয় করে কি না, জানতে চাইলে ওপরের দিকে হাত উঠিয়ে বলেন, ‘আল্লাহ আছেন।’
পাশের যাত্রী কুমিল্লার দেবিদ্বারের মো. শাহজাহান বললেন, ২০-২২ দিন আগে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এসেছিলেন। আসার সময় বেশি ভয় ছিল। নিজেকে বিএনপি-সমর্থক দাবি করে তিনি বলেন, হরতালে অনেক ক্ষতি হচ্ছে। তাঁর নিজের দুটি পিকআপ আছে। এর মধ্যে একটির কাচ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লায় যাওয়ার পথে পথে দেখা গেল মহাসড়কে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করছে। এর মধ্যে বাস যেমন আছে, তেমনি আছে মালবাহী গাড়ি, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ি। সিএনজিচালিত অসংখ্য অটোরিকশাও চলছে। তবে বাসের চালক জানালেন, এই মহাসড়কে এখন স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বাস কম চলছে। এ জন্য পথে কোনো যানজট নেই। যানজট না থাকায় দুপুর ১২টা ২০ মিনিটেই বাস পৌঁছে যায় কুমিল্লার বিশ্বরোডের পদুয়ার বাজারে। পথে কয়েক জায়গায় পুলিশকে টহল দিতে দেখা গেছে।
পদুয়ার বাজারের কাছেই নূরজাহান হোটেলের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রামগামী হানিফ ও শ্যামলী বাসের দুজন চেকারের সঙ্গে কথা হয়। হানিফ বাসের চেকার আমিরুল ইসলাম জানান, স্বাভাবিক সময়ে দিনে তাঁদের প্রায় ১০০ বাস চলে। অথচ রোববার দুপুর পর্যন্ত মাত্র পাঁচ-ছয়টি বাস চলাচল করেছে। হরতাল থাকায় বাস কম। তবে শুক্র ও শনিবার অবরোধের মধ্যেও অনেক বাস চলেছে। পাশের শ্যামলী বাসের চেকার জানালেন, দুপুর পর্যন্ত তাদের বাস গেছে ১০ থেকে ১২টির মতো। হোটেলের ভেতরে গিয়ে এক খাবার পরিবেশনকারীর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, হোটেলে এখনো বেচাকেনা ভালোই।
সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর ঢাকায় আসার উদ্দেশে আবার পদুয়ার বাজারে এসে এশিয়া ট্রান্সপোর্ট বাসের কাউন্টারে গেলে টিকিট বিক্রেতা জানালেন, রোববার ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ বেশি। বাসের সব সিটের টিকিট বিক্রি হয়ে যাচ্ছে কিছুক্ষণের মধ্যেই। আধা ঘণ্টা পর পর বাস ছাড়ছে। এ সময় কয়েকজন যাত্রীকে টিকিট কিনতে এসেও বিফল হতে দেখা যায়। টিকিট বিক্রেতা তাঁদের পরের বাসের জন্য অপেক্ষা করতে বলেন। তিনি জানান, একুশে ফেব্রুয়ারি ও শুক্রবার ছুটির কারণে অনেকেই বাড়ি এসেছিলেন, তাঁরাই এখন ঢাকায় ফিরছেন। তিনি আরও জানান, রোববার স্বাভাবিক দিনের মতোই গাড়ি চলছে। জানা গেল, হরতাল-অবরোধের কারণে এশিয়া ট্রান্সপোর্টের প্রতি সিটের টিকিটের মূল্য ২০ টাকা বাড়িয়ে ২০০ টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে এখন।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন