default-image

বগুড়া জেলা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে গৃহদাহ এখন তুঙ্গে উঠেছে। গোলাম মোহাম্মদ সিরাজকে (জি এম সিরাজ) আহ্বায়ক করে জেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণার প্রতিবাদে একাংশের নেতা-কর্মীরা গত বুধবার সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। এর তিন ঘণ্টা পর রাত ১১টার দিকে সিরাজপন্থী নেতারা তালা ভেঙে কার্যালয় দখল নেন। 

পরে দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে ১৪ নেতাকে বহিষ্কার ও পদ–পদবি স্থগিত করা হয়। এর প্রতিবাদে পদ হারানো নেতাদের নেতৃত্বে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে লাঠিসোঁটা নিয়ে শহরের নওয়াববাড়ি সড়কের দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছেন বিএনপির একাংশের কর্মীরা। ব্যানারে ‘হটাও সিরাজ, বাঁচাও দল’ লিখে এর সামনে অবস্থান নিয়েছেন কর্মীরা। সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জি এম সিরাজের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান চলছিল।

জি এম সিরাজ বিএনপির সংস্কারপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত।

বুধবার রাত ১১টার দিকে নতুন কমিটির দুই যুগ্ম আহ্বায়ক এ কে এম সাইফুল ইসলাম ও ফজলুল বারী তালুকদারের নেতৃত্বে সিরাজপন্থী নেতারা তালা ভেঙে কার্যালয় দখলে নেন।
এদিকে আহবায়ক কমিটি প্রত্যাখান করে বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগে বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের ১৪ নেতা–কর্মীকে বহিষ্কার, প্রাথমিক সদস্য ও পদ–পদবি স্থগিত করা হয়েছে।
আজ স্ব–স্ব সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে সংগঠনে শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ছাত্রদলের দুজন, যুবদলের ছয়জন, স্বেচ্ছাসেবক দলের চারজন, জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের (জাসাস) একজন এবং একজন বিএনপির নেতা রয়েছেন।

আজ যুবদলের ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক কামরুজ্জামান দুলাল স্বাক্ষরিত এক আদেশে জানানো হয় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বগুড়া জেলা ইউনিটের ছয় নেতাকে নিজ নিজ পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুকুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা, সহসাংগঠনিক সম্পাদক জুম্মন আলী শেখ, সহ–দপ্তর সম্পাদক মোমিন আকন্দ, নির্বাহী সদস্য বুলবুল হোসেন এবং আবদুল্লাহ আল মামুন।
স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শফিউল বারী এবং সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক আদেশে জানানো হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সম্পাদক শাহাবুল আলম পিপলু, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক, বগুড়া শহর শাখার সভাপতি মাহবুব হোসেন লিমন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য দুখু মিয়ার সংগঠনের সব পর্যায়ের স্ব–স্ব পদসহ প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসান এবং সম্পাদক আকরামুল হাসান স্বাক্ষরিত এক আদেশে সংগঠনে শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি অবু জাফর জেমস এবং সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম আউয়ালের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ-পদবি স্থগিত করা হয়েছে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক আদেশে বৃহস্পতিবার জানানো হয়, সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকায় জাসাসের জেলা কমিটির সম্পাদক এবং পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসেন এবং পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও পৌর কাউন্সিলর তৌহিদুল ইসলামের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ে দলীয় পদ–পদবি স্থগিত করা হয়েছে।
এর আগে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সাইফুলপন্থী দুই নেতা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক পরিমল চন্দ্র দাস এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শাহ মেহেদী হাসানের পদও স্থগিত করা হয়।
বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলী আজগর তালুকদার ১৪ নেতার বহিষ্কার এবং পদ স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বগুড়া বিএনপির সার্বিক বিষয়ে জানতে সদ্য ঘোষিত জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জি এম সিরাজ প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপির ঘাঁটি বগুড়ায় দলের নেতৃত্ব কীভাবে চলবে, সেটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার একমাত্র জিয়া পরিবারের। বিএনপির একমাত্র কান্ডারি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নতুন আহ্বায়ক কমিটি করে দিয়েছেন। বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করে গণতন্ত্র উদ্ধারের আন্দোলনের জন্য দলকে তৈরি আগামী দিনের নেতৃত্বনির্ভর একটি কমিটি গঠন এখন আহ্বায়ক কমিটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

জি এম সিরাজ বলেন, ‘দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টাকারীরা পদধারী কোনো নেতা নন। তারেক রহমানের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে পুলিশের ইন্ধনে কতিপয় নেতা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। আমরা সহিংসতার বিপক্ষে। আহ্বায়ক কমিটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধৈর্যধারণসহ শান্ত থাকতে বলেছি।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন