হজরত মুহাম্মদ (সা.) জাবালে রহমত পাহাড়ের কাছে দাঁড়িয়ে বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। এই পাহাড়ে একটি উঁচু পিলার আছে। একে কেউ কেউ দোয়ার পাহাড়ও বলেন। কোনো কোনো হজযাত্রী জাবালে রহমতে উঠে ইবাদত বন্দেগি করেন।

আজ আরাফাতের ময়দানে খুতবার পর জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন মুসল্লিরা। আরাফাতের ময়দানে মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা দেওয়া হবে।

এ বছর পবিত্র হজের খুতবা দেবেন শায়খ মোহাম্মদ বিন আবদুল করিম আল ঈসা। একই সঙ্গে তিনি মসজিদে নামিরায় নামাজে ইমামতি করবেন। হজের আরবি খুতবা বাংলাসহ ১৪টি ভাষায় শোনা যাবে। বাংলায় হজের খুতবা শোনা যাবে এই ওয়েবসাইটে। হজের খুতবার বাংলা অনুবাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মোহাম্মদ শোয়াইব রশীদ।

হাজিরা আজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতে অবস্থানের পর মুজদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন। রাতে সেখানে অবস্থান করবেন খোলা মাঠে। শয়তানের প্রতিকৃতিতে পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় পাথর (৭০টি) সংগ্রহ করবেন সেখান থেকে।

মুজদালিফায় ফজরের নামাজ আদায় করে হাজিরা কেউ ট্রেনে, কেউ গাড়িতে, কেউ হেঁটে মিনায় যাবেন এবং নিজ নিজ তাঁবুতে ফিরবেন। মিনায় বড় শয়তানকে সাতটি পাথর নিক্ষেপ করবেন। জামারায় শয়তানের প্রতিকৃতিতে পাথর নিক্ষেপের পর হাজিদের দমে শোকর বা কোরবানির প্রস্তুতি নিতে হয়।

অধিকাংশ হাজি নিজে বা বিশ্বস্ত লোক দিয়ে মুস্তাহালাকায় (পশুর হাট ও জবাই করার স্থান) গিয়ে কোরবানি দেন। কেউ কেউ ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকে (আইডিবি) ৮০৯ রিয়াল জমা দিয়ে কোরবানি দেন। পশু কোরবানি দিয়ে মাথার চুল ছেঁটে বা ন্যাড়া করে গোসল করবেন। সেলাইবিহীন দুই টুকরা কাপড় বদল করবেন। এরপর স্বাভাবিক পোশাক পরে মিনা থেকে মক্কায় গিয়ে কাবা শরিফ সাতবার তাওয়াফ করবেন।

কাবার সামনের দুই পাহাড় সাফা ও মারওয়ায় ‘সাঈ’ (সাতবার দৌড়াবেন) করবেন। সেখান থেকে তাঁরা আবার মিনায় যাবেন। মিনায় যত দিন থাকবেন, তত দিন তিনটি (বড়, মধ্যম, ছোট) শয়তানকে ২১টি পাথর নিক্ষেপ করবেন। আবার মক্কায় বিদায়ী তাওয়াফ করার পর দেশে ফিরবেন। যাঁরা হজের আগে মদিনা যাননি, তাঁরা মদিনায় যাবেন।

হাজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। হাজিদের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দিতে মিনায় কিছু দূর পরপর রয়েছে হাসপাতাল।

সৌদি হজ মন্ত্রণালয় ও মোয়াচ্ছাসা কার্যালয় সূত্র জানায়, মক্কা, মিনা ও আরাফাতের ময়দানে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে সব হাজিকে বিনা মূল্যে খাবার, বিশুদ্ধ পানিসহ সব সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান হাজিদের নানা উপহার দিচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ জেলার বাসিন্দা নাজমুল হুদা। দুই বছর আগে নিবন্ধন করেও হজে আসতে পারেননি। করোনার দুই বছর পরে এবার আসতে পেরে আল্লাহ তাআলার কাছে শুকরিয়া জানান তিনি।

হজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাবের) সভাপতি শাহাদাত হোসেন জানালেন, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় আসা সব হজযাত্রী আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন।

প্রতিদিন হাজিদের ছবি, মৃত হাজির তালিকা ও বুলেটিনের তথ্য হালনাগাদ করা হয় এই ওয়েবসাইটে

ইসলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন