বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সূচনা বক্তব্য

আব্দুল কাইয়ুম

সহযোগী সম্পাদক, প্রথম আলো

সঞ্চালনা

ফিরোজ চৌধুরী

সহকারী সম্পাদক, প্রথম আলো

সুপারিশ

■ একটা ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে যতটুকু শোধন হয়, এর ৫০ শতাংশ শোধন হবে সেপটিক ট্যাংকে। তাই সঠিকভাবে সেপটিক ট্যাংক করা অত্যন্ত প্রয়োজন

■ একেবারে অনিয়ন্ত্রিত, অপরিকল্পিতভাবে নগরের সুয়েজ (বাসাবাড়ির বর্জ্য) অপসারিত হচ্ছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় ঠিক করতে হবে।

■ সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, রাজউক, স্থানীয় সরকার—সবাই মিলে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

■ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিজ জায়গা থেকে নগরবাসীকে সচেতন করার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

■ ভবনের বাসিন্দারা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তেমন কিছু জানেন না। এ বিষয়ে তাঁদের সচেতন হওয়া উচিত।

■ ২০৩০ সালের মধ্যে পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

■ ২০৩০ সালের মধ্যে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনায় এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) অর্জন করতে হলে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

■ ‍উত্তরা ও পূর্বাচলে এখনই পয়োনিষ্কাশনের কাজ করতে হবে। তা না হলে ২০ থেকে ৩০ বছর পর এখনকার মতো সমস্যায় পড়তে হবে।

আলোচনা

আব্দুল কাইয়ুম

স্যানিটেশনের কথা বললে অনেকগুলো সমস্যা সামনে আসে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পার্শ্ববর্তী দেশ থেকেও এগিয়ে আছে। প্রায় শতভাগ মানুষ পাকা, আধা পাকা বাথরুম ব্যবহার করে। এটা মানুষের অভ্যাসের মধ্যে এসেছে। কিন্তু মানুষের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সেপটিক ট্যাংক কোথাও ভালো নয়।

একসময় বর্জ্য জমা হতো হাতিরঝিলে। দুর্গন্ধে এর চারপাশ দিয়ে হাঁটা যেত না। এখনো এ সমস্যা পুরোপুরি দূর করা যায়নি হয়তো, পানি থেকে দুর্গন্ধ আসে। অধিকাংশ ঝিলের প্রায় একই অবস্থা। এমনকি গুলশান–বনানীর লেকেও এমন অবস্থা আছে। তবে মাননীয় মেয়র এ বিষয়ে উদ্যোগী। তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। নিশ্চয়ই মানুষ এর সুফল পাবে।

default-image

মো. মুজিবুর রহমান

যত ব্যবস্থাই নেওয়া হোক না কেন, নগরবাসী যদি বিষয়টা অনুধাবন না করে, তাহলে ঢাকা শহরে নিরাপদ স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যাবে না।

ঢাকা শহরে এখন পয়োবর্জ্য একেবারেই অপরিকল্পিত ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে নিষ্কাশিত হচ্ছে। ফলে শহরের জলাশয়সমূহের পানি ও পরিবেশ ভীষণভাবে দূষিত হচ্ছে, যা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হুমকি।

ঢাকা শহরে দুই ধরনের স্যানিটেশন ব্যবস্থা আছে। একটা সুয়ারেজ পদ্ধতি। বাসার টয়লেট থেকে সরাসরি সুয়ারেজ সিস্টেমে সংযোগ দিলে সুয়েজ বা ‘পয়োবর্জ্য পানি’ সুয়ার নেটওয়ার্ক দিয়ে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে বা শোধনাগারে যায়। সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী শোধনের পর পরিশোধিত ‘পয়োবর্জ্য পানি’ নদী বা পরিবেশে নিষ্কাশিত হয়।

স্যানিটেশনের আরেকটি ব্যবস্থা হলো অনসাইট স্যানিটেশন পদ্ধতি। যেমন সেপটিক ট্যাংক সিস্টেম বা পিট ল্যাট্রিন। সেপটিক ট্যাংকের কাজ সম্পর্কে আমাদের ধারণা অত্যন্ত সীমিত। সেপটিক ট্যাংক পয়োবর্জ্য থেকে কঠিন পদার্থকে আলাদা করে। এটা স্লাজ হিসেবে ট্যাংকের তলায় জমা হয়। আর স্লাজবিহীন পয়োবর্জ্য পানি কিছুটা শোধন হয়ে সোকপিটের মাধ্যমে মাটি শুষে নেয়। ট্যাংকের তলায় জমাকৃত স্লাজ সেপটিক ট্যাংকের ডিজাইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর খালি করে পয়োবর্জ্য শোধনাগারে পরিশোধিত করতে হয়। অনেকে জায়গার অভাবে একটা পিট বানিয়ে বলে, এটা সেপটিক ট্যাংক। একটা সুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে পয়োবর্জ্য পানি যতটুকু শোধন হয়, এর প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ শোধন হবে সেপটিক ট্যাংকে। সেপটিক ট্যাংক থেকে স্লাজ অপসারণ, পরিবহন, ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে নেওয়া এবং পরিশোধন পর্যন্ত সম্পূর্ণ স্যানিটেশন চেইনকে কার্যকর রাখতে হবে।

শহরের রাস্তায় সুয়ার নেটওয়ার্ক থেকে সুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট পর্যন্ত সম্পূর্ণ ব্যবস্থা সঠিকভাবে ডিজাইন করতে হবে। তা না হলে পয়োবর্জ্য পানি ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে পৌঁছাবে না। যতটুকু দূষণমুক্ত করলে নদীতে ফেলা যায়, সে পরিমাণ দূষণমুক্ত করতে হবে। ঢাকা শহরের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ মানুষ সুয়ারেজ সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত আছে। বিশ্বব্যাংকের এক গবেষণায় দেখা যায়, ঢাকার সুয়ার নেটওয়ার্কের সঙ্গে ২৫টি সুয়েজ লিফট স্টেশন আছে। এর মধ্যে ১৮টি কাজ করছে না। এ ক্ষেত্রে সুয়েজ লিকেজ হয়ে পানি ও পরিবেশকে দূষণ করছে। পাগলায় ঢাকা শহরের একমাত্র সুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের শোধন সক্ষমতা হলো ১ লাখ ২০ হাজার ঘনমিটার। এখানে প্রতিদিন সুয়েজ শোধন হচ্ছে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ হাজার ঘনমিটার। শহরের বেশ পুরোনো তিনটি ট্রাংক সুয়ার ও লিফট স্টেশন ঠিকভাবে কাজ করছে না। ফলে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে পর্যাপ্ত সুয়েজ পৌছাচ্ছে না। ঢাকা ওয়াসা সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ২০১৩ সালে প্রণীত মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে। সে অনুযায়ী আরও ৪টি ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট হওয়ার কথা রয়েছে।

দাশেরকান্দিতে পাঁচ লাখ ঘনমিটার ক্ষমতার অনেক বড় একটা ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরি হচ্ছে। মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী পাগলা ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের সক্ষমতাও পাঁচ লাখ ঘনমিটারে উন্নীত করতে হবে। তবে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে সুয়েজ প্রবাহের জন্য প্রয়োজনীয় সুয়ার নেটওয়ার্কের কাজ এখনো শুরু করা যায়নি। এমতাবস্থায় ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকা শহরকে শতভাগ সুয়ারেজ নেটওয়ার্কের মধ্যে আনার ওয়াসার পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত নয়।

ঢাকা শহরে অনসাইট স্যানিটেশন সিস্টেমের অবস্থাও সম্পূর্ণ অনিয়ন্ত্রিত। ঢাকা ওয়াসার সুয়ারেজ নেটওয়ার্কের বাইরে ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ নগরবাসী অনসাইট স্যানিটেশন সিস্টেমের ওপর নির্ভরশীল। এদের মধ্যে ৭১ শতাংশের বেশি তাদের বাসাবাড়ির সেপটিক ট্যাংক বা টয়লেট সরাসরি স্ট্রম ড্রেন, লেক, খাল ইত্যাদিতে সংযোগ দিয়েছে।

এটা একটা ভয়ংকর পরিস্থিতি। এই অবস্থা থেকে বের হতে হবে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, রাজউক, স্থানীয় সরকারসহ সবাই মিলে সমন্বিতভাবে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে এ সংকট উত্তরণের ব্যবস্থা নিতে হবে। ঢাকা শহরে নিরাপদ স্যানিটেশন সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন একটি স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার অংশগ্রহণ, আলোচনা, সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

default-image

তারিক বিন ইউসুফ

নাগরিকের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। সেখান থেকে সিটি করপোরেশন বাসাবাড়ির বর্জ্য (ফিকেল স্লাজ) ব্যবস্থাপনাকে তাদের দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছে। কিন্তু এটা তাদের কাছে নতুন। এ বিষয়ে ঢাকা ওয়াসার ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন এ ক্ষেত্রে কাজ করছে। কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনা ঢাকা শহরের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি দৃশ্যমান, অপরটি সবার অগোচরে জলাশয় ও নদী দূষণ করে পরিবেশ ও প্রতিবেশকে হুমকিতে ফেলছে।

নাগরিকের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। পয়োবর্জ্যসংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত কাঠামোতে সিটি করপোরেশনগুলোকে পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশনের প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতির পাশাপাশি বরাদ্দের বিষয়টি পরিকল্পনা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পাইপবাহিত পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ঢাকা ওয়াসা থেকে সিটি করপোরেশনকে অনসাইট স্যানিটেশনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে হবে।

ঢাকা ওয়াসা, রাজউক, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বেসরকারি সংস্থাকে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রথম দিকে জনসচেতনতা ও কার্যকর গাইডলাইন প্রদান করে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করে সিটি করপোরেশন তদারক ও নিয়ন্ত্রণের ভূমিকায় থাকবে।

default-image

সোহেল রানা

খুব ভালো একটা উপস্থাপনা দেখলাম। আমাদের জানা ছিল, ঢাকা শহরে ২০ শতাংশ সুয়ারেজ লাইন আছে। আজকের আলোচনা থেকে জানলাম এটা ২৫ শতাংশ। একটা বিষয়ের ১০০ ভাগের মধ্যে যদি মাত্র ২৫ শতাংশ থাকে, তাহলে এটা কোনো সিস্টেম হতে পারে না। আমরা ভবন নির্মাণের সময় সেপটিক ট্যাংকসহ এ–সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা পর্যাপ্ত পরিমাণে করে থাকি। পরবর্তীকালে কী করা উচিত, এ বিষয়ে ভবনের বাসিন্দারা তেমন কিছু জানেন না।

একটা সময় বর্জ্য ওঠাতে হয়, সরিয়ে ফেলতে হয়, এটা সম্পর্কে তাঁরা সচেতন নন। আর এ প্রযুক্তিও আমাদের এখানে খুব একটা নেই। এফটিপি প্ল্যান্টের কথা এসেছে। এ ক্ষেত্রে আমরা কাজও করেছি। কিন্তু এর পুরো চেইন সিস্টেমটা এখনো আমাদের এখানে আসেনি। আমরা সুয়েজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত থাকব। কারণ, এই শহরটা আমাদের। আমরা সবাই মিলে বসবাস করতে চাই। সবাই মিলে সুন্দর রাখতে চাই।

default-image

সৈয়দ আদনান ইবনে হাকিম

২০৩০ সালের মধ্যে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনায় এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) অর্জন করতে হবে। এসডিজিতে বলা হয়েছে, প্রতিটি দেশের শতভাগ পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা অর্জন করতে হবে। ২০২১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ৩৮ শতাংশ পয়োনিষ্কাশন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পেরেছে। মাত্র ৯ বছরের মধ্যে অবশিষ্ট ৬২ শতাংশ অর্জন করতে হবে। এ জন্য দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গ্রামীণ অঞ্চলে আমাদের অনসাইট পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা আছে। গ্রামের প্রায় অধিকাংশ মানুষ পিট ল্যাট্রিন ব্যবহার করে। তাদের বরং পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা খারাপ নয়। প্রধান সমস্যা হচ্ছে শহরে। এখানে বিভিন্ন ধরনের মানুষ বাস করে। ১২ সিটি করপোরেশন যদি এ ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ না নেয়, তাহলে আমরা ২০৩০ সালের মধ্যে লক্ষ্য অর্জন করতে পারব না। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রকে ধন্যবাদ জানাই তাঁর পরিকল্পিত নেতৃত্বের জন্য। তিনি পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থাকে সামনে এনেছেন।

সাধারণত পয়োনিষ্কাশনের বিষয়টি তেমনভাবে সামনে আসে না। এটা আমাদের স্বাস্থ্য, জীবন ও পরিবেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত; কিন্তু কেউ আমরা কথা বলতে চাই না। আর কথা না বললে সমস্যা বোঝা যাবে না, সমাধানও হবে না।

এখন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন যে উদ্যোগ নিচ্ছে, এটা অন্য সিটি করপোরেশনের জন্য অনুপ্রেরণা হবে বলে আশা করি। একটি সুস্থ ‍শিশু হলেই সুস্থ ভবিষ্যৎ পাব। আমাদের পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা যত উন্নত করতে পারব, আমাদের পরিবেশ ও স্বাস্থ্য তত ভালো থাকবে। আমাদের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের প্রধান নির্দেশক হচ্ছে পয়োনিষ্কাশন পদ্ধতি। আমরা চাই দেশের মানুষ একটা সুস্থ–সুন্দর জীবন পাক।

আমাদের জলাধারগুলো দূষণমুক্ত থাক। ২০৩০ সালের মধ্যে পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য আমরা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সঙ্গে কাজ করছি। এভাবে যদি অন্য সিটি করপোরেশনগুলো কাজ করে, তাহলে এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারব। সবাইকে ধন্যবাদ।

default-image

এস এম শরীফ-উল ইসলাম

আমরা সমস্যা নির্ণয় করতে পেরেছি। সমস্যা চিহ্নিত করলে অর্ধেক সমাধান হয়ে যায়। আমরা ভালো একজন নেতা পেয়েছি। তাঁর নেতৃত্বে সমস্যার সমাধান করতে পারব বলে আশা করি। যেসব লাইন লেক বা অন্যান্য জায়গায় সংযোগ আছে, সেগুলো বন্ধ করে দিতে হবে। সমস্যা সমাধানের জন্য যে অর্থ, বুদ্ধি ও প্রযুক্তি দরকার, বাংলাদেশে তার সবই আছে। একটা হচ্ছে আমাদের সচেতনতা, আরেকটা হলো প্রয়োগ।

স্কুল–কলেজের শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে। পরিবারের সদস্যদের সচেতন করতে হবে। একটু শক্তভাবে আইন প্রয়োগও করতে হবে। জাহাজে প্রায় ২০০ মানুষ থাকে। এসটিপির মাধ্যমে সুয়ারেজ ব্যবস্থাপনা করা হয়। এটা খুব ভালো পদ্ধতি। এর খরচও কম। সম্পূর্ণ সুয়ারেজ ব্যবস্থাপনা না হওয়া পর্যন্ত এসটিপি পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারি।

default-image

তানভীর আহ্‌মেদ

মেয়র মহোদয় পয়োনিষ্কাশন ও ফিকেল স্লাজ ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্ব ‍দিয়েছেন। একটা সময় ছিল, যখন সিটি করপোরেশন মনে করত এই কাজ তাদের নয়। এর কারণ হলো, প্রায় সবাই মনে করত পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজ হলো একমাত্র ঢাকা ওয়াসার। এই ভাবনা যদিও এখনো অনেকের মধ্যে আছে। সুয়ারেজ নেটওয়ার্ক দিয়ে কখনো সম্পূর্ণ শহরের পয়োনিষ্কাশন সম্ভব নয়। আমাদের প্রচলিত ধারণা হচ্ছে, পয়োনিষ্কাশনের জন্য সুয়ারেজ নেটওয়ার্ক বানাতে হবে, অবকাঠামো ও ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট করতে হবে। কিন্তু সেটা ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ।

আইআরএফ ২০১৬–এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব সুস্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ঢাকা সিটি করপোরেশনের কাজ হচ্ছে পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা। এ ক্ষেত্রে কৌশলগত সমর্থন দেবে ঢাকা ওয়াসা। সুয়েজ নেটওয়ার্ক তারা করবে। এখানে কোনা বিভ্রান্তির সুযোগ নেই। আবার যারা নিম্ন আয়ের মানুষ, তাদের সুয়েজ নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়া সম্ভব নয়। তাদের জন্য কোনো ব্যবস্থা না করলে এ চাপ শহরের ওপর পড়বে।

এখানে রাজউক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়িত্ব রয়েছে। ঢাকা ওয়াসার সুয়ারেজ মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী শহরের ৬৫ শতাংশ পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থার মধ্যে আনবে। ২০৩৫ সালের মধ্যে এটা করতে হবে। কিন্তু অবকাঠামো ঠিক হতে ২০৪০ সাল লেগে যাবে। দাশেরকান্দি ও পাগলা সুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট হয়তো ২০৩০ সালের মধ্যে হয়ে যাবে। আরও তিনটি প্ল্যান্ট হওয়ার কথা ছিল। এটা না হওয়া পর্যন্ত পয়োনিষ্কাশনের অন সাইট সমাধান করতে হবে। এটা কি সিটি করপোরেশেন, নাকি ঢাকা ওয়াসা কে করবে, সেটা তাদের সমন্বয়ের মাধ্যমে ঠিক করতে হবে।

সিটি করপোরেশন ও ঢাকা ওয়াসা এটা সমন্বয় করবে বলে মনে করি। যেখানে অনেকগুলো ভবন হবে, বড় শপিং মল হবে, তাদের বাধ্য করতে হবে ছোট আকারে সুয়ারেজ প্ল্যান্ট করতে। ভারতের বড় শহরে এই রকম বিকেন্দ্রীভূত পয়োনিষ্কাশন পরিকল্পনা করেছে।

এখন দরকার ঢাকা শহরের পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনা। সম্পূর্ণ শহরকে পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থার মধে্য আনতে প্রতিবছর বিনিয়োগ মাত্রা নির্ধারণ করা হবে। সেখানে পরিকল্পনাহীনভাবে হঠাৎ বিনিয়োগ করলে হবে না। পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থায় লক্ষ্য অর্জন করতে হলে সঠিক পরিকল্পনার ভিত্তিতে বিনিয়োগ করতে হবে।

default-image

শওকাত আলী ভুইয়া

মাননীয় মেয়র মহোদয়কে ধন্যবাদ যে সবচেয়ে কঠিন জায়গায় হাত দিয়েছেন। এটা যদি উনি করতে পারেন, এটা হবে তাঁর জন্য বিরাট সফলতা। ২০১০ সালে জাতিসংঘ বলেছে, পয়োনিষ্কাশন হলো মানবাধিকার। পয়োনিষ্কাশন মানে শুধু বর্জ্য না, এর সঙ্গে আরও অনেক বিষয় আছে।

ঢাকা ওয়াসার কাছে হিসাব আছে কাকে ‍সুয়ারেজ লাইন দেওয়া হয়েছে। আমাদের ঠিক করে নিতে হবে যাঁর সুয়ারেজ লাইন আছে, তাঁর জন্য কী করব আর যাঁর নেই, তাঁর জন্য কী হবে। ঢাকা শহরে এখেনো ৭০ শতাংশের বেশি পুরোনো ভবন।

ডিএনসিসির একটা সিস্টেম হয়ে গেছে কার থেকে কে ভালো কিছু করবে। আনিসুল হকও ভালো কাজ করার চেষ্টা করেছেন। জনাব আতিকুল ইসলামও করছেন। এটা নাগরিকদের জন্য সুখের বিষয়। যাঁদের সেপটিক ট্যাংক নেই, তাঁদের এটা করার জন্য ডিজাইন দিতে হবে। কিছু ঠিকাদারকে নকশা করে দিয়ে তাদের মাধ্যমে এটা করাতে পারেন। এভাবে কাজ করলে নিশ্চয়ই নগরবাসী সুফল পাবে।

default-image

মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগ অন্যান্য সিটি করপোরেশনেও বিস্তার লাভ করবে বলে আশা করি। আজকের উপস্থাপনায় কী নেই, কী করতে হবে—এর প্রায় সবই এসেছে। আমাদের সবারই দায়িত্ব আছে। মেয়রদের প্রতিযোগিতার কথা এসেছে। আমি মনে করি এ প্রতিযোগিতা নাগরিকদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে হবে। তারা যদি ভাবে যে তারা তাদের শহরকে সুন্দর রাখবে, তাহলে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে বর্জ্য সরাবে। এটা নাগরিকদের প্রথম দায়িত্ব। নাগরিকেরা যদি তাদের দায়িত্ব পালন না করে, তাহলে কর্তৃপক্ষ সবকিছু করতে পারবে না।

নাগরিকদের মনোজগতে শহর পরিচ্ছন্ন রাখার ভাবনা ঢুকিয়ে দিতে হবে। তারপর সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, রাজউকসহ অন্যদের দায়িত্ব। রাজউক থেকে সেপটিক ট্যাংকের পরিমাপ দেওয়া হয়। কিন্তু এটা অনুসরণ করা হয় না। রাজাউকসহ অন্যদেরও এটা বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিতে হবে। উত্তরায় এই প্রথম আমরা একটি এসটিপি প্ল্যান্ট করেছি। যেখানে অনেকগুলো ভবন থাকে, বড় মেলা হয়, সেখানে এসটিপি প্ল্যান্ট দেওয়া যায়।

এটা বহনযোগ্য ও ব্যয় কম হলে আমরা এটাকে উৎসাহ দিতে পারি। কোটি কোটি টাকা খরচ করে বাড়ি করা হচ্ছে। সুয়ারেজ সিস্টেমে আর কত ব্যয় হবে—এ বিষয়েসবাইকে উদ্যোগ নিতে হবে। ফায়ার সেফটি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

হাতিরঝিল, গুলশান, বনানীর লেকে এখন ময়লা যাচ্ছে। এসব ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে। সবার প্রচেষ্টায় আমরা একটা ভালো জায়গায় যেতে পারব বলে আশা করি।

default-image

মো. আকরামুল ইসলাম

বাংলাদেশ এমডিজি (মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল) অর্জন করেছে। এটা সম্ভব হয়েছে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও জনগণের অংশগ্রহণের জন্য। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও মানুষের অংশগ্রহণ যদি থাকে, তাহলে ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জন করতে পারব। ব্র্যাকসহ অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মধ্য ও স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনায় ভালোভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বস্তি এলাকায় কাজ করে, সেখানে খুব বেশি তথ্য থাকে না। এসব জায়গার ডেটাবেইস তৈরিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করতে পারবে। বস্তি ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে অনেক ক্ষেত্রে অনসাইট পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা রয়েছে। এখানেও সেপটিক ট্যাংকের আধুনিকায়ন, সংশোধন, খালি করা, পরিবহন—এসব ক্ষেত্রে আমরা অংশগ্রহণ করতে পারব। আঞ্চলিকভাবে কয়েকটা ফিকেল স্লাজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট লাগবে। পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থাকে স্বল্প সময়ে সফল করতে হলে ফিকেল স্লাজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট দ্রুত করা প্রয়োজন। দেশের শহরগুলোয় অবকাঠামো হয়ে গেছে।

এটাকে পুনর্গঠন করা ব্যয়বহুল। সময় অনেক বেশি লাগবে। পরিকল্পনাকে দুই ভাগে ভাগ করতে হবে; বিশেষ করে যেসব এলাকায় শহর বাড়ছে, সেখানে বেশি করে সুয়ারেজ, ড্রেনেজে বিনিয়োগ করতে হবে। ‍উত্তরায় এখনই কাজ শুরু করতে হবে। পূর্বাচলেরও কাজ করতে হবে।

আজ ঢাকা সিটি নিয়ে যে সমস্যা, ২০ বছর পর পূর্বাচল নিয়ে একই সমস্যা হবে। ২০ থেকে ৩০ বছরের পরিকল্পনা করে কর্মসূচি করতে হবে। জনগণের অংশগ্রহণ আছে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে স্যানিটেশনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করত পারব।

ব্যক্তি খাত আনতে হবে। কীভাবে আসবে, সেটা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। ব্যক্তি খাত না থাকলে এটা টেকসই হবে না।

বস্তি ও নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় সেফটিক ট্যাংক খালি করা বা উন্নতি করা। এর আর্থিক বিষয়টাও চিন্তা করতে হবে।

default-image

তাকসিম এ খান

আমরা প্রথমে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার করেছি। এখন আমরা স্লাজ, সুয়ারেজ ব্যবস্থাপনার কথা বলছি। তাহলে সত্তর, আশি ও নব্বইয়ের দশকে কী করেছি। আজ কেন এ আলোচনা হচ্ছে? তখন হয়নি, কারণ, সে সময় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ছিল। এখনো সেই দুর্বলতা রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত এ আলোচনার সঠিক কোনো ফল আসবে না। বর্তমানে সংস্কার হচ্ছে বলে এই আলোচনা আসছে। আমরা ২০০৯ সালে দায়িত্ব নিয়েছি। তখন আমাদের আট বছর লেগেছে এটা বোঝাতে যে ড্রেনেজ ঢাকা ওয়াসার অংশ নয়। এখন সিটি করপোরেশনের কাছে এট হস্তান্তর করা হয়েছে।

আমরা দেখলাম ঢাকা ওয়াসার কোনো নিজস্ব মহাপরিকল্পনা (মাস্টারপ্ল্যান) নেই। তারা দিনের কাজ দিনে করে। আজ ওখানে পানি নেই, ওখানে সুয়ারেজ খারাপ—সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ো। কিন্তু আরেকজন পানি পাবে কি না, পানির উৎসা কী, ভবিষ্যতে কী হবে—এমন অনেক কিছু তখন ভাবতে হয়েছে। আজ ব্যক্তি খাতের কথা বলা হচ্ছে। এ জন্য আমরা দুই বছর ডিবেট করেছি। এ সময় আমরা মহাপরিকল্পনা করে নাম দিয়েছি ঘুরে দাঁড়াও ঢাকা ওয়াসার কর্মসূচি। এখন আমূল পরিবর্তন হয়েছে।

এত বছরে আমরাই প্রথম সুয়ারেজের ও পানির জন্য মহাপরিকল্পনা করি। পানিতে আমরা এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। সুয়ারেজের জন্য ২০৩০ সাল পর্যন্ত রোডম্যাপ আছে। এ সময়ের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে। ২০৪০-৪৫ সাল পর্যন্ত পানির নিশ্চয়তা দিয়েছি। পাঁচটা ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৭ ও ২০৩০ সালে আরও দুটি শুরু হবে। আমরা এতক্ষণ যা আলোচনা করলাম, এর সবকিছুই মহাপরিকল্পনার মধ্যে আছে। এসব কাজ যে ব্যক্তি খাতের মাধ্যমে করতে হবে, সেটাও বলা আছে। কিন্তু তাদের তদারক করবে কে, ওয়াসা না সিটি করপোরেশন, সেটা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে।

অনেকে বলেছিল ওয়াসা স্লাজ ব্যবস্থাপনা করবে। কিন্তু স্লাজ হলো সলিড ওয়েস্ট। আমি তখন বলেছি এটা সিটি করপোরেশনের কাজ। কারণ, তারাই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করে। এখানে রাজউকেরও অনেক করণীয় আছে। দুই বছরে আমরা সক্ষমতা অর্জন করেছি।

default-image

আতিকুল ইসলাম

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে স্থানীয় সরকারের নেতৃত্বে এক সভা করি। উদ্দেশ্য ছিল সমাজের সবাইকে নিয়ে ভালো থাকা। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ভেঙে পড়ে। আর ২৪ মার্চ বিজিএমইএর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিই। তখন বুয়েটে গিয়ে বললাম কী করতে হবে। তারা বলল, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে ভবনের নকশা জমা দিতে। তখন প্রায় সবাই এসে বলল তারা কেউ ভাড়া নিয়ে, কেউ বাসাবাড়িতে কারখানা চালায়। নকশা তো নেই। তারপর থেকে পোশাকশিল্পের ভবনের নিরাপত্তা, শ্রমিকের নিরাপত্তাসহ প্রায় সবকিছু নিশ্চিত করেছি।

আজ আমরা বলি মেড ইন বাংলাদেশ উইথ প্রাইড। যখন আমরা খাল পেলাম, তখন দেখলাম ড্রেন, খাল, নদী—সব জায়গার পানি দূষিত। উৎসে এটা বন্ধ করতে চাই। এটাই আজকের চ্যালেঞ্জ। আপনাদের সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই। সে জন্য আজকের আলোচনা। যারা ছাদবাগান করবে, তাদের রিবেট দেওয়ার কথা বলেছি। প্রতিবছর আমাদের পানির স্তর কমে যাচ্ছে। যারা বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করবে, তাদের ১০ শতাংশ রিবেট দেওয়ার কথা বলেছি। এখন যে রাস্তা হবে, সেখানে বলেছি রিচার্জিং স্টেশন করার জন্য।

ইউনিসেফকে ধন্যবাদ জানাই যে তারা এগিয়ে এসেছে। ব্র্যাকসহ অন্যরা এসেছে। সবার মধ্যে সচেতনতা আনতে হবে। উৎসে আমরা বর্জ্য ডায়লুট করতে চাই। এখান থেকে যে পানি পাওয়া যাবে, সেখানে অন্তত যেন মাছ ছাড়তে পারি। আমরা গুলশান-বনানী লেকে মাছ ছাড়তে চাই। এই মাছ মশা খেয়ে আমাদের মশার কামড় থেকে রক্ষা করবে। আমরা পরিবেশ ধ্বংস করছি। পরিবেশ এর প্রতিশোধ নিচ্ছে। এ জন্য ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ছাড়বে না। ২০টি বাড়ি নিয়ে বা একটি অঞ্চল নিয়ে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট করতে হবে। সবাইকে এটা মেনে নিতে হবে যে এটা করতেই হবে। এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে তিন দিনের একটি প্রদর্শনী করব। এটা হবে টেকনিক্যাল প্রদর্শনী। কীভাবে সুয়ারেজ ব্যবস্থাপনা হবে, এখানে সব দেখানো হবে।

অনেকে মনে করছে অনেক খরচ। আসলে সেটা ভুল ধারণা। খুব কম খরচে এটা সম্ভব। আজ কয়েকটা ভবনে যাব, যারা সরাসরি লেকে সুয়ারেজ লাইন দিয়েছে। তাদের কোনো শাস্তি নেই। তৃতীয় পক্ষ বর্জ্য নিচ্ছে। স্লাজও তৃতীয় পক্ষকে দেওয়ার কথা ভাবতে হবে। আমরা সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে টিম করে টিমের মাধ্যমে সুয়ারেজ ব্যবস্থাপনাকে ঠিক করব।

ফিরোজ চৌধুরী

নিরাপদ স্যানিটেশন বিষয়ে কার্যকর উদে্যাগ নেওয়া হবে বলে আমরা আশা করি। আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য প্রথম আলোর পক্ষ থেকে সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

গোলটেবিল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন