বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আলোচনা

আব্দুল কাইয়ুম

এক স্বাস্থ্য বিষয়টি আমাদের সচেতনতার মধ্যে তেমন নেই। যদিও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে দেখতে পাচ্ছি। ইতিপূর্বে নিপাহ ভাইরাস বাদুড় থেকে এসেছে। তাই মানুষের স্বাস্থ্য, প্রাণীর রোগ এবং পরিবেশ—সবকিছু মিলে যদি একসঙ্গে বিচার না করি, তাহলে বারবার স্বাস্থ্যগত সংকট আসতে পারে। এর আগে অনেকে এ বিষয়ে বলেছেন কিন্তু আমরা সহজে গ্রহণ করতে পারিনি।

ব্যাপকভাবে সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউএসএআইডি, এক স্বাস্থ্য বাংলাদেশ ও অন্যান্য সংস্থা একসঙ্গে কাজ করছে। এখন এমন কিছু অসুখ আছে, যা আগে মানুষের কাছে আসতে পারত না। কোনোভাবে হয়তো প্রতিরোধ হয়ে যেত। কিন্তু এখন সেটা আর হচ্ছে না। এখন অনেক অসুখেই আমরা আক্রান্ত হচ্ছি। সুতরাং আমাদেরও এসব ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে।

মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী

default-image

এক স্বাস্থ্য (ওয়ান হেলথ) যাত্রায় আমরা প্রায় ১৫ বছর অতিক্রম করেছি। এই সময়ে বিভিন্ন বিভাগের কার্যক্রম সম্পর্কে জেনেছি। মানুষ, প্রাণী, প্রকৃতি ও পরিবেশের স্বাস্থ্যের মাধ্যমে ওয়ান হেলথ প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি নিয়ে আমরা কাজ করছি।

ইকোসিস্টেমের স্বাস্থ্য ভালো থাকলে বন্য প্রাণীর স্বাস্থ্য ভালো থাকে। বিগত দেড় বছরের শিক্ষায় আমরা বুঝতে পারছি ইকোসিস্টেমের স্বাস্থ্য মানবসভ্যতার জন্য কতটা গুরুত্বের। প্রথাগত কিংবা লোভের বশবর্তী হয়ে আমরা আমাদের বনাঞ্চল ধ্বংস করছি, বন্য প্রাণীর মাংস খাচ্ছি। এর ফলে ইকোসিস্টেম নষ্ট হচ্ছে। আজ থেকে দেড় বছর আগে চীনের উহানের মার্কেটের কথা মানুষের মুখে মুখে ছিল। সেখানে কী ছিল? সেখানে বন্য প্রাণী খাবার হিসেবে টেবিলে চলে আসছে। অনেক জায়গায় প্রথাগতভাবে আবার কিছু স্থানে শখের বশে এই বন্য প্রাণী খাওয়া হচ্ছে।

আমাদের দেশে পার্বত্য অঞ্চলে, টাঙ্গাইলে, রাজশাহী অঞ্চলে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলো প্রথাগতভাবে বন্য প্রাণী খেয়ে থাকে। বন্য প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস করে ফেলছি। বাংলাদেশের মতো দেশে বনাঞ্চল রক্ষা করা অনেক কঠিন। এখানে মানুষ তার জীবন ধারণের জন্য বনের ওপর নির্ভর করছে।

বাঘ, হাতি ইত্যাদি পশু আমরা আমাদের অপ্রয়োজনীয় কাজে হত্যা করছি। চীন, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে অনেক বন্য প্রাণী নিধন হচ্ছে।

যত দিন পর্যন্ত আমরা আমাদের যুবসমাজকে কোনো আন্দোলনে যুক্ত করতে না পারব, তত দিন পর্যন্ত কোনো ভালো ফল পেতে পারি না। আমরা ১০ থেকে ১২ বছর ধরে বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করছি ও বিভিন্ন যুব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে বাংলাদেশ বায়োডাইভারসিটি কনজারভেশন ফেডারেশনের আওতায় নিয়ে কাজ করছি। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে এবং তারা প্রতিনিয়ত বেশ ভালোভাবে কাজ করছে। তাদের সহযোগিতায় গত ৭ থেকে ৮ বছরে আমরা প্রায় ৩৬ হাজার বন্য প্রাণী উদ্ধার করে প্রকৃতিতে ছেড়ে দিতে পেরেছি। একসময় র‍্যালি, সভা, সেমিনার হতো, সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সামজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন বড় ক্ষেত্র।

বন্য প্রাণীর আবাসস্থল নিরাপদ করতে হবে, এদের খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, অতিথি পাখি নিধন রোধ করতে হবে। যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজে লাগাতে হবে।

মনজুর মুহাম্মদ শাহজাদা

default-image

২০০৬ সালের এভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জার সময় থেকে কোভিড সময়ে আমরা উপনীত। শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বে না জানার ফলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছিল। করোনাকালে অন্যান্য অনেক দপ্তর যখন বন্ধ ছিল, তখন মানুষের পুষ্টির যেন ঘাটতি না হয়, সে লক্ষ্যে আমরা এই মহামারিকালে কাজ করেছি। আমরা ৮ বিভাগে এপিডেমিওলজি ইউনিটের কার্যক্রম চালু করেছি। আমাদের ৯টি গবেষণাগার রয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় এটা আরও উন্নত করার চেষ্টা করছি, যার মাধ্যমে পরবর্তী যেকোনো মহামারি প্রতিরোধ করা আমাদের জন্য সহজ হবে। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট কোভিড পরীক্ষার জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসেছে।

এক স্বাস্থ্য বর্তমানে বৈশ্বিক অ্যাপ্রোচ। সামাজিক সম্পৃক্ততা বেশ বড় একটি বিষয়। কোভিডকালে ওয়ান হেলথ ড্যাশবোর্ড বেশ প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছে। এর আধুনিকীকরণ করা হবে বলে মনে করি। যেভাবে আমরা এভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধে সফল হয়েছি, কোভিড প্রতিরোধেও অনেক উন্নত দেশের তুলনায় সফলতা পেয়েছি। স্বাস্থ্য বিভাগের সবাই কোভিডকালে যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সেবা দিয়েছেন, তা থেকে আমাদের শেখার অনেক কিছু আছে। সঠিকভাবে করোনা মোকাবিলার কারণে বিশ্বব্যাংক ইতিমধ্যে পূর্বাভাস দিয়েছে আমাদের জিডিপি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ হবে।

আমরা যত বেশি সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারব, সেই ক্ষেত্রে তত বেশি উন্নতি হবে বলে বিশ্বাস করি। ওয়ান হেলথ সচিবালয়ের জন্য আর্থিক সক্ষমতা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো অবকাঠামোর জন্য আর্থিক বিষয় অনেক জরুরি। করোনা থেকে আমরা অনেক শিখেছি। এই শিক্ষা ধারণ করে ভবিষ্যতে সবাই একসঙ্গে কাজ করব।

মো. মাহবুবুর রহমান

default-image

এক স্বাস্থ্যনীতির আমি একজন ফেলো। কোভিড সংকটের সময় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কীভাবে ভূমিকা রেখেছে, সেটা বললে হয়তো আমরা পরবর্তী সময়ে কীভাবে কাজ করব, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

কোভিড প্রতিরোধে মাস্ক, পিপিই বেশ গুরুত্বপূর্ণ। শুরুতে আমরা জেনেছি, এটি প্রতিরোধে মাস্ক পরিধান করতে হবে, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। মাস্কের বিষয়ে যখন আমরা সভায় বসলাম, তখন দেখলাম আমাদের তিনটি ইন্ডাস্ট্রি মাস্ক উৎপাদন করে এবং কারও উৎপাদনক্ষমতা প্রতিদিন ৫০ হাজারের বেশি নয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ কিংবা এশিয়ার মানুষ পিপিই তৈরি করতে পারে, তা ধারণাতেই ছিল না। একটি নমুনা পিপিই তৈরি করে আইইডিসিআরের মাধ্যমে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় পাঠানো হলো; তারা কিছু পরামর্শ দিয়ে পাঠাল। তখন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রাতদিন কাজ করছিল। কিন্তু তাদের কোনো প্রোটেকশন ছিল না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাইকাকে সঙ্গে নিয়ে আমরা বসলাম এবং বিভিন্ন গাইডলাইনকে আমাদের দেশের উপযোগী করে তুলতে কয়েকটি পোশাক ল্যাব সমন্বয় করলাম। আমাদের এনওসি (অনাপত্তি সনদ) প্রদানের ক্ষমতা প্রদান করা হলো। এরপর উৎপাদনকারীদের আবেদনের পর তাদের কারখানা ও সক্ষমতা যাচাই সাপেক্ষে আমরা এনওসি ইস্যু করা শুরু করলাম এবং বর্তমানে বাংলাদেশে ৩৫টির বেশি মাস্ক উৎপাদনকারী ও ৫৪টির অধিক পিপিই গাউন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব উৎপাদিত পণ্য এখন বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।

শুরুতে বাংলাদেশে হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদনকারীর সংখ্যা ছিল ৭ এবং এখন ৭০টির বেশি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আমাদের দেশে কখনো হ্যান্ড স্যানিটাইজার আমদানির প্রয়োজন হয়নি, বরং আমরা এখন রপ্তানি করি। এমন মহামারির সময় বাংলাদেশে কোনো ওষুধের সংকট ছিল না। কারণ, শুরুতে আমরা চাহিদা অনুযায়ী কাঁচামাল আমদানি করেছিলাম। টিকা আমদানির জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে সহজ প্রক্রিয়া অনুসরণে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করি।

কোভিড-১৯ মোকাবিলায় আমাদের উপলব্ধি হয়েছে যে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন সক্ষমতা না থাকলে কোনোভাবেই কোনো মহামারি মোকাবিলা করা যাবে না।

মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা

default-image

এক স্বাস্থ্য কার্যক্রমকে পরিচিত করানোর জন্য প্রথম থেকে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের মধ্যে আমিও একজন। প্রথমে অ্যাডভোকেসির ওপর গুরুত্বের কারণে পলিসি পর্যায়ে এক স্বাস্থ্যের বিষয়টি পরিচিত। জনগণকে সম্পৃক্ত করার জায়গায় পিছিয়ে। এতে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে আমাদের, যেন সামনে এমন মহামারি আমরা মোকাবিলা করতে পারি। এ জন্য কোভিড মহামারি থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। বিশ্বব্যাপী কোভিড মহামারিতে বিজ্ঞানভিত্তিক ধারণা তেমন পরিষ্কার ছিল না, কিছু ক্ষেত্রে তা পরিবর্তিত হয়েছে। অনেক মানুষ
তাঁদের করণীয় এবং চিকিৎসা নিয়েও দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন। মানুষের কাছে আইসোলেশন, কোয়ারেন্টিন শব্দ পরিচিত করানো বেশ বড় ইস্যু ছিল। আমরা প্রতিদিন গণমাধ্যমের মাধ্যমে মহামারি বিষয়ে তথ্য ও করণীয় বিষয়ে সাধারণ মানুষদের বলেছি। প্রথম দিকে বেশ আতঙ্কগ্রস্ত হলেও এখন অনেকটা স্বাভাবিক।

পেশাজীবীদের মধ্যে সীমিত না রেখে সবার মধ্যে এক স্বাস্থ্য বিষয়কে তুলে ধরতে হবে। গবেষণায় গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা কোনো সমস্যাকে প্রতিরোধ করতে না পারলে তা মহামারি আকার ধারণ করে। তাই তা প্রতিরোধ করতে পারাটাই জরুরি। স্বাস্থ্য, বন ও প্রাণিসম্পদ—তিনটি বিভাগের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে কার্যকরভাবে বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলা করতে পারি। এক স্বাস্থ্য কার্যক্রমে তথ্য আদান-প্রদানের ড্যাশবোর্ড থাকা জরুরি। তা ছাড়া এক স্বাস্থ্য কার্যক্রমে শুধু তিনটি বিভাগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও চলবে না। এ কার্যক্রম তথা ডেটা শেয়ারিং অন্যান্য মন্ত্রণালয়, সহযোগী সংগঠন ও এনজিওর সঙ্গে শেয়ার করতে পারলে তার মাধ্যমে আমরা অনেক বেশি উপকৃত হতে পারব। কার্যকরভাবে জনসাধারণের সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়াকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় তথ্য উপস্থাপন করতে হবে।

এই মহামারিতে আমরা একটি ল্যাবরেটরি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পেরেছি; তা সম্প্রসারণ ও কার্যক্রম সমন্বয় অব্যাহত রাখতে হবে। রোগ স্ক্রিনিং কার্যক্রমকে আরও বেশি সময়োপযোগী করতে হবে; যাতে মহামারির সম্ভাব্য রোগসমূহকে সহজে চিহ্নিত করে দ্রুততার সঙ্গে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে।

তাহমিনা শিরীন

default-image

২০১২ সালে কিছু রোগ প্রতিরোধ করতে এক স্বাস্থ্য উদে্যাগের জন্য একটি স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক ও ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান হয়েছিল। সেখানে বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ততা ছিল। এটা ২০১৬ সাল পর্যন্ত কার্যকর ছিল। ২০১৮ সালে এটা হালনাগাদ করা হয়। ২০২১ সাল পর্যন্ত তার কার্যকারিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২০১৬ সালে ওয়ান হেলথ সেক্রেটারিয়েট স্থাপন করা হয়, যা এখন আইইডিসিআরে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কার্যক্ষেত্রের কর্মকর্তারা প্রেষণে এখানে নিযুক্ত এবং তাঁরা ডেটা শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম সমন্বয় করে থাকেন। শুরু থেকে তথ্য আদান-প্রদানের তেমন কার্যক্রম না থাকলেও বর্তমান মহামারিতে ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে সরকার তথ্য বিনিময়ের কাজ শুরু করছে। এটা পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হলে যেকোনো মহামারিতে আমরা করণীয় ও পূর্বনির্দেশনা দিতে পারব। ফলে পরবর্তীকালে কোনো মহামারি এলে আগে থেকে আমরা আভাস দিতে পারব।

এক স্বাস্থ্য নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ রয়েছে। এক স্বাস্থ্য সচিবালয়ের সঙ্গে বেশ কয়েকটি কমিটি সম্পৃক্ত। যেমন আন্তমন্ত্রণালয় স্টিয়ারিং কমিটি, টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজারি কমিটি, এক স্বাস্থ্য সচিবালয় কো-অর্ডিনেশন কমিটি। ২০২১ সালে যে স্ট্র্যাটেজি ছিল, তা আবার আধুনিকীকরণ করা হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে এক স্বাস্থ্য বিষয়ে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যদিও তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। তবে সংশ্লিষ্ট অন্য সব মন্ত্রণালয়ে এক স্বাস্থ্য বিষয়ে বরাদ্দ রাখলে এক স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পাদন করা যাবে।

যেকোনো মহামারি কিংবা অতিমারি প্রতিরোধে একসঙ্গে সবাইকে সম্পৃক্ত হতে হয়। নতুন স্ট্র্যাটেজি প্রণয়নের ক্ষেত্রে মহামারির কাজে সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে সব বিভাগ, অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয়, এমনকি সহযোগী সংস্থার কার্যকর উপস্থিতি এবং দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয় তুলে ধরতে হবে।

অধ্যাপক নীতীশ চন্দ্র দেবনাথ

default-image

বাংলাদেশে ওয়ান হেলথ একটি সক্রিয় কার্যক্রম, যা মানুষের স্বাস্থ্য, প্রাণীর স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের স্বাস্থ্য পরস্পরের স্বাস্থ্যনির্ভর করে গড়ে উঠেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো উত্তম ও টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, যার দৃষ্টিভঙ্গি শুধু মানুষ কেন্দ্রে থাকবে না। প্রাণী ও প্রকৃতির স্বাস্থ্যকে রক্ষা করে উন্নত এবং উত্তম মানের স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা যাবে। পারস্পরিক যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলে এ কার্যক্রম সফল করা যাবে। সর্বসাধারণের কাছে সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য ষষ্ঠবারের মতো এ বছর ওয়ান হেলথ দিবস উদ্‌যাপন করা হচ্ছে। জি-২০, জি-৭, রোম ও গ্লাসগো সামিটে ওয়ান হেলথ বিষয়ে আলোচনা এসেছে।

সরকারের স্বাস্থ্য, বন ও প্রাণিসম্পদ—তিনটি বিভাগ বিজ্ঞানসম্মতভাবে নিজ নিজ প্রক্রিয়ায় ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী আমাদের চোখের বাইরে থাকে। সেবা দিতে গিয়ে অনেক সময় আমরা তাদের কথা ভুলে যাই। আগামী দিনে সংকট মোকাবিলায় এ বিষয়ে আমাদের সচেতন হতে হবে। শুধু মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বললেই চলবে না, অন্য প্রাণীদের নিয়েও কথা বলতে হবে।

প্রতিটি বিভাগে ন্যায্যতার ভিত্তিতে এক স্বাস্থ্য বিষয়ে ভূমিকা পালনে সব কার্যক্রম গ্রহণ করা দরকার। মানবচিকিৎসাবিজ্ঞান, পশুচিকিৎসাবিজ্ঞান এমনকি পরিবেশবিজ্ঞান নিয়ে সমন্বিতভাবে জ্ঞানচর্চার সমন্বয় করতে হবে। এক স্বাস্থ্য বিষয়ে আলোচনা শুধু গুটিকয় মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জনসাধারণে বিস্তৃত করতে হবে।

এম. সেলিম উজ্জামান

default-image

যেকোনো রোগ থেকে জনস্বাস্থ্যকে ঝুঁকিমুক্ত বা রক্ষা করার জন্য প্রয়োজন দক্ষ জনশক্তি, যার মধ্যে থাকবে প্রশিক্ষণ, রোগ নজরদারি, রোগ অনুসন্ধান, প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে বিশেষ জ্ঞান। এক স্বাস্থ্য আলোচনা করতে মানবস্বাস্থ্য, প্রাণিস্বাস্থ্য, বন্য প্রাণী ও পরিবেশস্বাস্থ্যে যাঁরা বিশেষজ্ঞ, তাঁদের নিয়ে সমন্বিতভাবে প্রস্তুতি প্রয়োজন হবে। এই দক্ষ জনশক্তি প্রস্তুত করার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় ও প্রত্যক্ষ অর্থায়নে আমাদের কিছু কার্যক্রম। যেমন ফিল্ড এপিডেমিওলজি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাংলাদেশ। এখানে প্রাণিস্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্য থেকে প্রশিক্ষণার্থী মনোনীত হয়ে থাকেন। এটি দুই বছর মেয়াদি কর্মসূচি। এ ছাড়া স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ আছে—ফিল্ড এপিডেমিওলজি ট্রেনিং প্রোগ্রাম ফ্রন্ট লাইন।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটি অব ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সে ওয়ান হেলথ ইনস্টিটিউট রয়েছে, যেখান থেকে জনশক্তি তৈরি করা হয়। ইতিমধ্যে আপনারা শুনেছেন, বাংলাদেশে ওয়ান হেলথ সেক্রেটারিয়েট সক্রিয়ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আমরা শুধু চিকিৎসকদের প্রশিক্ষিত করছি না, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও ওয়ান হেলথ বিষয়ে ধারণা দিয়ে থাকি।

মো. আবুল কালাম

default-image

যখন আমরা প্রথম ওয়ান হেলথ মুভমেন্ট করতে যাই, তখন বলেছিলাম, ওয়ান ওয়ার্ল্ড, ওয়ান হেলথ মুভমেন্ট। সব বিভাগের সমন্বিত পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ইনস্টিটিউটের একদল স্বপ্নবাজ মানুষ উদে্যাগ নিলেন। বিশ্ব স্বাস্থ্যনিরাপত্তার জন্য সব দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার কথা বলা হয়েছিল। আমাদের কাজ—প্রিভেন্ট, ডিটেক্ট ও রেসপন্ড—এই তিন ভাগে ভাগ করতে পারি। আমাদের সময়মতো তথ্য আদান-প্রদানের জন্য রিয়েল টাইম ডেটা শেয়ারিং চালু করা প্রয়োজন। একজনের দক্ষতাকে আরেকজনের কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তার জন্য জনশক্তি তৈরি করা প্রয়োজন।

সংক্রমিত রোগের শতকরা ৭০ ভাগ আসে পশু থেকে, তার একটা বড় অংশ আসে বন্য প্রাণী থেকে। এর আগে আমরা ইউএসএআইডির প্রেডিক্ট প্রকল্পের মাধ্যমে ভাইরাস অনুসন্ধানের কাজ করেছি। আমাদের জানা দরকার কোন রোগ মহামারি হিসেবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং অনুসন্ধান শেষে এসব কার্যক্রমের ফলাফল সহযোগী সংস্থাকে অবহিত করা জরুরি।

এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। যেকোনো রোগের প্রাদুর্ভাবের আগেই তা শনাক্ত করতে পারতে হবে। এর জন্য সক্ষমতাও বাড়ানো প্রয়োজন।

ওয়ান হেলথের কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। সম্ভবত পৃথিবীতে এই প্রথম কোনো সরকার সমন্বিত কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দ দিয়েছে। আমরা দেখতে চাই, ওয়ান হেলথ কার্যক্রম কার্যকর হোক, এখানে তথ্য আসুক। তথে্যর থেকে সমন্বয় হোক।

ইউএসএআইডি প্রথম থেকেই ওয়ান হেলথ কার্যক্রমে সহযোগিতা করে আসছে। ইউএসএআইডি রোগ শনাক্তকরণ, রোগের পূর্বাভাস প্রদান, পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ ও দ্রুত সাড়াদান কার্যক্রমে সরকারকে সাহায্য করছে, যা ভবিষ্যতেও অভ্যাহত থাকবে।

মুশতাক হোসেন

default-image

আমরা আবহাওয়ার আগাম বার্তা শুনতে অভ্যস্ত। কিন্তু স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো সম্ভাব্য আভাস যদি দেওয়া হয়, তবে মানুষজন তা নিতে চান না; বিশেষ করে নীতিনির্ধারকেরা আঁতকে ওঠেন। কিন্তু এই সংস্কৃতি যদি আমরা গড়তে না পারি, তবে মানুষের প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হবে না।

২০১২ সালে এক স্বাস্থ্য কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে নতুন করে সংক্রমিত ব্যাধির জন্য সমন্বিত নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রতি নজরদারি গড়ে ওঠে। মূলত নজরদারির নির্ধারিত প্রতিষ্ঠান হলো আইইডিসিআর, যারা বাংলাদেশ সরকার থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত। নজরদারিকে সমন্বিত করার জন্য তথ্য ড্যাশবোর্ড বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রাপ্ত তথ্য রিয়েল টাইমে (তাৎক্ষণিক) দিতে হবে।

রিয়েল টাইমে তথ্য শেয়ার করলে তা গ্রহণের মানসিকতা থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমেরও ভূমিকা আছে। শুধু তথ্য বিনিময়ের জন্য সমন্বিত ড্যাশবোর্ড নয়, স্যাম্পল সংগ্রহ করবার জন্যও সমন্বিত নেটওয়ার্ক দরকার। আমরা জানি অ্যানথ্রাক্স যদি গরুর মধ্যে হয়, তবে তা মানুষের মধ্যেও হবে। যখন কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব তদন্ত হয়, সেই তথ্য রিয়েল টাইমে শেয়ার করতে হবে। রোগী ব্যবস্থাপনার জন্য ল্যাব ব্যবস্থাপনা বাড়াতে হবে। ইতিমধ্যে যেসব ল্যাব চালু হয়েছে, তা যেন বন্ধ না হয়। রোগতাত্ত্বিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

এক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় আমাদের এ কাজের বিরাট অংশ বৈদেশিক টাকার ওপর নির্ভরশীল। সরকারের রাজস্ব খাত থেকে যদি স্বাস্থ্যনিরাপত্তা গড়ে না ওঠে, তবে বিদেশের প্রয়োজনে তথ্য সংগ্রহ হবে। আমরা সেখান থেকে ছিটেফোঁটা হয়তো উপকার পাব। তবে জাতীয় স্বাস্থ্যনিরাপত্তার সামগ্রিক কাজ করতে পারব না।

ইশতিয়াক উদ্দীন আহমদ

default-image

বর্তমানে যে প্রকৃতি নিয়ে কথা হচ্ছে, তা মানবস্বাস্থ্য ও প্রাণিস্বাস্থ্যের জন্য কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ। আসলে জীববৈচিত্র্য হলো প্রাণের বৈচিত্র্য। প্রাকৃতিক বিবেচনায় এখানে উদ্ভিদবৈচিত্র্য ও প্রাণিবৈচিত্র্যই প্রধান। এটি আসলে একটি ইকোসিস্টেম হিসেবে কাজ করে, যা দীর্ঘ সময়ের বিবর্তনে পরিবর্তিত হয়।

ইকোসিস্টেমে কোনো প্রাণী এককভাবে বাঁচে না। শুরুতে প্রাণিকুল বেশি জায়গা দখল করলেও এখন তাদের জায়গা ছোট হয়ে গেছে। তবে মানুষ তা বিবেচনা করে অভয়ারণ্য, অভয়াশ্রম, সংরক্ষিত এলাকা সৃষ্টি করেছে। কিন্তু কালের বিবর্তনে মানুষ সেখানেও ঢুকে যাচ্ছে, দখল করছে বন্য প্রাণীর এলাকা। বন বিনষ্ট হলে আবাসস্থল বিনষ্ট হবে। মানুষ তার প্রয়োজনে গভীর বনে ঢুকে যাচ্ছে এবং রোগবালাই বহন করে নিয়ে আসছে। বর্তমানে অবৈধ বাণিজ্যের বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে বন্য প্রাণী দ্বিতীয়। বন্য প্রাণী খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মাধ্যমেও অনেক রোগব্যাধি সৃষ্টি হচ্ছে, যা বন্ধ করতে হবে। বন্য প্রাণী নিধন বন্ধ করতে হবে। আমাদের শতভাগ খাদ্য এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতেই উৎপাদিত হয়।

উদ্ভিদের ঔষধি গুণের সামান্য পরিমাণ আমরা জানি, যা ব্যবহৃত হচ্ছে। জানার আগেই যদি তা বিলুপ্ত হয়ে যায়, তবে আমরা অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত হব।

বিধিনিষেধে আমরা প্রকৃতিকে আবার সজ্জিত হতে দেখেছি। কক্সবাজারে ডলফিন দেখা গেছে, গাছের পাতা বেশি সবুজ হতে দেখা গেছে। যদি আমরা ধ্বংসাত্মক আকারে সম্পদ আহরণ না করি, তাহলে কিন্তু তা আরও সম্ভব হবে। প্রকৃতি বিপর্যয় বিশ্ব বিপর্যয়ের কারণ—এটি হয়তো এখনো প্রমাণিত নয়, তবে তা প্রমাণিত হতে হয়তো আর বেশি সময় লাগবে না।

শুধু আজকের বিপর্যয়ই নয়, এমনভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আরও মারাত্মক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হবে। উদ্ভিদ ও বন্য প্রাণী অনেক রোগজীবাণুর আশ্রয়স্থল; তবে তা যখন মানুষের সংস্পর্শে আসে, তখন তা মানুষের জন্য মারাত্মক রূপ ধারণ করে। এটি যদি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হয়, তবে আরও মারাত্মক রূপ ধারণ করবে। যাহোক, এক স্বাস্থ্যের মাধ্যমে সবাইকে একত্র করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এক স্বাস্থ্যের যে উদ্দেশ্য আছে, সেটিকে সম্প্রসারণ করা হবে।

মো. নাজমুল ইসলাম

default-image

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এতে অন্যান্য সহযোগী বিভাগ ও সংস্থার সক্রিয় সহযোগিতা থাকে। বাংলাদেশে প্রায় দুই দশক এক স্বাস্থ্য ধারণা নিয়ে কাজ হচ্ছে, যা তৃণমূলে পৌঁছাতে হবে।

সাম্প্রতিক মহামারিতে অপেক্ষাকৃত বেশি প্রস্তুত ও সক্ষম দেশগুলোর সঙ্গে সংখ্যাতত্ত্বের তুলনায় বাংলাদেশে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি নয়। আবার জনসংখ্যা ও অর্থনীতির তুলনায় সেটি কমও নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যখন এ অতিমারিকে বিশ্বজনীন হিসেবে ঘোষণা করে, তখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটিকে সক্রিয় করা হয়েছে। কর্ম বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। একেবারে অপ্রস্তুত অবস্থা থেকে প্রস্তুতি নিয়ে সক্ষমতা বাড়ানো খুব দ্রুততার সঙ্গে করতে হয়েছে।

করোনার শুরুতে আমাদের গবেষণাগারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যাপার সীমিত ছিল; এখন ৮০০টির মতো জায়গায় আমরা তা করতে পারছি। আমাদের দেশের ২৪টি স্থলবন্দর ছাড়াও নৌবন্দর, বিমানবন্দর, রেলবন্দরের মাধ্যমে অন্য দেশগুলো থেকে আসা মানুষ প্রবেশ করে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়েছে।

আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে কোভিড-১৯। আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। জনগণকে সচেতন হতে হবে। শুরু থেকে আমরা মনে করেছি এটি দেশের কাজ, দশের কাজ, আমাদেরই করতে হবে। তবে আমরা একসঙ্গে পথ পাড়ি দিতে পারলে কাজটা সহজ হবে। সবাইকে ধন্যবাদ।

অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান

default-image

সার্স, এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে পৃথিবীব্যাপী এ বিষয়ে অবগত হয়। এ জন্য ২০০৫ সালে প্রতিটি দেশকেই পরিকল্পনা তৈরি করতে বলা হয়। তখন স্বাস্থ্য বিভাগ, লাইভ স্টক সার্ভিসেস ও বন বিভাগ মিলে এক মাসের অধিক সময় ধরে প্রস্তুতি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছিল, যা ২০০৬ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত কার্যকর ছিল। তখন ১৭টি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের নিয়ে ন্যাশনাল অ্যাডভাইজারি কমিটি; সচিবদের নিয়ে মাল্টিসেক্টরাল টাস্কফোর্স, অধিদপ্তর পর্যায়ে জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটি ছাড়াও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তখন আমরা এক স্বাস্থ্য কার্যক্রমের সঙ্গে খুব পরিচিত ছিলাম না। তবে তা অনুশীলন করছিলাম। ২০০৯ সালে সোয়াইন ফ্লুর পরিপ্রেক্ষিতে নতুন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছিল এবং ইউনিসেফ শীর্ষ পাঁচটি সফল দেশকে চিহ্নিত করেছিল; যার মধ্যে বাংলাদেশও ছিল এবং এ কার্যক্রম সফল হয়েছে এক স্বাস্থ্যব্যবস্থার উদাহরণ হিসেবে। বাংলাদেশ একমাত্র দেশ, যেখানে নিপাহ সার্ভিল্যান্স চলে। এ ছাড়া ২০১০ সালে অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাবে আমরা এক স্বাস্থ্য প্রক্রিয়ায় কাজ করি, যা আমাদের জন্য খুব ভালো উদাহরণ। এরপর আমরা দুবার ওয়ান হেলথ স্ট্র্যাটেজি অব ডকুমেন্ট তৈরি করি। এটা এখন অনুসরণ করা উচিত। শুধু মহামারির প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হঠাৎ কোনো প্রয়োজনে কাজ করতে পারব না। এক স্বাস্থ্য অ্যাপ্রোচ আমাদের নিয়মিত কার্যক্রমের মধ্যে আনতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা খুব সম্প্রতি ইউনিভার্সাল হেলথ প্রিপেয়ার্ডনেস বিষয়টিতে কাজ করছে, যার ২১ জনের উপদেষ্টা কমিটিতে আমার কাজ করার সৌভাগ্য হচ্ছে। এতে অনেকগুলো সূচক নির্ধারণ করা হয়েছে। পৃথিবীব্যাপী এক স্বাস্থ্য এখন বেশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিভাগীয় সক্ষমতা, সামাজিক আন্দোলন হয়েছে; এক স্বাস্থ্য বিষয়টিকে আমাদের সম্প্রসারণ করতে হবে।

সুপারিশ

  • এক স্বাস্থ্য কার্যক্রম বাস্তবায়নে অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয় ও সহযোগী সংস্থার কার্যকর দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করতে হবে।

  • জনবলকাঠামো প্রণয়ন করে স্থায়ীভাবে মানবসম্পদ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

  • প্রয়োজনীয় ডেটাবেইস শেয়ারের জন্য প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ যথাসম্ভব দ্রুত করা উচিত।

  • এক স্বাস্থ্য কার্যক্রম বাস্তবায়নে অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি ভাবতে হবে।

  • জনসাধারণকে এক স্বাস্থ্য ধারণার সঙ্গে পরিচিত করাতে সভা, সমাবেশ ও গণমাধ্যমের প্রচারণা বাড়ানো দরকার।

  • এক স্বাস্থ্যের উদ্দেশ্য আরও সম্প্রসারণ করতে হবে।

  • সামাজিক আন্দোলন হিসেবে এক স্বাস্থ্য বিষয়টিকে আমাদের সম্প্রসারণ করতে হবে।

  • এক স্বাস্থ্য কার্যক্রম শুধু মহামারিকেন্দ্রিক না হয়ে নিয়মিত হওয়া দরকার।

  • যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

গোলটেবিল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন