আলোচনা

আব্দুল কাইয়ুম

দলিত, ক্ষুদ্র নৃ–গোষ্ঠী, হিজড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী হলো পিছিয়ে পড়া মানুষ। তারা কীভাবে এগিয়ে আসতে পারে ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে পারে, সেটা ভাবতে হবে। তাদের পেছনে ফেলে আমরা এগিয়ে যেতে পারব না। সবার পরিচয় মানুষ।

ফারহানা আফরোজ

default-image

বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর প্রায় ১১ শতাংশ অনগ্রসর। এসব জনগোষ্ঠী শিক্ষা, বাসস্থান, কর্মসংস্থান, আইনি সহায়তা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে বৈষম্যের শিকার হয়। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিশেষত দলিত, সমতলের ক্ষুদ্র নৃ–গোষ্ঠী, হিজড়া, ট্রান্সজেন্ডার ও প্রতিবন্ধী অন্যতম। তাদের ক্ষমতায়ন ও দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষে্য দেশের আটটি জেলা ও ঢাকা শহরে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সালের জুন ও জুলাই মাসে একটি গবেষণা ও জনধারণা জরিপ করা হয়, যেখানে এসব জনগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্য, বঞ্চনা ও অবহেলার চিত্র এবং সাধারণ নাগরিকের এসব মানুষের প্রতি কী ধারণা রয়েছে, সে রকম কিছু চিত্র পাওয়া গেছে।

জন্মগতভাবে প্রত্যেক মানুষ পূর্ণ মানবাধিকার ও সমমর্যাদার অধিকারী। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংবিধানের ১৯, ২৭, ২৮ ও ২৯ ধারায় সমতা, সমান সুযোগ এবং বৈষম্যবিরোধী বিধানে এসব বিষয় লিপিবদ্ধ রয়েছে। সব জাতিগত বৈষম্য বিলোপসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সনদেও স্পষ্ট যে নাগরিকের অধিকার ভোগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু বাস্তব অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

সাধারণ নাগরিকদের মধ্য থেকে ৩৯৪ জনের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী, গৃহিণী, কৃষক ও অন্যান্য ব্যক্তি। বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে এই জনগোষ্ঠী সম্পর্কে তাঁদের ধারণাগুলো জানতে চাওয়া হয়। ট্রান্সজেন্ডার ও হিজড়া জনগোষ্ঠীর প্রতি মানুষের আচরণ সবচেয়ে নেতিবাচক। ট্রান্সজেন্ডার, হিজড়া ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য কোনো চাকরি উপযুক্ত নয়, তাঁরা আসলে কোনো চাকরি করার যোগ্য নন বলেই মনে করেন সাক্ষাৎকারদাতারা। তাঁদের ৫৪ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা এই মানুষদের বাসা ভাড়া দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কিন্তু ৮৮ শতাংশ বলেছেন, এসব জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁরা এক ভবনে থাকতে রাজি নন। ৯০ শতাংশ বলেছেন, এসব মানুষের সঙ্গে বসে তাঁরা একই রেস্তোরাঁয় খাবার খেতে রাজি নন। ৭২ শতাংশ বলেছেন, শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ করে উচ্চশিক্ষায় এসব মানুষের কোটার বিষয়টি তাঁরা সমর্থন করেন কিন্তু ৬৩ ভাগ বলেছেন, এসব মানুষের পাশে বসা নিয়ে তাঁদের আপত্তি আছে। ৪৭ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা কোনোভাবেই হিজড়া বা ট্রান্সজেন্ডার মানুষের পাশে বসতে রাজি নন। আমরা ধর্মীয় উৎসব সম্পর্কে জানতে চেয়েছি। ২৭ শতাংশ মানুষ এসব মানুষের সঙ্গে অনুষ্ঠানে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। অর্থাৎ বেশির ভাগ মানুষ রাজি নন। ৫০ শতাংশ মানুষ মনে করেন, উন্নয়ন প্রক্রিয়ামূলক কোনো কাজে এসব মানুষের থাকার প্রয়োজন নেই।

আমাদের কর্ম এলাকার মোট ৮১৫ জন পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা যায়, স্থানীয় কোনো উন্নয়নে পিছিয়ে পড়া মানুষকে ডাকা হয় না। মাত্র ১০ শতাংশ জনগোষ্ঠী স্থানীয় সালিসে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ পান। স্থানীয় পর্যায়ে সিটিজেন চার্টার ও নীতিমালা প্রণয়নে ৮৩ শতাংশ কখনোই অংশগ্রহণ করার সুযোগ পান না। বেশির ভাগ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পান না। বিশেষ করে হাসপাতালে হিজড়াদের জন্য বেড কোনটা? তাঁরা নারী, না পুরুষের বেডে যাবেন—এ ধরনের প্রতিবন্ধকতা আছে। শিক্ষাব্যবস্থায় অভিগম্যতার ক্ষেত্রে ৪৭ শতাংশ হিজড়া ও ট্রান্সজেন্ডার, ৩৫ শতাংশ প্রতিবন্ধী, ১৪ শতাংশ দলিত ও ৯ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃ–গোষ্ঠীর মানুষ বলেছেন, শিক্ষাব্যবস্থায় তাঁদের কোনো অভিগম্যতা বা প্রবেশাধিকার নেই। ৩৯ শতাংশ বলেন, তাঁরা সেবাপ্রাপ্তির (স্বাস্থ্য, কৃষি, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা ও আইনি সহায়তা) ক্ষেত্রে বেশির ভাগ সময় বৈষম্যের শিকার হন। ৪৭ শতাংশ নারী বলেছেন, সামাজিক সুরক্ষা যেমন বিভিন্ন ভাতা, ত্রাণের তালিকা থেকে বাদ পড়েন। ৩৩ ভাগ পুরুষও একই কথা বলেছেন। জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার ক্ষেত্রে ৭৬ শতাংশ ট্রান্সজেন্ডার তঁাদের লৈঙ্গিক পরিচিতির কারণে বিভিন্নভাবে সহিংসতার শিকার হন। এ ছাড়া ১১ শতাংশ দলিত নারী ও ৯ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃ–গোষ্ঠীর নারী যৌন সহিংসতার শিকার হন। মাত্র ১১ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তাঁরা বৈষম্য বিলোপ আইনটি যে তৈরি হচ্ছে, সে সম্পর্কে জানেন।

উত্তম কুমার ভক্ত

default-image

বৈষম্যের বিভিন্ন রূপ, হয়তো কেউ ভালো চাকরি পান না বা কাউকে রেস্টুরেন্টে ঢুকতে দেওয়া হয় না। দলিত জনগোষ্ঠীকে অনগ্রসর নৃ–গোষ্ঠীর মধ্যে ফেলা হয়েছে। এতে কিছুটা জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এখন সরকার কিছু সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে ঠিক, তবে সেই সুযোগ-সুবিধা শুধু দলিত জনগোষ্ঠী না পেয়ে সব অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। আমাদের মতো দলিত জনগোষ্ঠীর কিন্তু প্রতিকারের কোনো জায়গা নেই। আমরা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার পাচ্ছি না। আমরা সরকারের কাছে বারবার দাবি জানিয়েছি। আমরা চাই, আইন করা হোক। আমাদের ছেলেমেয়েরাও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরিতে নিয়োগ পাক। সেখানে যেন কোনো বৈষম্যের শিকার হতে না হয়।

সরকার আমাদের গৃহায়ণের জন্য ৫৬ কোটি টাকা বাজেট দিয়েছে, সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু প্রায় এক কোটি দলিত জনগোষ্ঠীর জন্য এই অর্থ অপ্রতুল। আমরা দীর্ঘদিন যুগোপযোগী বাসস্থানের দাবি করে আসছি। সরকার আমাদের জন্য বাসস্থান বরাদ্দের উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু সেখানেও সমস্যা রয়ে গেছে। শুধু সিটি করপোরেশনে যাদের চাকরি আছে, তারাই সেখানে থাকতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে তার ছেলে-মেয়ে, বাবা-মা, ভাই-বোন কোথায় থাকবে? মানুষ দলিতদের ঘর ভাড়া দিতে চায় না। আবার তাদের ঘর ভাড়া করার মতো অর্থও নেই। নেপাল ও ভারতে দলিত মন্ত্রী আছেন। কিন্তু আমাদের দেশে নেই। আমাদের থেকে যদি একজন নারীকেও সংরক্ষিত আসনে এমপি করা হতো, তাহলে দলিলদের কথা বলার একজন মানুষ সংসদে থাকত। অনেকের বেতন এক হাজার টাকাও আছে। তাহলে তাঁরা কীভাবে সংসার চালাবেন? আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা আছে। কিন্তু সেই পর্যন্ত তৈরি হয়ে যাওয়ার সুযোগ তো আমাদের দিতে হবে।

সালেহ আহমেদ

default-image

আমরা মূলত ট্রান্সজেন্ডার ও হিজড়াদের স্বাস্থ্যসেবা ও অধিকার নিয়ে কাজ করি। এসব মানুষের জন্য সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও নিরাপত্তা একটা বড় বিষয়। মানুষের মন পরিবর্তন করতে না পারলে এ ধরনের সমস্যা থেকেই যাবে। গত বাজেটে সরকার বলেছে, কোনো কোম্পানি মোট কর্মীর ১০ শতাংশ পিছিয়ে পড়া মানুষকে চাকরি দিলে তাদের ৫ শতাংশ কর রেয়াত পাবে। কিন্তু আমরা এই প্রক্রিয়ায় কাজ শুরু করার পর দেখলাম, যারা চাকরি দিচ্ছে, তাদের বিভিন্ন রকম চাহিদা রয়েছে যেমন শিক্ষাগত যোগ্যতা, যা এসব জনগোষ্ঠীর জন্য একটা বড় বাধা। বুলিং ও হয়রানির কারণে তাঁরা মাধ্যমিক স্কুলও পাস করতে পারেন না। তাহলে তাঁরা শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করবেন কীভাবে? আমরা কৃতজ্ঞ সরকারের কাছে যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় যে বাজেট তৈরি করে, প্রতিবছর সেটা বাড়ছে। কিন্তু বাজেট কোন খাতে কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সেটা হচ্ছে না।

যাদের জন্য পরিকল্পনা, তাদের শুরু থেকে এই কাজে যুক্ত করতে হবে, তাহলে তাদের প্রকৃত কল্যাণ হবে। চাহিদা জানাতে না পারলে তো সেটা বাস্তবতার নিরিখে নিরূপণ করা সম্ভব হয় না।

মাসুম বিল্লাহ

default-image

অনগ্রসর জাতিগোষ্ঠীর দুঃখ যেন চন্দ্র–সূর্যের সমান। তাদের এই দুঃখ দূর না হলে আমাদের মুক্তি নেই। সাধারণ মানুষ মনে করে, তারা এসব মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল। মানে আপনাকে আমি সাহায্য, সহানুভূতি করছি। কিন্তু সমান মনে করছি না। যখন সমান মনে করছি না, তখনই ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও নানা রকম প্রশ্ন চলে আসে। সেখানে গিয়েই আইন ব্যর্থ হয়। একবার এক রিয়েলিটি শোতে দলিতদের পক্ষ থেকে শ্রাবণ ও পার্বত্য অঞ্চল থেকে মং নামের এক ছেলে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাঁরা সেমিফাইনাল পর্যন্ত চলে গিয়েছিলেন। সেমিফাইনাল পর্যন্ত বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ তাঁদের ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু যখন শিরোপার প্রশ্ন আসে, তখন ভোট কেনা-বেচার মধ্যে চলে গেছে। অর্থাৎ কে কত এসএমএস কিনতে পারবেন, সেই বিষয়ে চলে গেছে। তাই অবস্থা যদি এমন হয়, তাহলে আইন করে লাভটা কী হবে?

এখানে হয়তো সরকারের একটা বাস্তব চ্যালেঞ্জ আছে। তবে আইনের ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে, যেমন ধরুন ৫০টি ধারার মধ্যে হয়তো এমন একটি ধারা থাকল যেন বাকি ৪৯টি ধারারই আর তেমন কার্যকারিতা থাকল না। এমন আইন যেন না হয়। ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আমাদের সচেতন হতে হবে। তাঁদের সঙ্গে নিয়ে কাজ না করলে তাঁদের অগ্রগতি হবে না।

তাজুল ইসলাম

default-image

আমাদের বর্তমানে যেসব আইন আছে, সেখানেও অনেক বৈষম্যের জায়গা রয়েছে। রাষ্ট্র হয়তো সেগুলোকে এখনো খুঁজে বের করেনি। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী যে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে, সেগুলো আমাদের বিদ্যমান আইনের মধ্যে আছে। প্রতিকার প্রাপ্তির জন্য যাঁরা যাচ্ছেন, সেই প্রতিকার প্রাপ্তির মধ্যে বৈষম্যের বিষয়গুলো আছে। প্রতিকার প্রাপ্তির জন্য যাঁরা আইনজীবী, বিচারক আছেন, তাঁদের অনেকের মনস্তত্ত্বের মধ্যেও এ বিষয়গুলো এখনো ঢোকেনি।

আমি একটা উদাহরণ দিই। ক্ষুদ্র নৃ–গোষ্ঠীর ভূমি সংরক্ষণের জন্য ১৯৫০ সালের আইনের ৯৭ ধারায় বলা হয়েছে, একজন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনগোষ্ঠী কোনো অ-ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নিকট সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে রেভিনিউ অফিসারের অনুমতি নিতে হবে। এটা ভূমি অধিকারকে সুরক্ষার জন্য করা হয়েছিল। কিন্তু আমরা গবেষণা করে দেখলাম যে এতে তাঁদের আরও বিপদ বেড়েছে। মাত্র ২২টি জনগোষ্ঠীকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। আমরা দেখছি, প্রায় ৫০ ধরনের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রয়েছে। এটা একটা বাধা। আরেকটা সমস্যা হলো, ভূমিবিষয়ক আইনের বিধিমালা হয়নি আজও, যে অফিসার এটার অনুমতি দেবেন, সেই অনুমতির বিষয়ে কোনো বিধিমালা হয়নি। ভূমি বিক্রি করতে গিয়ে বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে তাঁদের। অফিসারের অনুমতি নিতেই তিন–চার বছর লেগে যায়। বর্তমান আইনে থাকা এই বাধাগুলোর সমাধান করা উচিত।

আনিসুল হক

default-image

১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ ওঁরাও, সাঁওতাল ও বাঙালিরা মিলে ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও করেছিলেন। তাঁদের নেতা ছিলেন বুদু ওঁরাও। পরে তিনি দেশ ত্যাগ করে ভারতের পশ্চিম দিনাজপুরে চলে গেছেন। তিনি কেন দেশ ত্যাগ করলেন, সেটা আমি জানতে গিয়েছিলাম। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের দুঃখদুর্দশা, অপমান, বঞ্চনার কথা আমরা জানি। রেস্তোরাঁয় বসতে দেয় না। জমিজমা দখল থেকে শুরু করে বহু বঞ্চনা আছে। বৈষম্য নিরসনে আইন হয়ে যাক। তবে সব সময় যাদের জন্য আইন, তাদের কথা শুনতে হবে। প্রথম দিকে মনে হয় আইন প্রয়োগ হচ্ছে না। কিন্তু সেটাও হবে। আইনের অনেক ইতিবাচক ভুমিকা আছে। এখানে গণমাধ্যমেরও অনেক কাজ আছে। এই দেশ আমাদের সবার। এটা শুধু মুসলমানের দেশ নয়। বাংলাদেশ হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, দলিত, হিজড়া সবার দেশ। সবার মধ্যে প্রতিভা আছে। সবাই ভালো করতে পারে। শুধু একটু সুযোগ দিতে হবে। জাতীয় উন্নয়নে সবার অবদানেই বাংলাদেশ সুন্দর হবে।

শাহীন আনাম

default-image

অনগ্রসর জাতিগোষ্ঠীকে নিয়ে কেন আমাদের এগোতে হবে? কারণ, তাদের উন্নয়ন না হলে বাংলাদেশ সরকারের এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রতিশ্রুতি ছিল প্রত্যেক মানুষ মর্যাদা নিয়ে বাস করতে পারবে।

আসলে অনেক চিন্তাভাবনা করে আইন করা হয়, কিন্তু বড় সমস্যা হলো এটা বাস্তবায়নের। এ ক্ষেত্রে অনেক ঘাটতি রয়েছে। যেকোনো ব্যক্তিকে তাঁর দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে শাস্তি দেওয়া হয় না। সে কারণেই সবকিছু বাস্তবায়িত হয় না। মানুষ আইনের সহায়তা নেয় না কেন? কারণ, আইনের প্রতি অধিকাংশ মানুষের আস্থা হারিয়ে গেছে। আমরা অনেক বলার পর ১০ কোটি টাকা দলিতদের জন্য বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু এর বাস্তবায়ন হয়নি। বরাদ্দ যত কমই হোক কিন্তু সেই বরাদ্দের টাকাটা সম্পূর্ণ ব্যবহার হোক, এটাই আমাদের দাবি।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আমাদের মানসিকতা। সবকিছু আইন দেখিয়ে, পুলিশ দেখিয়ে হয় না। আমাদের ভিন্নতা ও ভিন্ন মত গ্রহণ করার মনমানসিকতা যদি না থাকে, তাহলে আইন দিয়ে পুরোপুরি লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। শিক্ষার মধ্যে আমরা কোথায় সামাজিক সম্প্রীতির কথা বলছি? ভিন্নতা গ্রহণ করার কথাই–বা আমরা কোথায় বলি। আমরা অনেক গর্ব করে বলি, আমাদের বৈচিত্র্যময় দেশ। আমাদের এখানে অনেক ধর্ম, জাতিগোষ্ঠীর লোক বাস করে। কিন্তু আসলে বাস্তবতা হলো, একেক গোষ্ঠীর প্রতি একেক ধরনের ব্যবহার করা হয়। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে বোঝাতে হবে, কীভাবে আমরা এই দেশটা করেছিলাম? আমাদের প্রতিশ্রুতি কী ছিল?

জাকির হোসেন

default-image

আমরা বলছি পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী। কিন্তু কারা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী? এটা শনাক্তকরণের যে প্রক্রিয়া, সেখানেই সমস্যা। আমাদের গণনায় কিন্তু এখনো এই ব্যাপারটা আনতে পারিনি। কারা পিছিয়ে পড়েছে? তাদের পরিচিতি কী? তাদের স্বীকৃতি নেই, শনাক্তকরণ নেই। তার মানে যদি স্বীকৃতি না দিই, তাহলে সে উন্নয়নে অংশগ্রহণ করবে কীভাবে? আমরা যখন দেখলাম নেপালে দলিতদের জন্য আইন আছে, তখন আমাদের মাথায় এল দলিতদের জন্য আইন করা দরকার।

দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশে দলিতদের জন্য সুরক্ষা আইন আছে, কিন্তু আমাদের দেশে নেই। সরকার থেকে বারবার বলা হলো, এটা নিয়ে কাজ করা হবে। কিন্তু কাজ আর এগোয় না। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী আমাদের সামাজিক নিরাপত্তায় অর্থ বাড়াতে পারেন। তবে আইন হলে সবার সুবিধা হয়। পিছিয়ে পড়া বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা অনেক। কিন্তু আমরা চাই এটা আলাদা হোক। ট্রান্সজেন্ডার কতজন আছে বা হিজড়া কতজন আছে, সেটা ঠিক করা দরকার। এভাবে প্রত্যেক জনগোষ্ঠীকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে হবে। প্রতিটি বিভাগের জন্য আলাদাভাবে অর্থ বরাদ্দ চাই। বাজেট বরাদ্দ আমরা পরিষ্কারভাবে দেখতে চাই। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে আপনি কী নামে ডাকবেন, সেটা নিয়েও বিস্তর আলোচনা হতে পারে। এ জন্য আমরা অনেক দিন ধরে চেষ্টা করেছি সবাইকে একটা প্ল্যাটফর্মের মধ্যে নিয়ে আসতে।

লায়লা জেসমিন বানু

default-image

২০১৩ সাল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন দলিত জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় বিভিন্ন প্রকল্পে সহায়তা করছে। যাদের নিয়ে এই প্রকল্প, সেই পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কথা বলে আমার ধারণায়ও অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ট্রান্সজেন্ডার বিষয়ে বলতে চাই, এরা যে কী পরিমাণ বঞ্চনার শিকার, তা কল্পনা করা যায় না। অনেক সময় তারাও জোরজবরদস্তি করে। বিশেষ করে সন্তান হলে, বিয়ের অনুষ্ঠানে বা রাস্তাঘাটে। তারা চাঁদার জন্য দাবি জানায়। তারা আসলে যাবে কোথায়? তারা হয়তো ফুচকা বিক্রি করবে কিন্তু তাদের থেকে তো কেউ কিনবে না। তারা মর্যাদাপূর্ণ জীবন চায়, কারও কাছে হাত পাততে চায় না। তাহলে আমরাই আসলে তাদের সাহায্য করতে পারছি না। এ ক্ষেত্রে বৈষম্য বিলোপ আইন যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা বুঝতে হবে।

এ ছাড়া বৈষম্যের শিকার কারা, সেটাও আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। মোটা দাগে হয়তো আমরা মাত্র কয়েকটি বৈষম্যের কথা বলছি, কিন্তু বাস্তবে আরও অনেক বৈষম্যের চিত্র আছে। সেগুলো শনাক্ত করতে হবে। আমরা সঠিকভাবে যদি তথ্য–উপাত্ত না পাই, তাহলে কীভাবে তাদের উন্নয়নের কাজে সম্পৃক্ত করব? শিক্ষার ক্ষেত্রেও তারা পিছিয়ে পড়ছে। যেমন ১৫ হাজার চা-শ্রমিকের শিশুদের জন্য মাত্র একটা স্কুল। তাই আমরা চাই এদের বরাদ্দ যেন বাড়ানো হয়।

আমরা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য বরাবরই কাজ করে আসছি। মানুষের অধিকার সম্পর্কে ইউরোপীয় ইউনিয়ন খুবই সজাগ। আমরা আশা করি বৈষম্য বিলোপ আইনটা যেন দ্রুত পাস হয়।

শামীম হায়দার পাটোয়ারী

default-image

আমাদের লিঙ্গবৈষম্যের বিষয়ে প্রথমে সংবিধানে একটা সংজ্ঞা আনতে হবে। ‘ম্যান’–এর বদলে ‘ম্যান মিনস ম্যান, ওম্যান অ্যান্ড এনি আদার’ এটা আনতে হবে। আমরা হয়তো ভুলভাবে এগোচ্ছি। সব সমস্যার সমাধান সংবিধানের মধ্যেই আছে। আমরা এগুলো এখনো কার্যকর করতে পারিনি। মন্ত্রিসভায় গেলে সে আইন আর আটকে থাকে না। সুতরাং আইন পাস হয়ে যাবে। আইন পাসের আগে আপনারা আইনটা দেখে বলেন, কোথায় কোথায় সমস্যা আছে। এটা নিশ্চয়ই ঠিক হয়ে যাবে।

হাসপাতালে কি হিজড়াদের জন্য একটা আলাদা ওয়ার্ড হবে? অনেক হিজড়া নিজেদের পুরুষ মনে করে, অনেকে আবার নিজেকে নারী মনে করে। তাদের এ রকম মনে করার মৌলিক অধিকার আছে। এখন তাদের একটা তালিকা করতে হবে। এরপর খুঁজে দেখতে হবে তাদের মধ্যে অতি–অনগ্রসর কারা? একজন হিজড়া দরিদ্র হতে পারে, দলিত জনগোষ্ঠী হতে পারে। অর্থাৎ একজন হিজড়া একাধিকভাবে পিছিয়ে পড়তে পারে। এগুলোও আমাদের চিহ্নিত করতে হবে। তাদের উঠিয়ে আনতে হবে। তাদের চাকরি দিতে হবে। বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে চাকরি দেওয়া যেতে পারে।

আমরা অনেক কাজই করছি, কিন্তু সঠিকভাবে সমাধান হচ্ছে না। একজন যৌনকর্মী মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করাবে। বাবার নাম ছাড়া সে স্কুলে ভর্তি করাতে পারবে? পারবে না। এ রকম সমস্যা সমাধান করতে হবে। দলিত বা হিজড়াদের থেকে একজন সাংসদ থাকা প্রয়োজন। আমার মনে হয় পিছিয়ে পড়া মানুষ বলে কিছু নেই, সবাইকে আসলে পিছিয়ে রাখা হচ্ছে। এদের সবাইকে অধিকার দিতে হবে।

ফজলে হোসেন বাদশা

default-image

সংবিধানে বলা আছে, এই রাষ্ট্র সব জনগণের। সেখানে তো কোনো বৈষম্যের কথা নেই। তাহলে আমরা কেন অন্য মানুষদের বৈষম্যের চোখে দেখব? সংবিধান যদি সব আমলা বুঝতেন, গোটা জাতি জানত, তাহলে হয়তো এই বৈষম্য কিছুটা হলেও কমত। আমরা স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস পালন করি, অনেক অনুষ্ঠান করি। কিন্তু আমাদের নতুন প্রজন্ম এই সংবিধানটাই চেনে না, জানে না, পড়ে না। ভারতেও কিন্তু প্রতিটি রাজ্যে পাঠ্যবইয়ে সংবিধান পড়ানোর একটা রীতি আছে। সংবিধান না পড়লে সেখানে গ্র্যাজুয়েশন করতে পারে না। আমাদের দেশের অনেক ছেলেমেয়েকে বিদেশে পড়তে গিয়ে সে দেশের সংবিধান পড়ে পাস করতে হয়, অথচ নিজ দেশের সংবিধানই জানে না। আমরা কী কারণে বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছিলাম, সেই লক্ষ্যটাই হারিয়ে গেছে। সংবিধান অনুসরণ করলে এ দেশেও সমতাভিত্তিক একটা সমাজ গড়ে উঠত।

আরেকটা ব্যাপার হলো, পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য একটা মন্ত্রণালয় হয়েছে। তাহলে সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য একটা মন্ত্রণালয় হবে না কেন? ওখানে ভূমি কমিশন হবে না কেন? আমি মনে করি, ছোট আকারে হলেও একটা মন্ত্রণালয় বা বিভাগ রাখা দরকার।

জেলা প্রশাসকের অনুমোদন ছাড়া সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ জমি বিক্রি করতে পারেন না। একজনের নামের শেষে কুমার আছে, তাই তাঁকে হিন্দু বানিয়ে দিলেন এবং একজনের সম্পত্তি আরেকজনের নামে করে দিলেন। এভাবে তঁারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। বিচারকদের উচিত তঁাদের রীতিনীতি সম্পর্কে আরও বেশি করে জানা। তা না হলে সুবিচার করা সম্ভব হবে না।

আমার সংসদীয় এলাকায় সম্প্রতি দুজন কৃষক বিষ খেয়ে মারা গেছেন, তাঁরা কেন আত্মহত্যা করলেন? তাঁদের ফসলে পানি দিতে পারছেন না। ফসল না হলে এমনিতেই না খেয়ে মারা যাবেন। তাই বিষ খেয়ে মারা গেছেন। সুতরাং এত বড় বঞ্চনা এই সমাজে হতে পারে না।

রাশেদ খান মেনন

default-image

আজকের আলোচনায় বৈষম্য থেকে শুরু করে সংবিধান, আইন—সবকিছু এসেছে। আমি আইনটি দেখেছি। তবে আপনারা যেভাবে চাচ্ছেন, সেভাবে আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে জোর দিয়ে বলতে পারছি না। তবে আইনে এই বৈষম্যের ব্যাপারটি আছে, আমার নজরে এসেছে। তবে আইনের চেহারা কেমন হবে, সেটা জানা নেই। সে জন্য আপনাদেরও দরকার যে আইনটা এসেছে, সেটা ঠিকভাবে আছে কি না সেটা দেখা। কারণ, আমরা যাঁরা দায়িত্বে থাকি, তাঁরা সব সময় এই বিষয়গুলো সম্পূর্ণভাবে দেখতে পারি না।

একই সঙ্গে আপনাদের উচিত হবে, আপনাদের বক্তব্যটা অন্তত সাংসদদের কাছে পৌঁছানো। তাহলে কাজ করতে সুবিধা হবে বলে মনে করি। কোনো আইন আসার পর ঝুলিয়ে রাখা হলে সেই আইন কিন্তু বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। আমরা চাই, এই আইনটি যেন দ্রুত বাস্তবায়িত হয়।

ট্রান্সজেন্ডারের ব্যাপারে আমরা দেখছি, তারা নিয়মিত মানুষের থেকে টাকা চেয়ে নেয়। তাদের টাকা নেওয়ার প্রক্রিয়াটা একটু অস্বাভাবিক। এখানেই নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে তাদের একটি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং কিছু টাকা দেওয়া হয়। তবে তারা সেখানে থাকতে চায় না। আমার অনুসন্ধানে আছে, ট্রান্সজেন্ডারদের নিয়েও একটি চক্র আছে। তাদের মধ্যে গুরুমা প্রধান। এই গুরুমা তাদের নিয়ন্ত্রণ করেন। যার ফলে সে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়েও কোনো কাজ না করে আগের জায়গায় ফিরে যায়। তবে ভালো কথা যে তারা অনেকেই এখান থেকে বেরিয়ে আসছে। একজন ট্রান্সজেন্ডার ইতিমধ্যে লড়াই করে চেয়ারম্যান হয়েছেন। প্রথম আলোতে এ ব্যাপারে বিস্তারিত প্রতিবেদন হয়েছিল।

যৌনকর্মীদের নিয়েও সচেতনতা শুরু হয়েছে। তাদের অধিকার নিয়ে একটা কমিটি করা হয়েছে। তাদের বড় সমস্যা স্বাস্থ্য নিয়ে। এ ক্ষেত্রে তারা তেমন কোনো সাহায্য পাচ্ছে না। মা যেহেতু স্বাস্থ্যসচেতন না, সেহেতু ছেলেমেয়েরাও অসচেতন হয়ে পড়ে। ইতিমধ্যে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ট্রান্সজেন্ডার ও যৌনকর্মীদের নিয়ে কাজ শুরু করেছে। তবে এই কাজের পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে।

আপনাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে সরকারের কাজ করতে আরও সুবিধা হবে। আরেকটা কথা বলব, যখন এ ধরনের আইন আসে, তখন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সঙ্গে আপনারা একটু যোগাযোগ করুন। আপনাদের এই অধিকার আছে। সমাজে পিছিয়ে থাকা মানুষগুলোকে সামনে আনার জন্য আমাদের দায়িত্ববোধ আরও বাড়াতে হবে।

পঙ্কজ কুমার

default-image

আমি বেশ কিছু দেশে কাজ করেছি। এক এক দেশে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমস্যা এক এক রকম। বাংলাদেশেও সেটা বিদ্যমান। কিন্তু সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে যখন বিবেচনায় নেওয়া না হয়, তখন পুরো সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব জনগোষ্ঠীকে নিয়ে যে খুব বেশি আলোচনাও হয় না। আজকের আলোচনায় তিনজন মাননীয় সংসদ সদস্য আছেন। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট গণ্যমান্য আলোচকেরা আছেন।

আমি মনে করি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিষয় আলোচনার এটি একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফোরাম। মাননীয় সংসদ সদস্যরা নিশ্চয়ই এ বিষয়টা সংসদ ও সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা করবেন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর এর একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করি। প্রথম আলোসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা আয়োজন করার জন্য ধন্যবাদ।

ফিরোজ চৌধুরী

এসডিজির স্লোগান হলো ‘কাউকে বাদ দিয়ে নয়’। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য প্রথম আলোর পক্ষ থেকে সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

সুপারিশ

  • পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী বিষেশত দলিত, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী, হিজড়া ও ট্রান্সজেন্ডার যেন বৈষম্যের শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে এবং বৈষম্যের শিকার হলে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

  • অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি ও উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

  • পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে প্রত্যেক গোষ্ঠীর জন্য আলাদাভাবে অর্থ বরাদ্দ করতে হবে।

  • পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে একজন মন্ত্রী বা অন্তত একজনকে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য করতে হবে।

  • অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য সুনির্দিষ্ট কাজের ব্যবস্থা করতে হবে।

  • পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতি কারও কোনো নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি যেন না থাকে এবং সমাজে তাদের সম–অধিকার নিশ্চিত করার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।

  • অবিলম্বে বৈষম্য বিলোপ আইন পাস করতে হবে।

গোলটেবিল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন