বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রওশন আরা

default-image

সজাগ কোয়ালিশন খ্রিশ্চিয়ান এইড, ব্লাস্ট ও নারীপক্ষের একটি সমন্বিত উদ্যোগ। ২০১৭ সালে এটা শুরু হয়েছে। পোশাকশিল্পে আমরা নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ, জেন্ডার–বৈষম্য দূরীকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছি।

আমরা নারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের নেতৃত্বে এনেছি। যেকোনো যৌন সহিংসতাসহ যেকোনো অন্যায়ের ক্ষেত্রে তাঁরাই যেন ব্যবস্থা নিতে পারেন। কোভিডকালে সরকারের দেওয়া প্রণোদনা শ্রমিকের জীবনে কতটা প্রভাব ফেলেছে, তা নিয়ে গবেষণা করেছি।এসব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর গুরুত্ব দিই।

মো. নুরুল আলম

default-image

করোনার শুরুতেই ২০২০ সালের ২৫ মার্চ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পোশাকশিল্পের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। কেবল শ্রমিকের সুরক্ষাই ছিল এই প্রণোদনার উদ্দেশ্য। ২ এপ্রিল থেকে এ ক্ষেত্রে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করি। সরকারের প্রণোদনা প্রায় শতভাগ সফল হয়েছে। অনেক শ্রমিকের জাতীয় পরিচয়পত্র ছিল না। তাঁদের ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন সনদ নেওয়া হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বেতন দেওয়া হয়েছে। আবার অনেকের ব্যাংক হিসাবেও দেওয়া হয়েছে। করোনাকালের অনিশ্চয়তার প্রভাব যেন মালিক-শ্রমিকের মধ্যে না পড়ে, সে জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

দেশে প্রায় ৪৫ লাখ পোশাককর্মী রয়েছেন। বিশেষ প্রণোদনায় ৩৭ লাখ ৭৮ হাজার শ্রমিককে বেতন দেওয়া হয়েছে। প্রণোদনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনে শর্ত শিথিল করা হয়েছে।

এ কে এম সালাউদ্দিন

default-image

করোনাকালে কিছু সময় পূর্ণ বিধিনিষেধ ছিল। ওই সময় পোশাক কারখানাসহ সবকিছুই বন্ধ ছিল। তারপর বিধিনিষেধের মধ্যে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের শর্তে পোশাক কারখানা খোলার অনুমতি দেওয়া হয়। এই অবস্থায় মালিকপক্ষ শ্রমিকের বেতন পরিশোধ করতে পারেনি। কিন্তু কারোনাকালে শ্রমিকেরা অনেক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছেন। তখন সরকার বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করে। এই প্রণোদনা পোশাকশিল্প মালিকদের নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করে।

গত এক বছর শ্রমিকদের অভিযোগ লিপিবদ্ধ করার জন্য আমাদের প্রতিনিধি ছিল। প্রণোদনা পাওয়া কারখানা যেন শ্রমিক ছাঁটাই না করে, সে জন্য আমরা মাঠপর্যায়ে কারখানা পরিদর্শন করেছি। কারোনাকালে কারখানা যেন বন্ধ না হয়, সেটাও লক্ষ রেখেছি। তবে অনেক কারখানা প্রণোদনা নেওয়ার পরও সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানা চলেছে। দূরে থাকা শ্রমিকদের কারখানায় নিজস্ব ব্যবস্থায় পরিবহনের কথা বলেও কিছু কারখানা সেই শর্ত পূরণ করেনি।

শহিদউল্লাহ আজিম

default-image

আমরা শ্রমিকের স্বাস্থ্যের বিষয়ে অনেক বেশি সতর্ক ছিলাম। সে জন্য তাঁরা অনেক কম আক্রান্ত হয়েছেন। করোনার শুরুতে ৪৫ দিন কারখানা বন্ধ ছিল। সে সময় শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দেওয়া আমাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। সরকারের প্রণোদনায় আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছি। এখন অার শ্রমিকদের চাকরি হারানোর কোনো বিষয় নেই। এখন যথেষ্ট ক্রয়াদেশ আসছে। কিন্তু সে জন্য যে পরিমাণ শ্রমিকের প্রয়োজন, সেটা নেই। শ্রমিকের ঘাটতি রয়েছে। শ্রমিকেরা প্রণোদনার অর্থ পেয়েছেন। আমাদের কাছে এমন অভিয়োগ নেই যে তাঁরা প্রণোদনার অর্থ পাননি। কিন্তু কারখানামালিকেরা এখন প্রণোদনার ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন না। কারণ, নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসের আগে ব্যবসায়ীদের হাতে টাকা আসবে না।

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম

default-image

আমরা সবাই জানি, তৈরি পোশাক খাতের গুরুত্ব বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কতটা প্রাসঙ্গিক। আমরা কাজ হারানোর ঘটনা দেখছিলাম। রপ্তানি পড়ে যেতে দেখছিলাম। এ খাতে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কাজ করেন। তাঁদের জীবন–জীবিকার মান কীভাবে ধরে রাখা যায়, সেটি একটি বড় প্রশ্ন ছিল। তখন সরকারের দিক থেকে ২৬ মার্চ সামনে রেখে প্রথম ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছিল। মূলত এই প্রণোদনার উদ্দেশ্য ছিল শ্রমিকদের মজুরি দেওয়া। এ সময় বিজিএমইএর রপ্তানি কমেছে। ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছে।
তখন শ্রমিকদের মজুরি প্রদান নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এ অবস্থায় সরকার প্রথমে ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ও আবার আরও ৫ হাজার কোটি টাকা—মোট ১০ হাজর ৫০০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। এই প্যাকেজ মালিকদের দুশ্চিন্তা কমিয়েছে।

আবার শ্রমিকদের সুরক্ষা দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিজিএমইএর ৬২ শতাংশ কারখানা ও বিকেএমইএর ২৯ শতাংশ কারখানা এই সুবিধা নিতে পেরেছে। বিজিএমইএর প্রায় ৫২ শতাংশ বড় কারখানা এই সুবিধা নিয়েছে। ছোট কারখানাগুলো সেই তুলনায় বেশি সুবিধা নিতে পারেনি। ছোট কারখানার ৩৯ শতাংশ প্রক্রিয়াগত জটিলতার জন্য এই ঋণসুবিধার আবেদন করতে পারেনি। আবার অনেকে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সদস্য না হয়েও এই সুবিধা নিয়েছে। কথা ছিল, যারা ঋণসুবিধা পাবে, তারা শ্রকিম ছাঁটাই করতে পারবে না। কিন্তু দেখা গেছে, ঋণসুবিধা পাওয়া ১৮ শতাংশ কারখানা থেকে শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে। শুরুতে স্বাস্থ্যবিধি যেভাবে মানা হয়েছে, পরে আর সেটা থাকেনি। প্রণোদনা প্যাকেজের সময় শ্রমিকদের জন্য যেভাবে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস চালু হয়েছিল, পরে আর সেভাবে থাকেনি। উদ্যোগটি পুরোপুরি চালু রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার শ্রমিক ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন। এটা পোশাক খাতের মোট শ্রমিকের ৪ শতাংশ। সরকার প্রণোদনা না দিলে আরও বেশি শ্রমিক ছাঁটাই হতেন। আরও বেশি প্রণোদনা দিতে পারলে আরও কম ছাঁটাই হতো। ৮৮ শতাংশ শ্রমিক তাঁদের কারখানার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন, যদি কাজ হয়। ২৮ শতাংশ শ্রমিক কারখানায় কাজ পেয়েছেন। এ ক্ষেত্রে পুরুষদের চেয়ে নারী শ্রমিকেরা বেশি ঝুঁকিতে আছেন। তাঁদের ১৮ শতাংশ বাধ্য হয়ে বাসাবাড়িতে কাজ করছেন। বিজিএমইএ শ্রমিকদের একটি তথ্যভান্ডার আছে। এটা বিজিএমইএ, সরকার ও শ্রমিক প্রতিনিধির মাধ্যমে পরিচালিত হলে স্বচ্ছতা বাড়বে।

নাসির উদ্দিন

default-image

করোনার সময় আমাদের খুব দুশ্চিন্তা ছিল। সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজ পাওয়ায় কিছুটা চিন্তামুক্ত হই। শ্রমিকদের কথা চিন্তা করে সরকার এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এর মাধ্যমে পোশাকশিল্প মালিকেরা চার মাসের মজুরি দেওয়ার অর্থ পান। ছাঁটাইয়ের যে সংখ্যা বলা হয়, সেটা ঠিক নয়। অনেকে এমনিতেই চলে গেছেন। আবার যাঁরা বয়স্ক, তাঁরা আর ফিরে আসেননি। আমরা শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করেছি। ব্যাংকে শ্রমিকদের তালিকা দিয়েছি। ব্যাংক টাকা পরিশোধ করেছে। এ ক্ষেত্রে কিছু টেকনিক্যাল সমস্যা থাকতে পারে। কিছু কারখানা প্রণোদনা প্যাকেজের সুবিধা পায়নি। তবে সবাই যদি এই সুবিধা পেত, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভালো হতো। ভবিষ্যতে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি ভাবতে হবে।

সায়মা হক বিদিশা

default-image

পোশাক কারখানার ৫২ থেকে ৫৩ শতাংশ প্রণোদনার সুবিধা পেয়েছে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ৯ শতাংশ ও বড় ব্যবসায়ীরা ৪৫ শতাংশ সুবিধা পেয়েছেন। অনেকে ঠিকায় কাজ করেন। তাঁরা প্রণোদনা পাননি। শুরুতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে শ্রমিকেরা বেতন পেয়েছেন। এ ক্ষেত্রে অনেক নারী শ্রমিকের হাতে বেতনের টাকা আসেনি। বেশির ভাগ নারীর মুঠোফোন তাঁদের স্বামীরা নিয়ন্ত্রণ করেন। তাই অধিকাংশ নারী শ্রমিক তাঁদের ইচ্ছা অনুযায়ী অর্থ খরচ করতে পারেননি। আবার অনেকের মজুরিও কমে গেছে। কারও কারও চাকরি চলে গেছে। এসব কারণে তাঁরা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

হারুন অর রশীদ

default-image

২ শতাংশ সুদে সরকারের কাছ থেকে আমরা ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পেয়েছিলাম। এটি একটি অত্যন্ত সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। এ জন্য আমরা তখন ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছিলাম। সরকারের দেওয়া প্রণোদনা আমরা পেয়েছি। তাই এই মহামারির মধ্যেও পোশাকশিল্প দাঁড়িয়ে আছে। প্রণোদনা তহবিলের শতভাগ সঠিক ব্যবহার হয়েছে।

প্রণোদনার ঋণে কছু শর্ত ছিল। অনেক ছোট কারখানা সেটা পূরণ করতে পারেনি। সে জন্য তারা পায়নি। করোনাকালে ছোট কারখানার চ্যালেঞ্জ ছিল। প্রায় সবার অর্ডার ক্যানসেল হতে থাকল। বায়াররা বিভিন্ন শর্ত থেকে সরে গেল। আবার বিভিন্ন জটিলতার জন্য প্রণোদনাও তারা পায়নি। এ জন্য অনেক কারখানা বন্ধ হয়েছে। এখন অনেক কারখানার কর্মী চাহিদা আছে। শ্রমিকেরা আসলেই কাজ করতে পারবেন।

চায়না রহমান

default-image

কারখানাসংক্রান্ত যেকোনো কমিটিতে শ্রমিকদের প্রতিনিধি রাখা জরুরি। এতে শ্রমিকের স্বার্থরক্ষা হবে। করোনাকালে কাজ হারানো শ্রমিকেরা অনেক সমস্যায় আছেন, তাঁদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন। করোনার সময় শ্রম খাত সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছে। অামরা দেখেছি, তাঁরা জীবন বাঁচাতে কত দীর্ঘ পথ হেঁটে কারখানায় ফিরেছেন। কারণ, এটা ছাড়া তাঁদের কোনো উপায় ছিল না। একমাত্র কাজই শ্রমিকদের জীবিকার উপায়। কাজ হারালে তাঁদের পথে নামতে হয়। তাই শ্রমিকদের জীবন–জীবিকা নিয়ে সবার গুরুত্বের সঙ্গে ভাবা উচিত।

জাহিদ হোসেন আজাদ

default-image

আমরা সরকারি প্রণোদনা পেয়েছি। এর মাধ্যমে উপকৃত হয়েছি। এটা দিয়ে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন দিয়েছি। ২০২০ সাল থেকে আমাদের শিপমেন্ট হচ্ছিল না। বায়াররা চলে যাচ্ছিল। সরকারের এই সহযোগিতার জন্য শ্রমিকদের বেতন দিয়ে কারখানা চালু রাখতে পেরেছি। তবে এ সুবিধা অধিকাংশ বড় কারখানা পেয়েছে। ছোট কারখানার বিষয়টা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার। তাই ছোট কারখানাকে টিকিয়ে রাখার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

বরকত আলী

default-image

প্রণোদনা সব শ্রমিকের কাজে আসেনি। কেবল পোশাকশিল্পের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সদস্যরা প্রণোদনা পেয়েছে। কিন্তু এর বাইরেও অনেক কারখানা আছে। শ্রমিক সুরক্ষায় আইনে আলাদা বিধান থাকা জরুরি। ২৫টি আইন একত্র করে শ্রম আইন করা হয়েছে। তারপরও এ আইনে দুর্যোগকালে শ্রমিকের সুরক্ষার বিষয়টি স্পষ্ট নয়। দুর্যোগে শ্রমিকের জন্য মালিক, সরকার ও শ্রমিক সংগঠনের কী ভূমিকা থাকবে, সে ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার ও বাস্তবায়ন আইনে থাকা প্রয়োজন।

ফারহানা আফরোজ

default-image

শ্রমিকদের তথ্যের ঘাটাতি ছিল। তথ্যের অভাবে আমরা অনেক বিষয় জানতে পারছিলাম না। বড়, ছোট ও মাঝারি কারখানায় নিয়মিত, শিক্ষানবিশসহ বিভিন্ন ধরনের শ্রকিম আছেন। আমাদের একটি প্রধান সুপারিশ হলো কেন্দ্রীয়ভাবে এসব কারখানার একটি তথ্যভান্ডার থাকা জরুরি। তাহলে শ্রমিকদের ছাঁটাই, বরখাস্তসহ যেকোনো সময় যেকোনো ধরনের তথ্য পাওয়া যাবে। তাহলে তাঁদের ফিরিয়ে আনার কাজটিও সহজ হবে। নিয়োগকর্তা, ট্রেড ইউনিয়ন ও সরকারের মধ্যেমে এটা পরিচালিত হবে। এর মধ্য দিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। শ্রমিকদের অভিযোগ দায়ের জন্য বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ থাকা প্রয়োজন। আমাদের ২০১৭ সালের শ্রম আইন আছে। এর রিভিউ দরকার। মালিক, শ্রমিক ও সরকার—এই তিন পক্ষের সমন্বয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে শ্রমিকদের তথ্যভান্ডার পরিচালিত হতে হবে।

মাহীন সুলতান

default-image

প্রণোদনার অধিকাংশ সুবিধা বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ পেয়েছে। ভবিষ্যতে অন্যরাও যেন পায়, সেটা ভাবা জরুরি। করোনাকালে শ্রমিকের বেতন পরিশোধে যে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু হেয়েছে, ভবিষ্যতেও যেন এভাবে চলতে থাকে। সেটা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

কারখানা শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষায় ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে হবে। সামনের দিনগুলোয় ছোট ও ঠিকায় কাজ করা কারখানা যেন প্রণোদনা থেকে বাদ না যায়, এ জন্য পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। শর্ত ছিল, যারা প্রণোদনা পাবে, তারা শ্রমিক ছাঁটাই করবে না। অথচ প্রণোদনা পাওয়ার পরও অনেকে শ্রমিক ছাঁটাই করেছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য কোন কারখানা কত প্রণোদনা পেয়েছে, সে তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা প্রয়োজন।

ফিরোজ চৌধুরী

সরকারি প্রণোদনা, শ্রমিকদের মজুরি, ছাঁটাই রোধে করণীয়, প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিলে মালিক ও শ্রমিকের কল্যাণ হবে বলে আশা করি। আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য প্রথম আলোর পক্ষ থেকে সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

গোলটেবিল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন