বলি কথা অকপটে

গোলটেবিলে অংশগ্রহণকারী

অর্পিতা বসুনিয়া

কিশোরী, দেউতি ফান সেন্টার

মনিরা আক্তার

কিশোরী, শরিফসুন্দর ফান সেন্টার

রিমা আক্তার

কিশোরী, মিরাপাড়া ফান সেন্টার

হনুফা ঋতু

কিশোরী, আনন্দধনীরাম ফান সেন্টার

তাহমিনা হক, প্রোগ্রাম অফিসার (জেন্ডার), ইউনিসেফ বাংলাদেশ

হুমায়রা ফারহানাজ

প্রোগ্রাম অ্যানালিস্ট, ইউএনএফপিএ

কামরুন নাহার

সদস্য, নারীপক্ষ

রওনক জাহান

সিনিয়র টেকনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর, জেন্ডার মেইনস্ট্রিমিং, কেয়ার বংলাদেশ

সঞ্চালক

মাহবুবা সুলতানা, সমন্বয়ক, প্রথম আলো ট্রাস্ট

বিজ্ঞাপন

আলোচনা

মাহবুবা সুলতানা

আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে আজকের ভার্চুয়্যাল সংলাপে আপনাদের স্বাগত জানাই। আপনারা জানেন, কেয়ার বাংলাদেশ কন্যাশিশুদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। শিশুবিবাহের অন্তর্নিহিত কারণগুলো খুঁজে বের করে কমিউনিটি পর্যায়ে কর্মসূচি এবং তথ্যপ্রামাণ সংগ্রহ করে কিশোরীদের অধিকার সমুন্নত করার মাধ্যমে শিশুবিবাহের মূল কারণগুলো মোকাবিলা করছে।

কেয়ার বাংলাদেশের টিপিং পয়েন্ট ইনিশিয়েটিভ বিভিন্ন ধরনের অংশগ্রহণকারীর (যেমন: কিশোরী, কিশোর, মা, বাবা, এবং এলাকার গণমান্য ব্যক্তিবর্গ) অংশগ্রহণের মাধ্যমে কিশোরীদের প্রতি সমাজের প্রত্যাশা ও নেতিবাচক সামাজিক রীতিনীতিগুলো চ্যালেঞ্জ করে কিশোরীদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে আসছে।

আজকের আলোচনায় কন্যাশিশুদের বিভিন্ন সমস্যা আলোচনা হবে এবং এসব সমস্যা উত্তরণে আমাদের সবার ভূমিকাসহ সুচিন্তিত দিকনির্দেশনা আসবে। অনুষ্ঠানে আমরা চারজন কিশোরীর কথা শুনব, যারা রংপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে যুক্ত হবে। আরও থাকবেন চারজন অনুপ্রেরক। শুরুতেই আমরা শুনব হনুফা ঋতুর কথা।

হনুফা ঋতু

default-image

আমাদের এলাকায় শিশুবিবাহ হয়। গ্রামে ও আশপাশের এলাকায় যখন শিশুবিবাহ হয়, তখন দেখা যায় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা শিশুবিবাহের ঘটনা এড়িয়ে যান, কেউ কেউ আবার সহযোগিতাও করেন। কিন্তু আমার মনে হয়, তাঁরা যদি আরেকটু গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি দেখতেন, তাহলে শিশুবিবাহ বন্ধ হতো। তাঁরা আরও শক্তিশালী ভূমিকা নিতে পারেন। শিশুবিবাহের কুফল সম্পর্কে বোঝাতে পারেন। আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন। তাহলে শিশুবিবাহ বন্ধ হবে।

অনেক মেয়ের শিশুবিবাহ হচ্ছে, যারা বিয়ের বিষয়টা ভালোভাবে জানেই না। বিয়ের কথা তারা চিন্তাও করে না। তাদের পড়ালেখাও শেষ হয়নি। তাদের অনেক স্বপ্ন থাকে, যা বিয়ের কারণে আর পূরণ হয় না।

কিশোরীদের অনেক ধরনের সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়। আমরা কোথাও গেলাম, বাড়িতে ফিরতে একটু সন্ধ্যা বা রাত হলো। তখন পাশের বাড়ির লোকজন আমাদের বাড়িতে চলে আসবে। মা-বাবাকে বলবে, ‘তোমাদের মেয়ে রাতে ঘরে ফেরে। এটা ভালো না। ওকে বিয়ে দিয়ে দাও।’

আমার চোখে সমান ভবিষ্যৎ হলো যেখানে নারী-পুরুষের কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। সবাই সমানভাবে চলতে পারবে। সবার সমান অধিকার থাকবে।

পরিবারে ছেলেদের যেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়, মেয়েদের তেমন দেওয়া হয় না। এ বৈষম্য দূর করতে হবে। ভবিষ্যতে আমি এমনটা দেখতে চাই না। আমাদের শিক্ষা-চাকরিসহ প্রায় সব ক্ষেত্রে সমান অংশগ্রহণ নেই। ভবিষ্যতে যেন এটা সমান হয়। ভবিষ্যতে সব ক্ষেত্রে যেন আমরা সমান সুযোগ পাই।

দেখা যাচ্ছে, আমার বাবার ব্যাংকে টাকা আছে। এটা যদি কোনো কারণে আমাদের মধ্যে ভাগ হয়, তখন আমার ভাই যা পাবে, আমি তা পাব না। আমি তার অর্ধেক পাব। এভাবে আমরা বিভিন্নভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছি। মা–বাবার যা কিছু থাক না কেন, তা যেন ছেলে ও মেয়ের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করা হয়।

অর্পিতা বসুনিয়া

default-image

করোনা মহামারি অনেক সমস্যার সৃষ্টি করেছে। লকডাউনের সময় আমি সব সময় বাসায় ছিলাম। কিন্তু আমার কোনো কথা বন্ধুবান্ধবকে শেয়ার করতে পারছিলাম না। মা–বাবাকে যদি বলি, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে একটু কথা বলব। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কথা বলতে দিতে চান না।

করোনা মহামারিতে সঠিক কোনো তথ্যও পাচ্ছিলাম না। আমাদের সবার স্মার্টফোন ও টেলিভিশন নেই। কিন্তু আমরা জানতে চাই,
দেশের কী অবস্থা। আমরা যে ফোন করে অন্যের কাছ থেকে তথ্যটা জানব, সেটাও সম্ভব হয় না। কারণ, মা–বাবা বলেন, ‘তোমাদের কাছে ফোন দেওয়া যাবে না।’

অনেক মা–বাবা মেয়েদের বোঝা মনে করেন। তাঁরা ভাবেন, মেয়েদের বিয়ে দেওয়া দরকার। তাই শিশুবিবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মা-বাবার উচিত আমাদের একটু সমর্থন করা, উৎসাহ দেওয়া, যেন আমরা ভালোভাবে পড়ালেখা শেষ করতে পারি। আমরা চাই তাঁরা বলুন, ‘করোনাভাইরাস হয়েছে তো কী হয়েছে, ভালোভাবে পড়াশোনা করো।’ কিন্তু তাঁরা সেটা করছেন না। অধিকাংশ সময় তাঁরা আমাদের স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন।

আমাদের মতো বয়সী মেয়েরা সাধারণত চঞ্চল স্বভাবের হয়ে থাকে। মা–বাবাকে বোঝানো উচিত তাঁরা যেন অন্যের কথায় প্রভাবিত হয়ে কিশোরীকে মেয়েকে বিয়ে না দেন। মা–বাবা যেন আমাদের ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখেন।

আমার গ্রামের পাশেই আমার এক বান্ধবী পালিয়ে বিয়ে করেছে। সেখান থেকে অনেক মা-বাবা প্রভাবিত হয়েছেন। তাঁরা মনে করেন, ‘আমার মেয়ে যেহেতু তার সঙ্গে মিশেছে, তাই সেও ভুল করতে পারে।’ মা-বাবার চিন্তা করা উচিত, আমাদের কোথায় সমস্যা হচ্ছে। সবার আগে আমাদের মতামতের গুরুত্ব দেওয়া উচিত। আমি কী চাই, আমার কী প্রয়োজন, তাঁদের এটা ভাবা উচিত। কারণ জীবনটা আমার।

সামনের ভবিষ্যতে আমি যেন সমান অধিকার পাই। আমাদের প্রত্যেকের জীবনে একটা স্বপ্ন আছে। সেই স্বপ্ন পূরণে অনেক কঠিন বাধা আসে, যা একজন কিশোরীর পক্ষে মোকাবিলা করা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না।

একটা সাইকেলের যেমন দুইটা চাকা না থাকলে চলতে পারে না, তেমনি দেশের উন্নতির জন্য ছেলে ও মেয়েদের সমান গুরুত্ব দিতে হবে। আমার ভাই ডাক্তার হতে চায়। আমিও ডাক্তার হতে চাই। মা–বাবা ভাইকে উৎসাহ দেন। আমাকে সেভাবে দেন না। আমি কি তবে ডাক্তার হতে পারব না? আমাদের সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন করতে হবে। তাদের বুঝতে হবে, মেয়েরা ছেলেদের থেকে কোনো অংশে কম নয়।

রিমা আক্তার

default-image

আমার কাছে সমান ভবিষ্যৎ হলো, ছেলে ও মেয়ে সব কাজে সমানভাবে অংশ নেবে। আমার বাসা থেকে স্কুল বেশ দূরে। আমার চাচাতো ভাই সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যায়। আমি বাবাকে বললাম, ‘আমি সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাব।’ কিন্তু বাবা বললেন, ‘তুমি তো মেয়ে, তুমি সাইকেল চালাতে পারবে না।’

আমি এমন ভবিষ্যৎ চাই, যেখানে ছেলে ও মেয়ে সমান অধিকার পাবে। কোনো পার্থক্য থাকবে না। শিশুবিবাহ রোধে আমার জায়গা থেকে ভূমিকা নিয়েছি। মা–বাবাকে শিশুবিবাহের ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে বুঝিয়েছি, যা আমি টিপিং পয়েন্টের ফান সেন্টার থেকে শিখেছি।

আমার পাশে যেসব মেয়ে আছে, তাদের এ বিষয়ে বলেছি। তারা বলেছে, ‘আমাদের তো এভাবে কেউ বোঝায়নি।’ আমি তাদের বলেছি, তোমাদের বাবা–মায়েরা যদি কখনো বিয়ে দিতে চান, তাহলে তাঁদের বোঝাবে যে তোমরা লেখাপড়া শিখে ভবিষ্যতে বড় হতে চাও। সমাজে অবদান রাখতে চাও। আমার জাতির উন্নয়নের জন্য আমাকে উচ্চশিক্ষিত হতে হবে।

একটা ছেলে বাইরে গিয়ে কোচিং করতে পারছে। সব পরিবারে মেয়েকে কিন্তু সেটা করতে দিচ্ছে না। আমার বড় বোন অনেক মেধাবী ছিল। তাকে বাইরে পড়তে যেতে দেওয়া হয়নি। সে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে ভালো ক্যারিয়ার গঠন করতে পারত। কিন্তু ১৮ বছর বয়স হওয়ার পরপরই মা-বাবা তাকে বিয়ে দিয়ে দিলেন।

আমার প্রতিবেশী এক বান্ধবীর বিয়ের কথা হচ্ছিল। আমি আমার বাবাকে বললাম, তুমি গিয়ে একটু বোঝাও যে আমাদের মেয়েকে বিয়ে দিইনি। ওরা একসঙ্গে স্কুলে যায়। আরও পড়ুক। শিশুবিবাহের অনেক ক্ষতি। তখন আমার বান্ধবীকে আর বিয়ে দেওয়া হয়নি।

মনিরা আক্তার

default-image

আমাদের সমাজের অনেক পরিবারেই ছেলেসন্তান বেশি প্রাধান্য পায়। বিষয়টি মেয়েদের মনে চাপ সৃষ্টি করে। পরিবার, সমাজ সবখানেই এটা হয়ে থাকে। ধরা যাক প্রাইভেট পড়া থেকে বাড়ি ফিরতে ছেলেরা একটু দেরি করলে মা–বাবা তাদের কিছু বলেন না। কিন্তু মেয়েদের একটু দেরি হলে অনেক বকা শুনতে হয়। আমি চাই ভবিষ্যতে পরিবার ও সমাজে মেয়েরা সমান গুরুত্ব পাবে।

বর্তমানে পরিবারে মেয়েদের মতামতের গুরুত্ব দেওয়া হয় না, তাদের স্বপ্ন পূরণে সমর্থন দেওয়া হয় না। এসবের পরিবর্তন হতে হবে। ভবিষ্যতে আমি সমান সুযোগ চাই। কোনো বৈষ্যম্য চাই না ।

বেশির ভাগ পরিবার ভাবে যে ছেলেসন্তান বড় হলে আয় করবে, পরিবারকে দেখবে। কিন্তু মেয়ে পরিবারকে দেখতে পারবে না। তাই অনেক মা–বাবা মেয়েদের বেশি পড়ালেখা না করিয়ে কম বয়সে বিয়ে দিয়ে দেওয়ার কথা ভাবেন।

আবার করোনার কারণে অনেক পরিবারের প্রধান কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। অভিভাবকদের আয়–উপার্জন নেই। তাঁদের অনেকেই মেয়েদের বোঝা ভেবে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন।

তাহমিনা হক

default-image

কিশোরীদের কথা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনছিলাম। আমাদের দেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে, এদের কথা শুনে সেটা মনে হচ্ছে। কিশোরীরা যে কতটা সচেতন, তাদের বক্তব্য যে কতটা জোরালো, সেটা আমরা বুঝতে পেরেছি। এসব মেয়েকে সুযোগ দিলে ভবিষ্যতে তারা আমাদের দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখতে পারবে।

কন্যাশিশুদের অনেক অধিকার রয়েছে। তাদের শিশুবিবাহ না হওয়ার অধিকার রয়েছে। এই অধিকার না পাওয়ার ফলে তারা পেছনে পড়ে থাকছে।

একটা ভালো দিক হলো, তারা তাদের অধিকার সম্পর্কে জানছে। অধিকার আদায়ের চেষ্টাও করছে। কিন্তু তারা এককভাবে চেষ্টা করলে তেমন ফলপ্রসূ হবে না। শিশুবিবাহের কারণগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে।

পারিবারিক আর্থিক অসচ্ছলতা শিশুবিবাহের একটা বড় কারণ। এটা দূর করতে মা–বাবার ভূমিকা দরকার। সেই সঙ্গে পরিবার ও সমাজ মেয়েদের কী দৃষ্টিতে দেখে, সেটাও একটা বড় ব্যাপার।

মেয়েরা বলেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের মতামতের গুরুত্ব দেওয়া হয় না। কন্যাশিশুদের মতামতের গুরুত্ব দেওয়া, তাদের মূল্যায়ন করা, তাদের পড়াশোনায় সমর্থন দেওয়া—এসব বিষয়ে পরিবর্তনের ভাবনাটা মা-বাবার মধ্যে আসতে হবে

পরিবারে অভাব থাকলে অনেক পরিবার মেয়েকে বোঝা মনে করে। তখন তাকে বিয়ে দিতে চায়। মা-বাবা যদি মনে করতেন মেয়েটা সম্পদ, ভবিষ্যতে আমাদের সহযোগিতা করবে, মানুষ হয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে, তাহলে মেয়েটাকে বিয়ে দিতেন না।

মেয়েদের মূল্যায়ন করতে হবে। শুধু মা–বাবা মূল্যায়ন করলে হবে না, এটা কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত। কিশোরীরা বলছিল, মা–বাবাকে নাহয় বোঝালাম। কিন্তু আশপাশের মানুষ যে চাপ দিতে থাকে, তখন কী হবে।

সামাজিকভাবেও মেয়েদের মূল্যায়ন করতে হবে। তাদের জন্য বিনিয়োগ করতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মেয়েদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

আমাদের বড় দায়িত্ব হলো সরকারের সঙ্গে কাজ করা। সরকারের যে সিস্টেম আছে, তাকে শক্তিশালী করা। সরকারের সব কার্যক্রমে যদি জেন্ডার সংবেদনশীলতার বিষয়টি আনা যায়, তাহলে সমগ্র বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য এটা ভূমিকা রাখবে।

আমি জাতিসংঘের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করি। আমরা মেয়েদের অনেক বিষয় নিয়ে কাজ করছি। কন্যাশিশুর অধিকারের ক্ষেত্রে কন্যার নিজের, তার পরিবার ও ছেলেদের ভূমিকা রয়েছে। ছেলেরা যেন বিশ্বাস করে, তার বোন, তার বান্ধবীর ক্ষমতায়ন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। মেয়েদের ক্ষমতায়ন হলে তাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এ ক্ষেত্রে সরকার, পরিবার, গণমাধ্যম, সমাজ—সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।

শিশুবিবাহের ক্ষেত্রে কেন যেন একটা গ্রহণযোগ্যতা থেকে যাচ্ছে। একজন কিশোরী বক্তা বলেছে, গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে থাকেন। এখানে আমাদের কাজ করতে হবে। আইনেও বলা নেই যে শিশুবিবাহ হলে বিয়েটা বাতিল হয়ে যাবে। তাই আইনের মধ্যেও শিশুবিবাহের গ্রহণযোগ্যতা থেকে গেল কি না, সেটা দেখতে হবে। এসব নিয়ে অনেক কাজ করতে হবে।

আমাদের কিশোরীরা তাদের সমস্যাটা জানে। আবার তাদের স্বপ্নটাও জানে। স্বপ্নপূরণে বাধা কোথায়, সেটা তারা জানে। তাদের এই জানাকে সম্মান করা দরকার। বাধাগুলো অপসারণ করে তাদের স্বপ্নের দিকে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল কাজ। এ ক্ষেত্রে তাদের পরিবার, সমাজ সবাইকে এগিয়ে আসহে হবে

আমাদের কন্যাশিশুদের নেটওয়ার্কিং অনেক বাড়াতে হবে। তারা বলেছে, তারা তথ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। তাদের স্মার্টফোন নেই, ডিভাইস নেই। সুতরাং এই জায়গাগুলোতে আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

হুমায়রা ফারহানাজ

default-image

মুগ্ধ হয়ে আমাদের কিশোরীদের কথা শুনছিলাম। ওরা ওদের কমিউনিটিতে কী কী কাজ করে, সেটা অনেক আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলল। কীভাবে ওরা মা–বাবাকে বোঝাচ্ছ, কীভাবে এলাকায় গণমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলছে, খুব মনোযোগের সঙ্গে এসব শুনছিলাম। অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চলে থেকেও ওরা এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের সমাজে তাদের এগিয়ে যাওয়ার পথকে আরও প্রশস্ত করতে হবে। তারা যেন বাধামুক্ত পরিবেশে কাজ করতে পারে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

বিভিন্ন পর্যায় থেকে কিশোরীদের জন্য কাজ হচ্ছে। কিন্তু তবু একটা চ্যালেঞ্জ থেকেই যাচ্ছে। আমাদের দেশে একটা মেয়ের শিশুবিবাহ হওয়ার পর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দ্রুত সে সন্তানের মা হয়ে যায়। এ জন্য মেয়েটির শারীরিক ও মানসিক ভীষণ ক্ষতি হয়।

একই সঙ্গে শিশুসন্তানেরও নানাবিধ জটিলতা হতে পারে। একটা মেয়ের যদি স্বাস্থ্য ঠিক না থাকে, তাহলে অন্য কাজগুলো যেভাবে করা দরকার, সেভাবে সে করতে পারবে না। আবার স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে তার কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সে সব সময় সঠিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা পায় না।

মেয়েরা অনেক কিছু করতে গিয়েও করতে পারছে না। একজন কিশোরী বক্তা বলল যে ঘরে ফিরতে একটু সন্ধ্যা বা রাত হলে পাশের মানুষ সমালোচনা করে।

আরেক কিশোরী বক্তা বলেছে, একটা সাইকেল হলে সে ভালোভাবে স্কুলে যাতায়াত করতে পারত। তার পরিবার তাকে সাইকেলটা দিতে চায়নি। কারণ, একটা মেয়ে সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাবে; সমাজ কী বলবে? এসব ভয়ে তাকে সাইকেল দেওয়া হলো না।

একজন মেয়ে দূরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত হেঁটে যাওয়া-আসা করতে পারবে না, মেয়েটার লেখাপড়া থেমে যাবে, এটা কোনোভাবেই হতে দেওয়া উচিত না। তাহলে আমাদের মেয়েরা সামনে এগোতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

একজন কিশোরী বক্তা বলছিল, গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মুখে শিশুবিবাহ খারাপ বললেও তঁাদের অনেকে আবার এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছেন। আমাদের কমিউনিটিতে কাজি, পুরোহিত, ম্যারেজ রেজিস্ট্রারসহ সরকারি প্রশাসনে যঁারা আছেন, এ ছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা যঁারা আছেন, সবাইকে একসঙ্গে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার উদ্যোগ নিতে হবে।

বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। দেশে শিশুবিবাহ বন্ধের জন্য নীতিমালা আছে। আমাদের শিক্ষানীতিও নারীশিক্ষাবান্ধব। মেয়েদের শিক্ষার জন্য সরকারের অনেক কর্মসূচিও আছে। কিন্তু আমাদের এখানে বড় সমস্যা হলো প্রয়োগের। শিশুবিবাহ বন্ধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা আছে। কিন্তু প্রয়োগ হয়তো সেভাবে হচ্ছে না। কীভাবে নীতিমালা প্রয়োগ করা যায় এবং আমাদের মেয়েরা এর সুযোগ নিতে পারে, সেটা দেখতে হবে।

খুব ভালো লাগে এ জন্য যে ওরা আসলে অনেক বেশি জানে। অনেক সচেতন। আশপাশে কী হচ্ছে, তাদের অধিকারটা কী—সবই তারা জানে। এখানে তাদের আত্মবিশ্বাসটা ধরে রাখতে হবে। সবাই মিলে কাজ করতে হবে। আমরা যখন সবাই মিলে কাজ করব, শুধু তখনই পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

আমাদের উচিত সব ইতিবাচক দিকগুলো এক জায়গায় এনে কন্যাশিশুদের জন্য একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে তারা তাদের দক্ষতা কাজে লাগাতে পারে।

কামরুন নাহার

default-image

আজ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কিশোরীরা কথা বলেছে। তাদের বক্তব্য থেকে ভালোভাবেই এসেছে যে আমাদের সমস্যা কোথায়। আমরা পরিবার, সমাজ ও আইনের কথা বলছি। কিন্তু মূল সমস্যা হলো নারীকে মানুষ হিসেবে মূল্য না দেওয়া। দৃষ্টিভঙ্গি হলো নারীকে অধস্তন ও অধীন করে রাখা। এর সঙ্গেই সবকিছু সম্পৃক্ত।

কন্যাশিশুর স্বপ্নকে বাস্তবায়ন হতে না দেওয়া, দ্রুত তাকে বিয়ে দিয়ে ‘বোঝা’ অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ার মানসিকতা শিশুবিবাহের জন্য প্রধানত দায়ী। যত দিন পর্যন্ত নারীর প্রতি আমাদের এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন না হচ্ছে, তত দিন সমাজে নারী বাধার সম্মুুখীন হবে। মেয়েদের সুযোগ আমাদেরই করে দিতে হবে। নারীরা যত বেশি অনুকরণীয় হবে, তত বেশি তারা অনুপ্রাণিত হয়ে আমাদের সমাজে অবদন রাখবে।

আমরা আইন বদলেছি। কিন্তু আইনের জন্য যঁারা দায়বদ্ধ, তঁাদের কতটা দায়বদ্ধ করতে পারছি? আমাদের সমাজে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। নারীর সমস্যা সব সময় চিহ্নিত হয় না, এ জন্য কারও চিন্তা নেই।

সম্প্রতি যেসব নির্যাতন হচ্ছে, এসব কি শিশুবিবাহের জন্য দায়ী নয়? একজন মেয়ে যখন নিরাপত্তাহীনতায় থাকে, তখন মা–বাবা চিন্তা করেন, তাঁদের মেয়ের গায়ে আঁচড় লাগার আগেই যেন মেয়েটাকে বিয়ে দিতে পারেন। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির সীমাবদ্ধতা আছে। এসব উত্তরণের অনেক উদ্যোগ আছে। কিন্তু উদে্যাগ যেন কার্যকর হয় সে জন্য সবার ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন।

আজকে হনুফা, অর্পিতা, রিমা, মনিরা আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে। তারা এটা বলতে পারত না, যদি তাদের কোনো সহযোগিতা
না থাকত।

অন্য বাড়ির লোকেরা ঘরে ফিরতে একটু দেরি হলে অনেক কথা বলে যাবে। কিন্তু যখন একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যাশিশুর বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়, তখন সে ব্যাপারে তারা ভূমিকা নেবে না। এসব ক্ষেত্রে পরিবারকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।

মৌলিক কথা অকপটে বলতে হবে। আমরা যেন আমাদের দুঃখ-কষ্টের কথা সহজভাবে কারও কাছে বলতে পারি। সেই মানুষটি হতে পারেন আমার শিক্ষক, প্রতিবেশী, ভালো কোনো বন্ধু।

আমাদের প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে, আমাদের জানামতে যেন একটিও শিশুবিবাহ না হয়।

আমরা যারা এ ক্ষেত্রে কাজ করছি, তাদের আরও সংগঠিত হতে হবে। শুধু আইন থাকলেই হবে না, আইনের যেন সঠিক প্রয়োগ হয়, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। আইনের বিধিমালায় যে সুন্দর ব্যাখ্যা আছে, এটা বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি স্তরে আমাদের মনোযোগ দেওয়া এবং তদারকি বাড়ানো প্রয়োজন। নারীকে মানুষ হিসেবে দেখতে, বুঝতে ও সম্মান করতে আমাদের সবার উদ্যোগগুলো একত্র করা দরকার।

রওনক জাহান

default-image

আজকের আলোচক ও কিশোরীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করতে চাই। বিশেষভাবে কিশোরীদের ধন্যবাদ জানাতে চাই, যেহেতু তারা অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আলোচনায় অংশগ্রহণ করছে।

আমরা জানি যে কিশোরীরা তাদের অধিকার বিষয়ে অনেক বেশি সচেতন। আজকের আলোচনায় যদি আমরা দেখি তাহলে দেখব একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল কিশোরীদের অধিকারের কথা।

এসেছে কন্যাশিশুদের মূল্যায়ন না করার কথা এবং মা–বাবাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ভূমিকার কথা। আর সবকিছুর ওপর যে বড় প্রশ্ন আমাদের তা হচ্ছে, ‘শিশুবিবাহ কেন বন্ধ হচ্ছে না?’

অনেক সংগঠন এবং সরকারের মতো কেয়ার বাংলাদেশও শিশুবিবাহের হার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে। কেয়ার বাংলাদেশের কাজের মূল কৌশল হলো কন্যাশিশুদের পছন্দ, অপছন্দ ও মতামতকে কেন্দ্রবিন্দু করে জেন্ডার-ভাবনার পরিবর্তনের ট্রান্সফরমেশনের মাধ্যমে শিশুবিবাহের হার কমিয়ে আনা। মা, বাবা, কমিউনিটি ও অন্যান্য জায়গায় জেন্ডার সংবেদনশীলতা এসেছে। মা–বাবা কিন্তু জানেন, শিশুবিবাহ দিলে কী হয়। তারপরও শিশুবিবাহ হচ্ছে৷

অনেক সময় এমন দেখা যায়, মা–বাবা না চাইলেও অনেকে আত্মীয়স্বজন কিংবা গ্রামের অন্যান্য মানুষের চাপে পড়ে অল্প বয়সে কন্যাশিশুর বিয়ে দিয়ে দেন। আমরা কন্যাসন্তানকে সম্পদ মনে করছি না। আমরা জানি না কন্যাসন্তানের জন্য বিনিয়োগ করলে কী হতে পারে।

কন্যাসন্তানকে লেখাপড়া করালে, অল্প বয়সে বিয়ে না দিলে এবং বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণের সুযোগ দিলে কী হয়, এই চিত্র আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়।

টিপিং পয়েন্ট ইনিশিয়েটিভের বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে আমরা এই সম্পর্কে ইতিবাচক তথ্য দিচ্ছি। একজন মেয়ের বিয়ে হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে সন্তান প্রসবের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হয় তার প্রজননক্ষমতা ঠিক আছে। যেসব কন্যাশিশুর অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যাচ্ছে, সেসব শিশুর জন্যও কেয়ার বাংলাদেশ কাজ করছে। আমরা বিবাহিত কিশোরী ও তার নতুন পরিবারের সঙ্গে কাজ করছি, যেন তারা প্রথম সন্তান নেওয়ার আগে কমপক্ষে দুই বছর সময় নেয়। এসব অল্পবয়সী কিশোরীকে আমরা বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। এটি তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নেও প্রভাব ফেলছে

আমাদের সমাজে এমন একটা ধারণা তৈরি হয়ে আছে যে মা–বাবা যদি অল্প বয়সে কন্যাশিশুকে বিয়ে না দেন, তাহলে সে প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে করতে পারে। আরও বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাঁরা মনে করেন, এতে পরিবারের সম্মান চলে যাবে। এ ধরনের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে।

আমরা আজকে দেখেছি, মেয়েরা তাদের কথা কত সুন্দরভাবে বলতে পারে। মেয়েদের অধিকারের কথা মেয়েরাই বলবে। তাদের কথা আমাদের শুনতে হবে। তাদের জন্য এমন একটি পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে, যেন তারা তাদের ইচ্ছা–অনিচ্ছার কথা বলতে পারে।

তাহমিনা আপা আমাদের আইন ও আইনের দুর্বলতার কথা বলেছেন। এখানে আমাদের অনেক বেশি কাজ করতে হবে। আইনে আছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে শিশুবিবাহ হতে পারে। এটার সুযোগ নিয়ে শিশুবিবাহ বেড়ে যাচ্ছে। আবার শিশুবিবাহকে আইনে বাতিল বলা হয়নি।

টিপিং পয়েন্ট ইনিশিয়েটিভে আমরা তৃতীয় পর্যায় আছি। এখানে প্রধান কাজ হলো, একদম প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদের ভাবনাকে জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। সবাই যেন তাদের কথা শুনতে পায়। তাদের অধিকারের জন্য যেন কাজ করতে পারে।

আমি বলব, কন্যাশিশুরা, তোমরা যে স্বপ্ন দেখছ, সেটা দেখতে থাকো। সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য সোচ্চার হও। যদি এমন হয় যে যুদ্ধ করেও স্বপ্ন পূরণ করতে হয়, সেটা করতে হবে। আর আমাদের সবার দায়িত্ব কন্যাশিশুদের স্বপ্ন পূরণে সাহায্য করা।

আমরা কেয়ার বাংলাদেশ সবাইকে নিয়ে আরও সংগঠিতভাবে কাজ করে যাব। আমরা গণমাধ্যমের সঙ্গেও কাজ করতে চাই। এ ক্ষেত্রে পুরুষদের অংশগ্রহণও জরুরি। নারীকে নারী হিসেবে না দেখে মানুষ হিসেবে দেখতে হবে। নারীর প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন
করতে হবে।

মাহবুবা সুলতানা

এতক্ষণ একটি ফলপ্রসূ আলোচনা হলো আমাদের কিশোরীরা অনেক গঠনমূলক আলোচনা করেছে। তাদের আলোচনায় অনেক সমস্যা ও এর সমাধানের দিকনির্দেশনাও এসেছে। আশা করব, নীতিনির্ধারকেরা তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন।

আমরা মনে করি, কিশোরীদের স্বপ্ন দেখতে হবে। যত বাধাই আসুক, তাদের স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে হবে। তাহলে তাদের ভবিষ্যতের দিনগুলো নিশ্চয়ই সম্ভাবনাময় হয়ে উঠবে।

আজকের আলোচনায় অংশগ্রহণ করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

আলোচনায় সুপারিশ

  • সমাজে ছেলে ও মেয়েদের সম–অধিকার নিশ্চিতকরণে কাজ করতে হবে

  • শিশুবিবাহের অন্তর্নিহিত কারণগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে।

  • আইনে বলা নেই যে শিশুবিবাহ হলে বিয়েটা বাতিল হয়ে যাবে। তাই আইনের মধ্যেও শিশুবিবাহের গ্রহণযোগ্যতা থেকে গেল কি না, সেটা দেখতে হবে।

  • কিশোরী, মা, বাবা, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ সবাইকে শিশুবিবাহ রোধে এগিয়ে আসতে হবে।

  • কিশোরীদের মতামতের গুরুত্ব দেওয়া, তাদের মূল্যায়ন করা, তাদের পড়াশোনায় সমর্থন দেওয়া—এসব বিষয়ে পরিবর্তনের ভাবনাটা মা-বাবার মধ্যে আসতে হবে।

  • সমাজ ও পরিবারকে কিশোরী ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে কিশোরীদের ক্ষমতায়নের জন্য উদ্যোগী হতে হবে।

  • দেরিতে বিয়ে করা ও শিক্ষাজীবনে সফল হওয়া নারীদের যুক্ত করে সমাজ, পরিবার ও কিশোরীদের দেরিতে বিয়ের সুফল বোঝাতে হবে।

মন্তব্য পড়ুন 0