বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আলোচনা

default-image

সায়লা ফারজানা

যুগ্ম সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও জাতীয় প্রকল্প পরিচালক, লজিক প্রকল্প।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অত্যন্ত ঝুঁকিতে বাংলাদেশ। এ পর্যন্ত ৫০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তার সুফলও পাওয়া যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তরুণদের সম্পৃক্ততা অনেক বড় একটি বিষয়। এটি যেন শুধু কথার মধ্যেই আটকে না থাকে, বাস্তবে এর প্রয়োগ দেখা যায়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকে এ জন্য এগিয়ে আসা দরকার। জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবিলায় কার্বন নিঃসরণের মাত্রা কমানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। আমরা দেখেছি, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। তাদের সহায়তার জন্যও প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তরুণদের সম্পৃক্তকরণ, এটি অনেক বড় কথা। এটি যেন শুধু কথার মধ্যে আটকে না থাকে। তরুণদের ভালোভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি আমাদের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।

default-image

এইচ ই চার্লস হোয়াইটলি

রাষ্ট্রদূত এবং প্রতিনিধিদলের প্রধান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন

জলবায়ু পরিবর্তনের হাত থেকে পালানোর কোনো উপায় নেই। এটা মোকাবিলা করেই বেঁচে থাকতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যাগুলো আরও বড় জায়গায় তুলে ধরতে হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত দেশের পাঁচ জেলা থেকে আসা ক্ষতিগ্রস্ত তরুণদের কষ্টের কথার সঙ্গে গ্রেটা থুনবার্গের কথার অনেক মিল রয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, চিন্তা করতে হবে বৈশ্বিকভাবে কিন্তু কাজ করতে হবে স্থানীয় জনগণের মতো করে। তাদের জন্য যেভাবে কার্যকর, সেভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে। শুধু গরিব দেশেই নয়, বিশ্বের ধনী দেশগুলোও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ নেদারল্যান্ডসের কথা বলেন তিনি। সে দেশেও অনেক নিচু অঞ্চল আছে বলে জানান। বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার অভিজ্ঞতা নিয়ে বিশ্বের বড় দেশগুলোও কাজ করতে পারে। তাতে খরচ কমে আসবে।

default-image

আব্দুল কাইয়ুম

সহযোগী সম্পাদক, প্রথম আলো

কপ ২৬ সম্মেলনের সময় জলবায়ু নিয়ে এ রকম একটি আলোচনা অনুষ্ঠান খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। এখানে ক্ষতিগ্রস্ত জনপদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকায় আরও প্রাসঙ্গিক হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমাদের দক্ষিণাঞ্চলের অর্ধেক অংশ ডুবে যেতে পারে। এখন যারা বয়সে তরুণ, তারা সে সময় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই তাদের এখন থেকেই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কাজে লাগাতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় বিশ্বের অনেক দেশ নানা পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলে। কিন্তু বাস্তবে আমার সেগুলোর প্রয়োগ দেখি না। বাংলাদেশের মতো যেসব দেশ ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, তাদের আরও এগিয়ে আসা দরকার। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তরুণ কাঁধে এখন বড় দায়িত্ব। তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে পাশে থাকতে হবে।

default-image

ভ্যান নগুয়েন

ডেপুটি আবাসিক প্রতিনিধি, ইউএনডিপি

কপ ২৬ সম্মেলনের আগে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে এ ধরনের আলোচনার আয়োজন করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের প্রতিটি ইউনিয়ন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কতটুকু ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে, সে বিষয়ে গবেষণা করা হচ্ছে। তাহলে সরকার সে অনুযায়ী ক্ষতির পরিমাণ হিসাব করে সহায়তা করতে পারবে। বাংলাদেশ আগামী ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে প্রবেশ করবে। এ সময়টা বাংলাদেশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। লক্ষ রাখতে হবে, উন্নয়নশীল দেশের কাতারে প্রবেশ করে যেন আবার পেছনের কাতারে ফিরে না আসে।

default-image

মো. শামসুল ইসলাম

উপসচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ, লজিক প্রকল্প

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নানা উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে সরকার কাজ করছে। এসব কাজে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তরুণদের আরও এগিয়ে আসা উচিত। তারা এগিয়ে এলে ক্ষতি অনেকাংশে কমে যাবে। কারণ, জলবায়ু সমস্যা মোকাবিলায় সরকার তরুণদের নানা ধারণা নিয়েও কাজ করছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির যে সমস্যা দেখা দেয়, তা নিরসনে সরকাররে উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। পর্যাপ্তসংখ্যক গভীর নলকূপ বসানো হয়েছে। ফলে এখন সেসব এলাকায় পানিবাহিত রোগ কম দেখা যায়। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পাকা ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। দুর্যোগের সময় এসব ঘরে আশ্রয় নিতে পারে তারা।

default-image

এ কে এম মামুনুর রশীদ

জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ, ইউএনডিপি

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের বাড়িঘর ভেঙে যাওয়ার পর সেগুলো মেরামতের জন্য তাঁরা যে পরিমাণ টাকা খরচ করেছেন, হিসাব করে দেখা গেছে, তার পরিমাণ ২০ হাজার কোটি টাকা। বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ে যদি তাঁদের বাড়িঘর না ভাঙত, তাহলে তাঁদের এই টাকা বেঁচে থাকার জন্য ব্যয় করতে হতো না। এসব টাকা তাঁরা শিক্ষা, বস্ত্র ও চিকিৎসার জন্য ব্যয় করতে পারতেন। তাঁদের জীবনমান আরও উন্নত হতো। বৈঠকে তিনি একটি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সেখানে দেখান লজিক প্রকল্প থেকে কীভাবে সুফল পাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষ। লজিক প্রকল্প থেকে এখন পর্যন্ত ৯ হাজার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা হয়েছে।

default-image

মো. মাহবুবুর রহমান

সুইডেন দূতাবাস, ঢাকা

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তরুণদের অংশগ্রহণ গত এক বছরে অনেকাংশে বাড়ানো গেছে বলে আজকের আলোচনা থেকে মনে হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পাশে সুইডেন সব সময় ছিল, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের সঙ্গে থাকবে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় লজিক প্রকল্পে তরুণদের অংশগ্রহণ কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে গত এক বছর আগে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল। আজকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তরুণদের মুখে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা শুনে মনে যাচ্ছে আলোচনা সফল।

default-image

জেসমুল হাসান

কান্ট্রি ফোকাল পয়েন্ট, ইউনাইটেড নেশনস ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড

বর্তমানে বাংলাদেশে তিন কোটি তরুণ। এ দেশের ৬০ শতাংশ মানুষ কর্মক্ষম বয়সে আছে। ২০৪০ সাল পর্যন্ত এ কর্মক্ষমতা উপভোগ করবে বাংলাদেশ। তাই এখন বাংলাদেশের সামনে বিশাল সুযোগ এ তরুণদের জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কাজে লাগানো। তরুণদের বোঝাতে হবে তারা এখন জলবায়ু নিয়ে কাজ করলে ভবিষ্যতে এর সুফল তারাই পাবে।

default-image

জহুরা আক্তার, সুনামগঞ্জ

জ্ঞান হওয়ার পর থেকে এই ১৯ বছরের জীবনে এমন একটি বছরের কথাও মনে করতে পারব না যে বছর বন্যায় আমাদের ঘরবাড়ি ও এলাকা প্লাবিত হয়নি। শুধু বন্যা নয়, পাহাড়ি ঢল এবং নদীভাঙনও রয়েছে। এ ছাড়া বজ্রপাত মাঝেমধ্যেই কেড়ে নেয় পরিচিতজনের জীবন। বন্যার সময়সহ সারা বছরের আয়ের সুবিধার্থে সেলাই মেশিন বিতরণ, নকশিকাঁথা তৈরির কাজ ও ভাসমান দোকানের ব্যবস্থা করা গেলে আমাদের এলাকার অনেকেই উপকৃত হবে।

default-image

সানোয়ার, কুড়িগ্রাম

মাত্র ২৪ বছরের জীবনে বাড়ি ভেঙেছে চারবার। বাপ-দাদার মুখে বাড়ি ভাঙার কথা কম শুনেছি। এখন মুহূর্তেই বেড়ে যায় পানি। কেড়ে নেয়ে শেষ সম্বলটুকু। সব হারিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করতে করতে ক্লান্ত। গত বছর বন্যার সময় বাবা মারা যায়। নিচু অঞ্চলে বাবাকে কবর দিলে লাশ ভেসে উঠবে। বাবাকে কবর দেওয়ার জন্য উঁচু মাটি পাওয়া যাচ্ছিল না। নিচু অঞ্চলে উজানের ঢলের পানি নেমে সব ভাসিয়ে নিয়ে যায়। নদীভাঙন ঠেকানোর জন্য বছরে একবার পলিথিনে ভর্তি বালু ফেলা ছাড়া সরকারি আর কোনো উদ্যোগ দেখিনি। অথচ পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা পেলে বছরের পর বছর আমাদের বাড়ি ভেঙে যাওয়ার দুশ্চিন্তা নিয়ে ঘুমাতে হতো না।

default-image

মো. রাব্বী, বরগুনা

ছোটবেলায় সিডরের মতো ভয়াল ঘূর্ণিঝড় দেখেছি। তাতেই কিছুটা উপলব্ধি হয়েছিল জলবায়ু পরিবর্তনের কী নির্মম পরিণতি অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। সিডরে সব রাস্তাঘাট ভেঙে গিয়েছিল। পুরোপুরি যোগাযোগবিচ্ছিন্ন ছিলাম আমরা। কোনো গাড়ি ঢোকার মতো অবস্থা ছিল না। ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ শেষে সবচেয়ে বড় সমস্যা আটকে থাকা পানি। পানি যেন আটকে না থাকে, সে জন্য সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ দরকার। পানি চলাচলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করতে হবে। বিশুদ্ধ পানির জন্য গভীর নলকূপও স্থাপন করা জরুরি।

default-image

আকাশ সানা, খুলনা

জলবায়ু পরিবর্তনে সুন্দরবনের সম্পদ আহরণে প্রভাব পড়েছে। আগে একবার বনে গেলে যে পরিমাণ মাছ পাওয়া যেত, এখন সারা বছরেও তা মেলে না। অন্যান্য সম্পদও কমে গেছে। এ জন্য সচেতনতা দরকার। সেটির উন্নয়নে ইউএনডিপির লজিক প্রজেক্ট আমাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। ঘূর্ণিঝড় হওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা দেখতে আসেন অনেকে। কেউ ত্রাণ দেওয়াও শুরু করেন। এটি মাত্র কয়েক দিনের জন্য। কিন্তু আমার মতো যাদের এ ঝড় মোকাবিলা করেই থাকতে হয়, তাদের জন্য এতটুক ত্রাণ কি সমাধান? আমাদের কষ্ট লাঘবের স্থায়ী কোনো সমাধান নিয়ে আসেন না কেউ। আমরা ত্রাণ চাই না, স্থায়ী সমাধান চাই।

default-image

মোমো রাখাইন, পটুয়াখালী

সিডরের সময় কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাদের প্রতিটি ঘরের চাল উড়ে গিয়েছিল। ঝড়ে বাড়ির সব কটি নারকেল ও আমগাছ উপড়ে যায়। আমাদের পাড়ায় একটিই শাল কাঠের ঘর ছিল। আমরা সেই ঘরে আশ্রয় নিয়েছিলাম। অনার্সে ভর্তি হয়েও আমার উচ্চশিক্ষার পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে। তবে ইউএনডিপির জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে স্থানীয় সরকারের উদ্যোগ শীর্ষক প্রকল্প (লোকাল গভর্নমেন্ট ইনিশিয়েটিভ অন ক্লাইমেট চেঞ্জ-লজিক) আমাদের সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ দিয়েছিল। এটি আমাদের কাজে লেগেছে।

default-image

তানজিনা দিলশাদ

বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার, ইউরোপীয় ইউনিয়ন

যে তরুণদের কাছে আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের অভিজ্ঞতা শুনলাম, সেটি সত্যিই বেদনাদায়ক। এ দেশের এমন অনেক তরুণ আছে, যাদের এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বড় হতে হচ্ছে। আমরা চাই এই তরুণদের জীবনমান আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হোক।

default-image

মোছাব্বের হোসেন

সহকারী সম্পাদক, চলতি ঘটনা

বিভিন্ন জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত তরুণদের নানা ঝুঁকি ও সমস্যা রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এখন যেসব এলাকা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সেসব এলাকার তরুণদের মুখ থেকে সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যার কথা শুনে আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব সম্পর্কে জানলাম। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে তাদের ভাবনাও জানা হয়ে গেল। তাদের কথা থেকে বোঝা গেল তারা নিজেরাই এখন অনেক উদ্যোগী, তবে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাকে তাদের সমর্থনে এগিয়ে আসা উচিত।

default-image

নাজিফা ফরহাত

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা ট্রিবিউন

আমরা যারা শহরে বড় হয়েছি, তারা সুবিধাভোগী হিসেবে বেড়ে উঠেছি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কম ক্ষতির সম্মুখীন আমরা। কিন্তু নদীতীরবর্তী অঞ্চলে যাদের বসবাস, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাদের যে পরিমাণ কষ্টের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়, তা আমরা কম অনুভব করতে পারি। আমরা ভিকটিম নই বলে যেন হাত গুটিয়ে বসে না থাকি। আমি নিজেও তরুণ প্রজন্মের একজন প্রতিনিধি। তাই আমি বলতে পারি, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা নিয়ে তরুণেরা এখন যথেষ্ট সচেতন। তাদের ভালোভাবে দিকনির্দেশনা দিলে এ সমস্যা মোকাবিলায় তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে

default-image

শাহনেওয়াজ খান

শিক্ষক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

নদীতীরবর্তী অনেক অঞ্চল ঘুরে দেখেছি শিক্ষা প্রকল্পগুলো এমনভাবে বানানো হয়, দেখেই মনে হয় সেগুলো আবার ভেঙে যাবে। স্থায়ী পরিকল্পনা নিয়ে বানানো হয় না। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জন্য পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র নেই। এসব আশ্রয়কেন্দ্রের নির্মাণকৌশলও মজবুত নয়। বাংলাদেশের উপযোগী করে বানানো হয় না। ফলে সেগুলো বেশি দিন টেকে না।

সুপারিশ

  • প্রতি জেলায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের যুব প্রশিক্ষণে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা জ্ঞান দেওয়া।

  • যুবসমাজকে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক নীতিনির্ধারণী আলোচনায় সম্পৃক্ত করা। যুবসমাজ যেন অভিযোজন ও কার্বন হ্রাসের কর্মসূচির নেতৃত্ব দিতে পারে, সে জন্য তাদের তৈরি করা।

  • যুবকদের জলবায়ু সহনশীল জীবিকা ও জীবনযাপনে অভ্যস্ত করার জন্য বিশেষ প্রকল্প বা কর্মসূচি নিতে হবে।

  • লজিক প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা।

গোলটেবিল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন