বাংলাদেশে সামুদ্রিক মৎস্যজীবীদের শ্রম খাতভিত্তিক প্রভাব মূল্যায়ন

অংশগ্রহণকারীরা

মুজিবুল হক

সংসদ সদস্য। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি।

আব্দুস সাত্তার মণ্ডল

ইমেরিটাস অধ্যাপক; সাবেক উপাচার্য, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

শাহীন আনাম

নির্বাহী পরিচালক, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন

এম রেজাউল করিম চৌধুরী

নির্বাহী পরিচালক, কোস্ট ট্রাস্ট

নাইমুল আহসান জুয়েল

সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশ। উপদেষ্টা, বিলস।

রেজওয়ানুল হক আজম

সিনিয়র অফিসার (প্ল্যানিং অ্যান্ড মনিটরিং), বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)

এস এম জাকির হোসেন

সমাজকল্যাণ সম্পাদক, জাতীয় কমিটি, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন

মিজানুর রহমান বাহাদুর

উপদেষ্টা, কক্সবাজার মৎস্য শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশন

সূচনা বক্তব্য

আব্দুল কাইয়ুম

সহযোগী সম্পাদক, প্রথম আলো

সঞ্চালনা

ফিরোজ চৌধুরী

সহকারী সম্পাদক, প্রথম আলোআলোচনা

আব্দুল কাইয়ুম

বাংলাদেশ এখন মৎস্য আহরণে পঞ্চম থেকে তৃতীয় অবস্থানে এসেছে। এ ক্ষেত্রে সমুদ্রে মৎস্য আহরণের অংশ খুবই কম। কিন্তু সম্ভাবনাময়। এখন আমাদের সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হয়েছে। সেখানে যদি পুরো এলাকা নিয়ে কাজ করতে পারি, তাহলে আমাদের মৎস্য আহরণ ও রপ্তানির পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে। সে জন্য অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের জীবনমান, স্বাস্থ্য, জীবিকা, নিরাপত্তা—এ বিষয়গুলো নিশ্চিত না হলে আমরা খুব বেশি দূর অগ্রসর হতে পারব না।

বছরে যে সময় ইলিশ উৎপাদন বন্ধ থাকে, সে সময় মৎস্যজীবীরা কীভাবে চলবেন, তা–ও আমাদের চিন্তার মধ্যে আনতে হবে। অনেকেই বিমার ব্যবস্থার কথা বলেন। এটা করা গেলে খুবই ভালো হয়।

আমাদের শুধু কক্সবাজারে ৬ হাজার ছোট-বড় ট্রলার আছে। শ্রমিক রয়েছেন প্রায় ১ লাখ ১০ থেকে ২০ হাজার। এঁদের সবাই সরকারি সহায়তা পান না। তাঁরা সবাই নিবন্ধিত নন। অনিবন্ধিত মৎস্যজীবীরা মাছ উৎপাদন বন্ধের সময় কী করবেন? তাদের সন্তানের পড়াশোনার দিকটা কে দেখবে? এ বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা দরকার। এ ক্ষেত্রে বিকল্প কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে।

শাহীন আনাম

default-image

আমাদের এ প্রকল্পটি দুই বছরের জন্য। আমাদের সঙ্গে সুইডিশ সরকারের একটি অনুদানে ডেনিশ ইনস্টিটিউট ফর হিউম্যান রাইটস বাংলাদেশ ও চিলিতে এ প্রকল্প নিয়েছিল। এটি সামুদ্রিক মৎস্যজীবীদের জীবন, জীবিকা ও আমাদের অর্জন ও তাঁদের মানবাধিকারের অবস্থা জানার জন্য একটি গবেষণা প্রকল্প। এটি একটি অ্যাকশন রিসার্চ। শুধু অ্যাকাডেমিক গবেষণা না, আমাদের সঙ্গে দুটি সহযোগী সংগঠন বিলস (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ) ও কোস্ট ট্রাস্ট ছিল। বিলস মূলত গবেষণাটি করেছে।

গবেষণাটি পাথরঘাটা ও মহেশখালীতে হয়েছে। কারণ, এখানেই সামুদ্রিক মাছ বেশি আনা হয়। সামুদ্রিক মৎস্যজীবী ও উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন এমনিতেই ঝুঁকিপূর্ণ। তাঁদের জীবন ও জীবিকা অত্যন্ত নাজুক। অনেক সময় তঁারা সমুদ্রে গিয়ে মারা যান। কারণ, ছোট-ছোট নৌকা নিয়ে তঁারা মাছ ধরতে যান। তাদের পরিবার ঝুঁকির মধ্যে থাকে। বিশেষ করে নারীরা এখানে অনেক ঝুঁকির মধ্যে আছেন।

এ ক্ষেত্রে কিছু কারণ আছে। নারী-পুরুষের মজুরি–বৈষম্য তার একটি। পরিবারের পুরুষ সদস্য মাছ ধরতে গিয়ে মারা গেলে পরিবার অসহায় অবস্থায় পড়ে যায়। তাদের দেখাশোনার সুষ্ঠু কোনো ব্যবস্থাপনা করা হয় না। বাংলাদেশ এখন বিশ্বে মৎস্যে আহরণে খুবই উঁচু জায়গায় আছে। সামুদ্রিক মাছ এখন ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এবং বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। এ জায়গায় আমাদের সেভাবে উন্নয়ন হয়নি। প্রায় ১০ লাখ লোক এ শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। তাদের জীবন, জীবিকা কী অবস্থায় আছে, তা দেখা খুবই দরকার ছিল।

তাই এ প্রকল্পের মাধ্যমে একটি সেক্টর ওয়াইড ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট করা হয়েছিল। সেখানে অনেকগুলো তথ্য এসেছে। এখানে সরকারের কাজ করা প্রয়োজন। সামুদ্রিক মৎস্য খাতে অনেক বড় সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে সামাজিক উন্নয়ন ও সারা দেশের পুষ্টি জোগানের একটি বড় সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনা নিয়ে যেন মৎস্যজীবীদের জীবন, জীবিকা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে পারি। বিশেষ করে সেখানে নারী ও শিশু রয়েছে, তাদের জীবনের দিকে তাকিয়ে আমরা সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নিতে পারি।

এ শিল্পে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ খাতটি সরকারের গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার। আজকের আলোচনায় যেসব সুপারিশ আসবে, তা বাস্তবায়নে আমরা সবাই চিন্তা করতে পারি।

বিজ্ঞাপন

রেজওয়ানুল হক আজম

default-image

আজকের গবেষণাটি শ্রম অধিকারের ওপর জোর দিয়ে করা হয়েছে। মানবাধিকার দৃষ্টিকোণ থেকে এটা পরিচালিত হয়েছে। সুইডিশ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন বাংলাদেশ ও চিলিতে সেক্টর ওয়াইড ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট পরিচালনা করছে।

বাংলাদেশে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন বিলস (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ) ও কোস্ট ট্রাস্টের সঙ্গে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। সাস্টেইনেবল ওশানস প্রজেক্টটি সেপ্টেম্বর ২০১৮ সালে শুরু হয়েছে, যার উদ্দেশ্য হলো টেকসই উন্নয়ন ও ব্যবসায়িক দায়িত্বশীলতা নিশ্চিতকরণে সামুদ্রিক ও উপকূলীয় মৎস্যশিল্পে মানবাধিকার বাস্তবায়নের প্রভাব–সংক্রান্ত বাস্তবতা বিশ্লেষণ। গবেষণায় বেশ কিছু বিষয় এসেছে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ৮০ শতাংশ মৎস্যশ্রমিক মনে করেন, জাহাজে জীবন বাঁচানোর সরঞ্জামাদির অপর্যাপ্ততা রয়েছে। এ ছাড়া কর্মাবস্থায় জেলেদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে মারাত্মক ঘাটতি ও অগ্রাধিকারের অভাব পরিলক্ষিত হয়।

গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ সাইক্লোন, বন্যা, ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে উপকূলীয় অঞ্চল নিরাপদ করতে প্রশংসনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে সমুদ্রে থাকা মৎস্যশ্রমিকদের কাছে ঝড় বা সাইক্লোনের বিপৎসংকেত পৌঁছানোর আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ঘাটতি আছে। মাছ ধরার সময় সমুদ্রে খাদ্য, সুপেয় পানি ও বিশ্রামের জায়গা অত্যন্ত অপর্যাপ্ত। বেশির ভাগ জাহাজেই শুধু ভাত ও ডালের ব্যবস্থা থাকে।

মৎস্য শ্রমজীবীদের সূর্যের আলোর বিপরীতে কোনো ধরনের ছাউনি ছাড়াই বিশ্রাম নিতে হয়। মৎস্যশিল্পে পাওনা পরিশোধের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। প্রায় এক–তৃতীয়াংশ মৎস্যশ্রমিক মনে করেন, প্রকৃত বাজারমূল্যের চেয়ে তাঁদের কম পাওনা পরিশোধ করা হয়। শিশুদের এসব কাজ ভারী শ্রমনির্ভর।

এ ধরনের কাজের জন্য তারা প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিকদের চেয়ে কম মজুরি পায়। অনেক সময় তারা শুধু খাদ্যের বিনিময়ে এ কাজগুলো করে থাকে। বেঁচে থাকার তাগিতে এক–তৃতীয়াংশ মৎস্যশ্রমিককে ট্রলারমালিকদের কাছ থেকে ঋণ নিতে হয়।

শ্রমের মাধ্যমে এ ঋণ পরিশোধ করতে হয়। এই প্রক্রিয়াটি ‘দাদন’ নামে পরিচিত, যা আইএলওর জবরদস্তিমূলক শ্রমবিষয়ক কনভেনশনের (নং-২৯) সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। উপযুক্ত বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাবে দাদন প্রক্রিয়া চিরচলমান।

৮৩ শতাংশ মৎস্যশ্রমিক জানান, তঁারা ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের সঙ্গে কাজ করেছেন। এসব শিশুর গড় বয়স ১২ বছর। মৎস্যশ্রমিকেরা স্থানীয় পর্যায়ে দর–কষাকষির জন্য সংগঠিত হতে ট্রেড ইউনিয়নে যোগ দিতে আগ্রহী। তবে মৎস্যশ্রমিকেরা বাংলাদেশ শ্রম আইনে শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃত না হওয়ায় ট্রেড ইউনিয়ন হিসেবে নিবন্ধন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। মৎস্য খাতে ব্যবহৃত জাহাজ কিংবা ট্রলার তদারকির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা থাকলেও মৎস্যশ্রমিকদের শ্রম অধিকার তদারকির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো সংস্থা নেই।

সাক্ষাৎকারে ৯০ শতাংশ মৎস্যশ্রমিক জানিয়েছেন, মাছ ধরা বন্ধ থাকার সময়ে কোনো আয় না থাকা এবং অপর্যাপ্ত ও বিলম্বিত সরকারি সহায়তার কারণে তাঁরা মহাজন বা আত্মীয়দের কাছ থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছেন।

বাংলাদেশের সামুদ্রিক মৎস্য খাতে নিয়োজিত শ্রমিকেরা শোভন কাজের অধিকার থেকে বঞ্চিত। কোনো রকম লিখিত চুক্তি ছাড়াই তঁাদের কাজ
করতে হয়। তাই তঁাদের দুর্ঘটনা বা মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণের বিষয়টি অস্পষ্ট। এ জন্য মৎস্য খাতে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা দরকার। ক্ষুদ্র মৎস্যশ্রমিকদের অধিকার সুস্পষ্ট সংজ্ঞায়ন করা প্রয়োজন। উপকূলীয় মৎস্য খাতকে শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য শ্রম আইন–২০০৬ সংশোধন করতে হবে। ক্ষুদ্র মৎস্যশ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। মৎস্য খাতে জবরদস্তি ও দাসত্বভিত্তিক শ্রম বন্ধ করতে হবে।

শ্রমিকদের সংগঠিতকরণ ও যৌথ দর–কষাকষির জন্য ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। নৌকার বৈধ লাইসেন্স, ফিটনেস সনদ ও মাঝিদের জন্য বিমা ব্যবস্থা চালু করতে হবে। নৌকার মালিক মাঝিদের জন্য অবশ্যই সব ধরনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাসামগ্রীর ব্যবস্থা করতে হবে।

মৎস্যশ্রমিকদের জন্য মৎস্য খাতে ইনজুরি স্কিম প্রণয়নের বিষয়টিকে সামনে আনা প্রয়োজন। সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার আগে নৌকার মাঝি ও মালিকের নাম সংবলিত একটি নিবন্ধন বইয়ের ব্যবস্থা রাখা দরকার।

মৎস্যশ্রমিকদের অধিকার রক্ষার্থে ট্রেড ইউনিয়ন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করা জরুরি। সাগরে জেলেদের ডাকাতির হাত থেকে বাঁচাতে জাহাজের মাধ্যমে টহল বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। ট্রলারমালিকেরা যেন সহজেই নিবন্ধনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে তা নিশ্চিত জরুরি। লাইসেন্স প্রদানের আগে সরেজমিনে পরিদর্শন নিশ্চিত করতে হবে।

এম রেজাউল করিম চৌধুরী

default-image

বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় সামুদ্রিক মৎস্য আহরণের সঙ্গে প্রায় দুই কোটি মানুষ জড়িত। আমাদের জাতীয় পর্যায়ে মাথাপিছু আয় প্রায় আড়াই হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে। অথচ উপকূলীয় এলাকার মৎস্যজীবীদের মাথাপিছু আয় এখনো ১১০০ ডলারের মতো। স্যানিটেশনের ক্ষেত্রে তারা অনেক পিছিয়ে আছে।

এত কিছুর পর কৃষি উৎপাদনে দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পঞ্চম স্থান করে নিয়েছে। উপকূলীয় জেলেরা আমাদের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের ৬০ শতাংশ পূরণ করছেন। আমি কিছু সুপারিশ দিতে চাই। এ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীরা ছোট ইঞ্জিনচালিত নৌকা ব্যবহার করেন। তাই এঁদের জন্য কেন্দ্রীয় লাইসেন্সের কোনো প্রয়োজন নেই। ঢাকায় এসে লাইসেন্স নেওয়া খুব কষ্টকর। এ নিয়ে আমরা ১০ বছর ধরে কথা বলছি। এ নৌকাগুলোর নিবন্ধন কার্যক্রম উপজেলা পর্যায়েই হতে পারে। এ ক্ষেত্রে লাইসেন্স পাওয়ার জন্য রেডিও, সেফটি বয়া থাকার শর্ত থাকবে। উপজেলা পর্যায়ে এ ব্যবস্থা থাকলে নৌকাগুলো সমুদ্রে যাওয়ার আগে তারা তদারক করতে পারবে। ঢাকা থেকে এসব কার্যক্রম কখনোই হয় না। তাই এ লাইসেন্স প্রথাটা বিকেন্দ্রীকরণ করা প্রয়োজন।

সমুদ্রে মারা যাওয়া জেলেদের হিসাব থাকে না। তাই মাছ ধরতে নৌকায় যারা যান, তঁাদের নিবন্ধন করতে হবে। তাহলে কতজন সমুদ্রে যাচ্ছেন, কতজন ফিরে আসেন না, তা তদারক করা সহজ হবে। এটা খুবই অমানবিক ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন। এ ছাড়া সমুদ্রগামী নৌযানে নিরাপত্তা সরঞ্জাম থাকতেই হবে। শুধু মৎস্য আহরণের ওপর নির্ভর করলেই চলবে না। জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে। এ বছরও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ২০টি ছোট-বড় সাইক্লোন হয়েছে। প্রতিটি সাইক্লোন ৩ নম্বর সংকেতের উপরে। সরকারি আদেশ অনুযায়ী ৩ নম্বর সংকেতের ওপর গেলেই কোনো ইঞ্জিনচালিত নৌকা সমুদ্রে যেতে পারবে না।

উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য ভিন্ন শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। যদিও সরকার কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করার কথা ভাবছে। আর দেরি না করে উপকূলীয় অঞ্চলে কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে হবে।

দাদন প্রথা একটি ভয়াবহ প্রথা। এ জন্য সরকারি ভর্তুকির মাধ্যমে ছোট জেলেদের জন্য কো–অপারেটিভ অ্যাসোসিয়েশন করা যেতে পারে। এনজিওগুলো এ বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা করবে। তাহলেই এ প্রথা আমরা ভাঙতে পারব।

সরকার বঙ্গোপসাগরের ব্লু ইকোনমির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। সে অনুসারে আমাদের কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। কোস্টগার্ড থাকায় উপকূলে জেলেদের ওপর ডাকাতি কমে গেছে।

৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধের সময়টি পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করতে হবে। আর যে সময় মাছ ধরা বন্ধ থাকে সে মসয় যেন অন্য দেশের জেলেরা আমাদের সমুদ্রসীমায় মাছ না ধরে সে বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

আব্দুস সাত্তার মণ্ডল

default-image

আলোচনায় আসা সুপারিশগুলোর সঙ্গে আমি একমত। ১২ বছর আগেও আমি এ কথাগুলোই শুনেছি। একটি উদাহরণ দিচ্ছি। আমাদের জেলেদের কোনো তালিকা নেই। তঁাদের জন্য কোনো সামাজিক সুরক্ষা খাত বাস্তবায়ন করতে চাইলে, করা হয় না। কাজেই আমাদের এটা করতে হবে। এ জন্য অনেক প্রকল্পও অনুমোদন করা হয়েছে। কিন্তু আজ ১২ বছর পরও সমস্যাটা একইভাবেই উপস্থাপন করছি। মনে হচ্ছে তেমন কিছু ঘটেনি। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। এসডিজির অন্যতম শর্ত হচ্ছে ইনক্লুসিভ গ্রোথ। তার মানে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থেকে কেউ যেন বাদ না যায়, সবাই যেন যুক্ত হতে পারে।

এ গবেষণা প্রবন্ধের উপস্থাপনা থেকে স্পষ্ট বুঝতে পারলাম, সংখ্যায় তঁারা (মৎস্য শ্রমজীবী) যত কমই হোন, তঁারা একেবারে প্রান্তজন। প্রান্তজনেরও প্রান্তজন। অত্যন্ত কঠিন পরিবেশের ভেতরে তাদের সমুদ্রে বসবাস ও আয়–উপার্জন করতে হয়। এসব প্রান্তজন আমাদের উন্নয়নের এ বড় কাঠামোর সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারছেন না।

মৎস্যশ্রমিকদের প্রান্তজনের একটা গোষ্ঠী হিসেবে না দেখে বৃহত্তর শ্রমিক সমাজের একটা বড় অংশ হিসেবে দেখতে হবে। মৎস্য শ্রমজীবীদের বৃহত্তর অংশকে কৃষি এবং গ্রামীণ উদ্যোগ ও উৎপাদনব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে আসতে হবে। তঁারা ভূমিহীন হওয়ায় আমরা সব সময় ভেবেছি, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী হিসেবে সামাজিক সুরক্ষা খাত, প্রশাসনিক, আইনি প্রভৃতির ভেতর রেখে দিলেই হবে। যেসব প্রযুক্তি মানুষের মনোজগতে পরিবর্তন এনে দেয় ও অপার সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়, সেসব প্রযুক্তি এ মানুষগুলোর কাছে নিয়ে যেতে হবে। তার জন্য অবশ্যই প্রশাসনের একটা সহায়তা লাগবে।

বেসরকারিভাবে এনজিও প্রতিষ্ঠানগুলো সৌরশক্তি, উৎপাদন বাড়াতে আমরা প্রশিক্ষণ দিতে পারি। আরেকটি চরাঞ্চলে দুই বছর ধরে তরমুজ উৎপাদনে রীতিমতো বিপ্লব হয়ে যাচ্ছে। তঁাদের শুধু তরমুজের বীজ সরবরাহ করতে হয়। তাঁরা বিভিন্ন জাতের তরমুজ উৎপাদন করছেন। আমরা যেন আরও বেশি করে উদ্যোক্তা তৈরি করি। যে মৎস্যজীবীর ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়স হয়ে গেছে, তঁাকে আমাদের হয়তো ওই কাঠামোর মধ্যেই রাখতে হবে। কিন্তু আগামী দিনের এসডিজি বাস্তবায়ন বা নতুন দিনের উন্নয়নের ধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার জন্য তরুণ গোষ্ঠীকে প্রধান লক্ষ্য করা উচিত। তারাই হবে আগামী দিনের উদ্যোক্তা। আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যেই ভিন্ন ধরনের একটা পরিবেশ তৈরি করা যাবে।

বিজ্ঞাপন

নাইমুল আহসান জুয়েল

default-image

বাংলাদেশের ১২টি ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন নিয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) গঠন করেছিলাম। এর মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন খাতের শ্রমিকদের সমস্যা অনুসন্ধান ও বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকি। মৎস্যজীবী শ্রমিকদের জন্য বিলস বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও গবেষণা পরিচালনার মাধ্যমে যে বিষয়গুলো এনেছে, তা সবই যুক্তিসংগত।

বাংলাদেশে মৎস্যজীবীর সংখ্যা ১০ লাখের মতো। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সংগঠন তাদের নিয়ে কাজ করেছে। আমাদের ফেডারেশন চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে মৎস্যজীবীদের নিয়ে কাজ করছে। আমাদের একটা জাতীয় মৎস্যজীবী নারী শ্রমিক জোট সংগঠন আছে। এখানে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নারী রয়েছেন। তঁারা মাছ প্রক্রিয়াজাত ও শুটকি পল্লিতে কাজ করে। এসব নারী বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকেন। তঁাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সেসব অঞ্চলে স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে তোলা দরকার।

শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা প্রয়োজন। সে জন্য সবার আগে দাদন প্রথা বন্ধ করতে হবে। এ করোনাকালে সরকার এসএমই লোনের উদ্যোগ নিয়েছে। তাহলে আমরা কেন মৎস্যজীবীদের ৫ থেকে ১০ জনের দল করে এসএমই ঋণের আওতায় আনতে পারব না? এ জায়গায় নজর দেওয়া প্রয়োজন। কারণ, তঁারা গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার আগেই দাদনদারদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে মাছ বিক্রি করে দিচ্ছেন। সরকার মৎস্যশ্রমিকদের ছোট ছোট দল করে ঋণ দিলে তঁারা এ দাদন প্রথা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন।

কক্সবাজারে মৎস্যজীবী ছাড়াও বিভিন্ন খাতের লাখো শ্রমিক কাজ করছেন। অথচ সেখানে আমাদের শ্রম অধিদপ্তর নেই। সেখানে একটি শ্রম অধিদপ্তর দরকার।

মৎস্যজীবীদের সন্তানেরা শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ে। সরকার যেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ঝরে পড়া এসব শিক্ষার্থীর শিক্ষার পাশাপাশি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে যে বিশেষ অর্থনৈতিক জোন হবে, সেখানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে। মৎস্যজীবীদের মাছ ধরা বন্ধ থাকার সময়ে রেশনিং ব্যবস্থায় কোনো স্বচ্ছতা নেই। ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ মৎস্যজীবী রেশন পান।

আমাদের দেশে যখন মাছ ধরা বন্ধ থাকে, তখন পার্শ্ববতর্ী দেশ ভারত, মিয়ানমার ও ভিয়েতনামে মাছ ধরা বন্ধ থাকে না। তাই অন্যান্য দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মাছ ধরা বন্ধ রাখার সময়টা নির্ধারণ করতে হবে।

কারণ, আমরা যখন মাছ ধরা বন্ধ রাখি, সে সময়ে পাশ্বববতর্ী দেশের জেলেরা আমাদের দেশে ঢুকে মাছ ধরে নিয়ে যান। সে জায়গাটা সরকারের দৃষ্টিতে রাখা দরকার।

এস এম জাকির হোসেন

default-image

মৎস্যশ্রমিকদের দেশের প্রচলিত শ্রম আইনের আওতায় এনে জীবন ধারণের উপযোগী মজুরিসহ অন্যান্য অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা প্রয়োজন। বিধি অনুযায়ী সাগরে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা, উপকূলে যোগাযোগের জন্য নেটওয়ার্ক, দুর্যোগে উদ্ধারকারী যান ও ভাসমান হাসপাতালের ব্যবস্থা থাকা দরকার। মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞার সময় মাসে ৪০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও বরিশাল বিভাগে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ জেলের মধ্যে ২ লাখ ১ হাজার ৭৯ জন তা পাননি। সব নিবন্ধিত জেলেকে নিষেধাজ্ঞার সময় মাসে ৬০-৬৫ কেজি চাল ও নগদ ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দিতে হবে।

সামুদ্রিক মাছের প্রজননকালে পাশ্ববতর্ী দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একই সময়ে নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে। পার্শ্ববর্তী দেশের ট্রলারের অনুপ্রবেশ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। মৎস্যশ্রমজীবীদের কর্মমুখী প্রশিক্ষণসহ বিকল্প কর্মসংস্থান ও সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করা দরকার। মৎস্য পেশায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত নারীদের ন্যায্য মজুরি প্রদান ও সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।

মিজানুর রহমান বাহাদুর

default-image

সামুদ্রিক মাছ শিকারে নিয়োজিত জেলেদের বিপৎকালে উদ্ধারের জন্য দ্রুতগামী উদ্ধারযানের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত প্রয়োজন। সমুদ্রে আহত জেলেদের ক্ষতিপূরণ দিতে সরকারি কল্যাণ তহবিল গঠন করা জরুরি। জেলেদের সমস্যা ও অভিযোগ সমাধানের জন্য কেন্দ্র থাকা প্রয়োজন।

মাছ শিকারে আধুনিক কলাকৌশল সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করতে হবে। সাগর থেকে পোতাশ্রয়ে আসার পথগুলো নৌকা ও ট্রলার চলাচলের উপযোগী করে খনন করতে হবে। যেন তা নিরাপদ থাকে।

মুজিবুল হক

default-image

আজকের আলোচনার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা শ্রমজীবী মানুষকে নিয়ে কাজ করেছি। সামুদ্রিক মৎস্যজীবীদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরো কাজ করা দরকার বলে আমার মনে হয়।

আজকের জ্ঞানগর্ভ আলোচনা পুরোটা শুনলে আগামী দিনে এসব মানুষের জন্য সংসদসহ নীতিনির্ধারণী জায়গায় কথা বলা সহজ হতো। আজকের আলোচনার বক্তব্যগুলোর সারমর্ম পাঠালে আমি উপকৃত হব। সামুদ্রিক মৎস্য শ্রমজীবীদের জীবন, জীবিকা, অধিকার ও মানবিক বিষয়গুলো সরকারের যথাযথ স্থান, সংসদীয় কমিটি ও জাতীয় সংসদে তুলে ধরতে পারব বলে আশা রাখি।

শাহীন আনাম

আমাদের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের (এসডিজি) অন্যতম একটি জায়গা হলো কাউকে পেছনে ফেলে রাখা যাবে না। দুর্গম জায়গায় তাঁরা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করেন। পারিশ্রমিক নগণ্য। আমাদের শ্রম আইন খুবই ভালো। কিন্তু যেহেতু এটাকে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত বলে মনে করা হয়, তাই শ্রম আইনের অনেকগুলো ধারা তাঁদের ওপর প্রয়োগ করা যাচ্ছে না। কীভাবে চলমান আইনের মাধ্যমে তঁাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে ভাবতে হবে। সবকিছু মিলিয়ে এ জনগোষ্ঠী খুবই প্রান্তিক অবস্থায় আছে। সরকারের তদারকি ব্যবস্থাপনা খুব একটা কাজ করছে না। এখানে আমাদের আরও মনোযোগী হতে হবে।

আজকের আলোচনায় অনেক সুপারিশ এসেছে, যেগুলো সরকার চাইলেই বাস্তবায়ন করতে পারে। এসডিজি অর্জন করতে চাইলে এ খাত অগ্রাহ্য করতে পারব না। এ শিল্প আরও অনেক প্রসারিত হতে পারে। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত শ্রমজীবীদের কথা সবচেয়ে বেশি ভাবতে হবে। এখানে নারীরা একটা নিরাপত্তাহীন পরিবেশে রয়েছেন। এ বিষয়ে আমাদের চিন্তা করতে হবে।

ফিরোজ চৌধুরী

বাংলাদেশের সামুদ্রিক মৎস্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি খাত। এর সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে উপকূলীয় এলাকার মৎস্যজীবীদের প্রণোদনা দেওয়ার বিকল্প নেই। সরকার ও উন্নয়নর সহযোগীদের এ ক্ষেত্রে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। আশা করা যায়, আলোচনা থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য আলোচকদের প্রথম আলোর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

সুপারিশ

  • মাছ ধরার নৌযানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরাঞ্জামাদি নিশ্চিত করতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া দরকার

  • দাদন প্রথা নির্মূলে মৎস্য শ্রমজীবীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে

  • উপকূলীয় অঞ্চলে কারিগরি শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া প্রয়োজন

  • মৎস্য শ্রমজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও বৃহত্তর েকৃষির সঙ্গে যুক্ত করতে বিশেষ দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন

  • মৎস্য খাতে কর্মরত শ্রমিকেদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা দরকার

  • উপকূলীয় মৎস্য খাত শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা নিতে হবে

  • ক্ষুদ্র মৎস্যশ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি

  • শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন

  • সাগরে জেলেদের ডাকাতির হাত থেকে বাঁচাতে কোস্টগার্ডের মাধ্যমে টহল বৃদ্ধি করতে হবে

  • মৎস্যশ্রমিকদের অধিকার রক্ষার্থে ট্রেড ইউনিয়ন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করা জরুরি

  • মৎস্য খাতে জবরদস্তি ও দাসত্বভিত্তিক শ্রম বন্ধ করতে হবে

  • মাছ শিকারের আধুনিক কলাকৌশল সম্পর্কে জেলেদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে

বিজ্ঞাপন
গোলটেবিল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন