বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অংশগ্রহণকারী

অধ্যাপক ডা. ফিরোজ আহম্মদ কোরাইশি

অধ্যাপক, নিউরোলজি এবং সভাপতি, সোসাইটি অব নিউরোলজিস্টস অব বাংলাদেশ

অধ্যাপক ডা. আবু নাসার রিজভী

চেয়ারম্যান, নিউরোলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং মহাসচিব, সোসাইটি অব নিউরোলজিস্টস অব বাংলাদেশ

অধ্যাপক ডা. কাজী মহিবুর রহমান

অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ইন্টারভেনশনাল নিউরোলজি বিভাগ, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল, ঢাকা

অধ্যাপক ডা. এম এস জহিরুল হক চৌধুরী

অধ্যাপক (ক্লিনিক্যাল নিউরোলজি), ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল, ঢাকা

ডা. মো. তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী

সহযোগী অধ্যাপক (নিউরোলজি), ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল, ঢাকা

ডা. মো. শহীদুল্লাহ

সহযোগী অধ্যাপক (স্ট্রোক ডিভিশন), নিউরোলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

ডা. আবু নাঈম

সহযোগী অধ্যাপক (নিউরোলজি), ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল, ঢাকা

ডা. মোহাম্মদ সেলিম শাহী

সহযোগী অধ্যাপক (নিউরোলজি), ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল, ঢাকা

ডা. রুমানা হাবিব

সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, নিউরোলজি বিভাগ, বারডেম জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা

মো. গোলাম হায়দার

ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার, (সেলস), এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লি.

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা

ডা. মোহাম্মদ সেলিম শাহী

সহযোগী অধ্যাপক (নিউরোলজি), ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল, ঢাকা

সূচনা বক্তব্য

আব্দুল কাইয়ুম

সহযোগী সম্পাদক, প্রথম আলো

সঞ্চালনা

ফিরোজ চৌধুরী

সহকারী সম্পাদক, প্রথম আলো

সুপারিশ

■ স্ট্রোক কি হার্টের রোগ, নাকি মস্তিষ্কের রোগ—এ বিষয়ে সবার ধারণা থাকা জরুরি।

■ কারও স্ট্রোক হলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। কোনোভাবেই যেন সাড়ে চার ঘণ্টা অতিক্রম না করে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

■ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হাসপাতালে নিতে না পারলে কোষগুলো সারা জীবনের জন্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

■ প্রতি উপজেলার সরকারি হাসপাতালে ১০০টির বেশি বেড আছে। এসব হাসপাতালে ঢাকার মতো আধুনিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি।

■ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়া, হঠাৎ চোখে না দেখতে পারা, মুখের কোনো অংশ বেঁকে যাওয়া, কোনো হাত অবশ হওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা কথা বলতে না পারা—এসব ক্ষেত্রে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

■ উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, খারাপ চর্বি ও ধূমপানের প্রবণতা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। এসব ক্ষেত্রে সচেতনতা প্রয়োজন।

■ স্ট্রোকের কারণগুলো সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

আলোচনা

আব্দুল কাইয়ুম

২৯ অক্টোবর বিশ্ব স্ট্রোক দিবস। আমাদের এবারের প্রতিপাদ্য, ‘বিশ্ব স্ট্রোক দিবস: প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান’। কোনো ব্যক্তির স্ট্রোক হলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা নিতে হবে। আজকের আলোচনার উদ্দেশ্য মানুষকে সচেতন করা। আমরা জানি, মস্তিষ্কের একটা নির্দিষ্ট অংশে হঠাৎ রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে স্ট্রোক হয়। জীবনের জন্য এটা একটা বড় ঝুঁকি। স্ট্রোক প্রতিরোধের জন্য খেয়াল রাখতে হবে, যাতে উচ্চ রক্তচাপ না হয়। কোলেস্টেরল বেশি হলে চিকিৎসা করাতে হবে। প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করতে হবে। এতে মস্তিষ্কে রক্তচলাচল ভালো থাকে।

default-image

মোহাম্মদ সেলিম শাহী

প্রতিবছরের ২৯ অক্টোবর বিশ্ব স্ট্রোক দিবস পালিত হয়। ২০০৬ সালে প্রথম ওয়ার্ল্ড স্ট্রোক অর্গানাইজেশন এ দিবস পালন করে। ২০১০ সালে স্ট্রোককে পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। স্ট্রোক দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য, স্ট্রোক সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা। স্ট্রোকের প্রতিকার ও প্রতিরোধ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা সৃষ্টি করা। এই দিবস কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বোঝানোর জন্য আমি শুধু দুটি উদাহরণ দেব। আমার এক নিকটাত্মীয়ের স্ট্রোক হয়েছিল। তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কারণ, স্বজনদের ধারণা, স্ট্রোক একটা হার্টের রোগ। তাই তাকে হার্টের চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট হাসপাতালে নিতে হবে। দ্বিতীয় আরেকটি ঘটনা বলি। একজন রোগী। আমার কাছে এসেছেন চিকিৎসার জন্য। তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় দুই মাস আগে। এত দেরি করে কেন এলেন জানতে চাইলে স্বজনেরা বললেন, প্রতিবেশীরা বুঝিয়েছেন যে খারাপ একটা বাতাস লেগে হাত–পা অবশ হয়ে গেছে। তাই তাঁকে একজন কবিরাজের তত্ত্বাবধানে রেখে তেল মালিশ করা হয়েছে। কিন্তু সুস্থ হননি বলে এখন আমার কাছে এসেছেন। এই হলো স্ট্রোক সম্পর্কে আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের ধারণা। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনেক দূর এগিয়ে গেলেও স্ট্রোক হার্টের রোগ, নাকি মস্তিষ্কের রোগ—এ ব্যাপারে অনেকেরই পরিষ্কার ধারণা নেই। বাংলাদেশেও যে স্ট্রোকের আধুনিক চিকিৎসা সম্ভব, সেটিও অনেকে জানেন না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বব্যাপী যত অসংক্রামক ব্যাধি আছে, সেগুলোর মধ্যে মৃত্যুর দিক থেকে হৃদ্‌রোগের পরেই স্ট্রোকের অবস্থান এবং শারীরিক অক্ষমতার জন্য স্ট্রোক সবচেয়ে বেশি দায়ী। প্রতিবছর প্রায় দেড় কোটি মানুষ স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। যাঁদের মধ্যে প্রায় অর্ধকোটি মৃত্যুবরণ করেন এবং প্রায় অর্ধকোটি মানুষ সারা জীবনের জন্য পঙ্গুত্ববরণ করেন। এই তথ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, স্ট্রোক কত ভয়ানক একটি মরণব্যাধি। প্রতি চারজনের মধ্যে একজনের জীবনের যেকোনো সময় স্ট্রোক হতে পারে। উন্নত বিশ্বের তুলনায় নিম্ন আয়ের দেশে স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। এই ঝুঁকি নিয়মিত বেড়েই যাচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ২০৫০ সালের মধ্যে এটা ৮০ ভাগ বাড়তে পারে। ২০১৭ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি ১ হাজারের মধ্যে প্রায় ১১ দশমিক ৩৯ জনের স্ট্রোক হচ্ছে, তাঁদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব মানুষের সংখ্যাই বেশি এবং নারীদের তুলনায় পুরুষ প্রায় দ্বিগুণ। অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস কিংবা হৃদ্‌রোগ ছিল অথবা তাঁরা ধূমপান, অ্যালকোহল বা অন্য কোনো তামাক সেবন করতেন। তবে এই সব কটি কারণই কিন্তু নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

স্ট্রোকের কিছু প্রাথমিক লক্ষণ দেখে আমরা ধারণা করতে পারি, কোনো ব্যক্তির স্ট্রোক হয়েছে কি না। যেমন হঠাৎ কারও শরীর এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়া বা মুখ বেঁকে যাওয়া অথবা কথা জড়িয়ে যাওয়া স্ট্রোকের প্রধান লক্ষণ। কখনো কখনো তীব্র মাথাব্যথা, যা আগে কখনো হয়নি, মাথা ঘোরানো কিংবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়াও স্ট্রোকের অন্যতম লক্ষণ হতে পারে। এ ধরনের লক্ষণ যদি কারও মধ্যে দেখা যায়, তাহলে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। কারণ, প্রথম সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে আসতে পারলে বিশেষ কিছু চিকিৎসার মাধ্যমে তাঁদের সুস্থ করে তোলা সম্ভব। কিন্তু সময় পার হয়ে গেলে মস্তিষ্কের কোষগুলো স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফলে সারা জীবনের জন্য পঙ্গুত্ববরণ এমনকি রোগীর মৃত্যুও হতে পারে। এখন পর্যন্ত স্ট্রোকের আধুনিক চিকিৎসা মূলত রাজধানীকেন্দ্রিক হলেও প্রান্তিক জনগণকে চিকিৎসাসেবার আওতায় আনার জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ এবং জনসচেতনতা।

default-image

আবু নাঈম

স্ট্রোক মস্তিষ্কের একটি রোগ। মস্তিষ্কের রক্তনালির সমস্যার কারণে স্ট্রোক হয়ে থাকে। সমস্যা দুই ধরনের হতে পারে। কখনো কখনো রক্তনালি বন্ধ হয়ে যেতে পারে বা রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ হওয়ার কারণেও স্ট্রোক হতে পারে। স্ট্রোক কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ নয়। এটা হঠাৎ করেই হয়। হঠাৎ করে কথা জড়িয়ে গেলে অথবা শরীরের কোনো অংশ অবশ হয়ে গেলে বুঝতে হবে, তাঁর স্ট্রোক হয়েছে। এ রকম হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ৪০ বছরের পর থেকে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে থাকে। বংশগতভাবেও স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ ছাড়া নারীদের তুলনায় পুরুষের স্ট্রোকের ঝুঁকি দ্বিগুণ। এগুলো সবই অপরিবর্তনশীল ঝুঁকি। তবে কিছু ঝুঁকি আছে যেগুলো পরিবর্তনযোগ্য। যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে চর্বির আধিক্য, স্থূলতা, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, ধূমপান বা বিভিন্ন ধরনের তামাক সেবন ইত্যাদি। এসব ঝুঁকি যত নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, স্ট্রোকের হার ততই কমবে।

default-image

মো. তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী

স্ট্রোক একটি তাৎক্ষণিক ঘটনা। একজন সুস্থ মানুষের হাত-পা হঠাৎ অবশ হয়ে গেলে এ ধরনের পরিস্থিতিতে স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। স্ট্রোক হলে আমাদের করণীয় কী? স্ট্রোক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে। রোগী যাওয়ামাত্রই স্ট্রোক হয়েছে কি না, তা পরীক্ষার জন্য প্রথমেই মাথার সিটি স্ক্যান করতে হবে। রক্তক্ষরণের পর স্ট্রোক হলে সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে তৎক্ষণাৎ বোঝা যায়। কিন্তু রক্তনালি বন্ধের পর স্ট্রোক হলে তাৎক্ষণিকভাবে সিটি স্ক্যানে স্ট্রোক ধরা না–ও পড়তে পারে। সিটি স্ক্যান করার পরে রোগীর ব্লাড সুগার পরীক্ষা করতে হবে। কারণ, অনেক সময় ব্লাড সুগার কমে গিয়েও স্ট্রোকের মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এরপর হার্টের অবস্থা বোঝার জন্য ইসিজি করতে হবে। এই তিনটা পরীক্ষা করলেই বোঝা যাবে, রোগীর আসলেই স্ট্রোক হয়েছে কি না। এবং এই তিনটা পরীক্ষা করার সুবিধা প্রতিটি জেলা হাসপাতালেই আছে।

স্ট্রোক হয়েছে কি না, তা প্রায় ৯০ শতাংশ এই তিনটা পরীক্ষা করেই বোঝা যায়। তবে সিটি স্ক্যান করেও যদি কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো না যায়, সে ক্ষেত্রে মাথার এমআরআই করতে হবে। রক্তনালির কোথায় সমস্যা এবং জরুরি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না, সেটা সিটি এনজিওগ্রাম নামক পরীক্ষার সাহায্যে বোঝা যায়। এভাবে স্ট্রোকের রোগীর দ্রুততম সময়ে চিকিৎসা শুরু করা যায়।

default-image

এম এস জহিরুল হক চৌধুরী

স্ট্রোকের জরুরি চিকিৎসা করতে হলে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে এবং সচেতন করতে হবে, যেন স্ট্রোক হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন এবং জরুরি চিকিৎসা গ্রহণ করেন। স্ট্রোক হয়েছে কি না তা বোঝার একটি সহজ উপায় হলো বিফাস্ট (BEFAST)। হঠাৎ ভারসাম্যহীনতা, চোখে না দেখতে পারা, মুখের এক অংশ বেঁকে যাওয়া, হাত অবশ হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা কথা বলতে না পারা। এ ক্ষেত্রে সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, স্ট্রোক হলে প্রতি মিনিটে প্রায় ১৯ লাখ স্নায়ুকোষ মারা যায়। এ জন্য স্ট্রোক হলে রোগীকে অতি দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। আমাদের দেশে আইভি থ্রম্বোলাইসিস নামক স্ট্রোকের একটি অত্যাধুনিক চিকিৎসা রয়েছে। যদি ৩ থেকে সাড়ে ৪ ঘণ্টার মধ্যে রোগী আমাদের কাছে আসে, তাহলে আমরা এই আইভি থ্রম্বোলাইসিস ইনজেকশনটা দিয়ে থাকি।

তবে চিকিৎসা পেতে হলে অবশ্যই আমাদের কাছে সময়মতো আসতে হবে।

স্ট্রোকের চিকিৎসা আছে। এই চিকিৎসা বাংলাদেশেও আছে। আপনি আমেরিকায় গিয়ে যে চিকিৎসা করাবেন, সেটা এখন বাংলাদেশে বসেও করাতে পারেন। আপনারা জেনে খুশি হবেন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ১০০ শয্যার একটি স্ট্রোক ইউনিট চালু হয়েছে, যেখানে আইভি থ্রম্বোলাইসিসসহ স্ট্রোকের সব ধরনের আধুনিক চিকিৎসা আছে। গত দেড় বছরে আমরা শতাধিক রোগীকে এই চিকিৎসা দিয়েছি এবং ৯০ শতাংশের বেশি রোগী এই ইনজেকশন নেওয়ার পরে হেঁটে বাড়ি যেতে পেরেছেন। দেশেও অত্যাধুনিক চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে, এটা সবাইকে জানাতে চাই। কারণ, আমরা চাই, দেশের সবাই যেন এই চিকিৎসা পেতে পারেন।

default-image

কাজী মহিবুর রহমান

স্ট্রোক দুই ধরনের। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে স্ট্রোক হয়, রক্তক্ষরণ হয়েও স্ট্রোক হতে পারে। কারও যদি মাথায় আঘাতজনিত কারণে রক্তক্ষরণ হয়, সেটিকে কিন্তু স্ট্রোক বলা যাবে না। স্ট্রোক হতে যাচ্ছে এটা আমরা কীভাবে বুঝব? অনেক সময় কিছু পূর্ব লক্ষণ থাকে, সেগুলোর একটি হচ্ছে ট্রানজিয়েন্ট ইস্কিমিক অ্যাটাক। এটা সাধারণত ২৪ ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হয় না। আমাদের হার্ট থেকে কিংবা গলার অভ্যন্তরীণ রক্তনালি ক্যারোটিড ধমনি থেকে জমাট রক্ত ছুটে গিয়ে মস্তিষ্কের রক্তসঞ্চালন বাধাগ্রস্ত করে। তখনই কিছু উপসর্গ দেখা যায়।

যদি কারও ক্যারোলিন ধমনি সরু হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে এনজিওগ্রামের সাহায্যে রিং বসিয়ে দিলে রোগীদের স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে আসবে। এই চিকিৎসা আমরা ২০০৭ সালে শুরু করেছিলাম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

বর্তমানে নিউরোসায়েন্সেস ইনস্টিটিউটে আমরা নিয়মিত এ সেবা দিয়ে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে পাঁচ শতাধিক স্টেনটিং করেছি। এর মধ্যে ১ জন রোগী ছাড়া বাকি সবাই সুস্থ আছেন। আরেকটি বিশেষ ধরনের স্ট্রোক হচ্ছে সাবএরাকনয়েড হেমোরেজ, যেখানে মস্তিষ্কের রক্তনালির বিভিন্ন অংশ ফুলে যায়। পরবর্তীকালে সেগুলো ফেটে গিয়ে রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোক হয়। এসব ক্ষেত্রে আমরা যেটা করছি, তা হলো হার্টে যেমন রিং বসানো হয়, তেমনি মাথার খুলি না কেটে ব্রেইনেও আমরা এই কাজ করছি। এই রোগের ক্ষেত্রে এটাই আধুনিক চিকিৎসা।

default-image

মো. শহীদুল্লাহ

স্ট্রোকের আইভি থ্রম্বোলাইসিস চিকিৎসা বাংলাদেশে শুরু হয়েছে ২০১৮ সালে। কিন্তু এই ইনজেকশন সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষ এখনো জানেই না। ভেবেছিলাম, আমরা চিকিৎসা শুরু করার পর সব রোগী আমাদের কাছে চিকিৎসার জন্য আসবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, রোগী আসে না। বাংলাদেশে এই চিকিৎসা হয়, এটাই তো মানুষ জানে না। তবে দেরি করে হলেও যে রোগী আসার দায়িত্বটা আজ আপনারা নিলেন, এ জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। এই বৈঠকের মাধ্যমে মানুষ জানবেন, স্ট্রোকের জরুরি চিকিৎসা আছে। আগে মনে করা হতো, স্ট্রোকের কোনো চিকিৎসা নেই। আসলে স্ট্রোকের চিকিৎসা আছে এবং জরুরি চিকিৎসা আছে।

রোগী যখন বুঝবেন, তাঁর স্ট্রোক হয়েছে, তখন তাঁকে হাসপাতালে আসতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে আসতে হবে। কেননা স্ট্রোক হওয়ার পর ঢাকার রাস্তার জ্যামের মধ্যে দিয়ে আসতে হবে। একজন ডাক্তার তাঁকে দেখবেন। সিটি স্ক্যান ও রক্ত পরীক্ষা করবেন। এই সবকিছুর জন্য সময় পাওয়া যাবে মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টা। তাই যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের কাছে আসতে হবে। যত দ্রুত আসবেন, তত ভালো হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ, স্ট্রোক অবস্থায় ১ মিনিটে ১৯ লাখ নিউরন মারা যায়। অনেকের টাকা আছে কিন্তু তারা জানে না যে স্ট্রোকের চিকিৎসা আছে। মানুষকে জানানো ডাক্তারদের পক্ষে সম্ভব নয়। সুতরাং এটা সাংবাদিকদের বা বিভিন্ন কমিউনিটির মাধ্যমে সবার কাছে পৌঁছে দিতে হবে। আবার স্ট্রোক যে শুধু বয়স্ক মানুষের হয়, এটাও সঠিক নয়। যেকোনো বয়সের মানুষের স্ট্রোক হতে পারে। এমনকি মায়ের গর্ভে থাকা একটি শিশুরও স্ট্রোক হতে পারে। আবার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। জন্মগতভাবে বাচ্চার কোনো একটা নালি ফুলে থাকতে পারে বা জন্মগতভাবে রক্তনালিতে রোগ হতে পারে। ফলে বাচ্চাদেরও স্ট্রোক হতে পারে।

অনেকেই দেশের বাইরে গিয়ে স্ট্রোকের চিকিৎসা করান এবং অনেক টাকা ব্যয় করেন। বিদেশে ১২-১৩ লাখ টাকা দিয়ে তাঁরা এই চিকিৎসা করাচ্ছেন। যেখানে আমরা মাত্র ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার মধ্যে একই চিকিৎসা করতে পারছি। আসলে আমরা এখনো মানুষকে জানাতে পারিনি যে বাংলাদেশেও স্ট্রোকের আধুনিক চিকিৎসা হচ্ছে। আবার শিশুরা যত বেশি জাংক ফুড খাবে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার স্ট্রোকের ঝুঁকি তত বেড়ে যাবে। বাংলাদেশেই স্ট্রোকের চিকিৎসা রয়েছে। সবাইকে আবারও ধন্যবাদ এই আয়োজনের জন্য।

default-image

রুমানা হাবিব

এ রকম সুন্দর একটি প্রোগ্রাম আয়োজন করার জন্য প্রথমেই এর আয়োজক এবং কলাকুশলীদের ধন্যবাদ জানাই। আমি বর্তমানে বারডেম হাসপাতালে কর্মরত আছি। আমাদের এখানে প্রতিদিন ডায়াবেটিসের অনেক রোগী ভর্তি হন। ডায়াবেটিস কিন্তু অতি দ্রুত বাড়ছে। ২০১০ সালে বিশ্বে ২৮ কোটি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে ৪৩ কোটি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবেন। বাংলাদেশের এখনই ১০ ভাগ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। ডায়াবেটিসের রোগীর স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি দেড় থেকে দুই গুণ বেশি। এই ঝুঁকি বেশি হওয়ার কারণ হলো যে প্রত্যেক ডায়াবেটিস রোগীর উচ্চ রক্তচাপ থাকে। তাঁদের কোলেস্টেরল বেশি হওয়ার আশঙ্কা এবং ওজনজনিত সমস্যা থাকার কারণেও আশঙ্কা বেশি। এ ধরনের রোগীর বয়স যদি আবার ৫৫ বছরের বেশি হয় এবং ধূমপান ও অ্যালকোহলের অভ্যাস থাকে, তাহলে স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়তে থাকে। সুতরাং যে ঝুঁকিগুলো সহজেই প্রতিরোধ করা যায়, সেই ঝুঁকিগুলো যদি আমরা প্রতিরোধ করতে পারি, তাহলে এই ডায়াবেটিস রোগীর স্ট্রোকের ঝুঁকি কমিয়ে আনতে পারব বলে আমরা মনে করি।

আজকের এই আয়োজনের মাধ্যমে ডায়াবেটিস রোগীকে স্ট্রোক হওয়ার প্রাথমিক কৌশলগুলো বলে দিতে চাই। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান পরিহার, কর্মঠ জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন করে ওজনজনিত সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা, এগুলোর ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক হতে হবে। প্রাথমিকভাবে একজন ডায়াবেটিসের রোগীকে যেন স্ট্রোকের হাত থেকে রক্ষা করতে পারি, সেদিকে আমাদের মনোযোগ দিতে হবে।

একজন ডায়াবেটিসের রোগীর স্ট্রোক হওয়ার ২৪ বা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উচ্চ মাত্রায় ব্লাড সুগার রোগীর জন্য খুব ক্ষতিকর। এতক্ষণ আমরা আইভি থ্রম্বোলাইসিস সম্পর্কে যে আলোচনা শুনেছি, সেখানেও উচ্চ ব্লাড সুগার বিশাল একটা ধাঁধা। উচ্চ ব্লাড সুগার থাকলে রোগীর স্ট্রোকের পরিধিও বাড়তে থাকে। এই ধরনের রোগীকে থ্রম্বোলাইসিস করতে গেলেও থ্রম্বোলাইসিস ফেল হওয়ার একটা আশঙ্কা থাকে। সুতরাং ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রোগীর ব্লাড সুগার কমিয়ে আনা আমাদের প্রত্যেক ডাক্তারের দায়িত্ব। এটা আমাদের করতেই হবে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন এ রকম কিছু নিয়ম করে দিয়েছে। যেমন ৭ দশমিক ৮ থেকে ১০ মিলি মোলের মধ্যে ব্লাড সুগারকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কমিয়ে আনতে হবে। এবং তারপরেও যদি ব্লাড সুগার ১০ মিলি মোলের ওপরে থেকে যায়, তাহলে ইনসুলিন থেরাপি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারেও সাবধান করা হয়েছে। অতিরিক্ত ব্লাড সুগার যেমন রোগীর জন্য ক্ষতিকর, তেমনি হাইপোগ্লাইসেমিয়াও।

default-image

আবু নাসার রিজভী

যেকোনো রোগের তিনটা অংশ থাকে। এই তিনটার সমন্বয়ে একটা রোগের সঠিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। কিন্তু সচেতনতা আসলে সব জায়গায় মিডিয়ার মাধ্যমে হয়ে থাকে। আমরা গর্বিত প্রথম আলোকে নিয়ে যে তারা সব সময় এ ধরনের গঠনমূলক কাজে এগিয়ে আসে। স্ট্রোকের ব্যাপারে আমাদের দেশে শিক্ষিত মানুষের মধ্যেও সচেতনতার অভাব আছে। আবার স্ট্রোক হওয়া একজন রোগীকে নিয়ে পরিবারের সবাইকে ভুগতে হয়। স্ট্রোকের রোগীর ইনকাম বন্ধ হয়। তাঁকে ঘরে বসে থাকতে হয়। তারপরে তাঁর দেখভালের জন্য একজন লোক রাখতে হয়। এটার জন্যও একটা পরিবারকে অনেক টাকা খরচ করতে হয়। এই খরচের ভার কিন্তু আমাদের সমাজ ও দেশের ওপরও পড়ে। তবে আমরা যদি স্ট্রোক হওয়ার আগে এই রোগের প্রতিরোধ করতে পারি, তাহলে এই সমস্যার হাত থেকে রেহাই পাব। সুতরাং আমাদের সচেতনতা বাড়াতে হবে। ডাক্তারদেরও কাজ হবে স্ট্রোকের বিষয়গুলো সাধারণ মানুষকে যথাসম্ভব জানানো, এর চিকিৎসা সম্পর্কে জানানো। এরপর সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।

স্ট্রোকের রোগীর জন্য সিটি স্ক্যানের সুবিধা সব জেলায় আছে, কিছু উপজেলায়ও আছে। তবে এই আধুনিক ইনজেকশন কিন্তু বিভাগীয় শহরের বাইরে নেই। সুতরাং এই চিকিৎসার সুযোগ-সুবিধাগুলো বাড়াতে হবে। এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে। ধন্যবাদ প্রথম আলো ও এসকেএফকে এ রকম সুন্দর গোলটেবিল বৈঠকের জন্য।

default-image

ফিরোজ আহম্মদ কোরাইশি

আমাদের দেশের মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। সুতরাং স্ট্রোকের প্রবণতা বাড়তে পারে। এটা আমরা কীভাবে মোকাবিলা করব, আমি এই তিনটা বার্তা আপনাদের মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। আপনারা ইতিমধ্যে সবাই জেনে গেছেন, কিছু লোকের স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে এবং স্ট্রোক চিকিৎসাযোগ্য ও প্রতিরোধযোগ্য। কিন্তু কার স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি থাকতে পারে। এগুলো আগেই আলোচনা করা হয়েছে। আমরা প্রথমেই উচ্চ রক্তচাপে আসি। উচ্চ রক্তচাপ আছে কি না, এটা বোঝা খুবই সহজ।

এ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ কার হবে, এটাও একদম পরিষ্কার। যাঁদের পরিবারে বাবা, মা, ভাই-বোন বা আত্মীয়স্বজনের উচ্চ রক্তচাপ বেশি আছে, তাঁদের উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। এ ছাড়া যেকোনো ডাক্তারের কাছে গিয়ে ব্লাড প্রেশার মাপালেই বুঝতে পারবেন, আপনার উচ্চ রক্তচাপ আছে কি না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনা গেলে স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক কমে যাবে।

এরপর ডায়াবেটিস পরীক্ষা করাও খুব সহজ। ডায়াবেটিসের কিছু উপসর্গ আছে। যেমন পরিবারের কারও ডায়াবেটিস থাকলে বা কারও ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকলে অথবা যাঁরা কম পরিশ্রম করেন; অর্থাৎ অধিকাংশ সময় চুপচাপ বসে থাকেন, তাঁদের ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বেশি। সুতরাং এই উপসর্গগুলো থাকলে আপনি যেকোনো ডাক্তারের কাছে গিয়ে আঙুলের গ্লুকোজ পরীক্ষা করালেই বোঝা যায় ডায়াবেটিস আছে কি না। এ ধরনের পরীক্ষায় খুব বেশি টাকাও লাগে না।

এরপরে রক্তে চর্বির আধিক্য। চর্বি সাধারণত দুই রকম—একটা ভালো চর্বি, অন্যটা খারাপ চর্বি। খারাপ চর্বি বেশি থাকলে তাঁদের স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। এটা পরীক্ষা করাও খুব সহজ। একটি ল্যাবে গেলেই পরীক্ষা করাতে পারবেন। এর জন্য খুব বেশি অর্থনৈতিক চাপও পড়বে না।

এরপর ধূমপান। ধূমপান করে কি না, এটা বোঝার জন্য কোনো পরীক্ষার দরকার নেই। ধূমপায়ী ব্যক্তির কাছে গেলেই বোঝা যায়। এ ছাড়া যাঁদের হৃদ্‌রোগ আছে, তাঁদের স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি থাকে। সুতরাং এই বিষয়গুলো খুব সহজেই প্রতিরোধ করতে পারি এবং সাধারণ মানুষের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে চাই, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করুন, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করুন, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করুন। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে ভালো উপায় খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা।

এ জন্য সাধারণত ফলমূল ও শাকসবজি বেশি করে খেতে হবে এবং চর্বিযুক্ত খাবার খেতে হবে কম। এ ছাড়া সবচেয়ে বেশি জরুরি কায়িক পরিশ্রম করা এবং সকালে–বিকেলে ব্যায়াম করা। যাঁরা অফিসে কাজ করেন, তাঁরা যদি ১০ তলা বিল্ডিংয়ে কাজ করেন, তাহলে ওঠার সময় লিফট ব্যবহার করুন কিন্তু নামার সময় হেঁটে নামুন। এতে আপনার একটু ব্যায়াম হলো। অফিস যদি বাসার কাছেই হয়, তাহলে রিকশায় না গিয়ে হেঁটে যাওয়ার চেষ্টা করুন। এই কাজগুলো করতে পারলে আপনি স্ট্রোককে প্রতিরোধ করতে পারবেন। এরপরে স্ট্রোক হলে আমরা কী করব? এ নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। আমি শুধু একটা কথা বলতে চাই। স্ট্রোকের আধুনিক চিকিৎসা বাংলাদেশে আছে। স্ট্রোকের সঙ্গে সময়ের ব্যাপারটি খুব জড়িয়ে আছে। সুতরাং আপনাকে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে এবং জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। পরিশেষে বলতে চাই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে। স্ট্রোক কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়, এটা জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এই রোগের বিষয়ে বাংলাদেশ স্বাস্থ্য সংস্থা ও বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ নজর রয়েছে। প্রান্তিক মানুষের স্ট্রোক হলে তাঁর কাছে আধুনিক চিকিৎসা কীভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়, এটা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। বাংলাদেশে সরকারি–বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সংখ্যা প্রায় ১২০। প্রায় প্রতিটি জেলার কাছাকাছি মেডিকেল কলেজ এবং প্রতিটি জেলা সদরে জেলা হাসপাতাল আছে। উপজেলাগুলোতে সরকারি হাসপাতাল আছে। এগুলোর প্রতিটিতে শতাধিক শয্যা রয়েছে। সুতরাং আমাদের জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলোতে বসেই যাতে ঢাকার মতো আধুনিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যায়, সেই কাজ করতে হবে। জেলা শহরের হাসপাতালেও উন্নত মানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। গ্রামের একটি হাসপাতালে যদি ভালো চিকিৎসক না থাকেন এবং সেখানে একজন স্ট্রোকের রোগী যান, তাহলে সেই হাসপাতালের ডাক্তার রোগীর সিটি স্ক্যান করবেন। এরপর ঢাকার কোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে রিপোর্ট পাঠিয়ে দিতে পারেন অনলাইনে। ঢাকার সেই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে রোগীর চিকিৎসা করা সম্ভব হতে পারে। আমি আবারও ধন্যবাদ জানাই প্রথম আলো এবং এসকেএফকে এমন সুন্দর একটি গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করার জন্য।

default-image

গোলাম হায়দার

শুরুতেই আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই সোসাইটি অব নিউরোলজিস্টস অব বাংলাদেশকে এই বৈঠক আয়োজনের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। এ ছাড়া ধন্যবাদ জানাতে চাই এখানে উপস্থিত সব ডাক্তারকে। তাঁরা খুব সুন্দরভাবে স্ট্রোক নিয়ে আলোচনা করেছেন। নিখুঁত মান বজায় রাখার মাধ্যমে আমরাও দেশে–বিদেশে ওষুধ সরবরাহ করে থাকি। বর্তমানে এসকেএফ ৫০টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে। আমাদের এই ডেডিকেটেড প্ল্যান্ট থেকে নোরিয়াম, টাফনিল এবং অ্যান্টি–ক্যানসার ড্রাগও তৈরি হচ্ছে। স্ট্রোকের রোগীর জীবন বাঁচাতে সময় যে কত মূল্যবান, তা আজকের আলোচনার মাধ্যমে খুব সুন্দরভাবে এসেছে। স্ট্রোক প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও স্ট্রোক–পরবর্তী চিকিৎসাসেবায় বাংলাদেশ সুদৃঢ় অবস্থান অর্জন করেছে, এটাও আজকের আলোচনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। এই অগ্রযাত্রায় আগামী পদক্ষেপগুলোতে এসকেএফ পরিবার আপনাদের সঙ্গে থাকতে চায় এবং যেকোনো সচেতনতামূলক প্রোগ্রামে আমরা কাজ করতে চাই। ওয়ার্ল্ড স্ট্রোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের মানুষকে আশ্বস্ত করতে চাই যে আমাদের সুদক্ষ চিকিৎসক এবং আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি ও ওষুধ রয়েছে। স্ট্রোক থেকে সুরক্ষা পেতে জনগণকে দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন যাপন করার অনুরোধ জানাই। সবাইকে ধন্যবাদ।

ফিরোজ চৌধুরী

যেকোনো মানুষের যেকোনো সময় স্ট্রোক হতে পারে। লক্ষণ দেখার সঙ্গে সঙ্গেই রোগীকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সবার সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই। আজকের আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

গোলটেবিল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন