সুপারিশ

■ সব পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা চালু করা জরুরি।

■ উন্নত বিশ্বের উদাহরণ কাজে লাগিয়ে সব কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন চালু করতে হবে।

■ রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া দরকার।

■ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কোনোভাবেই কারখানার কাজ চলমান রাখা যাবে না।

■ সুশীল সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও গণমাধ্যমের আরও জোরদার ভূমিকা দরকার।

■ পোশাকশিল্প খাতে যেসব উদ্যোগ ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে, সেগুলো অন্যান্য খাতেও কাজ করতে পারে।

■ কারখানার জন্য বিশেষায়িত টোল ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর ১৬৩৫৭–এর আরও প্রচার দরকার।

■ রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করতে হবে।

আলোচনা

আব্দুল কাইয়ুম

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সংঘটিত রানা প্লাজা দুর্ঘটনা ছিল অচিন্তনীয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রায় ১ হাজার ১ হাজার ১৩৫ জন নিহত এবং ২ হাজার ৫০০ জন আহত হয়েছিলেন। সতর্ক হলে এ দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। সে সময় অনেক মানুষ তাঁদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। অনেক সংগঠন এগিয়ে এসেছিল। আন্তর্জাতিক কিছু উদ্যোগও নেওয়া হয়। প্রথম আলো সে সময় মেরিল–প্রথম আলো সাভার সহায়তা তহবিল গঠন করে। তহবিলের টাকা হতাহতদের উদ্ধারকাজে, আহতদের পুনর্বাসনে সহায়তা ও আহত অনেককে এককালীন সহায়তায় ব্যয় করা হয়। এ ছাড়া তহবিলের একটি অংশ দিয়ে রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমন পরিবারের বেশ কয়েকজন শিশুকে নিয়মিত শিক্ষা সহায়তায় ব্যয় করছি। এই কার্যক্রম এখনো অব্যাহত রয়েছে।

আজকের গোলটেবিল বৈঠকে আলোচনা হবে, পোশাকশিল্পের কর্মক্ষেত্রকে কীভাবে আরও নিরাপদ করা যায়, কখনো দুর্ঘটনা ঘটলে ক্ষতিগ্রস্তদের বিমাসহায়তার ব্যবস্থা প্রভৃতি বিষয় নিয়ে।

default-image

ফারাহ্ কবির

রানা প্লাজা দুর্ঘটনার ৯ বছর হয়ে গেল। আমাদের কল্পনাতীত ছিল এ দুর্ঘটনা। আমরা এই দুর্ঘটনা এড়াতে পারতাম। ভবনমালিকের অসচেতনতার কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় যাঁরা আহত ও নিহত হয়েছেন, আমরা তাঁদের পাশে সব সময় থাকার চেষ্টা করেছি। এখনো করছি। আমরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান না, আমাদের কোনো গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি নেই। তারপরও আমরা কীভাবে তাঁদের সাহায্য করছি? আমরা তাঁদের শারীরিক, মানসিক ও স্বাস্থ্যগতভাবে সাহায্য করেছি। তাঁদের হয়ে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলেছি। শ্রমিকদের কথা আমরা তাঁদের কাছে পৌঁছে দিতে পারি। আমরা শুধু তাঁদের সঙ্গে কথা বললে এই সমস্যার সমাধান হতো না। আমাদের শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর দরকার ছিল। আমরা খুঁজে খুঁজে ১ হাজার ৪০০ জন শ্রমিকের সাক্ষাৎকার নিয়েছি। তাঁদের স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক অবস্থা এবং পারিবারিক ও সামাজিক ব্যাপারে ৯ বছর ধরে করছি। আসলে এই ৯ বছরে আমরা কী কী করতে পারলাম? সেই সব শ্রমিকের জীবনে কতটুকু পরিবর্তন এল? বেশ কিছু পদক্ষেপও ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারিভাবে অনেকেই কাজ করেছে এবং এটা করা জরুরিও ছিল।

আমরা মনে করি, বাংলাদেশে যাঁরা অল্প বেতন পান তাঁদের জন্য ট্রেড ইউনিয়ন করা দরকার। কিন্তু উন্নত বিশ্বে যাঁরা ৪ বা ৫ গ্রেডের বেতন পান তাঁদের জন্যও ট্রেড ইউনিয়নের ব্যবস্থা রয়েছে। কারণ, এটা তাঁদের অধিকার। আমরা কয়েক বছর ধরে ২০০ জন শ্রমিকের ওপর জরিপ করি এবং সেই তথ্য আপনাদের সামনে নিয়ে আসি, যাতে তা শ্রমিকদের কল্যাণে সহায়ক হয়।

আমাদের অনুরোধ থাকবে, হাইকোর্টের কমিটির বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা ও সুপারিশ সামনে নিয়ে এসে সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করা। রানা প্লাজার শ্রমিকদের হয়তো একটা সময় ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা তো এখনো বেঁচে আছেন। তাঁরা আরও ২০–৩০ বছর বেঁচে থাকুক, সেটাই আমরা চাই। সুতরাং তাঁদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে। তাঁদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে। এটা কোনো দান–দক্ষিণার বিষয় নয়, এটা শ্রমিকদের অধিকার। এরপর ইনস্যুরেন্স স্কিমগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। সেই সঙ্গে হেলথ ইনস্যুরেন্স, আনএমপ্লইমেন্ট ইনস্যুরেন্স করতে হবে। এতে তাঁদের জীবন–জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি হবে। ন্যাশনাল অ্যাকশন প্লানের মধ্যেও এগুলো আসুক, আমরা সেটাও চাই। রানা প্লাজা ছাড়াও সব কারখানার জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। তাঁদের সেফটির ব্যাপারটা নিশ্চিত করতে হবে, অ্যাকশন প্ল্যান থাকতে হবে এবং বাজেটে থাকতে হবে। এগুলো নিশ্চিত করার জন্য ইন্সপেক্টর দরকার। তার চেয়েও বেশি দরকার সিভিল সোসাইটির সক্রিয় অংশগ্রহণ। গণমাধ্যমের আরও জোরদার ভূমিকা দরকার। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার ১০ বছরের মাথায় গিয়ে আমরা বলতে চাই না, আমাদের এখনো এটা হয়নি, ওটা হয়নি। আমরা যেন বলতে পারি বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য আমরা এই কাজটি করতে পেরেছি, যা সবার কাছে প্রশংসিত হয়েছে।

default-image

মরিয়াম নেছা

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ৯ বছর পূর্তি উপলক্ষে দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকদের ২০০ জনের মধ্যে একশনএইড বাংলাদেশ পরিচালিত একটি জরিপ অনুসারে, অংশগ্রহণকারীদের ৫৬ দশমিক ৫ শতাংশ বলেছেন যে তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে, যা গত বছর ছিল ১৪ শতাংশ। বর্তমান জরিপে ৫৬ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে যাঁরা তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে বলে জানিয়েছেন, তাঁরা কোমর, মাথা, হাত-পা এবং পিঠে ব্যথাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। পূর্ববর্তী বছরগুলোতে পরিচালিত জরিপে দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকদের শারীরিক স্বাস্থ্যের পর্যায়ক্রমে উন্নতি পরিলক্ষিত হলেও এ বছর অবনতি ঘটেছে। জরিপে আরও উঠে আসে, ৩৩ শতাংশের অবস্থা মোটামুটি স্থিতিশীল এবং ১০ দশমিক ৫ শতাংশের অবস্থা সম্পূর্ণ স্থিতিশীল রয়েছে। গত বছর যেখানে মানসিক ট্রমায় আক্রান্ত ছিলেন ১২ দশমিক ৫ শতাংশ, এ বছর সেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশে। ৩১ শতাংশ বলেছেন, তাঁদের মানসিক অবস্থা মোটামুটি স্থিতিশীল এবং ২০ দশমিক ৫ শতাংশ সম্পূর্ণ স্থিতিশীল।

রানা প্লাজায় দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৫৩ শতাংশ এবং ৪৭ শতাংশ বিভিন্ন ধরনের কর্মসংস্থানে নিযুক্ত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৬৭ শতাংশ বলেছেন, শারীরিক অক্ষমতার কারণে তাঁরা কাজ করতে পারেন না এবং ১০ শতাংশ এখনো মানসিক যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছেন। বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ঘন ঘন কাজ পরিবর্তন করার প্রবণতা দেখা গেছে, যার কারণ হিসেবে শারীরিক সীমাবদ্ধতার জন্য দীর্ঘ সময় একই ধরনের কাজ করার অক্ষমতার বিষয়টি উঠে এসে জরিপে।

জরিপ অনুসারে, ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ তাঁদের আদি পেশা গার্মেন্টসে ফিরে গেছেন এবং আরও ৮ শতাংশ টেইলারিংয়ের সঙ্গে জড়িত আছেন। অনেকেই তাঁদের পেশা বদলে গৃহকর্ম, দিনমজুরি, কৃষিকাজ, বিক্রয় এবং গাড়ি চালানোর মতো পেশায় নিযুক্ত হয়েছেন।

জরিপে দেখা গেছে, বেশির ভাগের আয় করোনা মহামারির প্রভাবে ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ৬৩ দশমিক ৫ শতাংশ বলেছেন, মহামারি চলাকালে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার মতো পর্যাপ্ত অর্থ তাঁদের কাছে ছিল না। ৫১ দশমিক ৫ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করতে পারেননি, এবং ২২ দশমিক ৫ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা শিশুর সঠিক যত্ন নিতে পারেননি। ৪৬ দশমিক ৫ শতাংশকে মহামারি চলাকালে তাঁদের পরিবারের খাবার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার জন্য ঋণ করতে হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, আহত শ্রমিকদের ৩৬ শতাংশের পারিবারিক আয় ৫ হাজার টাকার কম এবং ৩৪ শতাংশের ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে পারিবারিক আয় রয়েছে। ৩৫ শতাংশ বলেছেন, তাঁদের মাসিক খরচ ১০ হাজার টাকার বেশি এবং ৩০ শতাংশের ১৫ হাজার টাকারও বেশি, যার অধিকাংশই খরচ হয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়, বাসাভাড়া, সন্তানের শিক্ষা এবং চিকিৎসা খাতে।

default-image

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম

আগামী বছর রানা প্লাজা দুর্ঘটনার ১০ বছর পূর্ণ হবে। সেই হিসাবে আমরা আরও বড় পরিসরে সার্ভে করতে পারি। আমরা দেখছি, কোভিডের কারণে তাঁদের খাদ্য, বাসস্থান নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান করা উচিত। যেমন, কারও কাজ চলে যাওয়ার পর সে যদি ছয় মাসের একটা বেকারভাতা পায় তাহলে তাকে এই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় না। এখানে যতগুলো সমস্যার কথা উঠে এসেছে, তার সবই হয়েছে অর্থনৈতিক দীনতার জন্য। কেউ তিন বেলা না খেয়ে দুই বেলা খাচ্ছে, বাচ্চাকে স্কুলে পাঠাতে পারছে না, স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যাচ্ছে। এই সবই হচ্ছে অর্থের অভাবে। তবে এই কাজটি শুধু পোশাকশ্রমিকদের মাথায় রেখে করলে হবে না।

আমরা দেখেছি, বিগত ছয় মাসে গার্মেন্টসের বাইরেও অনেক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সুতরাং তাঁদেরও সাহায্যের দরকার আছে। শুধুই টাকা দিয়ে তাঁদের সমস্যা সমাধান করা যাবে না। তাঁদের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে আমাদের ধীরে ধীরে ভাবতে হবে। বর্তমানে গার্মেন্টেসে কাজের সুযোগ বাড়ছে এবং শ্রমিকদের অসন্তোষও বেড়ে যাচ্ছে। কাজ বাড়ছে, তাহলে কেন বেতন ঠিকমতো পাবে না। কাজ এত বাড়লে কেন মজুরি দেওয়া নিয়ে সমস্যা হবে? এই বিষয়গুলো যেন শ্রমিকদের সঙ্গে না হয়, সেটাও আমাদের দেখতে হবে। এ ছাড়া নতুন করে গার্মেন্টেসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বাড়ছে। এটাও কিন্তু চিন্তার বিষয়।

default-image

রাজেকুজ্জামান রতন

রানা প্লাজা দুর্ঘটনা আমাদের দেখিয়েছে অনেক কিছু, কিন্তু শেখাল কতটুকু? রানা প্লাজা আমাদের দেখিয়েছি, ভবনের অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রেও দুর্নীতি ছিল। ভবন নির্মাণ এবং পরিদর্শনের দুর্বলতা ছিল। এ ছাড়া আমরা দেখেছি মালিকের রাজনৈতিক ও আর্থিক ক্ষমতা। শ্রমিকের অসহায়ত্বও আমরা দেখেছি। প্রথমে তাঁদের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে যে ১০০ বছরে এই ভবনের কিছু হবে না। পরে যখন শ্রমিকেরা কাজ করতে চাইলেন না, তখন তাঁদের চাকরি হারানোর ভয় দেখানো হলো। মোট ১ হাজার ১৩৫ জন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আড়াই হাজারেরও বেশি। নিহতদের ২৯১ জনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তাহলে এই মানুষদের কি কোনো ডকুমেন্ট ফ্যাক্টরিতে ছিল না? ডকুমেন্ট ছাড়া তাঁরা কীভাবে কাজে যোগ দিল? জুরাইন কবরস্থানে তাঁদের জন্য আধা একর জমিও আছে। আমরা সেখানে তাঁদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে স্মৃতিস্তম্ভ করার কথা বারবার বলেছি। কিন্তু এখনো হয়নি।

আমাদের শ্রম আইন সংশোধন করা হয়েছে। সেখানে ক্ষতিপূরণের কথা আছে কিন্তু পুনর্বাসনের কথাটা এখনো অন্তর্ভুক্ত হয়নি। পুনর্বাসন না হলে কী সমস্যা হয়, সেটা আমরা ইতিমধ্যে দেখেছি। তাঁরা চিন্তা করার শক্তি হারিয়ে ফেলছে। ক্ষতিপূরণের অঙ্কটাও হাস্যকর! আমাদের বার্ষিক মাথাপিছু আয় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু একজন শ্রমিক কারখানায় মৃত্যুবরণ করলে তাঁর ক্ষতিপূরণ মাত্র ২ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের মাথাপিছু আয়ের চেয়েও একটা মানুষের জীবনের মূল্য কম। সে ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটা মাপকাঠি হওয়া দরকার। ক্ষতিপূরণের মানদণ্ডটা পুনর্বিবেচনা করা উচিত। একজন শ্রমিকের আজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আহত হলে তাঁর চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিতে হবে এবং তাঁকে কাজে ফেরানোর চেষ্টা করতে হবে। কর্মীর হাত যেন ভিক্ষুকের হাতে পরিণত না হয়, সেই ধরনের উদ্যোগ প্রত্যাশা করি।

default-image

এ কে এম নাসিম

রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পরও শ্রমিকেরা অনকে ক্ষেত্রে বঞ্চিতই রয়ে গেছেন। আইন সংশোধিত হয়েছে। কিন্তু আইন সংশোধিত হয়ে মালিকদের পক্ষেই গেছে। এরপর বলা হলো, সেফটি কমিটি আমাদের সব ধরনের সহায়তা করবে। যেহেতু বড় দুর্ঘটনা এরপর আর ঘটেনি, তাই সে বিষয়ে আর কথা হচ্ছে না। আমরা কিন্তু এখনো ঝুঁকিমুক্ত হতে পারিনি। কাগজে–কলমে সেফটি কমিটি গঠন করা হয়েছে ঠিকই। কিন্তু তাদের যেভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে, সেভাবে কি তারা কাজ করছে, এ বিষয়ে আমাদের খোঁজখবর নেওয়া দরকার। শ্রমিকদের দুই ঘণ্টা করে ওভারটাইম করার ব্যাপারে লেখা আছে আইনে। বিশেষ প্রয়োজনে সেটা চার ঘণ্টা পর্যন্ত করতে পারে। কিন্তু আমাদের শ্রমিকেরা এতটাই দরিদ্র এখনো যে তারা চায় আরও ৬ ঘণ্টা ওভারটাইম করতে। তাহলে আমরা দিন দিন কোথায় যাচ্ছি? শ্রমিকদের এমন একটি ব্যবস্থা করে দিতে পারছি না, যেখানে তারা ওভারটাইম না করে সংসার চালাতে পারে।

শ্রমিক ও মালিকপক্ষ থেকে অনেক দাবি পেশ করা হয়েছে। দুই পক্ষের দাবির সঙ্গে মিলছে শুধু সেগুলো সরকার গ্রহণ করেছে। শ্রমিকদের যেসব দাবি মালিকপক্ষ মানেনি, সেগুলোও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তা গ্রহণ করা হয়নি। এখানে শ্রমিকপক্ষ দুর্বল। শ্রমিকদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

default-image

সাইদুল ইসলাম

রানা প্লাজা কন্ডিশন কমিটি ৩০ মিলিয়ন ইউএস ডলার একত্র করেছিল এবং এর মাধ্যমে সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষকে সাহায্য করা হয়েছে। এখানে আইএলও কাজ করেছে। এরপর রানা প্লাজা ট্রান্সফান্ড হিসেবে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং এর মূল দায়িত্বে আছে সরকার। ভবিষ্যতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেফটি ইউনিট কীভাবে কাজ করে, সেটা আমরা দেখতে পারব। এই ইউনিট সঠিকভাবে কাজ করলে শ্রমিকেরা লাভবান হবেন। এখনো আমাদের অনেক কিছুই করা বাকি আছে।

পলিসি ও অপারেশন লেভেলে কাজ করার এখনো অনেক কিছু আছে। এই বিষয়গুলো আমাদের ভেবে দেখতে হবে। আমাদের প্রকল্পের সঙ্গে সোশ্যাল পার্টনাররা জড়িত হলে এর পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন সম্ভব। সরকার, মালিক, শ্রমিক—সবাই একত্র হয়ে এটা বাস্তবায়ন করলে কারখানা–সংশ্লিষ্ট সবাই উপকৃত হবে। বাংলাদেশের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখা বা সুনাম ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

default-image

ওয়ার্নার ল্যাঙে

আমরা জানি যে নিরাপত্তার বিষয়টি একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এর সুনির্দিষ্ট কোনো সমাপ্তি নেই। বিগত ৯ বছরে তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতে নিরাপত্তার ইস্যুতে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। অনেকগুলো কারখানা নিরাপত্তার ইস্যুতে তাদের পুরোনো প্রতিক্রিয়াশীল অবস্থান থেকে সরে এসে যথাযথ উদ্যোগ নিয়েছে। এ ছাড়া এই শিল্প খাতটি নিজেদের আরও গুছিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আরএমজি সাসটেইনিবিলিটি কাউন্সিল (আরএসসি) গঠন করেছে, যা এ ব্যাপারে উদ্যোগের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে আরএসসির মাধ্যমে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হবে। তবে এ জন্য শুধু আরএসসির ওপর নির্ভর করলেই হবে না, নিরাপত্তা ইস্যুতে নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনাও অবিরতভাবে দরকার।

যেহেতু ইতিমধ্যেই বিদ্যুৎ, আগুন ও ভবনের নিরাপত্তার বিষয়গুলোয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়েছে, তাই এ মুহূর্তে অন্য বিষয়গুলোর দিকে নজর দেওয়াটা অপরিহার্য। আমরা প্রায়ই ‘পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা’ কথাটি ব্যবহার করে থাকি, কিন্তু বেশির ভাগ সময়ই আমরা স্বাস্থ্যের দিকটা উপেক্ষা করি। আমি খুব অবাক হই, এই শিল্প কেন উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় জড়িত শ্রমিকদের দীর্ঘদিন কাজ করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারে না। কারও কারও লেখা থেকে দেখেছি, শ্রমিকেরা ৩৫-৪০ বছর বয়সে এই খাতের কাজ ছেড়ে চলে যান। অথচ এই বয়সে শ্রমিকদের সর্বোচ্চ উৎপাদনশীল অবস্থায় থাকার কথা। কিন্তু ঘটছে এর বিপরীত। শ্রমিকদের স্বাস্থ্যের বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবার সম্ভবত এখনই সময়।

পেশাগত স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টিও চলে আসে। বাংলাদেশের জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার অন্যতম স্বাস্থ্যবিমা, বেকারত্ব ভাতা বা বিমা এবং ফরমাল সেক্টরের কর্মীদের জন্য বার্ধক্য ভাতা। এগুলো যথাসময়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। এই পথে এগোনোর দিকে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো আরএমজি সেক্টরের জন্য কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা ক্ষতিপূরণ স্কিমের পাইলট, যা এ মুহূর্তে আলোচনাধীন। যে বিষয়গুলো এখনো প্রশ্নাধীন আছে, সেগুলো আমাদের নিশ্চিতভাবেই আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সুরাহা করে ফেলতে হবে। তবেই পাইলট প্রকল্পটি ২০২২ সালের প্রথমার্ধে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চালু করা সম্ভব হবে।

আরএমজি খাতে অনেক অগ্রগতির পরও গত বছরের ৮ জুলাই একটি জুস কারখানায় আরেকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। আরএমজি খাতে সামনের দিনগুলোতে আরও উন্নয়নের দরকার রয়েছে। তবে আমি মনে করি, বাংলাদেশের সব শিল্প খাতেই সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টির দিকে মনোযোগ দেওয়া দরকার। তৈরি পোশাকশিল্প খাতে যেসব উদ্যোগ ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে, সেগুলো অন্যান্য খাতেও কাজ করতে পারে।

default-image

হামিদা হোসেন

শ্রমিকের অবস্থা যে দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে, সে জন্য কি শুধু কোভিড দায়ী? রানা প্লাজাকে আমরা একটা ল্যান্ডমার্ক হিসেবে ধরি। কিন্তু আমরা আরও পেছনে তাকালে দেখব, ১৯৯৩ সালে সারাকা গার্মেন্টসে আগুন লেগেছিল। সে সময় অনেকে মারা গিয়েছিল। তখন তাদের আত্মীয়স্বজনের কাউকে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। সে সময় আইন নিয়ে কেউ কোনো কথা বলেনি। রানা প্লাজার দুর্ঘটনার পরে এই ব্যাপারটা সামনে চলে এসেছে। এ ছাড়া আমরা শুধু গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি নিয়ে কথা বলছি। বিদেশে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ এখন দ্বিতীয়। শুধু গার্মেন্টস নিয়ে কথা বলার কি এটাই কারণ কি না সেটা ভেবে দেখার সময় হয়েছে। আমাদের অন্যান্য শিল্প নিয়েও চিন্তাভাবনা করতে হবে। পাটের দিক দিয়েও আমরা এগিয়ে ছিলাম। লেদার নিয়েও ভাবতে হবে। সবার সেফটির ব্যাপারটি আমাদের দেখতে হবে। সে জন্য এই দায়িত্বটা শ্রমিকদেরও দেওয়া উচিত। সেফটি কমিটি তো সব সময় গার্মেন্টসের ভেতরে দেখাশোনা করে না। সব সময় কাজ করেন শ্রমিকেরা। তাই সেফটির ব্যাপারটি শ্রমিকদেরও বুঝিয়ে দেওয়া উচিত। তাঁদের এ ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত।

default-image

শহিদুল্লাহ আজিম

রানা প্লাজা দুর্ঘটনা থেকে আমরা কী শিখতে পারলাম, সেটাই মূল কথা। সেখান থেকে কি আমরা বেরিয়ে আসতে পেরেছি? অনেকগুলো কাজ হয়েছে। লেবার ল রিফর্ম হয়েছে, বিল্ডিং কোড রিফর্ম হয়েছে। নিরাপত্তা ও ঝুঁকিমুক্ত বিল্ডিং নির্মাণের ক্ষেত্রেই অভূতপূর্ব কাজ হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এই কাজগুলো আমরা ১ হাজার ১০০–এর বেশি মানুষের প্রাণ যাওয়ার পরে করেছি। এগুলো আগে করতে হতো। এখন আমাদের দেশে অনেক বড় বড় ফ্যাক্টরি হয়েছে। রানা প্লাজা না হলে হয়তো এগুলো হতো না। সরকারের তরফ থেকে সেন্ট্রাল ফান্ড তৈরি হয়েছে। সেখানে প্রতিবছর ১২ মিলিয়ন ডলার জমা হয়। শ্রমিকদের কল্যাণে এই ফান্ড তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি কারখানায় অডিট হয়। আমাদের শতভাগ কাজ হয়ে গেছে, সেটা বলব না। তবে অনেক কাজ হয়েছে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পরে।

অনেক সময় ঈদের আগে সমস্যা দেখা দেয়। সেগুলো সমাধান করার চেষ্টা করে যাচ্ছি আমরা। আমরা এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সব শ্রমিককে ৫০ শতাংশ বেতন ও বোনাসের টাকা ঈদের আগে দিতে হবে। তবে কোনো কারখানার বেতনভাতা হোক বা সেফটির ব্যাপারটাই হোক, কোনো অভিযোগ এলে আমরা ব্যবস্থা নিই। তবে সব কারখানার সক্ষমতা সমান নয়, সেটাই বিবেচনা করতে হবে।

আমরা এবার শ্রমিকদের জন্য হেল্থ ইনস্যুরেন্স চালু করেছি। প্রতি মাসে মালিক দেবে ৬ দশমিক ৫০ টাকা এবং শ্রমিক দেবে ৬ দশমিক ৫০ টাকা। বিনিময়ে শ্রমিকেরা ২০ হাজার টাকার স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা পাবেন। প্রায় ২ লাখ শ্রমিক এর আওতায় এসেছে। প্রতিনিয়ত কারখানাগুলোকে আমরা এই কাজটি করার ব্যাপারে অনুপ্রেরণা দিচ্ছি। বেকার ভাতার ব্যাপারে বলব এখন আমাদের দেশে এটা বিভিন্ন কারণে সম্ভব নয়। তবে ভবিষ্যতে হবে। সেটা নিয়েই আমরা কাজ করছি এবং আরও কাজ করতে হবে।

default-image

মোস্তাফিজুর রহমান

রানা প্লাজা আমাদের দেশের শিল্প খাতের জন্য একটি ট্র্যাজেডি। ১৯৯৩ সাল থেকে আমি ডাইফিতে কাজ করছি। আজ ২০২২ সালে যদি দেখি তাহলে বলব, ১৯৯৩ সাল থেকে এখন অনেক উন্নত হয়েছে। রানা প্লাজা ধসের পর থেকে ডাইফি বিল্ডিং স্ট্রাকচারের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছে। এ দুর্ঘটনার পরে আমরা ৩ হাজার ৭৮০টি কারখানাকে অ্যাসেস করেছি। তাদের বিভিন্ন পর্যায় ধাপে ধাপে উন্নয়ন করা হয়েছে। কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, কিছু স্থানান্তরিত হয়েছে। বাকিগুলো কিন্তু সঠিক নিয়ম মেনেই পরিচালিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে যে প্রকৌশলীরা কাজ করেন তাঁদের দেশে–বিদেশে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হচ্ছে। আইএলওর মাধ্যমে আমরা প্রশিক্ষণ দিয়েছি। আমাদের প্রায় প্রতিটি কারখানায় সেফটি কমিটি আছে। তবে তাঁদের আরও বেশি দক্ষ করতে হবে। এ জন্য আমাদের কার্যক্রম চলমান আছে। প্রদর্শনের পাশাপাশি আমরা অসেচতনতা দূর করার চেষ্টা করে চলেছি। বেসরকারিভাবে আমরা ৫ হাজার কারখানাকে ইন্সপেকশন করছি। তাদের কী ধরনের সেফটি সমস্যা আছে, সেগুলো আমরা সমাধান করার চেষ্টা করছি।

সরকারের প্রতিটি শাখাকে একত্র করে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের একটি অ্যাপ আছে ‘লিমা’ নামে। অ্যাপটি ব্যবহার করে আমরা এখন কাজ করে যাচ্ছি। এ ছাড়া আমাদের টোল ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর আছে। নম্বরটি হলো ১৬৩৫৭। এখানে ফোন করে যে কেউ অভিযোগ করতে পারেন। যেমন, আমার কারখানা ভবনে সমস্যা হচ্ছে বা আমাকে এই মজুরি দিচ্ছে না, আমি যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছি—এ ধরনের যেকোনো সমস্যার জন্য একজন শ্রমিক বিনা মূল্যে ফোন করতে পারেন। ৯৫ শতাংশ সমস্যার সমাধান আমরা মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেই সমাধান করে দিই। আবার শ্রমিকের ছেলেমেয়ে পড়ালেখা এবং নারীশ্রমিক বা শ্রমিকের স্ত্রীর গর্ভাবস্থায় শ্রমিককল্যাণ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সাহায্য করা হয়। এ ছাড়া আমাদের এখানে ইন্সপেক্টর রয়েছে। যদিও সেটা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তবে সবাই মিলে সাহায্য করলে কর্মক্ষেত্রকে ঝুঁকিমুক্ত করা সম্ভব বলে আমি বিশ্বাস করি।

default-image

শামসুন্নাহার ভূঁইয়া

আমাদের দেশের সক্ষমতা অনেক বেড়েছে। আমি শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় শ্রমিক আন্দোলনে যুক্ত ছিলাম। আট ঘণ্টা কাজ করার অধিকারের জন্য আমরা অনেক আন্দোলন করেছি। তবে আমাদের লক্ষ্য এখনো পুরোপুরি সফল হয়নি। এই শ্রমজীবী মানুষের জন্যই আমরা এখন মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছে গেছি।

আমাদের অর্থনীতিকে সচল রাখার জন্য শ্রমিকেরা কঠোর পরিশ্রম করছেন। অনেকে জীবন দিয়েছেন। একজন শ্রমিক আহত হলে কিন্তু অনেক সময় নষ্ট হয়। তাঁকে ডাক্তারের কাছে নেওয়া, চিকিৎসা করানো ইত্যাদিতে সময় ব্যয় হয়। তা ছাড়া যে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন শুধু তাঁর একার কাজের সময় নষ্ট হচ্ছে না, তাঁকে বাঁচাতে যাঁরা আসেন, তাঁদের সময়ও নষ্ট হয়। তাই মালিকপক্ষ যদি আগের থেকে সচেতন হয় তাহলে ওই শ্রমিকের প্রাণের ঝুঁকিও থাকে না, আবার মালিকের কোনো ক্ষতিও হয় না। আমাদের এই দেশ মালিকের, শ্রমিকের সবার। সুতরাং আমাদের সবাইকে একত্রে কাজ করতে হবে। আমি মনে করি, স্বাস্থ্যবিমা অবশ্যই দরকার। ঝুঁকিপূর্ণ কারখানায় কাজ চলমান রাখা যাবেনা। কারণ, একটা বড় দুর্ঘটনার জন্য আমাদের দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।

মনে রাখতে হবে, শ্রমিকের জীবন সবার আগে। আমাদের যেন আর একটাও রানা প্লাজার মতো দুর্ঘটনা না দেখতে হয়, সেদিকে সবার খেয়াল রাখতে হবে। মালিক–শ্রমিক সবাইকে মানবিক হতে হবে, একত্রে কাজ করতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।

ফিরোজ চৌধুরী

আজকের আলোচনায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ এসেছে, যা পোশাক খাতের বিকাশে সহায়ক হবে। আশা করা যায়, নীতিনির্ধারকেরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন। আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রথম আলোর পক্ষ থেকে অতিথিদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

গোলটেবিল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন