মানবিক আশ্রয়স্থল

অন্য আশ্রয়

বিজ্ঞাপন
default-image

খোদাদিলা গ্রামের ৭২ বছরের মেহেরনেছা। সকাল সাতটা থেকে গাছতলার বেঞ্চে বসে আছেন। কাছে গিয়ে জানা গেল ভোর ছয়টায় রওনা দিয়ে মেঘনা নদী পার হয়ে তিনি এসেছেন ডাক্তার দেখাতে। নীলক্ষা গ্রাম থেকে প্রায়ই হাজির হন ৬৫ বছরের শহরবানু। বীরকান্দি থেকে আসেন পক্ষাঘাতে আক্রান্ত ৮০ বছরের ওয়াহাব মিয়া। সবার উদ্দেশ্য দড়ি হাইরমারা গ্রামে অবস্থিত প্রথম আলো ট্রাস্ট-সা’দত স্মৃতি সদন প্রকল্পে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা নেওয়া।
মেঘনার পাড়ঘেঁষে নরসিংদীর রায়পুরার হাইরমারা ইউনিয়নে দড়ি হাইরমারা গ্রাম। এই গ্রামেই সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে স্বাস্থ্য, শিশু বিকাশ, লাইব্রেরি ও বয়স্ক ভাতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রথম আলো ট্রাস্ট, যার যাত্রা শুরু হয়েছিল এক বছর আগে। তখন নরসিংদী থেকে সপ্তাহে একজন ডাক্তার এসে ১৫-২০ জন রোগী দেখতেন। বিতরণ করা হতো প্রয়োজনীয় ওষুধ। ধীরে ধীরে বেড়েছে এর কাজের পরিধি। এখন প্রতি সপ্তাহে ডাক্তার আসেন তিনজন, সেবা পান শতাধিক মানুষ। প্রকল্প থেকেই বিতরণ করা হয় প্রায় সব ওষুধ। প্রতি মাসে ৫১ জন সহায়হীন বৃদ্ধ এক হাজার টাকা ভাতা পান। বছরের চার মৌসুমে তঁাদের মাঝে বিতরণ করা হয় প্রয়োজনীয় কাপড়চোপড়। প্রতি দুই-তিন মাস অন্তর পরিবেশন করা হয় উন্নতমানের খাবার।
এই সদনে এসে অসুস্থ ব্যক্তিরা চিকিৎসা পান, সহায়হীন ব্যক্তিরা দেখেন আশার আলো। আর শিশুরা? তাদের জন্য কী আয়োজন? দড়ি হাইরমারা গ্রামে খেলার কোনো মাঠ নেই, নেই শিশুদের মানসিক বিকাশের কোনো জায়গা। তাই এই প্রকল্পের আওতায় স্থাপন করা হয়েছে একটি শিশুপার্ক। সেখানে দোলনা, স্লিপারে শিশুরা মনের আনন্দে খেলা করে। বিকেলের সোনালি আলোয় এখন সেখানকার শিশুরা ফুটবলে লাথি মেরে চিৎকার করে ওঠে ‘গোল’ বলে! অথবা টেনিস বলে সজোরে ব্যাট হাঁকিয়ে কেউ নিজেকে মনে মনে সাকিব আল হাসান ভাবে!
খেলাধুলার পাশাপাশি গ্রামের মানুষের জ্ঞানের জগৎটাকে উন্মুক্ত করে দিতে প্রকল্পের আওতায় স্থাপন করা হয় লক্ষাধিক টাকার বইয়ে সমৃদ্ধ একটি লাইব্রেরি। প্রতিনিয়তই বাড়ছে এর বইয়ের সংখ্যা। বিকেল হলেই সেখানে হানা দেয় গ্রামের কিশোর, যুবকেরা। গালে হাত দিয়ে শিশুরা উল্টাতে থাকে রঙিন বইগুলো। তাদের আনন্দভরা চোখে ভেসে ওঠে সুন্দর বাংলার ভবিষ্যৎ।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন