সিলেটে ২০০৩ সালে তৎ​কালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টায় জড়িত ছিলেন একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা। এক জ​িঙ্গর জবানবন্দিতে সে তথ্য বেরিয়ে আসে। পরবর্তীকালে সেই কর্মকর্তা মো. এহ্‌তেশাম উল হক রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব হিসেবে নিয়োগ পান। চার বছর ধরে অনুসন্ধান করে ও নথিপত্র ঘেঁটে প্রথম আলো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করে। তা ছাপা হয় ২০০৯ সালের ১১ অক্টোবর। 

default-image

আট বছর আগে সিলেটে শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টাকারী জঙ্গিদের একজনের জবানবন্দিতে সেনাবাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নাম এসেছে। গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গি মাসুদ আহমেদ শাকিল ওরফে সুমন ২০০১ সালে ঢাকায় যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রে (জেআইসি) ও সিলেটের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ নাম প্রকাশ করেন। তখনকার লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদমর্যাদার ওই কর্মকর্তা এখন মেজর জেনারেল এবং রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব। তাঁর নাম এহ্‌তেশাম উল হক। জঙ্গি শাকিল পরে ২০০৮ সালে টিএফআই কেন্দ্রে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য দেন।
প্রথম আলোর চার বছরের অনুসন্ধান ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০০১ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সিলেটে নির্বাচনী জনসভার দিন হামলা করে শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী (হুজি)। এ জন্য অন্তত দুই মাস আগে থেকে বাইরের জঙ্গিদের সিলেটে নিয়োজিত করা হয়। প্রথমে তাদের একজনকে সেখানে চাকরি দেওয়া এবং থাকার ব্যবস্থা করা হয়। জঙ্গি শাকিলের জবানবন্দিতে নাম আসা সেনা কর্মকর্তা এহ্‌তেশাম উল হক চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কাজটি করেন। চাকরিদাতা ডা. আরিফ আহমেদ ওরফে রিফাও সেনা কর্মকর্তা এহ্‌তেশামের অনুরোধে আকাশ নামের একজনকে চাকরি দেওয়া এবং থাকার ব্যবস্থা করার কথা প্রথম আলো র কাছে স্বীকার করেছেন। আরিফ আহমেদ ওরফে রিফা দাবি করেছেন, ‘পরে এহ্‌তেশাম আমার কাছ থেকে এই মর্মে স্ট্যাম্পে লিখিয়ে নেন যে, তাঁর (এহ্‌তেশাম) অনুরোধে আমি আমার প্রতিষ্ঠানে কাউকে চাকরি দিইনি।’

হুজির অন্যতম শীর্ষ নেতা মুফতি হান্নান ২০০৬ সালের ১৯ নভেম্বর ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছেন, শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ঢাকা থেকে জঙ্গিরা সিলেটে গিয়ে আকাশের (সেনা কর্মকর্তা এহ্‌তেশামের মাধ্যমে চাকরি পাওয়া) বাসায় ওঠে। এ-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন, মূলত ওই আকাশকে কেন্দ্র করে সিলেটে জঙ্গিরা শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ করতে থাকে। ডা. রিফার বাড়ির ভেতর আলাদা একতলা ঘরে থাকতেন আকাশ। তাঁর কক্ষেই হামলায় ব্যবহারের জন্য বোমা বানানো হয় এবং সেখানে পরে বোমা বিস্ফোরিত হয়ে দুই জঙ্গি নিহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় জঙ্গি শাকিল ও আবু ওবায়দা ওরফে হারুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আকাশসহ অন্যরা পালিয়ে যান।

জঙ্গি শাকিলের জবানবন্দি

 ২০০১ সালের ২ অক্টোবর সিলেটের প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং একই বছরের ১১ অক্টোবর ঢাকায় জেইসিতে প্রায় একই তথ্য দেন শাকিল। জবানবন্দিতে শাকিল সেনা কর্মকর্তা এহ্‌তেশাম ও পুলিশ সদস্য নূরুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কথা জানান। ১৯৯৯ সালে বিএ পাস করে ব্যবসায় নামেন শাকিল।

আদালতের জবানবন্দিতে শাকিল বলেছেন, ‘ব্যবসার ফাঁকে ফাঁকে তাবলিগ জামাতে যেতাম। জামাতে পরিচিত গাজীপুরের নূরুল ইসলামসহ ২০০০ সালে কাকরাইল মসজিদে যাই। জামাত শেষে যাই ঢাকার রায়ের বাজার মসজিদে। এখানে পরিচয় হয় কর্নেল এহ্‌তেশামের সঙ্গে। তাঁর গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলায়। রায়ের বাজার মসজিদের কাছে তাঁর বাসা। পরিবার-পরিজন নিয়ে তিনি ওই বাসায় থাকেন।...এরপর মাঝে মাঝে তাঁর বাসায় যেতাম। তিনি সিলেট বিডিআরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। সিলেট থেকে ঢাকায় গেলে তাঁর সঙ্গে দেখা হতো আমার। তিনি (এহ্‌তেশাম) জানান, সিলেটে তাঁর এক বন্ধু ডাক্তার। নাম আরিফ আহমেদ রিফা। ডাক্তার সাহেব সিলেটে একটা হাসপাতাল ও সাভারে একটা কোল্ড স্টোরেজ করতে চান। এ জন্য লোক দরকার। আমাকে ওই কাজে কর্নেল সাহেব ব্যবস্থা করে দেবেন বলে জানান। গত জুন মাসে (২০০১) তিনি আমাকে সিলেট আসতে বলেন মোবাইলে।...এক দিন পর সিলেটে আসি ও সুরমা ভ্যালি রেস্টহাউসে উঠি। রুমটি ডা. রিফার নামে বুক করা ছিল। বিশ্রাম করে কর্নেল এহ্‌তেশামকে টেলিফোন করি। তিনি রাত ১০টার দিকে ডা. রিফার মানচুরিয়া কালার ল্যাবে যেতে বলেন।...তিনি ডা. রিফার সঙ্গে আমার পরিচয় করিয়ে দেন।...পরদিন সকালে বাসে করে ঢাকায় চলে যাই। কর্নেল সাহেবের টেলিফোনমতে গেল আগস্ট মাসে (২০০১) আবার আসি। সিলেট প্লাজায় (আবাসিক হোটেল) এক দিন থেকে পরদিন ঢাকায় চলে যাই। এবার আলাপ হয়েছে ডা. রিফার ফাজিল চিশত এলাকার বাসায়। কর্নেল সাহেবও ছিলেন।’

তবে ডা. রিফা প্রথম আলোকে বলেছেন, তিনি কখনো সেনা কর্মকর্তা এহ্‌তেশাম বা শাকিলের সঙ্গে তাঁর নিজের ব্যবসার বিষয়ে কোনো আলোচনা করেননি।

টিএফআই কেন্দ্রে শাকিল

 এক-এগারোর পটপরিবর্তনের পর ২০০৮ সালে শাকিলকে টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) কেন্দ্রে নিয়ে আবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেখানেও শাকিল নিজের জঙ্গি-সম্পৃক্ততা এবং সেনা কর্মকর্তা এহ্‌তেশামের সঙ্গে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতার কথা আরও বিস্তারিত বলেছেন। টিএফআইর প্রতিবেদন দেখা যায়, শাকিল বলেছেন, ২০০০ সালে ঢাকার মোহাম্মদপুরে নূরানি মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে সেখানকার নূরানি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হুজির অন্যতম শীর্ষ নেতা ডাক্তার সাহেব ওরফে মাওলানা আবু সাঈদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সাঈদের মাধ্যমে শাকিল জিহাদে উদ্বুদ্ধ হন। সাঈদের কাছে বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় অপরিচিত লোকজন আসত। এদের মধ্যে একজন মাওলানা লিটনকে তিনি চিনতেন।

লিটন ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি। তাঁর বাড়ি গোপালগঞ্জে। এখন পলাতক। লিটন খুলনার হোমিও চিকিৎসক আবদুল আজিজ অপহরণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি।

টিএফআইতে শাকিল বলেছেন, ২০০১ সালের আগস্টে মাওলানা সাঈদের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে মুফতি হান্নানের পরিচয় হয়।

আবু সাঈদের বক্তব্য

 আফগানিস্তানে সোভিয়েতবিরোধী যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে আবু জাফর ওরফে ডাক্তার সাহেব ছিলেন পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল মুজাহিদীনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাঁর বাড়ি ময়মনসিংহে গফরগাঁওয়ে। তিনি নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি ঐক্যবদ্ধ হুজির আমিরও ছিলেন। একই সঙ্গে তাঁরা হরকাতুল মুজাহিদীন নামেও তৎপরতা চালান। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ বিভিন্ন নাশকতার ঘটনায় তিনি অভিযুক্ত আসামি।

সিলেটে শেখ হাসিনা হত্যাচেষ্টা মামলায় আবু সাঈদ ২০০৬ সালের ১৯ অক্টোবর সিলেটের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এতে তিনি ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ঢাকায় বসে করা হত্যা পরিকল্পনার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, ‘মুফতি হান্নান আমাকে জানায়, শেখ হাসিনা সিলেটে জনসভা করতে যাবে। তাঁকে বোমা মেরে হত্যার বিষয়টি আলোচনা হয়। আলোচনায় মুফতি হান্নান, আবু মুসা, লোকমান, জাফর ও আমি ছিলাম।’ আবু সাঈদ বলেন, ‘এ কাজের জন্য ছয়জনকে সিলেট আসার জন্য ঠিক করা হয়। আবু মুসা, লোকমান, জাফর, আমিসহ আরও দুইজন (নূর ইসলাম ও ওবায়দা), এই মোট ছয়জন। পরে শাকিল নামে একজন নটর ডেম কলেজের ওখানে এসে আমাদের সঙ্গে যোগ দেয়। শাকিল সিলেটের রাস্তাঘাট চেনাবে বলে আমাদের সঙ্গী হয়। শাকিলই আমাদের বলে যে ডাক্তার রিফাকে চেনে, তাঁর বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করবে। পরে মোট সাতজন সিলেটে আসি। আবু মুসা ও লোকমান বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও মসল্লা সাথে নিয়ে আসে। রাতে সিলেটে পৌঁছাই। শাকিল আমাদেরকে রিকশায় করে ডা. রিফার বাড়িতে নিয়ে যায়।’

সাঈদের এই জবানবন্দিতে মনে হচ্ছে, সিলেটে যাওয়ার সময়ই তিনি শাকিলকে প্রথম দেখেছেন, তাঁর সঙ্গে পূর্বপরিচয় ছিল না। কিন্তু শাকিল টিএফআইতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছেন, তাঁকে মাওলানা সাঈদ জিহাদে উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং ২০০১ সালের আগস্টে মুফতি হান্নানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন।

 ডা. আরিফ আহমেদ রিফার বক্তব্য

 গত চার বছরে এ ঘটনা অনুসন্ধানকালে এ প্রতিনিধির সঙ্গে সিলেটে ডা. আরিফ আহমেদ রিফার বহুবার কথা হয়েছে। তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, সিলেট বিডিআরের তৎকালীন কর্মকর্তা এহ্‌তেশাম তাঁর পূর্বপরিচিত। তাঁর বাবা ও এহ্‌তেশামের শ্বশুর ডা. জামান ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। সেই সূত্রে আশির দশকের মাঝামাঝি এহ্‌তেশাম সিলেটে জালালাবাদ সেনানিবাসে স্কুল অব ইনফ্যান্ট্রি অ্যান্ড ট্র্যাকটিসে বদলি হলে তাঁদের দুজনের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। এহ্‌তেশাম তখন মেজর ছিলেন। পরে এহ্‌তেশাম লে. কর্নেল হয়ে আবার সিলেটে বিডিআরে বদলি হয়ে এলে তাঁদের ঘনিষ্ঠতা আরও বাড়ে। পরস্পরের বাসায় যাতায়াত ছিল তাঁদের।

রিফা বলেন, ওই বোমা বিস্ফোরণের কয়েক মাস আগে লে. কর্নেল এহ্‌তেশাম তাঁর ব্যবহৃত বিডিআরের জিপগাড়িতে করে মানচুরিয়া কালার ল্যাবে আসেন। সঙ্গে দুই তরুণ। এঁদের একজনের নাম আকাশ বলে জানিয়ে ছেলেটিকে চাকরি দেওয়া অনুরোধ করে এহ্‌তেশাম বলেছিলেন, ছেলেটি নামাজি ও বিশ্বস্ত। তাঁদের সঙ্গে অন্য যুবকের নাম বলেছিলেন শাকিল। শাকিলকে আকাশের বড় ভাই হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন এহ্‌তেশাম। তখন শাকিলের লম্বা দাড়ি ছিল।

ডা. রিফা প্রথম আলো কে বলেন, এরপর তিনি বুঝতে পারেন জঙ্গিগোষ্ঠীর সদস্যদের জন্য সিলেটে আস্তানা তৈরির লক্ষ্যে তাঁর সঙ্গে এহ্‌তেশাম শেষ দিকে এত ঘনিষ্ঠভাবে মিশেছেন এবং তাঁর প্রতিষ্ঠানে কর্মচারী হিসেবে এক জঙ্গির চাকরির ব্যবস্থা করেছেন।

রিফা বলেন, ওই বিস্ফোরণের ঘটনার কিছুদিন আগে এহ্‌তেশাম সিলেট বিডিআর থেকে চট্টগ্রামে বদলি হয়ে যান। রিফার দাবি, ঘটনার দিন তিনি ঢাকায় ছিলেন। অবশ্য জঙ্গি শাকিলও জবানবন্দিতে এমন তথ্য দিয়েছেন।

 তদন্তে সেনা কর্মকর্তার নাম এড়ানো হয়

 নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, এ মামলার তদন্তে ও গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গিদের জবানবন্দিতে ঘটনার সঙ্গে নানাভাবে সংশ্লিষ্ট হিসেবে মুফতি হান্নান, মাওলানা আবু সাঈদ, শাকিল, আবু ওবায়দা, শাহজাহান, রিফা, আকাশ, আবু মুসা, লোকমান, ফেঞ্চুগঞ্জের জাফর, আবু বকর, ডালিম, রাজু, অমিত, সবুজ, আলমগীর, সেনা কর্মকর্তা এহ্‌তেশাম ও পুলিশ সদস্য নূর ইসলামের নাম আসে। এর মধ্যে দুই দফায় ছয়জনকে অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়।

অন্যদের মধ্যে রাজু, অমিত, সবুজ ও আলমগীরকে এ ঘটনায় জড়িত হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, পূর্ণ ঠিকানা পাওয়া যায়নি বলে তাঁদের অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেনা কর্মকর্তা এহ্‌তেশাম ও পুলিশ সদস্য নূরুল ইসলাম, আকাশ, আবু বকরের বিষয়ে অভিযোগপত্রে কিছুই বলা হয়নি। এঁদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় পাওয়া সহজ ছিল। ডালিম, জাফর, লোকমানের বিষয়েও অভিযোগপত্রে কিছু উল্লেখ নেই।

জানতে চাইলে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলকারী তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক প্রণব কুমার গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে এবং এর আগে সিলেটে প্রথম আলোকে বলেছেন, মুফতি হান্নান ও সাঈদের জবানবন্দি মোতাবেক আবু বকর, নূরুল ইসলাম ও ডালিমকে শনাক্ত করার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করা হয়েছে।

তবে মামলার নথিতে থাকা শাকিলের জবানবন্দিতে এহ্‌তেশামের প্রসঙ্গের জায়গাগুলো কলম দিয়ে দাগ টেনে চিহ্নিত করা আছে। এতে বোঝা যায়, এ নামটি সংশ্লিষ্টদের নজর এড়িয়ে যায়নি। টিএফআই সেলে শাকিলকে জিজ্ঞাসাবাদের পর যে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে, এতেও দেখা যায় এহ্‌তেশাম উল হকের প্রসঙ্গটি কলমের দাগ দিয়ে চিহ্নিত করা।

গত কয়েক বছরে তদন্তকারী সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে এ প্রতিবেদক বহুবার কথা বলেন। মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঘটনায় সেনা কর্মকর্তার নাম আসায় বিষয়টি নিয়ে কেউ সাহস করে এগোতে পারেনি। এর ধারাবাহিকতায় বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে মামলার দায়সারা অভিযোগপত্র দিয়ে ঘটনার মূল হোতাদের বাঁচিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এটা করতে গিয়ে ডা. রিফাকে ফাঁসিয়ে দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত শেষ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু রিফাকে কখনো জিজ্ঞাসাবাদ করেননি।

ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় ধরা পড়া দুজনকে বাদ দেওয়ার সুযোগ না থাকায় রিফাসহ এই তিনজনকে আসামি করে এ-সংক্রান্ত দায়ের করা দুটি মামলার অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। পরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে রিফা অব্যাহতি পান। কিন্তু পরে সম্পূরক অভিযোগপত্রে তাঁকে আবার আসামি করা হয়।

ডা. রিফার অভিযোগ, ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে তাঁকে ও তাঁর এক বন্ধু শাহাজাহানকে আসামি করা হয়েছে। অথচ শাহাজাহান দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল তাঁকে ঢাকার বাসা থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তিনি এখন সিলেটের কারাগারে আছেন।

ডা. রিফার দাবি, তিনি পরবর্তী সময়ে জেনেছেন, আকাশ ছদ্মনামের ওই তরুণ শাকিলের আপন ভাই। শাকিলের মেজো ভাইকে (সালাহউদ্দিন আহম্মেদ) মুখোমুখি করলে তিনি তা নিশ্চিত করতে পারবেন। কারণ আকাশের এক চোখের মণিতে সমস্যা আছে। ডা. রিফা মনে করেন, আকাশকে পেলে এবং আকাশ ও শাকিলকে সেনা কর্মকর্তা এহ্‌তেশামের মুখোমুখি করলেই এ হত্যাচেষ্টার নেপথ্যে আরও কোনো শক্তি আছে কি না, তা বের হয়ে আসবে।

২০০৬ সালে এ প্রতিবেদক ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসায় শাকিলের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাঁর মেজো ভাই সালাহউদ্দিন দুবার ঘুরিয়ে পরে বলেছেন, শাকিল কথা বলতে রাজি নন। চাপাচাপির একপর্যায়ে সালাহউদ্দিন এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমাদের খঁুটির জোর অনেক শক্ত। কেউ আমাদের ক্ষতি করতে পারবে না।’

গত জুন মাসে (২০০৯) শাকিলের মা হোসনে আরা সিলেটের আদালতে এ প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে জানান, তাঁর মেজো ছেলে সালাহউদ্দিন আহম্মেদ (২৯) যুক্তরাজ্যে ব্যারিস্টারি পড়তে গেছেন।

মামলার বাদীর বক্তব্য

 এ-সংক্রান্ত মামলা দুটির বাদী সিলেট কোতোয়ালি থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু আল খায়ের মাতুব্বর। তিনি বর্তমানে ভোলার মনপুরা থানার ওসি। গত ১০ জুন তিনি সিলেটের আদালতে এ মামলার হাজিরা দিতে এসে এই প্রতিবেদককে বলেন, বোমার ঘটনার মাস দুয়েক আগে তিনি ডা. রিফার মানচুরিয়া কালার ল্যাবে অভিযান চালান। তখন তিনি ছিলেন সিলেট পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি। তাঁর কাছে খবর ছিল, সেখানে বিপুল বিস্ফোরক মজুত ও সন্দেহজনক লোকজন ছিল। অভিযানের সময় এই শাকিলসহ কয়েকজন সেখানে উপস্থিত ছিল। কিছুক্ষণ পর সিলেট বিডিআরের লে. কর্নেল এহ্‌তেশাম সেখানে উপস্থিত হন। ওই সেনা কর্মকর্তা তাঁর কাছে জানতে চান, চার্জ ওয়ারেন্ট আছে কি না, কিসের ভিত্তিতে তল্লাশি করা হচ্ছে।

আবু আল খায়ের মাতুব্বর বলেন, বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার সময় তিনি সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি আবু ওবায়দা ও শাকিলকে ঘটনাস্থল থেকে জনতার সহায়তায় গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারের পরপর শাকিল তাঁর কাছে স্বীকার করেছেন, কয়েক মাস আগ থেকে তারা (জঙ্গিরা) সিলেটে অবস্থান নিচ্ছিল। সুরমা ভ্যালি হোটেলে শাকিল একাধিকবার স্বনামে-বেনামে ছিলেন বলে এই কর্মকর্তা জানান।

তদন্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য

 মামলা দুটি সবচেয়ে বেশি সময় ধরে তদন্ত করেছিলেন সিআইডির সিলেট অঞ্চলের পরিদর্শক গোপাল চক্রবর্তী। তাঁর সঙ্গে গত চার বছরে এই প্রতিনিধির অন্তত ১০ দফা কথা হয়েছে। সর্বশেষ কথা হয় চলতি বছরের ১২ জুন সিলেটে তাঁর বাসায়। তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা এবং এই বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় হুজির জঙ্গি শাকিলের জবানবন্দিতে তৎকালীন লে. কর্নেল এহ্‌তেশামের নাম এসেছিল। কিন্তু সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা হওয়ায় এহ্‌তেশামকে তিনি জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেননি। গোপাল চক্রবর্তী বলেন, ২০০১ সালে যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ সেলেও (জেআইসি) শাকিল এই সেনা কর্মকর্তার নাম বলেছিলেন। তিনি বলেন, ‘শুনেছি তখন জেআইসি থেকে ফোন করে এহ্‌তেশামের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তিনি অস্বীকার করেছিলেন।’

তবে বিগত চারদলীয় জোট সরকার আমলে যতবারই এ বিষয়ে কথা হয়েছে, গোপাল চক্রবর্তী এই সেনা কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা বা ঘটনায় তাঁর নাম আসা প্রসঙ্গে কিছুই স্বীকার করেননি। মামলার শেষ দিকের তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির আরেক পরিদর্শক প্রণব কুমার, যিনি আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছেন, তিনিও এই সেনা কর্মকর্তার প্রসঙ্গটি কখনো স্বীকার করেননি। সম্পূরক অভিযোগপত্রেও বিষয়টি তিনি এড়িয়ে গেছেন।

প্রণব কুমার পদোন্নতি পেয়ে এখন সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে কর্মরত আছেন। গতকাল শনিবার তাঁর সঙ্গে সর্বশেষ এই প্রতিবেদকের মোবাইল ফোনে কথা হয়। তিনি বলেন, এহ্‌তেশামের নাম শাকিল বললেও মুফতি হান্নান বা মাওলানা সাঈদ তাঁর সম্পর্কে কিছু বলেননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়ার আগে মুফতি হান্নান ও মাওলানা আবু সাঈদকে এ মামলায় রিমান্ডে নিলেও সেনা কর্মকর্তার বিষয়ে কিছুই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

 আকাশের ছবি ও জীবনবৃত্তান্ত গায়েব

ডা. রিফা জানান, সিলেটের ঘটনার দিন তিনি ঢাকায় ছিলেন। পরে তিনি চাকরি দেওয়ার সময় জমা নেওয়া আকাশের ছবি ও নাম-ঠিকানা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক গোপাল চক্রবর্তীকে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কিন্তু আকাশকে মামলায় আসামি না করে উল্টো আমাকে আসামি করা হয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, তদন্ত কর্মকর্তা আকাশের ছবি ও নাম-ঠিকানা মামলার নথিতে সংযুক্ত না করে গায়েব করে দেন।

বিভিন্ন সময় জানতে চাইলে গোপাল চক্রবর্তী এ অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে আলোচনার একপর্যায়ে তিনি বলেন, আকাশের ছবিটি তিনি একবার দেখেছেন। আকাশ পাঁচ ফুট দুই-তিন ইঞ্চি লম্বা হবেন। কোথায় দেখেছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোথায় যেন দেখেছি, মনে নেই।’

ডা. রিফা বলেন, তাঁর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে। শাকিল, আকাশ, এহ্‌তেশামকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে তিনিই হতে পারতেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। কিন্তু কোনো তদন্ত কর্মকর্তা তাঁর কোনো বক্তব্য বা সাক্ষ্য নেননি।

 এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে পুলিশ সদস্যের বিষয়

 মুফতি হান্নান, আবু সাঈদ ও জঙ্গি শাকিলের জবানবন্দিতে পুলিশ সদস্য নূরুল ইসলামের নাম এসেছে। তদন্তে জঙ্গিদের সহযোগী এই পুলিশ সদস্যের বিষয়টিও উপেক্ষা করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা গোপাল চক্রবর্তী বলেন, নূরুল ইসলামের পূর্ণ ঠিকানা তাঁরা সংগ্রহ করতে পারেননি। তাই অভিযোগপত্রে তাঁর নাম আসেনি।

তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, তদন্ত কর্মকর্তা ইচ্ছা করলেই পুলিশ বিভাগ থেকে নূরুল ইসলামের ঠিকানা সংগ্রহ করতে পারতেন। আর জঙ্গি শাকিলকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই নূরুল ইসলামের স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা শনাক্ত করা সম্ভব ছিল।

 শাকিলের মা হোসনে আরা গত ১০ জুন (২০০৯) সিলেটে জজ আদালতের বারান্দায় এই প্রতিবেদককে বলেছেন, ‘শাকিলের বাবা ছিলেন ডিসি ফুড। হঠাৎ বাবা মারা গেলে শাকিল ছাত্রাবস্থায় ’৯৭ সালে হজ করে। তখন শাকিলের মন দুর্বল ছিল, তাবলিগে জড়ায়। পরে পুলিশ নূরুল ইসলাম ও কর্নেল সাহেব (এহ্‌তেশাম) এসবে জড়িয়েছেন শাকিলকে।’ তিনি জানান, চার-পাঁচ বছর আগে নূরুল ইসলাম নিজ এলাকার তাঁর এক ঘনিষ্ঠজনের মেয়েকে শাকিলের কাছে বিয়ে দিয়েছেন। পুলিশ সদস্য (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) নূরুল ইসলামের বাড়ি বরিশাল অঞ্চলে।

আদালতের বারান্দায় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপের শাকিলের মা বলেন, রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব হওয়ার পর এহ্‌তেশামের সঙ্গে এখন আর তাঁদের যোগাযোগ নেই। সেখানে উপস্থিত ডা. রিফাকে একপর্যায়ে শাকিলের মা বলেন, ‘এহ্‌তেশাম সাহেব তো বলেছেন, আপনি চাইলে আমার ছেলেকে বাঁচাতে পারেন।’ ডা. রিফা পাল্টা বলেন, ‘আপনার ছেলে কেন আমাকে ফাঁসিয়েছে, সেটা আগে জিজ্ঞাসা করেন। তাকে তো আমি সিলেটে ডেকে আনিনি। সে কর্নেল সাহেবের সঙ্গে এসেছে, জঙ্গিদের সঙ্গে এসেছে। এখন আমাকে ফাঁসাচ্ছে।’

জানা গেছে, বসুন্ধরা সিটিতে শাকিলের শ্বশুরের একটি দোকান আছে। সেখানে শাকিলেরও একটি বড় দোকান আছে। এটিও এখন তাঁর শ্বশুর দেখাশোনা করেন। শাকিলের শ্বশুর পুলিশের সদস্য নূরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ। তদন্ত কর্মকর্তা চাইলে শাকিলের শ্বশুরের কাছ থেকেও নূরুল ইসলামের আদ্যোপান্ত জানতে পারতেন। শাকিল জবানবন্দিতে বলেছেন, এই নূরুল ইসলামই রায়েরবাজার মসজিদে সেনা কর্মকর্তা এহ্‌তেশামের সঙ্গে তাঁর পরিচয় করিয়ে দেন।

 জঙ্গি ওবায়দা এখন

 সিলেটের ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গি ওবায়দা ওরফে হারুন এখন ফেনীর সোনাগাজীতে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ২০০৬ সালের ১৫ জুলাই ওবায়দার সঙ্গে তাঁর গ্রামের বাড়িতে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তিনি জঙ্গি তৎপরতা ও সিলেটে বোমার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, তখন তিনি পটিয়ায় মাদ্রাসার ছাত্র ছিলেন। সহপাঠীদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে তিনি পরিস্থিতির শিকার হন। কিন্তু ওই সহপাঠীদের নাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তাদের নাম এখন মনে নাই।’

তবে আলাদাভাবে জানতে চাইলে ওই দিনই ওবায়দার বাবা গোলাম কিবরিয়া বলেছেন, ওবায়দা ২০০১ সালে শাহজালালের মাজার জিয়ারতে গিয়ে সন্দেহবশত পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়। তাহলে গুরুতর আহত হয়ে কয়েক মাস পুলিশ হেফাজতে কেন ওবায়দা চিকিৎসাধীন ছিলেন—জানতে চাইলে বাবা ও ছেলে কেউই এর সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি।

সর্বশেষ গত বুধবার ওবায়দা প্রথম আলোর সোনাগাজী প্রতিনিধিকে বলেন, তাঁকে ওই মামলায় পুলিশ বা কোনো গোয়েন্দা সংস্থা কখনো জিজ্ঞাসাবাদ করেনি। ওবায়দার দাবি, তিনি পলাতক আসামি নন। কারণ সিলেটের ওই মামলা এখন আর নেই। তিনি বলেন, ‘আমাকে সবাই জেএমবি বলে ডাকে ঠিকই, কিন্তু আমি তো তেমন কেউ নই।’

বিগত জোট সরকারের আমলে ওবায়দা জামিনে বেরিয়ে আর আদালতে হাজিরা দেননি। ২০০৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সিলেটের দায়রা জজ আদালত ৩৮ নম্বর আদেশে আবু ওবায়দার ওরফে হারুনের জামিন বাতিল করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। তবে ওবায়দা নিজ এলাকায় প্রকাশ্যে আছেন।

সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজান উদ্দিন গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার থানায় ওবায়দার বিরুদ্ধে সিলেটের আদালতের কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আসেনি। তবে ওবায়দা যে শেখ হাসিনার হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি, তা পত্রিকার খবর পড়ে জেনেছি। খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’

ওবায়দা গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে মেলামেশা শুরু করেন। তিনি এখন যুবলীগের সক্রিয় সদস্য বলে প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন। তবে গত ৩০ সেপ্টেম্বর যুবলীগের সোনাগাজী উপজেলা শাখার আহ্বায়ক নূরুল আবসার প্রথম আলোর সোনাগাজী প্রতিনিধিকে বলেন, ওবায়দা যুবলীগের কোনো পদে নেই।

একই দিন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামছুল আরেফিনও একই কথা বলেন। তবে শামছুল আরেফিন এর আগে গত ২৪ মার্চ প্রথম আলোর সোনাগাজী প্রতিনিধিকে বলেছিলেন, বছর খানেক ধরে ওবায়দাকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের মিছিল-মিটিংয়ে দেখা যাচ্ছে।

হুজির অন্যতম শীর্ষ জঙ্গি কামাল উদ্দিন ওরফে শাকের ২০০০ সালে গোপালগঞ্জের আদালতে ফরিদপুরে একটি বোমা হামলার ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে অন্যদের সঙ্গে জড়িত হিসেবে এই ওবায়দার নাম বলেছিলেন। কিন্তু পুলিশ তাঁকে আসামি করেনি। পরে জোট সরকারের আমলে মামলাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে প্রত্যাহার করা হয়।

আরও পড়ুন :

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0