>

মামলাজট, মামলার দীর্ঘসূত্রতা—বাংলাদেশের আইনি প্রক্রিয়ায় যেন অনিবার্য। ১৯৯৮ সালের ৪ নভেম্বর প্রথম আলোর প্রথম সংখ্যার শিরোনাম প্রতিবেদনে মামলাজটের চিত্র উঠে আসে। ‘সুপ্রিম কোর্টে মামলাজট’ শিরোনামের প্রতিবেদনে সর্বোচ্চ আদালতে ৯০ হাজারের বেশি মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকার তথ্য ছিল। 

প্রথম আলোর প্রকাশনা উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন তখনকার রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া। তাঁদের শুভেচ্ছা বাণীও​ ছিল প্রথম পৃষ্ঠাতেই। ছিল শিশির ভট্টাচার্য্যের কার্টুন।

হত্যা–সন্ত্রাসে অভিযুক্তদের জামিন, আগাম জামিনের নিষ্পত্তিতে ফৌজদারি বেঞ্চগুলো ব্যস্ত, আপিল অর্থ দেওয়ানির গতি ধীর

default-image

দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে রিট, আগাম ও অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদনগুলো অধিক প্রাধান্য পাওয়ায় বিচারাধীন মামলার সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে গেছে। রিট ও জামিন মামলাগুলোর বিপুলসংখ্যক আবেদনকারী হত্যা, সন্ত্রাস, ধর্ষণসহ নারী নির্যাতন, সম্পত্তি দখল, কর ফাঁকি, ঋণখেলাপি প্রভৃতি অপরাধ ও রাজনৈতিক কারণে মামলায় সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি। এরা আইনের আশ্রয় পাওয়ার জন্য, ক্ষেত্রবিশেষে নিম্ন আদালতে বিচার এড়ানো ও বিচার বিলম্বিত করার জন্য উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হচ্ছেন। এতে সামগ্রিকভাবে অনিষ্পন্ন মামলার সংখ্যা বেড়ে গিয়ে মামলাজট সৃষ্টি হয়েছে।
বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা মামলার সংখ্যা ৯০ হাজারেরও বেশি। এর মধ্যে আপিল বিভাগেই রয়েছে প্রায় দুই হাজার। আর সারা দেশে এখন বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় সাড়ে সাত লাখ। ফলে সর্বত্রই বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ ও হয়রানি বেড়েছে।
খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাসের মামলার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে এই বলে জামিন চাওয়া হয় যে, মামলাটি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক। নিম্ন আদালতে জামিন পাওয়া যাবে না। আরও বলা হয়, বাদীপক্ষ প্রভাবশালী। তারা নিম্ন আদালতকে প্রভাবিত করবে।

আর রিটের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে বলা হয়, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তা বিবাদীর মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করছে।

সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন বিশিষ্ট আইনজীবী বলেছেন, ‘এগ্রিভড’ বা সংক্ষুব্ধ হওয়া সত্ত্বেও প্রচলিত আইনে যদি আপাত কোনো সমাধান না পাওয়া যায় তখনই রিট মোকদ্দমা চলে। মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রেও চলে। তবে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করে যেসব রিট করা হয়, প্রচলিত আইনে তার অনেকগুলোরই সমাধান রয়েছে।

এদিকে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ সম্প্রতি দুদিনে শতাধিক মামলায় জামিন দিলে সে খবরে দেশব্যাপী জনমনে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এই প্রেক্ষাপটে অবকাশের পর বেঞ্চগুলো পুনর্গঠন করা হয়েছে। তবে এখনো সুপ্রিম কোর্টের ১৪টি ডিভিশন বেঞ্চের মধ্যে ছয়টিকেই রিট ও জামিনের কাজে নিয়োজিত রাখা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের সূত্রগুলো জানান, এই ছয়টি বেঞ্চে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০০টি করে মামলা উত্থাপিত হওয়ার তালিকায় থাকে। যেখানে হাইকোর্ট বিভাগে ১৪টি ডিভিশন বেঞ্চসহ মোট বেঞ্চ রয়েছে ২৪টি সেখানে ছয়টি বেঞ্চ ওই কাজে নিয়োজিত থাকলে অন্যান্য মামলা নিষ্পত্তি বিলম্বিত হতে বাধ্য।

আরও পড়ুন :

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0