>

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন যুদ্ধাপরাধে জড়িতদের বিচার হচ্ছে বাংলার মাটিতে—এটা ছিল আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অঙ্গীকার। বাংলাদেশের মানুষের গণদাবি ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার​ হোক। ২০০০ সালে প্রথম আলো পরিচালিত এক জনমত জরিপেও তা উঠে আসে। ১ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোতে প্রকাশিত এই জনমত জরিপের ফলাফলে দেখা যায় ৮৩ দশমিক ৫১ শতাংশ মানুষ মনে করেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি তোলা উচিত।

২০১১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করার জন্য ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করে এই বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন শীর্ষ মানবতাবিরোধী অপরাধীর বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও রায় কার্যকর হয়েছে।

default-image

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি এখন আবার তোলা উচিত, এই মত দিয়েছেন প্রথম আলো জনমত জরিপের ৮৩.৫১ শতাংশ উত্তরদাতা। আর ১০.৮০ শতাংশ মনে করেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি এখন আবার তোলা ঠিক নয়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি এখন আবার তোলা উচিত কি না এই প্রশ্নে দেশব্যাপী প্রথম আলো পরিচালিত ‘জনমত জরিপ-১৪’ থেকে এ মতামত পাওয়া গেছে।
জনমত জরিপে প্রশ্ন করা হয়, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি এখন আবার তোলা উচিত কি না?’ জরিপে অংশগ্রহণ করেন মোট ৬,১১৩ জন। উচিত বলে মত দিয়েছেন ৫,১০৫ জন (৮৩.৫১%) এবং উচিত নয় বলে মত দিয়েছেন ৬৬০ জন (১০.৮০%)। ৩৪৮ জন (৫.৬৯%) এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
গত ২৯ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত প্রথম আলোর জেলা ও থানা প্রতিনিধি, প্রদায়ক, প্রতিবেদক এবং পত্রিকার পাঠক সংগঠন বন্ধুসভার সদস্যরা দেশের নানা পেশার মানুষের কাছে জরিপের ছক নিয়ে গিয়ে মতামত সংগ্রহ করে পাঠান। প্রথম আলো বন্ধুসভা চট্টগ্রাম কমিটি এবার সর্বাধিক মতামত সংগ্রহ করেছে। প্রথম আলো জরিপ সেল বন্ধুসভা চট্টগ্রাম কমিটির সদস্যদের ধন্যবাদ জানাচ্ছে। প্রথম আলো বন্ধুসভা নোয়াখালী ও প্রথম আলো বন্ধুসভা ময়মনসিংহও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মতামত সংগ্রহ করেছে।

এছাড়াও অনেক পাঠক সরাসরি প্রথম আলো কার্যালয়ে এসে এবং টেলিফোন ও ফ্যাক্সের মাধ্যমে নিজেদের মতামত সংগ্রহ করে জরিপ সেলে পাঠান। দেশের প্রায় সব এলাকাতেই জরিপের মাধ্যমে মতামত সংগৃহীত হয়েছে। ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বগুড়া, বরিশাল, ফরিদপুর, সিলেট, ময়মনসিংহ, মাগুরা, যশোর, গাজীপুর নেত্রকোনা, নাটোর, বোয়ালমারী, শ্রীমঙ্গল, ফেনী, কুমিল্লা, সুনামগঞ্জ, দিনাজপুর, শরীয়তপুর, পাবনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ী, শেরপুর, টাঙ্গাইল, কক্সবাজার, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, পিরোজপুর, টঙ্গী, বাজিতপুর, ভৈরব, পলাশ, সরিষাবাড়ী, চলনবিল, রাজনগর, শাহজাদপুর, সান্তাহার, মিরসরাই, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, ঘোড়াশাল, পূর্বধলা (নেত্রকোনা) বিভিন্ন এলাকায় এ জরিপ পরিচালিত হয়। এছাড়া দুবাই থেকে শেখ ইনছান আলী নামের একজন পাঠক যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে মতামত জানিয়েছেন এই জরিপে। ছাত্র, শিক্ষক, চাকরিজীবী, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, বীমাকর্মী, কৃষক, ঠিকাদার, যানচালক, দোকানদার, গৃহিণী, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, আইনজীবী, ছাত্রছাত্রী, সংস্কৃতিকর্মী, এনজিওকর্মী, সাংবাদিকসহ নানা পেশার মানুষের মতামত জরিপে সংগ্রহ করা হয়।

মতামত দেওয়ার সময় জরিপে অংশগ্রহণকারীরা কিছু মন্তব্য করেন, যেমন :

*’৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের আরো আগে বিচার করে শাস্তি দেওয়া উচিত ছিল। আমরা চাই বিচার দ্রুত করা হোক-রফিকুল হক, ব্যবসায়ী, খুলনা।

* দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধাপরাধীদের এখনো বিচার হচ্ছে, তাহলে ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি তোলা যাবে না কেন? তাছাড়া অপরাধ যে রকমই হোক না কেন, তার বিচার হওয়া উচিত। আবুল খায়ের, প্রভাষক, ইংরেজি বিভাগ, তাজপুর ডিগ্রি কলেজ, রাজনগর।

* যেহেতু সাধারণ ক্ষমা পাওয়ার পরও বর্তমানে ওরা পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাচ্ছে, তাই এখন এদের বিচারের দাবি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। হক তরফদার, নাট্যকার, সরিষাবাড়ী।

* যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি তোলা এবং বিচার করা না হলে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত সম্মান প্রদর্শন করা হবে না-জসীমউদ্দিন আহমদ, প্রকৌশলী, শ্রীমঙ্গল।

* অবশ্যই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি দেরিতে হলেও তোলা উচিত, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এরকম নজিরও আছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে নাৎ​সিদের এখনো বিচার হচ্ছে—মানিক, ছাত্র, মাগুরা প্রতিনিধি।

* যারা ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় না, তাদেরও বিচার হওয়া উচিত। বাপন, ছাত্র, আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ময়মনসিংহ।

* অবশ্যই চাই, তবে এ বিষয়টিকে সরকারি দলের স্বার্থে ব্যবহার করা ঠিক হবে না—মোঃ আতাউল গনি, প্রভাষক, সুনামগঞ্জ।

* জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করা হবে, এমন দাবি তোলা উচিত নয়—মাহবুবুর রহমান পীর, জামায়াত কর্মী, সুনামগঞ্জ।

* একটি দেশের স্বাধীনতার সময় যারা নৃশংস অপরাধ করেছে, তাদের অবশ্যই বিচার হওয়া উচিত। আবুল কালাম আজাদ, চাকরিজীবী, শাহজাদপুর।

আরও পড়ুন :

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0