default-image

মেসিডোনিয়ার খুব ছোট্ট শহর স্ট্রুগা। জনসংখ্যা হাজার পনেরো। বছর তিনেক হয় আমি মেসিডোনিয়াতে আসা-যাওয়া করছি। স্ট্রুগাতে ফি-বছর অনুষ্ঠিত হয় ‘পোয়েট্রি ইভিনিংস’ বলে দুনিয়াজোড়া মশহুর কবিতার উৎসব। আমি তক্কে তক্কে ছিলাম—পদাবলির এ মাইফেলে কোনো এক মওকায় ঢুকে পড়ার জন্য। আন্তর্জাতিক মাপের কবিতা উৎসবে আমন্ত্রিত হতে হলে সাহিত্যে রসবোধ থাকা যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন যশের। তার খামতি থাকায় আমি কাশ্মীরি জানি-দোস্ত কাজমি হায়দারের হাওলা ধরেছি। তিনি ফি দাখিল করে কবিতা-সন্ধ্যায় অবজারভার হিসেবে হাজিরা দেওয়ার বন্দোবস্ত করে দিয়েছেন।
স্ট্রুগাতে আমি উঠেছি নদীতীরের একটি হোটেলে। কাজমি এ হোটেলের স্থায়ী বাসিন্দা। মেসিডোনিয়া একসময় তুরস্কের অটোমান সালতানাতের অন্তভুর্ক্ত ছিল। সে আমলের কিছু ঘরদুয়ার, হামাম ও কেল্লা এখনো কালের তুষারপাত সয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তুর্কি কেতার কিছু স্থাপত্য হাফফিল ভেঙেচুরে তোলা হচ্ছে ফিউচারিস্টিক ইমারত। কাজমি ভাঙা অট্টালিকার মর্মর পাথর নিলামে কিনে নিয়ে তা ঘষামাজা করে আমেরিকায় রপ্তানি করেন। পাথর ছাড়াও তাঁর আগ্রহ আছে আতরে। হরেক কিসিমের কবিতায় তিনি আতÄহারা হন অনায়াসে। তাঁকে পাশে পেয়ে কবিতা-সন্ধ্যার দিকে আগুয়ান হতে বুকে বেশ হিম্মত পাই।
কালচে ঘষা পাথরে তৈরি স্ট্রিটে কেবল সাঝের বাতি জ্বলে উঠছে। ফেরিওয়ালিরা বিক্রি করছে গোলাপ। মহল্লা ম-ম করছে শিককাবাবের সৌরভে। কাজমির সঙ্গে কবিতা-সন্ধ্যার অকুস্থলের দিকে হাঁটতে হাঁটতে অনুভব করি—কেন পর্যটকেরা স্ট্রুগাকে আখ্যায়িত করেন ‘চিয়ারফুল অ্যান্ড অ্যাট্রাকটিভ’ হিসেবে। কাজমি চুড়িদার কোর্তা-পাজামার সঙ্গে ঘাড়ে পশমিনার জামেয়ার চাপিয়ে পথ চলছেন। তাঁর সেলিমশাহি নাগরার অগ্রভাগ প্রশ্নবোধক চিহ্নের মতো। শীর্ণকায় কাজমি কানিবগুলার মতো পা টিপে টিপে হাঁটছেন। তা দেখে আওয়ারা গোছের রূপজীবীরা চুল থেকে ক্লিপ খুলে হয় তা ঠোঁটে কামড়ে ফিক করে হাসছে, অথবা বাতাসে আঙুল দিয়ে আফ্রোদিসিয়াক প্রতীক এঁকে মৃদুস্বরে শিস কাটছে। ভেন্যুর কাছাকাছি আসতেই তিনি জেব থেকে বের করেন রূপার আতরদান। সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন তকী মীরের দিওয়ানও।
তাবৎ অনুষ্ঠানের এন্তেজাম হয়েছে নোনাধরা পলেস্তারা খসা তুর্কি হামামের আঙিনায়। দেউড়ি অতিক্রম করতেই দেখি ল্যাম্পপোস্টের তলায় ধাড়ি গোছের একটি কচ্ছপকে কবিযশপ্রার্থীরা ঘাস-পাতা খাওয়াচ্ছেন। পাশে ছোট খাঁচায় রাখা খরগোশ। তা দেখে উসখুস করেন কাজমি। মাইফেলে এ ক্যাটাগরির প্রাণী অপ্রত্যাশিত। অভ্যাগত সমঝদারেরা তা দেখে রীতিমতো ঘাঁ খেয়ে যাচ্ছেন। এনারা স্পষ্টত চিড়িয়াখানায় আসার প্রস্তুতি নিয়ে ঘর থেকে বেরোননি! আদ্যিকালের একটি হামামকে সাফসুতরো করে তাতে জল ভরা হয়েছে। জনা তিনেক যুবতী তার পাড়ে দাঁড়িয়ে পোশাক-আশাক খুলতে খুলতে স্বল্পবসনা হচ্ছেন। জলের যেহেতু বন্দোবস্ত হয়েছে, সুতরাং কারও কারও সিনানের বাসনা হওয়াটা বিচিত্র কিছু না। কিন্তু কবিতা শ্রবণের আগে অবগাহন অত্যাবশ্যক না, তাই দৃশ্যটি ইগনোর করার কোশেশ করি। তবে চোখ ফেরানো মুশকিল হয়। জলে ঝাঁপিয়ে পড়া নারীদের কাব্যে অবদানের চেয়ে প্রধান হয়ে উঠছে তাঁদের শরীর; দেহ থেকে ঝরছে খাঁটি যৌবন, কথা বলার জন্য ভাটি বয়সেও উন্মন হয়ে ওঠে কোনো কোনো মরদের হৃদয়মন।
তুর্কি হামামের দালানটি দাঁড়িয়ে আছে অহরিড হ্রদের পাড়ঘেঁষে। রাতের আঁধার এখনো গাঢ় হয়ে জমেনি। তাই তীরের বৃক্ষহীন পাথুরে পাহাড়কে দেখায় নিসর্গের নির্মম বিস্ময়ের মতো। কবিতার মূল মজমার মঞ্চ তৈরি হয়েছে সরোবরের জল ছুঁয়ে। তার প্রেক্ষাপটে ল্যান্ডস্কেপ-আর্টিস্টের তুলির আঁকিবুঁকি হয়ে ভাসছে কটি পালতোলা বোট। সাইপ্রেসগাছের তলায় সাজপাড় করে তলোয়ার ও রণশিঙা হাতে দাঁড়িয়ে আছে মুখে মেকআপ মাখা নট-নটিরা। যেন ড্রামে চাঁটি পড়লেই তারা তৈরি করবে যুদ্ধের ময়দান। বিক্রি হচ্ছে দেদারছে ওয়াইন, স্পিরিট ও নানা ধরনের অনুপান। কাজমি দেখি গোলাপ কেনার পাঁয়তারা কষছেন। আমাকেও তিনি উৎসাহিত করেন। কিন্তু কেনার বাস্তব সমস্যা হচ্ছে, গোলাপ কাউকে অর্পণ করতে না পারলে, আখেরে পরিতাপ হয়-হাতে পাপড়ি শুকিয়ে গেলে।
এদিকে কাঠ ও গাছের ঝরাপাতা দিয়ে তৈরি হয়েছে একটি মনুমেন্টের নকশা। তাতে উৎকীর্ণ মেসিডোনিয়ার যশস্বী কবি ব্লেইজ কনেস্কির পদাবলির ছত্র—‘আওয়ার ল্যাংগুইজ ইজ আওয়ার হোমল্যান্ড।’ পড়ে ক্রমেই আঁধার ঘনিয়ে আসা সন্ধ্যায় অনুভব করি—কেন তাবৎ দুনিয়ার অভিবাসী কবি ও ভ্রাম্যমাণ সমঝদারেরা স্ট্রুগার কবিতা উৎসবের কদর করে থাকেন। এদিকে সম্মেলনে আমন্ত্রিত কবিদের কবিতার ছত্র লিখে টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে ব্যানার। কোনো কোনো ব্যানারে কবিতা-সন্ধ্যার ব্যাকগ্রাউন্ড বয়ান দেওয়া হয়েছে বিশদভাবে।
স্ট্রুগায় কবিতা উৎসবের সূত্রপাত হয় ১৯৬২ সালে। হাল জামানার কবিরাই এর উদ্যোক্তা। মেসিডোনিয়ার যশস্বী দুই ভ্রাতা-কনস্টানটিন ও ডিমিতার মিলাডিনভের স্মৃতিতে আয়োজিত হতো প্রথমদিককার সাদামাটা সব কবিতার মাইফেল। সাহিত্যে অবদানের জন্য দুই ভ্রাতা বিশদভাবে উল্লেখযোগ্য। কনস্টানটিন মিলাডিনভকে অবশ্য কাব্যে আধুনিকতার প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ হিসেবে গণ্য করা হয়। ১৯৬৬ সাল থেকে এখানকার পোয়েট্রি ইভিনিংস রূপান্তরিত হয় কবিতার আন্তর্জাতিক মাইফেলে। এ অবধি তামাম দুনিয়ার ৯৫টি দেশের চার হাজার কবি এ অনুষ্ঠানে শরিক হয়েছেন। বিশ্বের দিকপাল সব কবি যেমন মাহমুদ দারবিশ, অ্যালেন গিন্সবার্গ বা পাবলো নেরুদা প্রমুখ এখান থেকে পেয়েছেন ‘গোল্ডেন রিথ’ পুরস্কার। ২০০৩ সাল থেকে ইউনেসকোর সহযোগিতায় চালু হয়েছে আরেকটি আন্তর্জাতিক মাপের পুরস্কার ‘দ্য ব্রিজেস অব স্ট্রুগা’।
চলে আসি মঞ্চের শামিয়ানার তলায়। ২৭টি দেশের ৩৫ জন কবি আমন্ত্রিত হয়ে এসেছেন আজকের মাইফেলে। অনুষ্ঠানের পোশাকি নাম হচ্ছে ‘নাইট উইথআউট পাংচুয়েশন’, বা ‘পদাবলির যতিচিহ্নহীন রাত’। কনস্টানটিন মিলাডিনভের ‘তা গা ঝা জুগ’ বা ‘লংগিং ফর সাউথ’ কবিতাটি সমবেতভাবে আবৃত্তি করে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয়। মস্কো নগরে প্রবাসে ছিলেন কবি। স্বদেশ মেসিডোনিয়াকে মিস করতেন প্রবলভাবে। বারবার ফিরে আসতে চাইতেন অহরিড হ্রদের পাড়ে। তাঁর কবিতা শুনতে শুনতে আমি নোট নিই, ‘ইগলের ডানা থাকত যদি আমার/ উড়ে যেতাম স্বদেশে/ আমার চেনা অহরিড হ্রদে অবশেষে/ নেমে আসতাম নিজস্ব সৈকতে/ ঝরছে আপেলের প্রসূন স্ট্রুগার বিজন পথে/ উড়ে যেতে যেতে... তাকিয়ে দেখতাম নিচে ফসফরাসের তীরে ইস্তামবুল/ এ দূর বিদেশে আমি আজ গৃহহারা উন্মুল।’ ‘তা গা ঝা জুগ’ শেষ হতে না হতেই মঞ্চে অবতীর্ণ হন চীনা কবি বেই লিং (১৯৫৯)। কপালে ব্যানডেনা বেঁধেছেন বলে তাঁকে গেরিলা কমান্ডারের মতো দৃঢ়প্রতিজ্ঞ দেখায়। বেইজিংয়ের কুয়াশাচ্ছন্ন কবিগোষ্ঠীর সবচেয়ে নামজাদা এ তরুণ শামিল ছিলেন ১৯৮৯ সালে তিয়েনানমেন স্কয়ারের বিদ্রোহে। রাজনৈতিক অ্যাক্টিভিজমের খতরাস্বরূপ বহিষ্কৃত হন তাঁর স্বদেশ থেকে। ২০০০ সালে চীনে আবার ফিরে গেলে তাঁকে কারারুদ্ধ করা হয় লিটারারি আন্ডারগ্রাউন্ডে শামিল থাকার কারণে। আন্তর্জাতিক মহলের চাপে অবশেষে ২৪ হাজার ডলার জরিমানা দিয়ে তিনি নিষ্কৃতি পান। সে থেকে ভ্রাম্যমাণ তিনি, থিতু হননি আজ অবধি কোনো দেশে।
প্রচুর হাততালি পড়ে লোহিত বর্ণের ককটেল স্কার্ট পরা আলবেনিয়ার কবি মিমোজা সালি পডিয়ামে এলে। শ্রোতাদের দিকে কোনো মনোযোগ না দিয়ে স্ক্রিপ্ট হাতে খুব কনসেনট্রেশন দিয়ে তিনি কবিতা পাঠ করেন। তাঁর কণ্ঠস্বরের গভীরতায় মনে হয় যেন এক পূজারিণী স্তোত্র পাঠ করে দেবতার সান্নিধ্যে অর্পণ করছেন অর্ঘ। ‘কেয়া বাৎ’ বলে কোথা থেকে কাজমির জড়ানো স্বর ভেসে আসে। আমার পাশে বসা এক সমঝদার ফিসফিসিয়ে বলেন, ‘দ্য রেড ডল ইজ গিভিং ইট অল টু নাইট।’ তাঁর পদাবলির দুটি ছত্র আমি ধারণ করি, ‘অজস্র আয়নায় সৃষ্ট জীবনের সারাৎসার/ স্বতন্ত্র সব আরশিতে প্রতিফলিত হয় আত্মা আমার।’
কবিরা প্রত্যেকেই পাঠ করছেন তাঁদের মাতৃভাষায়। উপস্থাপিত পদাবলির সারাৎসার বোঝার জন্য আচার্য সুনীতি চট্টোপাধ্যায়ের বহু ভাষায় ব্যুৎপত্তিসম্পন্ন সাকরেদ হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। উদ্যোক্তারা প্রতিটি কবিতার ইংরেজি, ফরাসি ও স্প্যানিশ তরজমাওয়ালা লিফলেট সরবরাহ করছেন। তাতে চোখ রাখলেই হয়। এবং তা বোধগম্য না হলে স্রেফ খামোস মেরে থাকলেও কাজ চলে। পরপর অনেকগুলো কবিতা খেয়াল করে শোনা একসময় আমার বিড়ম্বনা মনে হয়। তাই ঝিম ধরে বসে থাকি। বেশ রাত করে মঞ্চে আসেন মেসিডোনিয়ার কবি ভ্লাদিমির মারতিনোভস্কি। গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় তিনি ফারের লোমশ জ্যাকেট পরে আছেন। উষ্কখুষ্ক চুলে তাঁকে কেমন জানি মেছো ভালুকের মতো ক্লামজি দেখায়। তবে কবিতা পড়েন তিনি বেশ দরদ দিয়ে, থেমে থেমে, ভাঙা গলায় শামিয়ানার নকশায় চোখ রেখে। ধ্রুপদী ধাঁচের নিসর্গ বিষয়ক কবিতা। তাঁর উচ্চারিত কথাগুলো এক ঝাঁক পরিযায়ী মরালের ডানায় যেন আকাশকে রূপান্তরিত করে শিল্পীর ক্যানভাসে।
বিরতিতে ঘোষিত হয় ‘ব্রিজেস অব স্ট্রুগা অ্যাওয়ার্ডে’ পুরস্কৃত পতুর্গিজ কবি ভাসকো গ্রাসা মৌরা ও ফিলিপাইনের কবি ১৯ বছর বয়স্ক এঞ্জেলো সোয়ারেজের নাম। রাত বাড়ছে। আজ সন্ধ্যায় দানাপানি কাবাব কিংবা শরাব কিছুই পেটে পড়েনি। তাই খানাপিনার তালাশে চলে আসি তুর্কি হামামের প্রাঙ্গণে। কুঁজো হয়ে হাঁটছেন এক কবিযশপ্রার্থী। এ তরুণের পিট জুড়ে ব্যাকপ্যাকের জায়গায় বেল্ট দিয়ে বাঁধা ম্যামথ সাইজের একটি বিশাল তালা। আধো অন্ধকারে ঝরাপাতা মাড়িয়ে ছরছর করে হেঁটে যায় মোমবাতি! ল্যাম্পপোস্টের নিচে যেতেই দেখি—ধাড়ি একটি কচ্ছপ পিঠে মোমের জ্বলন্ত শিখা নিয়ে হাঁটছে। তালাওয়ালা ব্যাখ্যা করে বলেন, এ বছর মৃত্যু হয়েছে যেসব কবির, তাঁদের পদাবলির চিরায়ত আয়ু কামনা করে কচ্ছপের পিঠে জ্বালানো হয়েছে নশ্বর চেরাগ। কথা বলতে বলতে ক্লান্তিতে তাঁর দেহ ন্যুব্জ হয়ে এলে তরুণ বসে পড়েন পাথরের বেঞ্চে। তাঁর চোখে ভাঙা থার্মোমিটারের পারদের মতো চকচক করে দুই ফোঁটা অশ্রু। আওয়ারা একটি খরগোশ লম্ফ দিয়ে উঠে বসে তাঁর কোলে। পশমে হাত বোলাতে বোলাতে তিনি চোখ মুদেন। খরগোশটি এ প্রজন্মের অস্থিরতার প্রতীক হয়ে লম্ফ দিয়ে বেড়াচ্ছে কি না ঠিক বুঝতে পারি না। তবে আন্দাজ করি, তালাওয়ালা তরুণ হয়তো প্রতীকবাদী কবি গোষ্ঠীর কোনো চাঁই।
ওকগাছের ঝুপসি ছায়ায় গোল হয়ে বসেছেন জনা পাঁচেক তরুণ-তরুণী। তাদের পাশে রাখা গিটার ও ব্যাকপ্যাক। কার্ডবোর্ডে লেখা, ‘হোমলেস পোয়েটস’। মনে হয়, এরা পরস্পরের দিকে ঝঁুকে ছোট্ট একটি পুতুল নিয়ে খেলছেন। একটু খেয়াল করতেই দেখি—না, পুতুল নয়, এদের হাতে হাতে ঘুরছে নারীমূর্তির মতো দেখতে একটি পাইপ। তা থেকে উড়ছে আবগারি ধোঁয়া। স্মোক করতে করতে খিলখিল হেসে এঁরা প্রলাপ বকছেন, সত্যের অপলাপ হয় আমি এ আলামতের সঙ্গে অপরিচিত লিখলে। ট্র্যাংকের তলায় রাখা নেপথলিন মাখা আলোয়ানের মতো আমার ভেতরবাগে সুরভিত হয় স্মৃতি। ঠিক এদের বয়সে, বছর পঁয়ত্রিশ আগে, আমি একবার টাঙ্গাইলের কবি সম্মেলনে যাই। সে আমলে গৃহহীন ছিলাম আমি, তা ভাবতেই তৈরি হয় ইমোশন। আমি নোটবুকে আবেগকে শব্দে ক্যাপচার করি। জুনিপোকা ধরে কাচের বয়ামে রাখার মতো দ্যুতিময় কিছু শব্দ জ্বলে-নেভে। তাঁদের বৃত্তে শামিল হাওয়ার জন্য তীব্র বাসনাও হয়। কিন্তু বয়সের ব্যবধানের জন্য হিম্মত করে উঠতে পারি না।

বিজ্ঞাপন
অমর একুশে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন