default-image

আমি মোটেও বিস্মিত হইনি। প্রত্যাশিত ব্যবধানেই জিতেছে ভারত। বিরাট কোহলি, শিখর ধাওয়ান আর সুরেশ রায়না—সবাই দারুণ পারফর্ম করেছে। ভারতের বোলিংটাকে এদিন খুব ধারালো মনে হয়েছে। সব মিলিয়ে শুরুটা দারুণ হলো ধোনির দলের চ্যাম্পিয়নদের শুরুটা ঠিক যেমন হওয়ার দরকার ছিল আর কি!
পরিবেশটাও কাল দারুণ উৎসবমুখর ছিল। অতীতে অ্যাডিলেড দুর্দান্ত কিছু ম্যাচ উপহার দিয়েছে। দুই দলের সমর্থকেরাই তাই এদিনও জমজমাট এক ম্যাচের প্রত্যাশা নিয়ে এসেছিল। সেটা হয়নি, কারণ ভারত সব বিভাগেই প্রতিপক্ষের চেয়ে অনেক শক্তিশালী ছিল। এমন হতশ্রী পাকিস্তান দল কবে দেখেছি মনে করতে পারছি না। আমার চোখে পড়েনি। একেবারেই অসম লড়াই।
মহেন্দ্র সিং ধোনির খুঁত বের করা মুশকিল। টস জিতেছে, ব্যাট করার সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারপর প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। সমর্থকদের দারুণ এক বার্তা দিয়েই বিশ্বকাপ শুরু করেছে তার দল। শিরোপা ধরে রাখার সব সামর্থ্যই আছে দলটির। টিম ম্যানেজমেন্ট নিশ্চয়ই সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে খুব খুশি। তবে আমার নজর কেড়েছে বিশ্বকাপ অভিষেকে মোহাম্মদ শামির পারফরম্যান্স। আমার বিশ্বাস, বড় মঞ্চে ভারতের মূল বোলার হয়ে উঠতে পারে সে। ওর লাইন-লেংথ দারুণ ছিল। উইকেট নেওয়ার দিকে বেশি মনোযোগী মনে হয়েছে তাকে। এটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আপনি যত বেশি উইকেট নেবেন, প্রতিপক্ষ তত ব্যাকফুটে যাবে। ভারতের এমন উইকেটশিকারি বোলারই দরকার। মোহাম্মদ শামি একজন, অন্যজন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। অশ্বিন যদি ৭০ রানের বিনিময়েও ৩-৪টি উইকেট নিতে পারে, আমি তাকে দলে রাখব।
কোহলি দুর্দান্ত খেলেছে। এখনকার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সে ব্যাটিং সুপারম্যান। টাইমিং, শট প্লেসমেন্ট সবকিছু মিলিয়ে সে প্রতিপক্ষ অধিনায়কের কাজটা খুব কঠিন করে দেয়। ব্যাট হাতে যখন নামছিল তখনই তাকে দারুণ আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছে। সে দারুণ কিছু করবে সেটা আমি তখনই বুঝেছিলাম। আমি চেয়েছিলাম সে শেষ পর্যন্ত থাকুক যাতে ভারতের স্কোর ৩৩০-এর মতো হয়।
৩০১ রানের লক্ষ্য কঠিন, কিন্তু অসম্ভব কিছু নয়। কিন্তু পাকিস্তান কী খেলল! ওরা ইউনিস খানকে ওপেন করতে পাঠাল, যেটি একবারেই ভুল সিদ্ধান্ত। ওপেন করার চেয়ে মিডল অর্ডারেই ইউনিসকে পাকিস্তানের বেশি দরকার ছিল। শুধু আহমেদ শেহজাদ আর মিসবাহ-উল-হক কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছে। কিন্তু ভারত তাদের আঁটসাঁট বোলিং দিয়ে সব সময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ রেখেছে। শেহজাদ খুবই সম্ভাবনাময়, সে যদি আরেকটু পরিণত হতো তাহলে ভারতের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারত। ম্যাচ যতই এগিয়েছে ভারতের ফিল্ডিংও দুর্দান্ত হয়েছে। এটা ভারতের বড় দুশ্চিন্তার জায়গা ছিল, কিন্তু আমাকে বলতেই হবে, কাল ভারতের ফিল্ডিংও অসাধারণ ছিল।
ধোনি পুরোটা সময় আক্রমণাত্মক অধিনায়কত্ব করে গেছে এটা দেখতেও ভালো লেগেছে। সে সব সময় চেয়েছে উইকেট তুলে নিতে এবং সে জন্য কৌশলও বদল করেছে। তবে একতরফা ম্যাচ হওয়ায় সমর্থকদের জমজমাট ম্যাচ দেখার প্রত্যাশাটা পূরণ হয়নি।
বিশ্বকাপের প্রথম দুই দিনেই ফেবারিট চার দল ভারত, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে দুর্দান্ত ফর্মে দেখা গেছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ ও ত্রিদেশীয় সিরিজটা ভালো কাটেনি ভারতের। কিন্তু কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ফলটা এ ম্যাচে পেয়েছে ভারতীয় দল।
সবশেষে একটা কথা বলব, ধারাভাষ্যকেন্দ্রে অমিতাভ বচ্চনের মতো একজনকে পেয়ে খুব ভালো লেগেছে আমার। তাঁর মতো এক কিংবদন্তির সঙ্গে ধারাভাষ্য দেওয়াটা আমার জন্য বিশাল সম্মানের।

বিজ্ঞাপন
খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন