বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অতীতে অনেকে তদবির করে এই পুরস্কার পেয়েছেন বলে ক্রীড়ামহলে প্রচার আছে। এবারও তদবিরের জোরে পুরস্কার পেয়েছেন অনেকে। বঞ্চিত হয়েছেন অপেক্ষাকৃত বেশি যোগ্যরা। হকিতে যেমন তারকা খেলোয়াড় রফিকুল ইসলাম কামাল বা তাঁর সমকালীন আবদুল সাদেকরা পুরস্কার পাননি। চাইলে এমন নাম আনা যাবে আরও। তুলনায় তাঁদের চেয়ে জাতীয় দলে কম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়েরা পুরস্কার পাচ্ছেন।

৮ বছরের পুরস্কারের জন্য আবেদন করেছিলেন ৩৪০ জন। কিন্তু পুরস্কার বা স্বীকৃতি আবেদন করে কেন নিতে হবে? এই বৃত্ত কি ভাঙা যায় না? আজ সংবাদ সম্মেলনে উঠেছিল এই প্রশ্ন। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান বলেন, ‘এভাবে আবেদন করে নেওয়া অসম্মানের। কিন্তু কিছু করার নেই। আমাদের প্রতিটি পুরস্কার আবেদন করেই নিতে হয়। এমনকি দেশের সর্বোচ্চ পুরস্কার স্বাধীনতা পুরস্কারও আবেদন করে নিতে হয়।’

default-image

তবে ভবিষ্যতে আবেদনের ব্যাপারটা তুলে নেওয়া যায় কি না, সেটি দেখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘নিয়মটা ক্যাবিনেটের তৈরি করা। কাজেই ক্যাবিনেট থেকেই সিদ্ধান্ত আসতে হবে। কারণ, ক্যাবিনেট থেকেই এটি পাস হয়। তাই ভবিষ্যতে আমি মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব করব, আবেদনের ব্যাপারটা প্রত্যাহার করতে।’

মন্ত্রী যোগ করেন, ‘অনেকে আবেদন করতে চান না, আমি ব্যক্তিগতভাবেও কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা বলেছেন, আবেদন করে আমরা পুরস্কার নিতে চাই না। ফলে আমাদের হাত-পা বাঁধা। আবেদন ছাড়া এই পুরস্কার দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

এভাবে আবেদন করে নেওয়া অসম্মানের। কিন্তু কিছু করার নেই। আমাদের প্রতিটি পুরস্কার আবেদন করেই নিতে হয়। এমনকি দেশের সর্বোচ্চ পুরস্কার স্বাধীনতা পুরস্কারও আবেদন করে নিতে হয়
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান

প্রশ্ন উঠেছে, ৮৫ জনের মধ্যে কীভাবে অপেক্ষাকৃত পেছনের সারির খেলোয়াড় পুরস্কার পাচ্ছেন? মন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার দেওয়ার জন্য তিনটি কমিটি আছে। প্রাথমিকভাবে আসা আবেদনপত্র যাচাই–বাছাই করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে আরেকটি কমিটির কাছে যায়। এভাবে তিনবার যাচাই–বাছাইয়ের পর আমাদের কাছে আসে। কমিটিতে আছেন পাপন ভাই, হারুন ভাই, সালাউদ্দিন সাহেবরা। তা ছাড়া এই ৮ বছরের মধ্যে মাত্র ২ বছরের পুরস্কার আমার সময়ের (২০১৯-২০)। এর আগের সরকারের সময়ের পুরস্কার এগুলো। ফলে তালিকাটা আমার করা নয়। পুরস্কারের জন্য আমরা তালিকা চাই ফেডারেশনের কাছে। তারা নাম পাঠানোর ক্ষেত্রে ভুল করতে পারে।’

তালিকার ৬৩ নম্বর নামটা দেখে অনেকে অবাক। ২০১৫ সালের খেলোয়াড় বিভাগে (ভারোত্তোলন, কারাতে ও তায়কোয়ান্দো) জেসমিন আক্তারকে মনোনীত করা হয়েছে। তাঁর ব্যাপারে ভারোত্তোলন ফেডারেশনের সহসভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘জেসমিন ফেডারেশনের মাধ্যমে আবেদন করেনি। সে দু–তিনবার জাতীয় প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্জ পেয়েছে। তবে ওর চেয়ে অনেক বেশি পদক ও জাতীয় পর্যায়ে অবদান রাখে খেলোয়াড় আছে। মোল্লা সাবিরা সুলতানা, ফাহিমা আক্তার, ফিরোজা, হামিদুল, একরামুলের মতো খেলোয়াড়েরা পুরস্কার পায়নি। এটা দুঃখজনক।’

সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক ভারোত্তোলনে কাজল দত্তের পুরস্কারপ্রাপ্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। কাজল ভুল তথ্য দিয়ে পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন, তিনি বিষয়টি দেখবেন। জেসমিনের ব্যাপারে মন্ত্রীর ভাষ্য, ‘এ বছর স্বাধীনতা পুরস্কার যখন দেওয়া হয়, তখন বিতর্ক হয়। একজনের নাম বাদ দেওয়া হয়। যদি কোনো নাম নিয়ে বিতর্ক থাকে, যাচাই–বাছাইয়ে সত্য হলে সেটি প্রত্যাহার করব।’

তালিকায় বর্তমান সময়ের কোনো খেলোয়াড় নেই এই তালিকায়। মন্ত্রী ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘অতীতে সাকিবকে যখন দেওয়া হয় প্রশ্ন ওঠে, এখনো খেলছে, এখনি কেন দেওয়া হচ্ছে। এসব কারণে বর্তমান খেলোয়াড়দের বাইরে রাখা হয়েছে।’

৮ বছরের পুরস্কারের জন্য আবেদন করেছিলেন ৩৪০ জন। কিন্তু পুরস্কার বা স্বীকৃতি আবেদন করে কেন নিতে হবে? এই বৃত্ত কি ভাঙা যায় না? আজ সংবাদ সম্মেলনে উঠেছিল এই প্রশ্ন

এবার অনেক বেশি সংগঠককে পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। মনোনীতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম আফজালুর রহমান সিনহা, নাজমুল আবেদিন ফাহিম (ক্রিকেট কোচও তিনি), তানভীর মাজহার তান্না, শেখ আবদুস সালাম, শামসুল বারী, এনায়েত হোসেন সিরাজ, আহমেদ সাজ্জাদুল আলম, সৈয়দ শাহেদ রেজা, ফজলুর রহমান, এ কে সরকার, শেখ বশির আহমেদ, মোজাফফর হোসেন পল্টু, উইং কমান্ডার মহিউদ্দিন প্রমুখ।

খেলোয়াড় ও সংগঠক হিসেবে মরণোত্তর পুরস্কার পাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর মেজ ছেলে শহীদ লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল। তাঁর পুরস্কার নেবেন শেখ জুয়েল।

default-image

ক্রিকেটে পুরস্কার পাচ্ছেন দীপু রায় চৌধুরী, জালাল ইউনুস, হাবিবুল বাশার, খালেদ মাহমুদ প্রমুখ। ফুটবলার হিসেবে খন্দকার রকিবুল ইসলাম, ইমতিয়াজ সুলতান জনি, ইলিয়াস হোসেন, আরিফ খান জয়, বরুণ বিকাশ দেওয়ান।

অ্যাথলেট হিসেবে সাবেক দ্রুততম মানবী কামরুন নেছা লিপি, সুলতানা পারভীন লাভলী, মিউরেল গোমেজ, ফারহাদ জেসমিন লিটি, জ্যোৎস্না আফরোজ, রহিমা খান যুথি। হকিতে আবদুর রাজ্জাক (সোনা মিয়া), খাজা রহমতউল্লাহ, মাহবুব হারুন, মাহবুবুল এহছান রানা, আলমগীর আলম, টুটুল কুমার নাগ। টিটিতে মনিরা মোরশেদ খান, স্কোয়াশে ভোলা লাল চৌহান, সাঁতারে মাহফুজা রহমান তানিয়া। ফুটবল রেফারি তৈয়ব হাসান, জেড আলম প্রমুখ। এবার নতুন হিসেবে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীদের পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। পুরস্কারের অঙ্ক বাড়িয়ে করা হয়েছে এক লাখ টাকা।

খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন