বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

৭৩, ১৩২*, ৭১, ৮১—নুরুলের স্বপ্নের ফর্মটা চলছেই। এক ম্যাচ আগেই রূপগঞ্জ টাইগার্সের বিপক্ষে ২৪৭ রান তাড়ায় ৮১ রানে ৫ উইকেট হারিয়েছিল শেখ জামাল; ১১৮ বলে ১৩২ রানের অপরাজিত ইনিংসে জয় এনে দিয়েছিলেন নুরুল। আজ তারা ৫ উইকেট হারাল ৭৮ রানে, ১৫০ রানে ৬ উইকেট। তবে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে নুরুলের ৮২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দারুণ জয়ই পেয়েছে তারা।

রান তাড়ায় সৈকত আলী, সাইফ হাসান, ইমরুল কায়েস ও মুশফিকুর রহিম—চারজন ১৫ পেরোলেও ১৭-এর বেশি করতে পারেননি কেউ। দায়িত্বটা তাই আবারও নিতে হয় নুরুলকেই।

টসে জিতে ব্যাটিং নেওয়া আবাহনী ৩৫ রানেই হারায় ৩ উইকেট। মোহাম্মদ নাঈম করেন ১৬ রান, লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন ছুঁতে পারেননি দুই অঙ্ক। আফিফ হোসেন ও তৌহিদ হৃদয়ের চতুর্থ উইকেট জুটিতে ওঠে ৫০ রান। ২৯ রান করে ফেরেন আফিফ, ইতিবাচক শুরু করলেও বেশিক্ষণ টেকেননি মোসাদ্দেক হোসেনও।

default-image

জাকের আলীকে নিয়ে এরপর আবাহনীকে টানেন তৌহিদ হৃদয়। দুজনের ৩৯ রানের জুটি ভাঙে ৫৩ রান করা হৃদয়ের উইকেটে, সানজামুলের বলে শর্ট কাভারে দারুণ ক্যাচ নেন ইমরুল। সাইফউদ্দিন শুরুতে ধুঁকছিলেন, প্রথম ১৯ বলে করেছিলেন ৬ রান। সানজামুলকে কাউ কর্নার দিয়ে মারা ছয়ে খোলস ছেড়ে বের হন, পরের ওভারে পারভেজ রসুলকে মারেন আরেকটি ছয়। এরপর চড়াও হন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী ও সুমন খানের ওপরও।

শেষ ৫ ওভারে আবাহনী তুলেছে ৬১ রান। সাইফ ৩৩ বলে ৪৪ রানের ইনিংসে মারেন ৫টি ছয়। জাকের আলী ৪৭ রানে অপরাজিত থাকেন ৭০ বল খেলে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

আবাহনী লিমিটেড: ৫০ ওভারে ২২৯/৬ (হৃদয় ৫৩, জাকের ৪৭*, সাইফউদ্দিন ৪৪*; জিয়াউর ২/৩৬, সাইফ ১/১৯, রসুল ১/৪০)।

শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব: ৪৭ ওভারে ২৩২/৬ (নুরুল ৮১, জিয়াউর ৩৯, রসুল ৩৩; সাইফউদ্দিন ২/৩৬, তানভীর ১/২৩)।

ফল: শেখ জামাল ৪ উইকেটে জয়ী।

রূপগঞ্জ টাইগার্স-প্রাইম ব্যাংক

তামিম ইকবাল নাকি এনামুল হক—কে আগে শতক পাবেন, একসময় সমীকরণটা ছিল এমন। রূপগঞ্জ টাইগার্সের বিপক্ষে বিকেএসপির ৪ নম্বর মাঠে এমন দাপুটেই ছিল প্রাইম ব্যাংকের পারফরম্যান্স। তামিম ও এনামুলের শতকে রূপগঞ্জের ২২৯ রান ২৬.৪ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়েইই পেরিয়ে গেছে প্রাইম ব্যাংক। ৮৪ বলে ১১২ রানে অপরাজিত ছিলেন এনামুল, তামিম ১০৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন ৮১ বলে।

তামিম অবশ্য এনামুলের চেয়ে বেশ খানিকটা পিছিয়েই ছিলেন শুরুতে। এনামুল যখন লিগের ১১তম পঞ্চাশ পেলেন ৩৮ বলে, তামিমের তখন রান ছিল ৩০ বলে ১৯ রান। তবে তামিম অর্ধশতক পান ৫৭ বলেই। সাদ নাসিমের করা ২০তম ওভারে পরপর দুই বলে দুটি ছক্কা মারেন তামিম, স্ট্রাইক রেট ১০০ পেরিয়ে যায় তখন তাঁর।

default-image

এনামুল অবশ্য নিজের গতি ধরে রাখেন ইনিংসজুড়েই। মৌসুমে ৯৩০ রান নিয়ে এ ম্যাচ শুরু করেছিলেন, প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রিমিয়ার লিগের এক মৌসুমে ১ হাজার রান পূর্ণ করেছেন শতকের পথে।

শতকটা অবশ্য আগে পান তামিমই। নাসুম আহমেদকে টানা দুই ছয়ের পথে তিন অঙ্কে পৌঁছান ৭৭ বলে। এনামুল ১০০ পূর্ণ করেন ৮৩ বলে। ফজলে রাব্বীকে টানা দুই ছয়ে ম্যাচ শেষ করেন তিনি।

এর আগে সাদ নাসিমের ৮৫ ও মার্শাল আইয়ুবের ৫৮ রানে ভর করে রূপগঞ্জ টাইগার্স তোলে ২২৯ রান। চতুর্থ উইকেটে এ দুজনের জুটিতে ওঠে ১১০ রান। করিম জানাত ও রুবেল হোসেন—প্রাইম ব্যাংকের দুই পেসারই নেন ৪টি করে উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

রূপগঞ্জ টাইগার্স-প্রাইম ব্যাংক, বিকেএসপি-৪

রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাব: ৪৯.৪ ওভারে ২২৯ (নাসিম ৮৫, মার্শাল ৫৮, জাকির ২৫; জানাত ৪/৪০, রুবেল ৪/৪৫, নাসির ১/২৭)

প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব: ২৬.৪ ওভারে ২৩৪/০ (এনামুল ১১২*, তামিম ১০৯*)

ফল: প্রাইম ব্যাংক ১০ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: এনামুল হক

রূপগঞ্জ-গাজী গ্রুপ

শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে এ ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই, এমন সমীকরণে নিজেদের দাপুটে পারফরম্যান্সই বের করে আনল লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। সাব্বির রহমানের ৮৩ বলে ৯০ রানের ইনিংসের সঙ্গে সাকিব আল হাসানের ঝোড়ো ফিফটিতে ২৯৩ রান তোলা রূপগঞ্জ গাজী গ্রুপকে আটকে দিয়েছে ৯৭ রানেই।

টসে জিতে ব্যাটিং নেওয়ার পর ইরফান শুক্কুর ও রকিবুল হাসানের উদ্বোধনী জুটিতেই ৭১ রান তোলে রূপগঞ্জ, তৃতীয় উইকেটে সাব্বির ও নাঈম ইসলাম যোগ করেন ১০৩ রান। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা নাঈম আজ থেমেছেন অর্ধশতকের ৮ রান আগেই।

এরপরই শুরু হয় সাকিব-ঝড়। সাব্বির রহমানের সঙ্গে তাঁর জুটিতে ওঠে ৮০ রান, মাত্র ৪৪ বলেই। ২৬ বলে ৫৯ রানের ইনিংসে সাকিব ৬টি চারের সঙ্গে মারেন ৩টি ছয়। ১২ ওভার বাকি থাকতে রূপগঞ্জের রান ছিল ৩ উইকেটে ১৮৬। মুখোমুখি পঞ্চম বলে প্রথম বাউন্ডারিটি মারেন সাকিব। রকিবুল আতিকের করা ৪০তম ওভারের শেষ ৪ বলে সাকিবের স্কোরিং শট ছিল এমন—ছয়, চার, ছয়, চার।

১৫ বলেই ৪০ রান হয়ে যায় সাকিবের। শেষ পর্যন্ত লিস্ট ‘এ’-তে বাংলাদেশের দ্রুততম ফিফটির (১৮ বলে) রেকর্ডটা ভাঙতে পারেননি, তাঁর লেগেছে ২১ বল। কাছাকাছি গিয়ে শতক পাননি সাব্বিরও।

রান তাড়ায় চতুর্থ ওভারে প্রথম উইকেট হারায় গাজী গ্রুপ, নবম ওভারে হারায় ষষ্ঠটি। সপ্তম উইকেটে ৫৬ রানের জুটি গড়েন মেহরব হাসান ও হুসনা হাবিব। অবশ্য ৭ রানের ব্যবধানে শেষ ৪ উইকেট হারিয়ে ৯৭ রানেই থামতে হয় তাদের। চিরাগ জানি ৫ উইকেট নেন মাত্র ১৫ রানে।

তবে শেখ জামালের জয়ে এমন দাপুটে জয়ও বৃথাই গেছে রূপগঞ্জের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

রূপগঞ্জ-গাজী গ্রুপ, বিকেএসপি-৩

লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ: ৫০ ওভারে ২৯৩/৯ (সাব্বির ৯০, সাকিব ৫৯, রকিবুল ৪৭, নাঈম ৪২; মরাজ ২/৩৮, রকিবুল ২/৫১, খালেদ ২/৫৬)।

গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স: ২৯.২ ওভারে ৯৭ (হুসনা ৩২, মেহরব ২৭; জানি ৫/১৫, নাঈম ২/৪, আল-আমিন ২/২৮)

ফল: রূপগঞ্জ ১৯৬ রানে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: সাব্বির রহমান।

মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন