default-image

২০১৫-১৬ মৌসুম থেকে আবাহনী লিমিটেডের ঘরের ছেলে হয়ে উঠেছিলেন সানডে সিজোবা। এর মধ্যে তিন মৌসুমের আকাশি-নীলের সেরা গোলদাতা এই নাইজেরিয়ার স্ট্রাইকার। চলতি মৌসুমে সানডেকে বাদ দিলেও লিগের দ্বিতীয় পর্বে আবার তাঁকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গত সোমবার ক্লাব ভবনে বসে আবাহনীতে ফিরে আসার পূর্বাপর বললেন সানডে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ চাইলে এ দেশের নাগরিকত্ব নিতে চান বলেও জানালেন—

মৌসুমের শুরুতে বাদ পড়ে ভেবেছিলেন লিগের দ্বিতীয় পর্বে আবার আবাহনীতেই ফিরবেন?

সানডে সিজোবা: করোনায় বাতিল হওয়া লিগে ৬ ম্যাচে ৫ গোল করেছিলাম। তাই জানতাম, আবাহনী আমাকে ডাকবে। সেই দিনের অপেক্ষায় ছিলাম। সৃষ্টিকর্তা চেয়েছিলেন বলেই আবার ফিরে এসেছি। গত বছর লকডাউন খুললে দেশে ফিরে যাই। নতুন মৌসুম শুরুর আগে আবাহনীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা আমাকে অপেক্ষা করতে বলেছিল। কিন্তু পরে ‘না’ বলে দেয়। আমি খুবই অবাক হয়েছিলাম।

বিজ্ঞাপন

আবাহনী নাকি আপনাকে দলবদলের শেষ দিনে ‘না’ বলেছিল...

হ্যাঁ, শেষ দিনে আমাকে বলল, ‘ইচ্ছা করলে তুমি অন্য দলে খেলতে পারো।’ এমনটা কেন করেছিল, জানি না। হয়তো আবাহনী চায়নি বাংলাদেশের অন্য কোনো বড় দলে খেলি। আমি কাউকে দোষ দেব না। আসলে কে কাকে নেবে, এটা তাদের নিজস্ব পছন্দ।

সর্বশেষ বাতিল হওয়া মৌসুমে আপনি আবাহনীর সেরা গোলদাতা হয়েও কেন বাদ পড়েছিলেন, জিজ্ঞাসা করেননি?

সানডে: না, সবারই নিজস্ব পছন্দ আছে। যেমন আমারও আছে। লিগের দ্বিতীয় পর্বে আমার সঙ্গে বেশ কয়েকটি দল যোগাযোগ করলেও আমি আবাহনীতেই এসেছি। আমাকে দেখে সতীর্থরা খুশি হয়েছে। আমিও খুশি।

লিগের প্রথম পর্বে ৭ গোল করা ব্রাজিলের ফ্রান্সিসকো তোরেসকে বিদায় করে আপনাকে ফিরিয়ে এনেছে আবাহনী। কোনো চ্যালেঞ্জ অনুভব করছেন?

সানডে: আমি কী করতে পারি, আমি জানি। আমার কাজ গোল করা। এতটুকু বলতে পারি, দুটো সুযোগ পেলে অন্তত একটি গোল করব। বিশ্বাস আছে, ৭টির বেশি গোল হবে। ১২ ম্যাচে ১০, ১১, ১২, ১৩টা গোলও করতে পারি।

এএফসি কাপের প্লে-অফ পিছিয়ে যাওয়ায় আপনার জন্য ভালোই হলো...

সানডে: (হাসি) আমি ধরে নিয়েছিলাম, ১১ এপ্রিল ঢাকা পৌঁছে ১৪ তারিখেই খেলতে হবে। খেলা পিছিয়ে যাওয়াতে আমার জন্য খুবই ভালো হয়েছে। ফিটনেস বাড়িয়ে নিতে পারছি। সঙ্গে দলীয় সমন্বয়ও তৈরি হচ্ছে।

default-image

আবাহনী দলটাকে কেমন দেখছেন?

সানডে: ফিটনেসে ভালোই মনে হচ্ছে। দুজন তরুণ দীপক রায় ও মোহাম্মদ হৃদয় চোখ কাড়ছে অনুশীলনে। এএফসি কাপে ওদের খেলার সম্ভাবনা দেখছি।

অনুশীলন দেখে মনে হলো, ব্রাজিলের রাফায়েল আগুস্তোর সঙ্গে দ্রুতই আপনার ভালো বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে....

সানডে: রাফায়েল খুবই ভালো মিডফিল্ডার। ওর পা থেকে বল কাড়া কঠিন। ফরোয়ার্ড হিসেবে আপনি ঠিক জায়গায় গেলে সেখানে ও বল দিতে পারবেই। ওকে পেয়ে ভালো হয়েছে। বেলফোর্ট অনেক বল তৈরি করে দিতে পারে। বেলফোর্টের সঙ্গে খেলতে আমার ভালো লাগে।

বিজ্ঞাপন

জানেন তো, নাইজেরিয়ায় জন্ম নেওয়া এলিটা কিংসলি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পেয়েছেন?

সানডে: ফেসবুকে দেখেছি। ওর পরিবার বাংলাদেশি। তাই ওর জন্য ব্যাপারটা খুব ভালো হয়েছে। এটা বাংলাদেশ জাতীয় দলের জন্যও ভালো। ওকে পেলে জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড লাইন শক্তিশালী হবে। মানুষ হিসেবেও এলিটা ভালো।

কিংসলির মতো আপনিও ২০১১ সালে বাংলাদেশে এসেছেন। ২০১৪ সালে ভারতের চার্চিল ব্রাদার্স বাদ দিলে একটানা বাংলাদেশেই খেলেছেন। কখনো কি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ জন্মায়নি আপনার?

সানডে: বিষয়টি অনেকবারই ভেবেছি। দেখুন, এলিটা পারিবারিক কারণে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নিয়েছে। তবে আমার ব্যাপারটা ভিন্ন। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন চাইলে এবং জাতীয় দলে খেলার সুযোগ দিলে আমিও বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নিতে প্রস্তুত। জানি এ জন্য নাইজেরিয়ার নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে হবে। সেটা করতেও আমি দ্বিধা করব না। আমি প্রায় ১০ বছর ধরে বাংলাদেশে থাকছি। আমার স্ত্রী ও ছেলে এখানেই থাকতে পছন্দ করে।

খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন