প্রথম জবাবটা ইমাম দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে। প্রায় আড়াই বছর পর টেস্ট দলে ফেরা উদ্‌যাপন করলেন সম্ভাব্য সেরা উপায়ে—রাওয়ালপিন্ডিতে প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসেই তাঁর ব্যাটে শতক! প্রথম ইনিংসে ১৫৭ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ১১১। করাচিতে দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানকে দারুণ ঢংয়ে ম্যাচ ড্র করানোর কৃতিত্বটা বাবর-রিজওয়ানদের, ইমাম সে টেস্টে কিছুই করতে পারেননি। কিন্তু নিজ জন্মভূমি লাহোরে তৃতীয় টেস্টে দল হেরে গেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৭০ রান।

সংস্করণ বদলে ওয়ানডে সিরিজ এল, ইমামের প্রিয় সংস্করণই বলা যায়। তা-ও আবার সিরিজের প্রথম ওয়ানডের মতো দ্বিতীয় ওয়ানডে হচ্ছে ইমামের জন্মস্থান লাহোরেই! ফল? প্রথম ম্যাচে ১০৩ রানের পর দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও শতক দেখে ফেলেছে ইমামের ব্যাট। ১০৬ রানে যখন আউট হচ্ছেন, ৩৪৯ রানের পাহাড় টপকে যাওয়ার লক্ষ্যে নামা পাকিস্তানের জয়ের স্বপ্ন জোর পাচ্ছে।

৩৫তম ওভারের প্রথম বলে ইমাম আউট হওয়ার সময় পাকিস্তানের আর ১২০ রান দরকার, তখনো বাকি ৯৫ বল। এই প্রতিবেদন লেখার সময়ে ক্রিজের অন্য প্রান্তে বাবর আজম ছিলেন। এরই মধ্যে অর্ধশতক পেয়ে যাওয়া পাকিস্তান অধিনায়ক ৪৪ বলে ৫৪ রানে অপরাজিত। নেমেছেন রিজওয়ানও।

এই ম্যাচে পাকিস্তানকে জিততে হলে বাবর-রিজওয়ানদের ব্যাটে দারুণ সমাপ্তির দরকার হবে। তবে শুরুর গল্পটা তো সব সময়ই ইমামের কথাই বলবে। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান জিতে গেলে ইমামের একটা জবাবও হয়তো দেওয়া হবে। প্রথম ওয়ানডেতে ৩১৪ রানের লক্ষ্যে নামা পাকিস্তানের হয়ে ইমাম শতক পেলেও যে তাঁকে নিয়ে সমালোচনা কম হয়নি। সেদিন দ্বিতীয় উইকেটে বাবরের সঙ্গে ১৯.৪ ওভারে ৯৬ রানের জুটি গড়েছিলেন ইমাম। যেখানে পাকিস্তানের ওভারপ্রতি ছয়ের বেশি রান দরকার ছিল, সেখানে ইমাম-বাবররা পাঁচেরও নিচে রান নেওয়াতেই যত সমালোচনা।

default-image

অথচ বাবর ৭২ বলে ৫৭ রান করলেও ইমাম সেদিন ১০৩ রান করেছিলেন ৯৬ বলে। বাবর আউট পর বাকিরা যাওয়া-আসার মিছিলে যোগ দিলেও তিনি ছিলেন আরও কিছুক্ষণ। ৩৯তম ওভারে ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার সময় দলের রান ছিল ২০৪।

আজও একই ঢংয়েই ব্যাট করেছেন ইমাম, ১০৬ রান করেছেন ৯৭ বলে। চার আর ছক্কার সংখ্যায়ও কী মিল! সেদিনও চার মেরেছিলেন ৬টি, ছক্কা ৩টি, আজও তা-ই! আজ দ্বিতীয় উইকেটে বাবরের সঙ্গে তাঁর ১১১ রানের জুটি এসেছে ১৫.৪ ওভারে। হয়তো আজ বাবর একটু দ্রুতগতিতে রান করছেন বলেই ইমামের দিকে আঙুল উঠবে না!

টেস্ট আর ওয়ানডে মিলিয়ে এমন একটা সিরিজের পর আঙুল যে উঠছে, সেটিতেই একটু মনঃক্ষুণ্ণ হতে পারেন ইমাম। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই সিরিজের আগে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে যেখানে ৫৯ ম্যাচে তাঁর শতক ছিল ৭টি, এই সিরিজে এখন পর্যন্ত তিন টেস্ট ও দুই ওয়ানডে মিলিয়ে পাঁচ ম্যাচেই শতক ৪টি! সঙ্গে একটা অর্ধশতকও আছে।

ইমাম হয়তো এখন ভাবছেন, আর কীই-বা করার থাকতে পারে তাঁর! আর কত করলে তাঁর জবাব দেওয়ার কাজটা শেষ হবে!

খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন