default-image

বিস্ময় গোপন করলেন না দীনেশ চান্দিমাল। বিশ্বের যেকোনো উইকেটেই টেস্ট ক্রিকেটে অন্তত দুজন পেসার খেলানো উচিত। বাংলাদেশ কেন চট্টগ্রাম টেস্টে মাত্র একজন পেসার নিয়ে নামল, দিন শেষের সংবাদ সম্মেলনেও রহস্য হয়ে থাকল শ্রীলঙ্কার এই ব্যাটসম্যানের কাছে। রহস্য হয়ে থেকেছে আরও অনেকের কাছেই। এক পেসার নিয়ে যে বাংলাদেশ টেস্ট খেলল এই-ই প্রথম!
জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেটে পেস বোলিংয়ের উর্বরতা নেই, আছে শুধু ব্যাটসম্যানদের প্রতি বন্ধুতা। বোলাররা এই ২২ গজ থেকে সামান্য সাহায্যও পেলে টেস্টের তৃতীয়-চতুর্থ দিনে তা পেতে পারেন স্পিনাররা। বাংলাদেশ থিংক ট্যাংক তাই এক পেসার নিয়েই দল নামাল মাঠে। দিন শেষের সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদউল্লাহও বললেন, ‘টিম কম্বিনেশনের কারণে এটা হয়েছে। পেস বোলিংয়ে খুব একটা সুইং হচ্ছিল না, বাউন্সও ছিল না। টিম ম্যানেজমেন্ট হয়তো ভেবেছে একটা বাড়তি স্পিনার খেলালে ভালো হবে।’
উইকেট যে পেস বোলারদের দিকে হাত বাড়াবে না, টেস্টের আগের দিনই বলেছেন প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ। কাল এক পেসার খেলানোর ব্যাখ্যায়ও বললেন, ‘আমাদের কাছে উইকেটটা স্বাভাবিকের চেয়েও ধীরগতির মনে হয়েছে। পেসারদের জন্য কিছু নেই। সাকিব আর সোহাগ গাজীর সঙ্গে তাই ব্যাকআপ স্পিনার বেশি রাখা যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছে।’ ১২ জনের দলে থাকা পেসার রুবেল হোসেনকে বাইরে রেখে সে কারণেই একাদশে থাকলেন মাহমুদউল্লাহ-রাজ্জাক দুজনই।
কিন্তু পেসারদের উইকেট না হওয়ার পরও প্রথম দিনে ১৯ ওভার বল করলেন আল আমিন! উইকেটও পেয়েছেন একটি। ব্যাটিং স্বর্গে সকালের দিকে মাঝেমধ্যেই কোমরসমান বল তুলে অস্বস্তিতে ফেলছিলেন শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যানদের। তখন কি আরেকজন পেসার না খেলানোর আফসোস জাগেনি মনে? ‘দিন শেষে অনেক কিছুই মনে হতে পারে। কিন্তু আমাদের একটা পরিকল্পনা ছিল। আমরা সে অনুযায়ীই দল করেছি’—জানালেন প্রধান নির্বাচক। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের হাতে আর কোনো পেসার না থাকায় বোলিংয়ে বৈচিত্র্য আনতে একটু পরপরই বল হাতে নিতে হয়েছে আল আমিনকে। ১৯ ওভার বল করেছেন মোট পাঁচটা স্পেলে।
কিন্তু এক পেসার খেলালেও এর আগে মাত্র দুটি টেস্ট খেলা আল আমিনই কেন? প্রশ্নটার উত্তর খুঁজতে গেলে সম্পূরক হিসেবে আরেকটা প্রশ্নেরও উত্তর জানতে হয়। প্রথম টেস্টে খুব ভালো বল না করেও ১২ জনের দলে কীভাবে থাকেন রুবেল হোসেন? তাঁর চেয়ে অপেক্ষাকৃত ভালো বল করেও কেন থাকবেন না রবিউল ইসলাম! প্রধান নির্বাচকের ব্যাখ্যা, ‘রুবেল সাইড আর্ম অ্যাকশনে বল করে। উইকেটে বল যেহেতু নিচু হবে, আমাদের মনে হয়েছে হাই আর্ম অ্যাকশনের বোলারের চেয়ে এই উইকেটে সাইড আর্ম বোলারই বেশি কার্যকর হবে।’ সে জন্যই ১২ জনে রুবেল। তবে একাদশে ঢোকার ক্ষেত্রে আল আমিন এগিয়ে থেকেছেন প্রথম টেস্টের ভালো বোলিংয়ের স্বীকৃতি হিসেবে।
কুমার সাঙ্গাকারা আর মাহেলা জয়াবর্ধনের ১৭৮ রানের জুটিটা না হলে প্রথম দিনটা কেবলই বাংলাদেশের হতে পারত। জয়াবর্ধনে ৭২ রান করে ফিরে গেলেও ১৬০ রানে অপরাজিত থেকে তা হতে দেননি বাংলাদেশের বিপক্ষে তৃতীয় ডাবল সেঞ্চুরির অপেক্ষায় থাকা সাঙ্গাকারা। তবে মাহমুদউল্লাহ বলছেন, ‘আশা করি কাল (আজ) হয়তো উইকেটে স্পিন ধরবে। সকালবেলা নতুন বলে স্পিন হয়েছিল। দ্বিতীয় নতুন বলেও কিছু বল ঘুরেছে। কাল (আজ) আমরা শুরুটা ভালো করতে পারব মনে হচ্ছে। সাঙ্গাকারা ভালো খেলছে। ওর উইকেটটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
সাঙ্গাকারা-জয়াবর্ধনের জুটিকে যতটা সম্ভব কম রান দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশ বোলারদের। তবে মুশফিকের দলের কেউ যদি মাঠে দাঁড়িয়েও অবচেতন মনে দুই বন্ধুর ব্যাটিং উপভোগে মজে গিয়ে থাকেন, দোষ দেওয়া যাবে না। টেস্ট ব্যাটিংয়ের এই দুই আদর্শ প্রতিমূর্তির কাছ থেকে যে শেখার আছে অনেক কিছুই! মাহমুদউল্লাহও একমত, ‘ওদের ব্যাটিং বরাবরই আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু। ওরা খুব নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং করে। মাঠে থাকলে দেখি শট খেলা থেকে কীভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করছে।’
প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ দলের ভুলে ভরা ব্যাটিংয়ের ঠিক বিপরীত প্রদর্শনী সাঙ্গাকারা-জয়াবর্ধনের কালকের ব্যাটিং। দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাটিংয়ে এই ‘কোচিং ক্লাস’টা কাজে লাগাবেন তো তামিম-সাকিবরা?

বিজ্ঞাপন
খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন