default-image

আশা করছি, এই বিশ্বকাপে দারুণ উদ্ভাবনী ক্রিকেট দেখতে পারব। এখনকার খেলোয়াড়েরা এমন অনেক কিছুই করতে পারে যেটা ১৯৭০ বা ’৮০-এর দশকে আমরা কখনোই ভাবিনি। মাঝে মাঝে ছকের বাইরে গিয়ে কিছু করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে তো কথাই নেই, জুটত একরাশ তিরস্কার। আর এখন সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে খেলে সফল হলে কত কত পুরস্কার। তবে এটা বলতে দ্বিধা নেই, এই সময়ের খেলোয়াড়েরা আগের খেলোয়াড়দের চেয়ে দক্ষতায় অনেক অনেক এগিয়ে।
ব্যাটগুলো বড় হয়ে গেছে, বাউন্ডারি হয়েছে ছোট। তাই প্রচুর রান আশা করতেই পারি। কোনো ব্যাটসম্যান র্যাম্প শট বা স্কুপ খেলে নিজের মাথার ওপর দিয়ে ছক্কা মারছে, এটা দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি। রিভার্স সুইপ, সুইচ শট কিংবা পেছনে সরে এসে কাভারের ওপর দিয়ে মারা অথবা অফ স্টাম্পের বাইরে গিয়ে লেগ সাইডের যেকোনো জায়গা দিয়ে বলকে সীমানা ছাড়া করতে অসাধারণ দক্ষতার সঙ্গে অসাধারণ আত্মবিশ্বাসীও হতে হয়।
ফাস্ট বোলারদের হাতেও এখন কত কত অস্ত্র। তারা তিন-চার রকমের স্লো বল করতে পারে, আমি পারতাম মাত্র দুই রকমের। স্পিনাররাও স্পিন ও গতির হেরফেরে ব্যাটসম্যানদের বিভ্রান্ত করে ইনারফিল্ড ও সীমানায় ক্যাচ তুলতে বাধ্য করতে পারে। মানসম্পন্ন স্পিনাররা সব জায়গাতেই সফল হবে।
ফিল্ডিং তো অসাধারণ—যেকোনো সময়ের চেয়েই খেলোয়াড়েরা এখন বেশি ফিট ও দ্রুতগতির। শরীর লাইনে ছুড়ে দিয়ে তারা এমন সব রান বাঁচায় যেগুলো হার-জিতে বেশ বড় ভূমিকা রাখে। সীমানাদড়ির সেন্টিমিটার খানেক ভেতরে ক্যাচ নিয়ে সেটিকে ওপরে ছুড়ে দিয়ে ভারসাম্য বাঁচাতে বাইরে চলে যাওয়া ও সেখান থেকে ফিরে আবার ক্যাচ নিতে দেখাটাও কম উপভোগ্য নয়।
দলগুলোর জন্য অজানা অনেক কিছুই ভয়ের কারণ হতে পারে। তুলনামূলক দুর্বল দলগুলোর বিপক্ষে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে বড় দলগুলোকে ছোটখাটো অনেক কারণেই চড়া মূল্য দিতে হতে পারে। বৃষ্টি, টস হারা, প্রাণবন্ত পিচে প্রথমে ব্যাট করা এসব ব্যাপার বড় হয়ে উঠতে পারে। সিনিয়র খেলোয়াড়দের ফর্ম হারিয়ে ফেলা, চোট এবং আরও কিছু ব্যাপার ২০১৫ সালের চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।
আশা করছি, বিশ্বকাপটা প্রতিদ্বন্দ্বিতামুখর ও ঝামেলামুক্ত হবে। খেলোয়াড়েরা ঝগড়া-বিবাদে জড়িয়ে পড়াটা আমি দেখতে চাই না। এখন এই ঘটনাগুলো অনেক বেশি বেশি হচ্ছে। ক্রিকেটে এই বাজে বিষয়গুলোর কোনো জায়গা নেই। সবার আগে খেলাটার চেতনা।
তো শুরু হয়ে যাক বিশ্বকাপ।

বিজ্ঞাপন
খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন