default-image

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই উত্তেজনার ঢেউ। সেটি বিশ্বকাপেই হোক আর অন্য কোনো সময়। শুধু ওয়ানডে কেন, ক্রিকেটের সব সংস্করণেই ভারত-পাকিস্তান লড়াই আপনাকে দেবে ভিন্ন স্বাদ। সেই স্বাদ পেতেই অ্যাডিলেডে দেখছি অসংখ্য ভারতীয়-পাকিস্তানিকে। অস্ট্রেলিয়ার এই শহরটাকে এক টুকরো ভারত ও পাকিস্তানের মতোই লাগছে।

খোদ অস্ট্রেলীয়রাও অনুভব করছে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের মাহাত্ম্য। এই ম্যাচটিতেও পাওয়া যায় ক্রিকেটের সব উত্তাপ, এমনকি অ্যাশেজও এর কাছে হার মানে। সপ্তাহ খানেক আগেই ম্যাচটা নিয়ে আলোড়ন শুরু। এই বিশ্বকাপ পর্দা তুলেছে নিউজিল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ দিয়ে, কিন্তু সত্যি বলতে বিশ্বকাপ আসল রূপ পাবে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচেই।

একটা আদর্শ ম্যাচ বলতে যা বোঝায়, ভারত-পাকিস্তান লড়াইয়ের চেয়ে সেটির উদাহরণ আর কিছু হতে পারে না! দারুণ আবহ, দারুণ মাঠ, ভালো ব্যাটিং উইকেট...এগুলো কাঙ্ক্ষিত তালিকার শীর্ষেই থাকে। ভারত হয়তো এ মুহূর্তে সেরা ফর্মে নেই, পাকিস্তান দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ জিতেছে, কিন্তু টস হওয়ার পর এই ম্যাচটা ফিফটি-ফিফটি। ব্যাটিংয়ে ভালো করবে যে দলটি, জয়টা তাদের দিকে তাকিয়েই হাসবে।

বোলিংয়ে দুই দলেরই অনেক অভিজ্ঞতা আছে। ব্যাটিংয়ে ভারত একটু বেশিই চাইবে রোহিত, শিখর ধাওয়ান ও বিরাট কোহিলর কাছ থেকে। এঁদের সাফল্যের ওপর অনেকটা নির্ভর করবে ভারত। অন্যদিকে পাকিস্তানের ব্যাটিং-নির্ভরতার নাম মিসবাহ, আফ্রিদি ও উমর আকমল। কাজেই আমার ধারণা, এটি হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের চিরন্তন উত্তেজনার মধ্যে বুঁদ হওয়ারই সময় এখন। তেমন কিছু দেখতে আর তর সইছে না।

আমি এখনো জানি না, বিশ্বকাপে কেন সব সময় পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতই জেতে। এটা মিলিয়ন ডলারের প্রশ্নও, যেটির কোনো উত্তর আজও কেউ দিতে পারেনি। ১৯৯২ ও ১৯৯৯ বিশ্বকাপে আমরা ভারতের কাছে হেরেছিলাম ২২০-এর মতো রান তাড়া করে। ম্যাচ দুটি হয়েছিল সিডনি ও ম্যানচেস্টারে। ’৯৬-এর ম্যাচটা আমি খেলিনি। ২০০৩ সালে আমার শেষবেলায়ও আবার হার ভারতের কাছে। সামগ্রিকভাবে দেখুন, ভারতের সঙ্গে আমাদের রেকর্ড ভালো। কিন্তু বিশ্বকাপেই যেন কী হয়। সেখানে শুধুই হার আর হার!
ছবিটা হয়তো বদলাবে রোববার। বিশ্বকাপে ভারতের কাছে হারের রেকর্ড ভাঙবে পাকিস্তান। এটা আমি একজন পাকিস্তানি সমর্থকের আবেগ থেকে বলছি না, বিশুদ্ধ ক্রিকেট অনুসারীর চোখে বলছি, এবার পাকিস্তান হাসবে। আমাদের এই অঞ্চলের চ্যানেল এবং সংবাদপদত্রগুলো বিশ্বকাপে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের রেকর্ড মনে করিয়ে দিতে কখনোই ক্ষান্ত হয়নি।
আশা করছি, পাকিস্তান দলের খেলোয়াড়েরা এই চাপটা নিচ্ছে না। তবে ম্যাচটার তাৎপর্যই এমন যে, চাপটা দুই শিবিরে এসে ঠিকই হানা দেয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা রোহিত শর্মার একটা কথা শুনছিলাম। সে বলেছে, পাকিস্তানই বেশি চাপে থাকবে। দুঃখিত রোহিত, আমি বলব দুই দলই সমান চাপে থাকছে। এই ম্যাচটা টিভিতে দেখে প্রায় এক শ কোটি মানুষ, যেটি ম্যাচটির বড় একটা সৌন্দর্যও। এটি এও বলে যে কেন দুই দেশের মধ্যে আরও ম্যাচ হওয়া প্রয়োজন।
তিন মাস ধরে অস্ট্রেলিয়ায় থাকার কারণে ভারতেরই এগিয়ে থাকা উচিত, যদিও এই সময়ে তারা আসলে কিছুই অর্জন করতে পারেনি। পাকিস্তান দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে রান তাড়া করে জিতেছে, কাজেই তাদের আত্মবিশ্বাস থাকবে। অ্যাডিলেডের ড্রপ ইন পিচে রান তাড়া করাটা হবে বেশ চাপের এবং এটি হবে দেখার বিষয়। এই ম্যাচে ফেবারিট নেই। লড়াইটা আসলে ভারতের ব্যাটিং বনাম পাকিস্তানের বোলিং। তবে এটা ঘটনা, পাকিস্তানের এই দলের বোলিংয়ে বড় নাম নেই। আমার ধারণা, বোলিংয়ে দুই দলই আসলে একটা জায়গায় সমান। কারণ, তিন শর মতো ম্যাচ খেলা অভিজ্ঞ আফ্রিদি ছাড়া পাকিস্তানের বোলিংয়ে আর সবাই নতুন।
দুই দলেই আছে চোটের আঘাত। পাকিস্তান দলে নেই জুনাইদ, ভারতে ইশান্ত। অভিজ্ঞতার জন্য ভারত ইশান্তকে অভাববোধ করবে। মোহিত হতে পারে ভালো পছন্দ, ওর স্লেয়ার বেশ ভালো। ওকে নতুন বলেই ব্যবহার করা উচিত।
প্রস্তুতি ম্যাচ দুটিতে পাকিস্তান ১০০ ওভারই খেলেছে, এটি আলাদা করে বলার মতো। তবে এর বেশি কিছু নয়। সব শেষে বলব, বিশ্বকাপ রেকর্ড বিবেচনায় নিলে পাকিস্তান কিছুটা চাপেই থাকবে বৈকি। (টিসিএম)

বিজ্ঞাপন
খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন