default-image

বিশ্বকাপের পুরো গ্রুপ পর্বেই ভারতের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার আজকের ম্যাচটা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাডিলেডে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে যত দর্শক হয়েছিল, ধারণক্ষমতা বেশি থাকলে ওই ম্যাচে তার তিন গুণ বেশি দর্শকও হতে পারত। তবে মেলবোর্নের ধারণক্ষমতা ৯০ হাজারের কাছাকাছি। এই ম্যাচে প্রত্যাশাও অনেক বেশি।
দুর্দান্ত এক মাঠ এমসিজি। মাঠে গিয়ে দাঁড়ালে হয় আপনি অনুপ্রাণিত হবেন, অথবা একধরনের ভয়ও আপনার মনে কাজ করবে। আবার আপনাকে গ্রাস করতে পারে দুই ধরনের অনুভূতিই। ব্যাপারটা নির্ভর করছে আপনার ব্যক্তিত্বের ওপর। প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিটা এই মাঠে বলেই এমসিজির স্মৃতি আমার কাছে সব সময়ই সুখের। এমন একটা মাঠে এত দর্শকের সামনে খেলতে পারা আসলেই ভাগ্যের ব্যাপার।
এ ধরনের পরিবেশে দক্ষিণ আফ্রিকানদের তুলনায় ভারতীয় ক্রিকেটাররা অনেক বেশি অভিজ্ঞ। আইপিএলেই সেটা দেখা যায়। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার অনেকেও বেঙ্গালুরু, দিল্লি, কলকাতায় ৪০ হাজার দর্শকের সামনে খেলেছে। আমার বিশ্বাস, তারাও এখানে আতঙ্কিত হবে না। তা ছাড়া এই মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার সুখস্মৃতি কম নেই। এমসিজিতে আটটি ওয়ানডে খেলে সাতটিতেই জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এক শ বছরের মধ্যে আমাদের প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়টাও এসেছে ২০০৮ সালে এ মাঠের জয় দিয়ে।
অনুপ্রাণিত হওয়ার উপলক্ষ থাকবে ভারতের খেলোয়াড়দেরও। বিরাট কোহলি গ্যালারি-ভর্তি দর্শকের সামনে খেলতে পছন্দ করে। ধোনিরও ফর্মে ফেরাটা জরুরি। তবে এমসিজির আবেগময় পরিবেশের সঙ্গে ভারতের বোলাররা কতটা মানিয়ে নিতে পারে সেটাই হলো আসল।
এ মাঠে স্পিনার ব্যবহারে উৎসাহিত না হওয়াই ভালো। উইকেটকে কাজে লাগিয়ে প্রত্যাশিত গতি আদায় করে পেসাররাই ভালো বল করবে এখানে। এখানকার উইকেট সাধারণত সুইং বোলারদের খুব একটা সাহায্য করে না। আমার মনে হয় শুরুতে যতটা কম ক্ষতি হয়, ভারত সেদিকেই মনোযোগ দেবে। পরে ব্যাট করলে বড় রান তাড়া করতে হতে পারে তাদের। সেটা যেন ব্যাটসম্যানদের আওতার মধ্যে থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে বোলারদেরই।
আগে ব্যাট করলে ভারত দ্রুত উইকেট হারাতে চাইবে না। এটা বলা সহজ, কিন্তু স্টেইন-ফিল্যান্ডার-মরকেলদের সামনে করে দেখানো কঠিন। ১০ ওভারে ৩০ রানে ১ উইকেট পড়লে ফিরে আসা সব সময়ই সহজ। কিন্তু ৫০ রানে ৪ উইকেট গেলে সেটা খুবই কঠিন। ইতিবাচক থাকাটা ভালো, তবে বেপরোয়া হলে হারতে হতে পারে ম্যাচটাই।
এবারের বিশ্বকাপে অনেক ম্যাচ। প্রথম কয়েকটা দিন প্রত্যাশার চেয়েও বেশি মনোযোগ পেল। সহযোগী দেশগুলো অন্যান্যবারের তুলনায় ভালো খেলছে, যেটা কিনা আইসিসির আগামী বিশ্বকাপে দলসংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আমার ধারণা, এবার আরও কয়েকটা অঘটন ঘটবে। বিশ্বকাপ তাতে আরও জমবে।
খেলোয়াড়দের মধ্যে হয়তো কোয়ার্টার ফাইনালের চিন্তা এখনো সেভাবে আসেনি। তবে ম্যানেজমেন্টের মধ্যে সেটা আছে। ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকার কথাই ধরুন। ‘বি’ গ্রুপ থেকে দুই দলই চাইবে শীর্ষে থাকতে। এতে যে শেষ আটে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডকে এড়ানোর একটা সম্ভাবনা থাকে। মেলবোর্নের আজকের ম্যাচের গুরুত্ব বেড়ে যাওয়ার এটাও একটা কারণ। (হক-আই)

বিজ্ঞাপন
খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন