প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ

ক্রিকেটাররা এখনো দ্বিধাদ্বন্দ্বে

বিজ্ঞাপন
default-image

গত সপ্তাহ থেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনুশীলন শুরু করেছেন নাসিরউদ্দিন ফারুক। ভাবছেন, সামনে কোনো একটা খেলা তো হবেই।
‘কোনো একটা খেলা’ বলতে প্রিমিয়ার লিগই শুরু হওয়ার কথা ৩ সেপ্টেম্বর থেকে। তার আগে ২৫ আগস্ট ‘প্লেয়ার বাই চয়েসের’ মাধ্যমে খেলোয়াড় বেছে নেবে ক্লাবগুলো। তাহলে ‘প্রিমিয়ার লিগের জন্য অনুশীলন করছি’ কথাটা কেন বলতে পারছেন না ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত মুখ নাসিরউদ্দিন? ‘শুনছি লটারি হবে, এরপর লিগও নাকি শুরু হয়ে যাবে। কিন্তু এ রকম তো অনেক দিন থেকেই শোনা যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কী হবে, সেটা নিয়ে তাই সবাই-ই দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছে’—টেলিফোনে ব্যাখ্যাটা দিলেন তিনি নিজেই।


শেষ পর্যন্ত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে খেলা শুরু হয় কি না সেটা সময়ই বলবে, তবে সিসিডিএম আটঘাট বাঁধছে সে লক্ষ্যেই। আগামীকাল ক্লাবগুলোকে লটারির নিয়মকানুন বুঝিয়ে দেওয়ার কথা। মোট ১৮৮ জন খেলোয়াড়ের লটারিতে একেকটা ক্লাব খেলোয়াড় বাছাইয়ের সুযোগ পাবে ১৬ বার। প্রতিবার নেওয়া যাবে একজন করে খেলোয়াড়।


লটারির জন্য পাঁচ শ্রেণীতে ভাগ করে নির্বাচকেরা কাল নতুন খেলোয়াড় তালিকাও দিয়ে দিয়েছেন। ২২ লাখ টাকা মূল্যের ‘এ’ প্লাস শ্রেণীতে আছেন জাতীয় দলের চারজন মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালনাসির হোসেন। ‘এ’ শ্রেণীতে থাকা ১২ ক্রিকেটারের মূল্য ১৫ লাখ টাকা করে, ‘বি’ প্লাস শ্রেণীর ২৪ জন ১০ লাখ করে, ‘বি’ শ্রেণীর ৩৬ জন ৮ লাখ করে, ‘সি’ শ্রেণীর ২৪ জন ৫ লাখ করে, ‘ডি’ শ্রেণীর ২৬ জন ২ লাখ ৫০ হাজার করে ও ‘ই’ শ্রেণীর ৫২ ক্রিকেটারের মূল্য ১ লাখ টাকা করে। ক্লাবগুলো খেলোয়াড় নিতে পারবে এই তালিকার বাইরে থেকেও। সে ক্ষেত্রে পারিশ্রমিক নির্ধারণ হবে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়ের সঙ্গে ক্লাবের আলোচনার ভিত্তিতে। বিদেশি খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রেও তাই।
কিন্তু বিসিবির এই তোড়জোড়ও প্রিমিয়ার লিগের ব্যাপারে খেলোয়াড়দের মনে এখনো আস্থা আনতে পারছে না। তাদের মধ্যে নাসিরউদ্দিনের মতোই দ্বিধাদ্বন্দ্ব—শেষ পর্যন্ত লিগ হবে তো? হলে সেটা কোন পদ্ধতিতে? কোন ক্লাবের হয়েই বা খেলবেন তাঁরা? কয়েক মৌসুম ধরেই লিগের শীর্ষ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় থাকা ফয়সাল হোসেন কুমিল্লা থেকে বলছিলেন, ‘জানি না ঢাকার খেলোয়াড়েরা কতটা নিশ্চিত যে লিগ হবে, আমরা কিন্তু এখনো নিশ্চিত হতে পারছি না। তা ছাড়া কোন ক্লাবের হয়ে খেলব সেটা জানব ২৫ তারিখে। এরপর সেই ক্লাবের সঙ্গে যোগাযোগ, খেলোয়াড়দের একসঙ্গে হয়ে অনুশীলন শুরু করা...এসবেও অনেক সময় পেরিয়ে যাবে। দু-তিন দিনের প্রস্তুতিতে কীভাবে লিগ খেলব, সেটাই প্রশ্ন।’
মাঝের সময়টাতে জাতীয় দল, একাডেমি বা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খেলোয়াড়েরা অনুশীলন আর খেলার মধ্যে থাকলেও ফয়সাল, নাসিরউদ্দিনের মতো বেশির ভাগ ক্রিকেটারই অলস সময় কাটিয়েছেন। তবে ব্যতিক্রমও আছে। রাজশাহী থেকে ফরহাদ হোসেন জানান, ‘রাজশাহীর ক্রিকেটারদের প্রস্তুতি ভালোই বলতে পারেন। আমরা বলতে গেলে এখানে ১২ মাসই অনুশীলন করি, খেলি। এই ২৩ তারিখ (আগামীকাল) থেকেও তিনটি দল নিয়ে একটা টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট শুরু হবে এখানে।’ তবে ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে তাঁর মধ্যেও, ‘পত্রপত্রিকার খবর দেখে তো বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে লিগ হবে। নিশ্চিন্ত হওয়া যাবে খেলা শুরু হলেই।’


যত দূর জানা গেছে, ২৫ আগস্টের লটারিতে সব ক্লাবই অংশ নেবে। তবে ৩ সেপ্টেম্বর থেকেই যে খেলা শুরু হবে, সে ব্যাপারে দ্বিধাদ্বন্দ্বে অনেক ক্লাব। সমস্যা আছে এটা ছাড়াও। গাজী ট্যাংক ক্রিকেটার্সের মালিক লুৎফর রহমানের দাবি, গ্রেডেশন পদ্ধতি প্রবর্তনের আগেই এবারের লিগের জন্য সাত ক্রিকেটারকে অগ্রিম টাকা দিয়ে দিয়েছেন তিনি। লিগ শুরুর আগে সেটার সুরাহা চান লুৎফর রহমান, ‘বিসিবিকে আরও আগেই চিঠি দিয়ে ব্যাপারটা জানিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত সমস্যা সমাধানের কোনো উদ্যোগ তারা নেয়নি। আমি শুরু থেকেই খেলার পক্ষে ছিলাম, এখনো আছি। তবে তার আগে সমস্যার সমাধান চাই।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন