default-image

ইমরান খান-জাভেদ মিয়াঁদাদের সেই ভিত্তি গড়ে দেওয়া জুটির ওপর দাঁড়িয়ে ওয়াসিম আকরামের ঝোড়ো ইনিংস। এরপর বাঁহাতি সুইং সুলতানের পরপর দুটি ইয়র্কারে ছত্রখান অ্যালান ল্যাম্ব ও ক্রিস লুইসের স্টাম্প।
কাল সকাল থেকে এমসিজির সব টেলিভিশনে ১৯৯২ বিশ্বকাপের ফাইনাল। আরেকটি বিশ্বকাপ শুরুর আগের দিন ২৩ বছর আগের স্মৃতি রোমন্থন করতে করতে এমসিজি যেন দিন গুনছে আরেকটি ফাইনালের।
সেই ফাইনাল এখনো ৪৪ দিন দূরে। কাল দুপুরে এমসিজিতে গা গরম করতে করতে ৪৪ দিন দূরের ছবিই কি চোখে আঁকছিলেন মাইকেল ক্লার্ক? বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার শুরুর দিনে মাঠে থাকছেন না। শেষের দিনে হয়তো থাকবেন। কিন্তু শেষের দিনটি যে ফাইনালই হবে, তার কি নিশ্চয়তা! আজ থেকে শুরু ক্রিকেট মহোৎসব পরতে পরতে কী রহস্য লুকিয়ে রেখেছে কে জানে!
২০১৫ বিশ্বকাপের শুরু আর শেষটা এই এমসিজিতেই মিলে যেতে পারত। মিলছে না আয়োজক দুই দেশের সময় পার্থক্যের কারণে। একই দিনে খেলা হয়েও শুরুর গৌরবটা তাই ক্রাইস্টচার্চের। এই লেখা পাঠকের হাতে যেতে যেতে নিউজিল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ হয়তো ফলাফলের পূর্বাভাসও দিয়ে ফেলেছে।
দিনগণনা শুরু হয়েছে সেই কবে! কাল সংবাদ সম্মেলনে জর্জ বেইলি ও জেমস অ্যান্ডারসনের কথা শুনে মনে হলো, মাঠে নামতে আর তর সইছে না! নিউজিল্যান্ডে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের কথায়ও একই সুর। সেই কবে থেকে বিশ্বকাপ আসছে, বিশ্বকাপ আসছে...শুরু হয়ে গেলে বরং চাপটা কমে।
‘চাপ’—ছোট্ট এই শব্দটাই আসলে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় খেলোয়াড়। মাঠে খেলা হবে অন্য কোনো দলের সঙ্গে, কিন্তু অদৃশ্য আসল প্রতিপক্ষ হয়ে থাকবে ওই চাপ। সেটি জয় করতে পারা না-পারাই ঠিক করে দেবে ২৯ মার্চ ফ্লাডলাইটের আলোয় ঝলমলে এমসিজিতে কোন দলকে ঘিরে উড়বে রংবেরঙের কনফেত্তি।
সেই চাপ অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে বেশি আর কোনো দলের ওপর নেই। সহ-আয়োজক নিউজিল্যান্ডও স্বাগতিকদের ছায়াসঙ্গী চাপের পরিচয় পাচ্ছে। তবে পার্থক্য আছে। নিউজিল্যান্ডাররা যেখানে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বিদায় নেওয়াটাকেই সেরা সাফল্য বলে বিবেচনা করে এসেছে, অস্ট্রেলিয়ার জন্য রানার্সআপ হওয়াটাও ব্যর্থতা। ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের এক নম্বররা বিশ্বকাপের সফলতম দল। ১০টি বিশ্বকাপের ছয়টিরই ফাইনালে উঠে জিতেছে চারবার। তার পরও একটা অপূর্ণতা আছে। ওই চারটি শিরোপার একটিও যে নিজেদের দেশে নয়। সেই সুযোগ একবারই এসেছিল এর আগে। এবারের চেয়েও অজেয় ভাবমূর্তি নিয়ে ১৯৯২ বিশ্বকাপ শুরু করেছিল অ্যালান বোর্ডারের দল। প্রত্যাশার ভারে চিড়েচ্যাপ্টা হয়ে সেমিফাইনালেও ওঠা হয়নি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতেই কোচ ড্যারেন লেম্যান দলের খেলোয়াড়দের ‘ক্লাস’ নিতে ডেকেছিলেন ইয়ান হিলি ও জিওফ মার্শকে।
লেম্যান নিজে দুটি বিশ্বকাপজয়ী দলে ছিলেন। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়াকে বিশ্বকাপ জিততে দেখেছেন। শুধু দেখেনইনি, ফাইনালে জয়সূচক রানও এসেছিল তাঁর ব্যাট থেকেই। অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনুভূতিরও স্বাদ পেয়েছেন ২০০৩ বিশ্বকাপে। তবে দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলার চাপটা তাঁর নিজেরও অজানা। এ কারণে হিলি আর মার্শের শরণ।
জর্জ বেইলির কথা শুনে মনে হচ্ছে, তাতে কাজও হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বদলি অধিনায়ক কাল বললেন, ‘এটাকে চাপের বদলে দারুণ এক সুযোগ হিসেবেও তো দেখা যায়। অস্ট্রেলিয়ার দারুণ সব খেলোয়াড়ের বিশ্বকাপে অসাধারণ সব সাফল্যের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। কিন্তু নিজের দেশে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পায়নি। আমরা নিজেদের ভাগ্যবান ভাবতেই পারি।’
দিন কয়েক আগেই অস্ট্রেলিয়ার কোনো একটা পত্রিকাতেই লেখা হয়েছে—জ্যাক ক্যালিস, ব্রায়ান লারা, মুত্তিয়া মুরালিধরন, ইনজামাম-উল-হক, শচীন টেন্ডুলকার গত ২০ বছরে নিজ নিজ দেশের সেরা খেলোয়াড় এবং সবাই নিজের দেশে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু শেন ওয়ার্ন, গ্লেন ম্যাকগ্রা, রিকি পন্টিংয়ের মতো অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের আধুনিক গ্রেটদের সবাই সেই অনির্বচনীয় অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত।
ক্লার্কদের সেই অভিজ্ঞতা কি শিরোপার রঙে রঙিন হবে? নাকি নকআউট পর্বের সঙ্গে বৈরিতার দীর্ঘ ইতিহাস মুছে বিশ্বকাপ জিতবে দক্ষিণ আফ্রিকা? শুধু এই দুই দলই কেন, সম্ভবত ইতিহাসের সবচেয়ে উন্মুক্ত বিশ্বকাপে ট্রফির দাবিদার তো আরও আছে।
অপেক্ষায় থাকুন। বিশ্বকাপ-নাটকের মাত্রই তো শুরু!

আজকের খেলা
নিউজিল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা
(ক্রাইস্টচার্চ, শুরু ভোর ৪টা)
অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড
(মেলবোর্ন, শুরু সকাল ৯-৩০ মি.)
আগামীকালের খেলা
দ. আফ্রিকা-জিম্বাবুয়ে
(হ্যামিল্টন, সকাল ৭টা)
ভারত-পাকিস্তান
(অ্যাডিলেড, শুরু সকাল ৯-৩০ মি.)

বিজ্ঞাপন
খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন