default-image

বিশ্বকাপে এর চেয়ে ভালো শুরুর কথা নিশ্চয়ই ভাবেনি অস্ট্রেলিয়া কিংবা তাদের সমর্থকেরা। সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররাও নিশ্চয়ই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই জয়টা দারুণ উপভোগ করেছে।

বিশ্বকাপ শুরু হয়ে গেলেও মাইকেল ক্লার্কের ফিটনেস নিয়ে সংবাদমাধ্যমে গুঞ্জন কিন্তু থামেনি। তবে গতকালের জয়টা প্রমাণ করেছে ক্লার্ক ফেরার আগ পর্যন্ত তার সতীর্থরা দারুণভাবেই সামলে নিতে পারবে। জর্জ বেইলি আগেও নেতৃত্ব দিয়েছে এবং ওয়ানডে খেলোয়াড় হিসেবে সে দুর্দান্ত। গত এক-দেড় বছরে তার পারফরম্যান্স নিখুঁত, এ দলটাকেও সে খুব ভালোভাবে চেনে। ক্লার্ক যদিও দলের খুব গুরুত্বপূর্ণ একজন সদস্য এবং দুর্দান্ত নেতা, তবে এই দলটা দেখিয়েছে, ওরা তার অনুপস্থিতির সঙ্গেও মানিয়ে নিতে পারবে।

ক্রিকেটের সবচেয়ে পুরোনো দ্বৈরথটা কাল হয়ে গেছে, তবে সবচেয়ে বড় দ্বৈরথটা হবে আজ। ভারত-পাকিস্তানের এক শ কোটির বেশি ক্রিকেটপ্রেমীর চোখ থাকবে অ্যাডিলেডে আজকের ম্যাচটার দিকে।

পারফরম্যান্স ওঠা-নামা করলেও পাকিস্তান সব সময়ই চোখ রাখার মতো দল। আমার মনে আছে, অস্ট্রেলিয়া সেরা ফর্মে থাকা অবস্থায়ও পাকিস্তান তাদের ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে। আর সেটাও খুব বেশি দিন আগের কথা নয়। অস্ট্রেলিয়ান কন্ডিশনের জন্য ওদের বোলিংটা দারুণ। ইউনিস খান আর মিসবাহ-উল-হকের মতো অভিজ্ঞদের পাশে ওদের দারুণ কয়েকজন তরুণ ব্যাটসম্যান আছেন। মিসবাহ সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয় এবং দলকে উদ্দীপ্ত করতেও জানে, যেটা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সর্বশেষ বিশ্বকাপে দেখিয়েছিল ইমরান খান। এরপর পাকিস্তান দলে আছে শহীদ আফ্রিদি, অবসর নেওয়া আর ফিরে আসার রেকর্ডে যে অনেক রক ব্যান্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। এরা সবাই ম্যাচ উইনার। আমার তো মনে হয় পাকিস্তানকে প্রাপ্য সম্মানের চেয়ে কমই দেওয়া হচ্ছে। বিশ্বকাপ এলে ওরা কীভাবে যেন ছন্দে চলে আসে।

পাকিস্তান ছন্দ খুঁজে পেতে পারে, তবে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারত সব সময় ছন্দে থাকে। ভারতের এই দলটিতে মহেন্দ্র সিং ধোনির জাদুর ছোঁয়া অস্বীকার করার মতো সাহসী কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। যদিও এ মুহূর্তে তাদের দিশেহারা মনে হচ্ছে। তবে বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা আর শিখর ধাওয়ানের মতো ব্যাটসম্যানদের ছন্দে ফেরার জন্য একটা-দুটো ম্যাচই যথেষ্ট। আর এবারের বিশ্বকাপের ফরম্যাটে সেটা খুবই সম্ভব। ভারতের সত্যিকারের দুশ্চিন্তা হচ্ছে তাদের বোলিং। তার ওপর আবার বোলারদের ফিটনেসেও সমস্যা আছে। ফিল্ডিং নিয়েও একটু দুশ্চিন্তায় থাকতে পারে ভারত।
স্বাগতিক দুই দেশে প্রথম দুটি ম্যাচের পর বোঝা যাচ্ছে বিশ্বকাপের উন্মাদনা পেয়ে বসেছে ক্রিকেটপ্রেমীদের। দুটি ম্যাচেই আমরা উপচে পড়া গ্যালারি দেখেছি। অ্যাডিলেডে আজকের ম্যাচে তো রেকর্ড দর্শক আশা করা হচ্ছে। কেউ কেউ ওয়ানডে ক্রিকেটের মৃত্যুই ঘোষণাই করে দিয়েছিলেন। কিন্তু এ বিশ্বকাপ প্রমাণ করতে পারে, সে সময়টা এখনো আসেনি। (গেমপ্ল্যান)

বিজ্ঞাপন
খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন