default-image

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম পাড়ার সেই প্রাণচাঞ্চল্য আজকের দিনে খুঁজতে যাওয়া বোকামি। তারপরও সরকার সবকিছু খুলে দেওয়ায় এর কিঞ্চিৎ প্রভাব ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর ওপরও পড়েছে। অন্তত কিছু ফেডারেশনের অফিসের বন্ধ ঝাঁপি খোলা হচ্ছে। দু–একজন কর্মী সীমিত আকারে হলেও অফিস খুলে বসছেন। কাল বিকেলে সরেজমিন স্টেডিয়াম পাড়া ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

ভারোত্তোলনে কাজ নেই
ফেডারেশনের সহসভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ জানালেন, অফিস স্টাফ অফিসে বসেই চিঠিপত্র কম্পোজ করেন। বিদেশের সঙ্গে কিছু যোগাযোগ আছে ভারোত্তোলনের। এর বাইরে ভারোত্তোলনে আপাতত আর কোনো ব্যস্ততা নেই। সাবেক ভারোত্তোলক ও কোচ বিদ্যুৎ কুমার রায় ময়মনসিংহে তাঁর বাড়ির ছয়তলার ওপর অনুশীলন করান। কুষ্টিয়াসহ আরও কিছু জেলায় স্থানীয়ভাবে অনুশীলন হয়।
করোনা না থাকলে সেপ্টেম্বরে জাতীয় আন্তক্লাব এবং নভেম্বরে আন্তসার্ভিস প্রতিযোগিতা আয়োজনের ভাবনা আছে ফেডারেশনের।

ভলিবল ভাবনাহীন
ভলিবল ফেডারেশন অফিস খোলা হয়েছে। তবে কার্যক্রম নেই। দুজন কর্মী বেলা ১১টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত অফিস করেন। মেইল-টেইল এলে সেটা দেখেন। কাছাকাছি সময়ে খেলার কোনো সম্ভাবনা নেই ভলিবলে। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান বললেন, ‌‘আগে জীবন বাঁচাই, তারপর খেলা নিয়ে ভাবা যাবে।’

অ্যাথলেটিকসে সেমিনার
অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের অফিস খোলা হয়েছে। দুজন স্টাফ যান। ফেডারেশনের কর্মকর্তারা অনলাইনে কিছু অ্যাথলেটিকস বিষয়ক আন্তর্জাতিক সেমিনার করছেন। এ ছাড়া ফেডারেশনের উদ্যোগে দুস্থ অ্যাথলেটদের জন্য গঠিত তহবিল থেকে কিছু খেলোয়াড়কে আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে। করোনার জন্য কোনো পরিকল্পনা করা যাচ্ছে না বলছেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রকিব। গতকাল বিকেলে তিনি ফেডারেশনে ছিলেন।

দাবায় নিরীক্ষা চলছে
দাবা ফেডারেশনের অফিস খোলা। দুজন স্টাফ অফিসে যান। বর্তমান কমিটির মেয়াদ প্রায় শেষ। তাই ফেডারেশনের হিসাবের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা চলছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কয়েক দিনের মধ্যে সেই হিসাব নিরীক্ষা করবে। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম জানালেন, ফিদে থেকে ৫ হাজার ডলার পেলে অনলাইনে আগামী মাস থেকে টুর্নামেন্ট চালু করা হবে।

হকি আশাহীন
হকি ফেডারেশনের অফিস খুললেও কার্যক্রমহীন। ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফ জানালেন, এ বছর ঢাকায় জুনিয়র এশিয়া কাপ ও চ্যাম্পিয়নস ট্রফি—দুটির ভাগ্যই অনিশ্চিত। করোনায় স্থগিত টুর্নামেন্ট দুটির ব্যাপারে বাংলাদেশের ভাবনা জানতে কদিন আগে হকি ফেডারেশনকে চিঠি দেয় আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশন। বাংলাদেশের পক্ষে এ বছর আর এগুলো আয়োজন করা সম্ভব নয়, এমনটাই মনে করছেন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক।

আর্চারির নানা ভাবনা
আর্চারিতে দুজন স্টাফ অফিস খুলে বসেন। এই ফেডারেশনের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ আছে। তবে খেলা শুরুর ব্যাপারটা এখনো অনিশ্চিত। আর্চারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজীব উদ্দীন বলেন, ‘যেভাবে করোনা বাড়ছে, তাতে এখন কে আর নিজের সন্তানকে খেলায় পাঠাবে!’ তবে একবারে এক মাসের বাজার করে সব খেলোয়াড়কে টঙ্গীতে ক্যাম্পে পাঠানো যায় কি না, ভেবে দেখছে ফেডারেশন। অন্তত রোমান সানাকে নিয়ে অলিম্পিক দলটার অনুশীলন চায় তারা। কিন্তু টঙ্গীর আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে একতলায় পুলিশ ক্যাম্প চলছে। তা ছাড়া গাজীপুর এখন রেড জোন। বিকল্প হিসেবে বিকেএসপিতে ক্যাম্প করার চিন্তাও আছে।

ব্যাডমিন্টন বন্ধ
শহীদ তাজউদ্দীন ইনডোরে ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের অফিস পরশু খোলা হয়েছিল। সেটা অবশ্য যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া দুস্থ খেলোয়াড়দের চেক বিতরণ উপলক্ষে। এমনিতে এটি বন্ধই থাকছে এখন। সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন থাকেন ফেনীতে। গত এপ্রিলে বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ। এখন নতুন নির্বাচনের ব্যাপারটাই কর্তাদের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।

পানিশূন্য সাঁতার পুল
একজন স্টাফ মিরপুর সাঁতার কমপ্লেক্সে সাঁতার ফেডারেশনের অফিস খোলেন প্রতিদিন। তবে কার্যক্রম নেই। শিগগির কার্যক্রম শুরুর সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না। খরচের কথা ভেবে করোনাকালে সাঁতার কমপ্লেক্সের পুল পানিশূন্য রাখা হয়েছে।

অন্যান্য
কাবাডির অফিস খুলেছিল ঈদের পর। এখন আবার বন্ধ। রাগবি সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত খোলা থাকে। ঢাকা মহানগরী ফুটবল লিগ কমিটি অফিসও খোলা। তবে হ্যান্ডবল, জিমন্যাস্টিকস, বক্সিং, টেবিল টেনিসসহ আরও কয়েকটি ফেডারেশনের অফিস বন্ধই পাওয়া গেছে। করোনাকালের স্টেডিয়াম পাড়া যেন প্রাণহীন এক জনপদ।

বিজ্ঞাপন
খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন