ঝুলে থাকল বার্সেলোনা-লিভারপুল

ম্যাচটি ছিল রাফায়েল বেনিতেজের বাঁচা-মরার লড়াই। সেই লড়াইয়ে লিভারপুল কোচ মরেননি ঠিকই, তবে অচেতন অবস্থায় চলে গেলেন নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে! অলিম্পিক লিওঁর সঙ্গে ১-১ গোলের ড্র করায় তাদের নকআউট পর্বে উত্তরণের সম্ভাবনা ঝুলে থাকল একেবারে ক্ষীণ সুতার ওপর। চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্ব-ভাগ্য ঝুলে আছে বার্সেলোনারও। রাশিয়ায় রুবিন কাজান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। এ ম্যাচটিও ড্র হয়েছে, গোলশূন্য ড্র।পরশুর ড্রয়ে ৪ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে লিওঁ। গ্রুপ পর্ব শেষ হতে আর মাত্র দুটি করে ম্যাচ বাকি আছে। হাঙ্গেরির ক্লাব দেব্রেসেনিকে ৫-২ গোলে হারিয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ইতালির ফিওরেন্টিনা। এরপরই বেনিতেজের লিভারপুল, তাদের পয়েন্ট ৪। নকআউট পর্বে যেতে হলে পাঁচবারের ইউরোপ-সেরা লিভারপুলকে শুধু পরের দুটি ম্যাচ জিতলেই চলবে না, ফিওরেন্টিনাকে হারতে হবে দুটি ম্যাচই। ফিওরেন্টিনার দুটি ম্যাচের একটি লিভারপুলেরই সঙ্গে, অন্যটিতে প্রতিপক্ষ লিওঁ।লিভারপুলের শেষ ষোলোতে খেলার ব্যাপারটি আসলে অনেকটাই ঝুলে আছে ভাগ্যের ওপর। সবকিছুই জানেন বেনিতেজ। তবে হাল ছাড়ছেন না একদম। বেনিতেজের প্রশ্ন এখন নিজের কাছেই, ‘আমরা কি বড় বাঁচা বাঁচতে পারব? আমি বলি, হ্যাঁ, পারব।’ বেনিতেজের বিশ্বাস, শেষ মুহূর্তে ভাগ্য ‘অল রেড’দের সাহায্য করবে।তা করবে কি না, কদিন পরই জানা যাবে। তবে পরশু ফুটবল-বিধাতা লিভারপুলের দিকে মোটেই চোখ তুলে তাকাননি। প্রথমার্ধটা দারুণ খেলল লিভারপুল। লিওঁর মাঠে তাদের কোণঠাসা করে রেখেও গোল পায়নি তারা ৮২ মিনিট পর্যন্ত। কাঙ্ক্ষিত সেই গোলের দেখা পেল পরের মিনিটেই, গোলটি এনে দেন ‘সুপারসাব’ রায়ান বাবেল। কিন্তু হায়! ৭ মিনিট পরই ‘লাল’ শিবিরকে স্তব্ধ করে তা শোধ করে দেন লিসান্দ্রো।বাঁচা-মরার সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকা বেনিতেজ হারের পেছনে ‘ভাগ্য-বঞ্চনা’ ছাড়া আর কিছুই দেখছেন না, ‘জয়টা আমাদের প্রাপ্য ছিল। কিন্তু শেষ মিনিটে একটা গোল খেয়ে গেলাম। সত্যি এটা দুর্ভাগ্য।’ ১৯৬৭ সালে টটেনহাম হটস্পারকে ১-০ ব্যবধানে হারানোর পর ঘরের মাঠে আর কোনো ইংলিশ দলকে হারাতে পারেনি লিওঁ। পরশু আবার তা করতে পেরে লিওঁ কোচ ক্লদ পুয়েল তো উড়ছেন, ‘আমরা পুরো মৌসুমজুড়েই ঠিক চিত্রনাট্য লেখার বিদ্যাটা রপ্ত করে ফেলেছি।’নিজেদের ২০০তম চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচে (সাবেক ইউরোপিয়ান কাপ) রাশিয়ার কাজান থেকে যে গোলশূন্য ড্র নিয়ে ফিরতে হলো, সে জন্য পেপ গার্দিওলা দুর্ভাগ্য ও ঠান্ডা দুটোকেই দুষতে পারতেন। জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের শট পোস্টে না লাগলে ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যেতে পারত বার্সা। অথবা রাশিয়ার তাপমাত্রাটা এদিন শূন্যের নিচে নেমে না গেলে মনোমুগ্ধকর পাসিং ফুটবলের পসরাটাকে তারা ফলকেন্দ্রিক করে তুলতে পারত। কিন্তু ম্যাচ শেষে কোনো কিছুর ওপর দায় না চাপিয়ে বার্সা কোচ বললেন, ‘আমি সবসময়ই বলেছি রুশ, স্লাভোনিচ দলগুলো শক্তিশালী।’শক্তিশালী কি না, সেটা পরের ব্যাপার। তবে পরশু বার্সেলোনাকে আটকাতে রক্ষণটাকে খুব শক্ত করেই বেঁধে রেখেছিল রুবিন কাজান। কোচ কার্বান বার্দিয়েভ জানালেন পরিকল্পনা কাজে লাগার কথা, ‘বার্সাকে ধরে রাখার পরিকল্পনা ছিল আমাদের। সেটা ঠিকভাবে করতে পেরেছি।’এই গ্রুপে বার্সা-কাজান দুই দলেরই পয়েন্ট এখন ৫ করে। ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ইন্টার মিলান। পিছিয়ে পড়েও ডিয়েগো মিলিতো ও ওয়েসলি স্লাইডারের গোলে পরশু তারা কিয়েভের মাঠে হারিয়েছে ডায়নামো কিয়েভকে (২-১)। গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ শেষেও যদি বার্সা-কাজানের পয়েন্ট সমান থাকে এবং ইন্টার শীর্ষে থাকে, তাহলে মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে থাকার সুবাদে রুবিন কাজানই উঠে যাবে নকআউট পর্বে। ন্যু ক্যাম্পে যে বার্সাকে ২-১ গোলে হারিয়ে একটা ইতিহাসই গড়ে এসেছে তারা।ভিএফভি স্টুটগার্টের বিপক্ষে ড্র করেই অবশ্য পরশু নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে ফেলেছে স্পেনের আরেক দল সেভিয়া। আর আলকমারকে ৪-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোর কাছে চলে গেছে আর্সেনাল।