টস ভাগ্য
টেস্ট ক্রিকেটে টস জয়টা সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ, বাংলাদেশের মতো দলের জন্য তো আরও বেশি। কিন্তু এই টসের সঙ্গেই কী অদ্ভুত এক শত্রুতা মুশফিকুর রহিমের, প্রতিবারই টস থেকে ফিরতে হয় মুখ কালো করে! কালকে নিয়ে টেস্টে টস করলেন ১৪ বার, ভাগ্যটাকে পক্ষে পেয়েছেন মোটে চারবার। ব্যাটিং-কিপিংয়ের মতো এখন মুদ্রা নিক্ষেপেও নিবিড় অনুশীলন ছাড়া তো আর উপায় দেখা যাচ্ছে না!
ত্রয়ী ভার
আরেকবার টস করা, ‘তিন পাহাড়’ সমান ভার নিয়ে আরও একবার মাঠে নামা। ব্যাটসম্যান, উইকেটকিপার ও অধিনায়ক—এই তিন ভূমিকায় ১৪তম টেস্ট খেলছেন মুশফিকুর রহিম। পেছনে ফেললেন পাকিস্তানের মঈন খান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের পার্সি শেরওয়েলকে। ত্রয়ী ভূমিকায় এই দুজন খেলছিলেন ১৩টি করে টেস্ট। মুশফিকের ঠিক ওপরে জিম্বাবুয়ের অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার, খেলেছেন ১৬টি। ১৮টি খেলেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের জেরি আলেকজান্ডার। এই ত্রিমুখী ভূমিকায় সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলেছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি, এখনো পর্যন্ত ৫১টি।
ভাগ্য ভেলায়
ক্রিকেট অনেক সময় জীবনেরই প্রতিচ্ছবি। পরতে পরতে জমা থাকে দারুণ সব বিস্ময়। আল আমিন হোসেন আর দিলরুয়ান পেরেরার কথাই ভাবুন। কিছুদিন আগেও দুজনের কাছে টেস্ট ক্রিকেট খেলা ছিল শুধুই স্বপ্ন। মাত্র তৃতীয় টেস্ট খেলতে নামা সেই দুজনই কাল নিজ নিজ জায়গায় দলের মূল অস্ত্র! মিরপুর টেস্টে ভালো বোলিং করেই আল আমিন হয়ে গেছেন বাংলাদেশের ‘এক নম্বর’ পেসার। এই টেস্টে একমাত্র পেসার হিসেবে বাংলাদেশ বেছে নিয়েছে তাঁকেই। আর রঙ্গনা হেরাথ চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়ায় পেরেরাই এই টেস্টে শ্রীলঙ্কার মূল স্পিনার!
উৎফুল্ল সওয়ারি
অপেক্ষাটা ছিল যেন অন্তহীন। যেভাবে ব্যাট করছিলেন কুমার সাঙ্গাকারা ও মাহেলা জয়াবর্ধনে, মনে হচ্ছিল যেন দুজন ব্যাটিং করে যাবেন যতক্ষণ ইচ্ছে। সুযোগ সৃষ্টি করা বহুদূর, দুজনকে বিন্দুমাত্র অস্বস্তিতেও ফেলতে পারছিলেন না বাংলাদেশের বোলাররা। হঠাৎই উইকেট এল খেলার ধারার বিপরীতে। মাহমুদউল্লাহর নিরীহ এক বল শাফল করে খেলতে গিয়ে লাইন মিস করে এলবিডব্লু জয়াবর্ধনে, ভাঙল এক ওয়ানডে ইনিংস সমান (৫০.২ ওভার) জুটি। স্বস্তি আর আনন্দের আতিশয্যে লাফ দিয়ে মাহমুদউল্লাহর পিঠে চেপে বসলেন সোহাগ গাজী। উচ্ছ্বসিত মাহমুদউল্লাহও সওয়ারিকে নিয়েই হাই ফাইভ করতে থাকলেন সতীর্থদের সঙ্গে!
জুটি কাহন—১
গ্রেটদের তালিকায় দুজন আলাদাভাবে ঢুকে গেছেন অনেক আগেই। কিংবদন্তি হয়ে থাকবে ২২ গজে দুজনের জুটিও। এখন স্রেফ মাইলফলকের সিঁড়ি বেয়ে এড়িয়ে চলা। কুমার সাঙ্গাকারা ও মাহেলা জয়াবর্ধনের জুটি কাল অল্পের জন্য ছুঁতে পারেনি একটি মাইলফলক। কালকের পর জুটি বেঁধে দুজনের রান এখন ৫৯৬০। ৬ হাজার রানের মাইলফলক ছুঁতে পেরেছে টেস্ট ইতিহাসে কেবল তিনটি জুটি—ম্যাথু হেইডেন ও জাস্টিন ল্যাঙ্গার জুটির রান ৬০৮১, ডেসমন্ড হেইন্স ও গর্ডন গ্রিনিজের জুটিতে এসেছে ৬৪৮২। জুটি বেঁধে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন শচীন টেন্ডুলকার ও রাহুল দ্রাবিড়, ৬৯২০।
জুটি কাহন—২
উইকেটে জমে গেলে দুজনেরই যেন শেষ বলে কথা নেই। টেস্টে যেকোনো জুটিতে সবচেয়ে বড় জুটি দুজনের (৬২৪), বড় জুটি গড়ে তোলেন প্রায়ই। সেটির স্বীকৃতি এখন রেকর্ড বইয়েও, টেস্টে সবচেয়ে বেশি দেড় শ রানের জুটির রেকর্ড এখন জয়াবর্ধনে-সাঙ্গাকারা জুটির। কালকের ১৭৮ রান দুজনের দশম দেড় শ রানের জুটি। দুই প্রিয় বন্ধু পেছনে ফেলেছেন চারটি জুটিকে। ৯টি করে দেড় শ রানের জুটি আছে গ্রায়েম স্মিথ ও হাশিম আমলা, শচীন টেন্ডুলকার ও রাহুল দ্রাবিড়, ম্যাথু হেইডেন ও জাস্টিন ল্যাঙ্গার এবং ম্যাথু হেইডেন ও রিকি পন্টিং জুটির। শতরানের জুটির রেকর্ডের দিকেও জয়াবর্ধনে-সাঙ্গাকারা এগিয়ে গেলেন আরেক ধাপ। ১৬টি সেঞ্চুরি জুটিতে দুজন ছুঁলেন গ্রিনিজ-হেইন্স ও হেইডেন-পন্টিং জুটিকে। সামনে এখন শুধু টেন্ডুলকার-দ্রাবিড় জুটি (২০টি)।
জন্ম ও স্বাধীনতা
একটির বয়স হলো ৬৬, আরেকজনের ২৮! বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে যেদিন জন্ম শ্রীলঙ্কার, ৩৮ বছর পর একই তারিখে পৃথিবীর আলো দেখেছিলেন মাহমুদউল্লাহ। ১৯৪৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীন হয়েছিল শ্রীলঙ্কা। অনিন্দ্য সুন্দর দ্বীপদেশটি কাল পূর্ণ করল স্বাধীনতার ৬৬ বছর। স্বাধীনতা দিবসে টস জয় থেকে শুরু করে মাঠের ক্রিকেটেও দেশবাসীকে ভালো একটি দিন উপহার দিয়েছেন ক্রিকেটাররা। আর ২৮তম জন্মদিনের উপহারটা কাল সকালেই পেয়ে গেছেন মাহমুদউল্লাহ, যখন একাদশে দেখেছেন নিজের নাম। জন্মদিনের উপহার হিসেবে মাহমুদউল্লাহকে সহজ এক ক্যাচ দিয়ে এসেছেন দিমুথ করুণারত্নে, উইকেট উপহার দিয়ে এসেছেন মাহেলা জয়াবর্ধনেও। দিন শেষে মাহমুদউল্লাহ যদিও বলছেন, ‘আরও ভালো হতে পারত’, তবে সব মিলিয়ে দিনটি কিন্তু খারাপ কাটেনি তাঁরও!
আরিফুল ইসলাম

বিজ্ঞাপন
খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন