বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২১ বছর বয়সী এই তরুণ ব্যাটসম্যানকে নেটে বেশ মনোযোগ দিয়েই দেখেছেন টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ ও প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের বাঁক খেয়ে বের হয়ে যাওয়া একটা বল লোভনীয় দৃষ্টিতে ড্রাইভ করার চেষ্টায় ব্যর্থ হন মাহমুদুল। সঙ্গে সঙ্গেই মাহমুদ ছোট ছোট পায়ে নেটের মাঝে এসে মাহমুদুলকে জানিয়ে দেন, ‘এটা টেস্ট ক্রিকেট। মনে থাকে যেন।’

প্রায় আধা ঘণ্টার ব্যাটিং অনুশীলন শেষে জহুর আহমেদের অন্য প্রান্তে থ্রো-ডাউনের বিপক্ষে ব্যাটিং করতে যাবেন মাহমুদুল, তখনই তরুণ এই ব্যাটসম্যানকে ডেকে পাঠান মাহমুদ-ডমিঙ্গো। দুজনের সঙ্গে মিনিট পাঁচেক কথা বলেন মাহমুদুল। এরপর একাই থ্রো-ডাউনে ব্যাটিং করেন তিনি।

ফটোসাংবাদিকদের ক্যামেরাও বারবার ঘুরেছে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের এই তরুণ ব্যাটসম্যানের দিকে। তবে মিতভাষী মাহমুদুলের অবশ্য সেদিকে খুব একটা চোখ ছিল না। ক্যামেরার ঝলকানি, আগ্রহী চোখের রোমাঞ্চেও ব্যাটিংয়ে মনোযোগ কমেনি চাঁদপুরের এই তরুণের।

default-image

তবে আজ অনুশীলনে নামার আগে বিসিবির পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় টেস্ট দলে ডাক পাওয়ার রোমাঞ্চের কথা শুনিয়েছেন মাহমুদুল, ‘আসলে এই অনুভূতি প্রকাশ করার মতো না। সবারই স্বপ্ন থাকে টেস্ট দলে ডাক পাওয়ার। আমি প্রথমবারের সুযোগ পেয়েছি। অনেক খুশি।’ একাদশে সুযোগ পেলে নিজের সেরাটাই দিতে চান মাহমুদুল, ‘সুযোগ পেলে আমি আমার স্বাভাবিক ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করব।’

দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে মাত্র ৬টি ম্যাচ খেলেছেন মাহমুদুল। তাতেই দুটি সেঞ্চুরি ও একটি ফিফটি করে লম্বা সময় ব্যাটিংয়ের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। একটু জলদিই টেস্ট দলে ডাক পেয়েছেন কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন আছে যদিও। তবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যেটুকু অভিজ্ঞতা হয়েছে, সেটাই আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে মাহমুদুলকে, ‘জাতীয় লিগে বেশ কয়েকটি ইনিংস ভালো খেলেছি। আমার আত্মবিশ্বাস এখন ভালো। তার আগে এইচপি ও “এ” টিমের প্রস্তুতি ম্যাচেও আমি ভালো ইনিংস খেলেছি। সামনের ম্যাচগুলোতে ভালো খেলার জন্য আমি তৈরি।’

default-image

টেস্ট দলে মাহমুদুলের মতোই প্রথম ডাক পেয়েছেন আরেক তরুণ রেজাউর রহমান। সিলেটের এই পেসার আজ নতুন বলে বোলিং করেছেন নিজ এলাকারই দুই বোলার আবু জায়েদ ও খালেদ আহমেদের সঙ্গে। লাইন-লেংথ ও ছোট ছোট সুইংয়ে ভালোই পরীক্ষা নিয়েছেন টেস্ট ওপেনার সাদমানের। মাঝেমধ্যে বাউন্সারে ব্যাটসম্যানকেও ভড়কে দিচ্ছিলেন। তবে টেস্ট ক্রিকেটের মতো বড় মঞ্চের জন্য এটুকু যথেষ্ট হবে কি না, সেটিই দেখার অপেক্ষা।

কাজটা যে চ্যালেঞ্জিং হবে, সেটি অবশ্য অস্বীকার করলেন না ২২ বছর বয়সী এই পেসার, ‘আমি চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করি। বড় ভাইদের কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হই...আমাদের সিলেটে যেমন রাহি ভাই, ইবাদত ভাই, খালেদ ভাই আছেন, তাঁরা সব সময় অনুপ্রাণিত করেন।’

কথা শুনে মনে হচ্ছে, নিজেকে বড় মঞ্চের জন্য তৈরিও মনে করেন রেজাউর, ‘ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রথম শ্রেণিতে ভালো করেছি। প্রতিদিনই আমি একাধিক স্পেলে বল করতে পারি। শক্তি ধরে রাখতে পারি। এক জায়গায় টানা বল করতে পারি। বলে মুভমেন্টও আছে। দিনের শেষেও ভালো গতিতে বল করতে পারি।’

খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন