default-image

ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের আগে একটা মিশ্র অনুভূতি হচ্ছে আমার। খুব করেই চাইছি ভারত হেসেখেলে জিতুক। তবে কাজটা কঠিন। টেস্ট বা সংক্ষিপ্ত সংস্করণ, বিশ্ব ক্রিকেটে ধারাবাহিক দলগুলোর একটির নাম যে দক্ষিণ আফ্রিকা।
এই দলটি আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে অভ্যস্ত। এমন শক্ত প্রতিপক্ষের সঙ্গে ধোনিদের সামর্থ্যের একটা পরীক্ষাও হবে আজ। আমার বিশ্বাস, দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানোর ক্ষমতা রাখে ভারত। সেটি মাঠে দেখাতে পারা মানে ভারতের বিশ্বকাপ-যাত্রা চলবে মসৃণভাবে।
এই ম্যাচটা নিয়ে সবারই বাড়তি আগ্রহ। এটি হবে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের একটি। মন বলছে ভারত, তবে অতীত অভিজ্ঞতা দক্ষিণ আফ্রিকাকেই ফেবারিট বলছে। ভারতকে জিততে হলে সব বিভাগকেই অবদান রাখতে হবে। নইলে ধোনিরা কতটা কী করতে পারবে আমি সন্দিহান।
পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের দারুণ জয়টা এখন ইতিহাস। ওই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে লড়াইয়ের প্রস্তুতিও ভালো হয়েছে। তবে সেটিই যথেষ্ট নয়।
বিশ্বকাপের যুদ্ধ জিততে প্রয়োজনীয় সব গোলাবারুদ নিয়েই মেলবোর্নে এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আগেও তারা ট্রফি জয়ের দাবিদার ছিল, কিন্তু এই দলটাকে মনে হচ্ছে একটু বেশিই আত্মবিশ্বাসী। জ্বলে ওঠার মতো একগুচ্ছ খেলোয়াড় নিয়ে বিশ্বকাপে আলো ছড়াতে তারা উন্মুখ। গত ছয় বিশ্বকাপেই দক্ষিণ আফ্রিকার শূন্য হাতে ফেরাটাও ভোলার নয়। প্রত্যাশার বেলুন চুপসে গেছে প্রতিবারই, তবু আগের চেয়ে এই দক্ষিণ আফ্রিকা অনেক বেশি প্রতিশ্রুতিশীল।
হাশিম আমলা, ফাফ ডু প্লেসি ও ডেভিড মিলার ধারাবাহিক ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা রাখে। এবি ডি ভিলিয়ার্স তা আরও ভালো পারে। এই সময়ে ওর চেয়ে বেশি দাপুটে ব্যাটসম্যান আর কেউ নেই। খুব ভালো বোলিং আক্রমণকেও অসহায় বানিয়ে ছাড়ে এবি। ভারতকে আজ ওর আগ্রাসন সামাল দিতে হবে।
চাপে পড়লে দক্ষিণ আফ্রিকা কী করে সেটিও অবশ্য দেখার। কেননা চাপে ভেঙে পড়ার অনেক উদাহরণ আছে দলটির। তবু বলব, শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে ভারতকে। দক্ষিণ আফ্রিকা লাগাম ধরে নিলে ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে।
ব্যাটসম্যানদের জীবন অতিষ্ঠ করার মতো দুজন বোলার আছে দক্ষিণ আফ্রিকার। ডেল স্টেইন তো প্রথম স্পেলে দুর্দান্ত। ওয়ানডেতে উইকেট নিতে পারার ক্ষমতাই ওকে আলাদা করে তুলেছে। তবে ব্যাটসম্যানের পাল্টা-আক্রমণে স্টেইন ছন্দ হারিয়ে ফেলে। এটা মনে রেখেও বলব, উইকেট নিতে পারা বোলার কত রান দিল তা বিবেচ্য নয়। অস্ট্রেলিয়ার পিচে স্টেইনের চেয়েও ভয়ংকর হতে পারে মরনে মরকেল। উচ্চতা ওর বাড়তি সুবিধা। নিজের দিনে ওকে খেলা প্রায় অসম্ভবই।
তবে এসব নিয়ে ধোনির বেশি উদ্বিগ্ন হওয়ার দরকার নেই। পাকিস্তানের চেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা আলাদা দল, এটা মনে রাখলেই চলবে। পাকিস্তানের সঙ্গে ভারত যেমন বল করেছে, সেভাবে করলে চলবে না। বোলারদের ভিন্ন লাইন ও লেংথ বেছে নেওয়া দরকার। কারণ, বাউন্স ও শর্ট বল সামলানোর সামর্থ্য প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানদের বেশ ভালো।
একাদশ নিয়ে ভারতের পরীক্ষা-নিরীক্ষার দরকার দেখছি না। অ্যাডিলেডের পিচ থেকে মেলবোর্ন খুব আলাদা হলেই কেবল ভিন্ন কিছু ভাবা যেতে পারে। অশ্বিন ও জাদেজা খারাপ করেনি অ্যাডিলেডে। মেলবোর্নের কন্ডিশন সিমারদের সাহায্য করলে জাদেজাজে বাদ দিয়ে স্টুয়ার্ট বিনিকে নেওয়া যায়। ব্যাটিংয়ে সে ভালোই করবে। তবে ১০ ওভার বল করতে পারে কিনা সেটিই দেখার। (পিচ সলিউশন)

বিজ্ঞাপন
খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন