default-image

ভালো ফর্মে থেকেও নিয়মিত খেলার সুযোগ পাচ্ছেন না। এভাবে পারফরম্যান্সের ছন্দ ধরে রাখাটা কি কঠিন মনে হয়?

তাইজুল: হ্যাঁ, সেটা ঠিক। কিন্তু আমার সাফল্য দলের খুব একটা কাজে আসছে না। আমরা তো ম্যাচ জিতছি না! বাইরের স্পিনাররা ম্যাচ জিতিয়ে দিচ্ছে, আমরা সেটা করতে পারছি না। তবে ধারাবাহিকভাবে খেললে আমরাও সেটা পারব।

default-image

নিয়মিত ম্যাচ না খেলেও নিজেকে অনুপ্রাণিত রাখেন কীভাবে?

তাইজুল: ক্রিকেট খেলি, আয় করি। আমার জন্য এটুকুই শেষ নয়। আমি খেলাটা ভালোবাসি। আমার কাজ কী? আমি আমার দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। দেশের প্রয়োজনে আমাকে যেকোনো সময় যেকোনো কিছু করতে হবে। এটা আমার কর্তব্য। সে জন্য আমি যখন যেভাবেই থাকি না কেন, নিজেকে প্রস্তুত রাখি। আমি মাথায় কোনো নেতিবাচক চিন্তা ঢুকতে দিই না।

default-image

সাকিব আল হাসান তো এখন নিয়মিত টেস্ট খেলছেন না। সামনে নিশ্চয়ই আরও বেশি ম্যাচ পাওয়ার আশা করছেন...

তাইজুল: এটা নিয়ে আমি একদমই ভাবি না। সাকিব ভাই খেললে আমার জন্য খেলাটা কঠিন। কন্ডিশন পেসবান্ধব হলে আমার সুযোগ হবে না, এটাই স্বাভাবিক। আমি তা মেনে নিয়েছি। যখন সুযোগ পাব, আমি তখনই দেশের জন্য নিজের সেরা পারফরম্যান্স করতে চাই। তাই নিজেকে এসব ভাবনা থেকে দূরে রাখি।

গত বছরের শ্রীলঙ্কা সফর থেকে স্পিনারদের দর্শনে একটা বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন তো বেশি বেশি ডট বল করার চেষ্টাই দেখা যায় আপনার বোলিংয়ে...

তাইজুল: এই পরিবর্তন যে শুধু অনুশীলন করে এসেছে, তা কিন্তু নয়। আমরা যখন গল্প করি, তখনো এসব নিয়ে কথা বলি। যখন থেকে আমরা বুঝতে পারলাম যে অনুশীলন ও খেলার বাইরেও খেলা নিয়ে ভাবা উচিত, তখন থেকেই এসবের শুরু। কীভাবে আরও ভালো হতে পারি, এসব আলোচনাই হয় নিজেদের আড্ডায়। টিভিতে যদি কাউকে ভালো করতে দেখি, তখন সে কোন পরিকল্পনায় সফল হয়েছে, সেটা বোঝার চেষ্টা করি। এভাবেই আমরা বিষয়টি ধরতে পেরেছি।

default-image

দেশের বাইরে ভালো করার রহস্যটা বলুন। যেসব উইকেটে বাংলাদেশের অন্য স্পিনাররা সাধারণত ভালো করেন না, সেখানেই আপনি ভালো করছেন...

তাইজুল: আমরা দেশের বাইরে খুব বেশি ম্যাচ খেলি না। আর খেললেও অনেক দিন পর পর। আর কম্বিনেশনের কারণেও আমি অনেক সময় ম্যাচ পাই না। সে জন্য উন্নতি ধরে রাখা কঠিন। আমরা যদি পরপর দু-তিনটি সিরিজ দেশের বাইরে খেলতে পারতাম, তখন আমিও টানা সুযোগ পেতাম, আমার উন্নতিটাও দ্রুত হতো। এ জন্যই এখন যে সাফল্য পাচ্ছি, সেটা পেতে একটু সময় লেগেছে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছেন আট বছর হতে চলল। অভিজ্ঞতা আপনাকে কতটা সাহায্য করছে?

তাইজুল: যখন খেলা শুরু করেছিলাম, তখন অনেক কিছুই না বুঝে করেছি। ভালোও করেছি। কিন্তু কীভাবে করেছি বুঝতে পারিনি। এখন যে পর্যায়ে আছি, আমি বুঝতে পারি কেন ভালো হচ্ছে আর কেন খারাপ হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা খুব কাজে দিচ্ছে।

default-image

পেস বোলারদের উত্থানটাকে কীভাবে দেখছেন?

তাইজুল: এটা ভালো লক্ষণ। আমাদের আগের পেসাররাও খারাপ ছিল না। কিন্তু আমাদের চিন্তাভাবনায় সমস্যা ছিল। আমরা বিশ্বাস করতে পারতাম না যে পেসাররা ম্যাচ জেতাতে পারে। আমরা এখন তাদের ওপর আস্থা রাখতে পারছি। পেসাররা যখন নতুন বলে প্রথম ঘণ্টায় ২-১টি উইকেট নিয়ে নেয়, তখন স্পিনারদের কাজ সহজ হয়ে যায়। পেসাররাও এখন জানে যে ওরা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে। কন্ডিশন পেসারদের সাহায্য করলে পেসাররা উইকেট নেওয়ার চেষ্টা করবে, আমরাও সমর্থন দেব। কন্ডিশন স্পিনারদের সাহায্য করলে হবে উল্টোটা। বোলিং আক্রমণটা এখন পরিপূর্ণতা পাচ্ছে। তবে এখনো অনেক দূর যাওয়া বাকি। বিশ্বমানে পৌঁছাতে আমাদের আরও সময় লাগবে।

খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন