default-image

মেলবোর্নের আকাশের মন ভার ছিল সকাল থেকেই। দুপুরে খেলা শুরু হতে হতে কালো মেঘে ঢাকা আকাশ। বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ফ্লাডলাইট টাওয়ারগুলোর ঘুম ভাঙাতে হলো তাই সন্ধ্যার আগেই। আলোর রোশনাইয়ে চিকচিক করছিল নীল সমুদ্র। মেলবোর্নের গ্যালারি! 
৮৭ হাজার দর্শকে ঠাসা গ্যালারি। প্রায় সবার গায়েই ভারতের জার্সি। নীলের বন্যায় এক-আধটু ছোপ ছোপ সবুজ, হাতে গোনা কিছু দক্ষিণ আফ্রিকান সমর্থক। মহেন্দ্র সিং ধোনি টস জয়ের পরই যে নীল সমুদ্রে জোয়ার উঠল, ম্যাচজুড়ে ক্রমশ উত্তুঙ্গ সেই জোয়ার। তাতে ভেসে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা। গ্যালারির মতো মাঠের ক্রিকেটেও প্রবল দাপট ভারতের, দক্ষিণ আফ্রিকাকে খুঁজে পাওয়াই ভার!
এই ম্যাচে ফেবারিট ছিল তো বটেই, বিশ্বকাপ জয়েই অন্যতম ফেবারিট দক্ষিণ আফ্রিকা। পাশাপাশি ফেবারিটের তকমা অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের গায়ে। প্রথম দুই ম্যাচের দুর্দান্ত জয়ে ভারতও এখন একই কাতারে। তাদের প্রথম ম্যাচের জয় যদি হয় ইতিহাসের স্রোত প্রবহমান রাখা, কালকের জয় আরেকটি ধারার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া। পাকিস্তানের বিপক্ষে ছয় ম্যাচে ষষ্ঠ জয়, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক হারের পর প্রথম জয়ের স্বাদ। আগের হারগুলোর জ্বালা খানিকটা জুড়াতেই যেন দক্ষিণ আফ্রিকাকে ধোনিদের উপহার, বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় হারের বিব্রতকর স্বাদ! ভারত জিতেছে ১৩০ রানে।
১৩৭ রানের অসাধারণ ইনিংসে জয়ের মূল নায়ক শিখর ধাওয়ান। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে যেটি সব দল মিলিয়েই ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ। ধাওয়ানের ইনিংস যদি হয় মেরুদণ্ড, ভারতীয় ইনিংসের রক্তস্রোত অজিঙ্কা রাহানের ইনিংস (৬০ বলে ৭৯)। দেশের বাইরে ভারতের সবচেয়ে ধারাবাহিক ব্যাটসম্যান আলাদা করে চিনিয়েছেন নিজেকে। আর ভারতের জয়ে বিরাট কোহলির কিছু অবদান থাকবে না, তা কি হয়! তাঁর ৪৬ রানের ইনিংসটাও কম মূল্যবান নয়। ব্যাটসম্যানদের গড়ে দেওয়া ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে ছড়ি ঘোরালেন ভারতের বোলাররা। সেখানে পেসারদের সঙ্গে হাতে হাত রেখে স্পিনাররাও। আলাদা করে বলতে হবে ভারতীয় ফিল্ডিংয়ের কথাও। সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত উইকেটটিই এসেছে ফিল্ডিংয়ে। মোহিত শর্মার দুর্দান্ত থ্রোতে রানআউট এবি ডি ভিলিয়ার্স। পরে রানআউট হয়েছেন ‘কিলার’ মিলারও।
পাকিস্তান ম্যাচের মতো কালও ভারত ও ধাওয়ানের শুরুটা ছিল ধীরস্থির। এবি ডি ভিলিয়ার্সের অসাধারণ থ্রোতে শূন্যতেই বিদায় ওয়ানডের জোড়া ডাবল সেঞ্চুরির মালিক রোহিত শর্মা। সেখান থেকে আস্তে আস্তে পায়ের নিচে জমি খোঁজা শুরু ধাওয়ান ও কোহলির। ১৫ ওভারে রান ছিল ৬১। সময়ের সঙ্গে ধারালো দুজনেরই ব্যাট। দ্বিতীয় উইকেটে দুজনের জুটি ১২৭ রানের। ভারতের ইনিংস তখনো আন্তনগর ট্রেন। ২২ গজে রাহানের আগমনের পর যেটি হয়ে গেল বুলেট ট্রেন। তৃতীয় উইকেটে ধাওয়ান-রাহানের ১২৫ রানের জুটিটা গড়া ৯৯ বলে! ৭০ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন ধাওয়ান, ১২২ বলে সেঞ্চুরি। পরের ২৪ বলে ৩৭। প্রথম ম্যাচে ৭৩ রানের পর কাল ১৩৭। অথচ টানা রানখরায় এই ধাওয়ানের বিশ্বকাপ দলে থাকাই ছিল অনিশ্চিত!
শেষ দিকে দ্রুত উইকেট হারালেও রান শেষ পর্যন্ত ৩০৭। মেলবোর্নে পরে ব্যাট করে কেউ কখনো তিন শ ছুঁতে পারেনি। দক্ষিণ আফ্রিকা কাল সেই সম্ভাবনাও জাগাতে পারেনি। দ্বিতীয় উইকেটে ডু প্লেসি-ডি ভিলিয়ার্সের ৬৮ রানের জুটি ভাঙল রানআউটে। ডি ভিলিয়ার্সের (৩০) সম্ভাবনাময় ইনিংসটির সঙ্গে মৃত্যু দলের সম্ভাবনারও। শেষ ৭ উইকেট পড়েছে ৪৪ রানে! 
দুই ম্যাচেই তিন বিভাগে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স আর দুটি দারুণ জয়ের যোগফল একটি বার্তা—শিরোপা সহজেই ছাড়ছে না ধোনিরা!

আজকের খেলা
ইংল্যান্ড-স্কটল্যান্ড
(ভোর ৪টা, ক্রাইস্টচার্চ)

আগামীকালের খেলা
ওয়েস্ট ইন্ডিজ-জিম্বাবুয়ে
(সকাল ৯-৩০ মি., ক্যানবেরা)

গতকালের ফল
আফগানিস্তান: ৪৯.৪ ওভারে ২৩২
শ্রীলঙ্কা: ৪৮.২ ওভারে ২৩৬/৬
ফল: শ্রীলঙ্কা ৪ উইকেটে জয়ী

ভারত: ৫০ ওভারে ৩০৭/৭
দ. আফ্রিকা: ৪০.২ ওভারে ১৭৭
ফল: ভারত ১৩০ রানে জয়ী

বিজ্ঞাপন
খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন