প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির খতিয়ানে বিশ্বকাপ থেকে কী নিয়ে ফিরছে বাংলাদেশ? অধিনায়ক নিগার সুলতানার উচ্ছ্বাস স্বাভাবিকভাবেই বোলিং নিয়ে, যত হতাশার কেন্দ্রে ব্যাটিং।

default-image

বিশ্বকাপের আগে নিগার বলেছিলেন, এ টুর্নামেন্টকে স্মরণীয় করে রাখতে চান তাঁরা। চান যতটা সম্ভব ‘স্মৃতি’ সঙ্গী করে ফিরতে। বিশ্বকাপ শেষে পেছন ফিরে তাকালে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় তো স্মৃতিতে ভাসবেই, বোলারদের পারফরম্যান্সের কথাও বলতে হবে। দুর্দান্ত ছিলেন অফ স্পিনার সালমা খাতুন, ৭ ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন ২২.৪০ গড়ে। বোলিং করেছেন ৩.৭৯ ইকোনমি রেটে। আর ব্যাটিংয়ে আসবে ফারজানা হকের নাম—সবচেয়ে ‘ধারাবাহিক’ ছিলেন তিনিই। ৭ ম্যাচে ২৪.৭১ গড়ে ১৭৩ রান, আছে দুটি অর্ধশতক। টপ অর্ডারে শারমিন আক্তার কোনো অর্ধশতক না পেলেও ২৪.৫০ গড়ে করেছেন ১৪৭ রান। টুর্নামেন্ট শেষে এঁদের পারফরম্যান্সের কথা আলাদা করে বলেছেন অধিনায়ক নিগার।

এবার বিশ্বকাপে একমাত্র বাংলাদেশের বিপক্ষেই ২৫০ রান করতে পারেনি কোনো দল। এ জন্য স্পিনারদের কৃতিত্ব দিয়েছেন তিনি, ‘শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের স্পিনাররা দাপট দেখিয়েছে, সেটি দেখেছেন আপনারা। আমাদের জন্য দারুণ একটা ব্যাপার। ভবিষ্যতেও এটি ধরে রাখতে হবে। আমাদের বিশ্বকাপটা ভালোই গেছে, আমার ধারণা দারুণ কিছু স্মৃতিও সঙ্গী হলো। ভবিষ্যতে ভালো খেলার দিকে তাকিয়ে আছি।’

default-image

প্রথমবার খেলতে গিয়ে আট দলের মধ্যে সপ্তম হওয়া, এমন পারফরম্যান্সে হয়তো খুব বেশি অসন্তুষ্ট হওয়ার মতো কিছু নেই। তবে একাধিক ম্যাচে সুযোগ পেয়েও হারিয়েছে বাংলাদেশ। নিগার বলেছেন, দলীয় সমন্বয়ের ব্যর্থতা ভুগিয়েছে তাঁদের, ‘আমরা হয়তো দল হিসেবে ভালো করতে পারিনি। ব্যাটিংটাও প্রত্যাশিত মানের হয়নি বলে মনে হয় আমার। ভবিষ্যতে আমাদের এসব নিয়ে কাজ করতে হবে। তবে হ্যাঁ, অনেক অভিজ্ঞতা হলো। ভবিষ্যতে যাতে উন্নতি করতে পারি আরও, সে ব্যাপারে কাজ করতে হবে।’

শুধু পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় নয়, লক্ষ্য আরও বড় ছিল বলেও জানিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘কোনো দলই আমাদের বিপক্ষে বড় স্কোর গড়তে পারেনি, ফলে সেদিকে আমাদের চেষ্টার কমতি ছিল না। বোলাররা দাপট দেখিয়েছে ঠিকই, কিন্তু ব্যাটিং বিভাগ ধসে গেছে। দুই-তিনটি ম্যাচে আরেকটু ভালো ব্যাটিং হলেই আমরা জিততে পারতাম। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচেও দেখবেন, টপ অর্ডারে চার-পাঁচজন ইনিংস লম্বা করেছে, ২৩০-এর বেশি করতে পেরেছি ওই ম্যাচে। সেদিক থেকে দেখলে ভবিষ্যতে কাজ করার অনেক সুযোগ আছে।’

default-image

বিশ্বকাপে খেলা অন্য দলগুলোর সঙ্গে ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশের পার্থক্য ছিল বেশ বড়। ৮টি দলের মধ্যে বাংলাদেশ বাদ দিলে সবচেয়ে কম ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছিল ১৭৮টি ম্যাচ খেলা পাকিস্তান। বাংলাদেশ সেখানে গিয়েছিল মাত্র ৪২ ম্যাচের অভিজ্ঞতা নিয়ে।

তবে এ বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়ার পরই মেয়েদের চ্যাম্পিয়নশিপের পরের চক্রে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। ফলে আগের চেয়ে অনেক বেশি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলার সুযোগ পাবে তারা। নিগার আপাতত তাকিয়ে আছেন সেদিকে, ‘আইসিসির ভবিষ্যৎ সফরসূচির আওতায় এসেছি এখন, শীর্ষ সাত দলের সঙ্গে অনেক বেশি খেলার সুযোগ পাব দেশে ও বাইরে। সব সময়ই আমরা বলে এসেছি, খুব কম ম্যাচ খেলার সুযোগ পাই। এ রকম বড় একটা টুর্নামেন্টে এলে তাই চমকে যেতে হয়। তবে এসব দলের বিপক্ষে যত খেলব, ততই শিখব। জেতার হারও বেড়ে যাবে।’

খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন