ধ্রুপদি সংগীত আর হার্ড রকের যুগলবন্দী কেমন হতে পারে?
শুদ্ধ সংগীতপিয়াসীরা শুনে ভ্রু কুঁচকে তাকাতে পারেন। রক মিউজিক ভক্তদেরও এই ভাবনায় উৎসাহ থাকার কথা নয়। তবে ক্রিকেটে এই যুগলবন্দী কেমন হতে পারে, সেটির দারুণ এক প্রদর্শনী হয়ে গেল কাল ওয়েলিংটনে। আপনি ইংল্যান্ড দলের কেউ বা সমর্থক না হলে, এটি দেখে মুগ্ধ হয়েছেনই! 
টিম সাউদির বোলিংয়ে কাল ছিল ধ্রুপদি সুর। সেই সুরে এমনই সম্মোহন যে ইংলিশ ব্যাটসম্যানরাও ব্যাটিং ভুলে যেন মুগ্ধ দর্শক। আধুনিক ক্রিকেটে ক্লাসিক ঘরানার সিম ও সুইং বোলিং এখন বিলুপ্তপ্রায়। সাউদি কাল প্রমাণ করলেন, এই শিল্প ঠিকঠাক রপ্ত করতে পারলে এই যুগের তথাকথিত সব ভয়ডরহীন ব্যাটসম্যানরাও বড্ড অসহায়! ব্রেন্ডন ম্যাককালাম আবার সবাইকে এক ঝটকায় টেনে আনলেন বর্তমানে। সেতারের তারে টোকা পড়ল যে মঞ্চে, সেখানেই ড্রামের উদ্দাম মূর্ছনা। ব্রেন্ডন ম্যাককালামের ধুন্ধুমার ব্যাটিংয়ে দিশেহারা ইংলিশ বোলিং। যে ২২ গজ এক বোলারকে উপহার দিল ৭ উইকেট, খানিক পর সেখানেই ১৮ বলে ফিফটি আরেকজনের। ওয়ানডে ইতিহাসে নিউজিল্যান্ডের প্রথম ৭ উইকেটের পর বিশ্বকাপ ইতিহাসেরই দ্রুততম ফিফটি! জোড়া ঝড়ে উড়ে গেল ইংল্যান্ড।
সত্যি বলতে, সাউদির ৭ উইকেটে ওয়েস্ট প্যাকের ২২ গজের ভূমিকা ছিল সামান্যই। ঝকঝকে আকাশ, চকচকে রোদে উইকেট ব্যাটিং সহায়ক ছিল বলেই টস জিতে ব্যাটিং নিতে একটুও দ্বিধায় ছিলেন না ইংলিশ অধিনায়ক এউইন মরগান। ম্যাককালাম পরে জানালেন, টস জিতলে তিনিও ব্যাটিং নিতেন। ইংল্যান্ডের শুরুটাও একদম খারাপ হয়নি। মঈন আলী তো টানা তিনটি চারও মারলেন এই সাউদিকেই! কিন্তু দ্রুতই ছন্দ পেয়ে যান সাউদি। অসাধারণ সিম পজিশন, ফুল লেংথে টানা বল করে যাওয়া, বাতাসে সর্পিল সুইং আর বোলিং ক্রিজকে দারুণভাবে ব্যবহারের পুরস্কার ৭ উইকেট!
এই ৭ উইকেটের একটিও পড়ে পাওয়া নয়। একটির চেয়ে আরেকটিতে বেশি মুগ্ধতাজাগানিয়া সব বল। নিখুঁত আউটসুইঙ্গারেই পেয়েছেন চারটি উইকেট। প্রথম স্পেলে যদিও এসবের ইঙ্গিত ছিল সামান্যই, ৫-০-২৩-২। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরেই জাদুকরি সুইংয়ে একের পর এক শিকার, ৪-০-১০-৫! শেষ ৭ উইকেট হারিয়েছে ইংল্যান্ড ১৯ রানে। এক পাশ আগলে রাখা জো রুট শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে উইকেট উপহার দিয়ে এসেছেন অ্যাডাম মিলনেকে। নইলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা বোলিং হতেই পারত সাউদির। তখনো যে তাঁর ওভার ছিল একটি!
সাউদির ধাক্কা সামলে উঠবে কী, ভূপাতিত ইংলিশদের গুঁড়িয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিলেন ম্যাককালাম। ২৫টি বল খেলেছেন, ১৫টিকেই পাঠিয়েছেন সীমানার বাইরে। ৭টি হাওয়ায় ভাসিয়ে, ৮টি মাটি কামড়ে। স্টিভেন ফিনের এক ওভারে চার ছক্কাসহ এসেছে ২৯ রান। নিউজিল্যান্ড যখন জিতল, ১০০ ওভারের খেলা অর্ধেকও গড়ায়নি। ওয়েলিংটনের বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়েছে, ওয়েস্ট প্যাকের ফ্লাড লাইটগুলো ছিল ঘুমিয়েই।
কিউই ড্রেসিং রুমে তবু আলোর রোশনাই, নিকষ অন্ধকারে ইংলিশ ড্রেসিং রুম! তথ্যসূত্র: স্টার স্পোর্টস, ক্রিকইনফো।

বিজ্ঞাপন
খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন