ফ্রেঞ্চ ওপেনে এবারের ফাইনালের আগে ৫৫ বার মুখোমুখি হয়েছেন রাফায়েল নাদাল ও নোভাক জোকোভিচ।
ফ্রেঞ্চ ওপেনে এবারের ফাইনালের আগে ৫৫ বার মুখোমুখি হয়েছেন রাফায়েল নাদাল ও নোভাক জোকোভিচ। ফাইল ছবি, রয়টার্স

দুজন দুজনের কত যে চেনা—রাফায়েল নাদাল আর নোভাক জোকোভিচের ব্যাপারটা মানেন খুব করেই। দুজনই তাঁদের ক্যারিয়ারে একে অন্যের বিপক্ষে এত বেশি লড়েছেন যে আজ ফ্রেঞ্চ ওপেনে এই দুই তারকার ফাইনালকে নতুন কোনো উপমায় উপমিত করতে একটু কষ্টই হচ্ছে। টেনিসের উন্মুক্ত যুগে মুখোমুখি লড়াই সবচেয়ে বেশি হয়েছে এ দুজনের মধ্যেই। দুজনের এবারকার লড়াইটিকে অনেকে বলছেন স্বপ্নের ফাইনাল। কেউ আবার আছেন সাম্প্রতিক সময়ের সেরা টেনিস-লড়াইয়ের অপেক্ষায়। কিন্তু এ লড়াইয়ের কুশীলব যে দুজন, সেই নাদাল আর জোকোভিচ ফাইনালটি নিয়ে রোমাঞ্চিত হলেও নিজেদের শান্তই রাখছেন!

টেনিস কোর্টে নাদাল-জোকোভিচের লড়াইয়ের ৫৬তম পর্ব এটি। নিজেদের লড়াইয়ের ইতিহাসে ৫৬তম পর্বে এসে দুজনেই দাঁড়িয়ে ইতিহাস গড়ার সামনে। এই মুহূর্তে বিশ্বের এক নম্বর তারকা জোকোভিচ রোলাঁ গারোর এই লড়াই জিতলে হয়ে যাবেন ১৮টি গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপার মালিক। প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী নাদালের চেয়ে গ্র্যান্ড স্লামে তাঁর শিরোপা-সংখ্যা একটিই কম থাকবে। শুধু কি তাই? শিরোপা জিতলে যে আরও বড় ইতিহাস গড়বেন সার্বিয়ান তারকা। অর্ধশতকের মধ্যে চারটি গ্র্যান্ড স্লামই দুবার করে জেতা প্রথম টেনিস খেলোয়াড় হয়ে যাবেন জোকোভিচ।

default-image
বিজ্ঞাপন

নাদালকে বলা হয় ক্লে কোর্টের রাজা। ক্যারিয়ারের ১৯টি গ্র্যান্ড স্লামের ১২টিই জিতেছেন প্যারিসের লাল দুর্গে। নিজের ‘ঘরে’ ১৩তম শিরোপাটি জিতলেই গ্র্যান্ড স্লামের শিরোপা জয়ের রেকর্ডে স্পেনের তারকা ছুঁয়ে ফেলবেন কিংবদন্তি রজার ফেদেরারকে। ম্যাচটি জিতলে একটি সেঞ্চুরিও হয়ে যাবে নাদালের। ৩৪ বছর বয়সী তারকা রোলাঁ গারোতে জিতবেন নিজের ১০০তম ম্যাচ। রোলাঁ গারোর সঙ্গে ১৫ বছরের ভালোবাসার বন্ধনে মাত্র দুটি ম্যাচই হেরেছেন নাদাল। যার মধ্যে একটি ২০১৫ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে, আজকের প্রতিপক্ষে জোকোভিচের কাছেই!

প্রতিপক্ষ হিসেবে নাদালের জন্য জোকোভিচ একটু কঠিনই। তবে এবারের টুর্নামেন্টে নাদালকে এক কথায় অপ্রতিরোধ্যই মনে হচ্ছে। ফাইনালে ওঠার পথে হারেননি একটি সেটও, ‘এই মুহূর্তে আমি সেরা ছন্দে আছি’ বলে নিজের আত্মবিশ্বাসের পর্যায়টাও জানিয়ে দিয়েছেন স্পেনের তারকা। লাল দুর্গের রাজা নাদালকে নিয়ে খুব সতর্কও জোকোভিচ, ‘এটা রাফার ঘর। ক্লে কোর্টে তার সঙ্গে খেলাটা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’

default-image

তবে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন জোকোভিচও। এ বছর একটি ম্যাচ হারার বিপরীতে জিতেছেন ৩৭টি। সব মিলিয়ে আত্মবিশ্বাসী জোকোভিচ নাদালের বিপক্ষে ম্যাচটিকে তাঁর সঙ্গে খেলা আর দশটি ম্যাচের মতোই দেখছেন, ‘আমার কিন্তু মনে হয় না আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ম্যাচ এটা। তার বিপক্ষে খেলা সবচেয়ে বড় ম্যাচ ছিল আমার প্রথম উইম্বলডন ফাইনাল। আমি সব সময়ই উইম্বলডন জিততে চাই। সেই ছোট বেলা থেকেই উইম্বলডন জয়ের স্বপ্ন দেখতাম।’ আর ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনাল? জোকোভিচ নিজের ক্যারিয়ারে সেটার গুরুত্ব নিয়ে বলেছেন, ‘ফ্রেঞ্চ ওপেনের শিরোপা জয়ের আগে এখানে প্রত্যেকটি ফাইনালই আমার কাছে ছিল জীবনের সেরা ম্যাচ।’

শিরোপা জয়ের আত্মবিশ্বাস দুজনেরই আছে। আবার দুজনেরই আছে প্রতিপক্ষের প্রতি শ্রদ্ধা। জোকোভিচ যেমন বলে দিয়েছেন, নাদালের বিপক্ষে ক্লে কোর্টে খেলাটাই বড় এক চ্যালেঞ্জ, একই ভাবে জোকোভিচের প্রশংসায়ও পঞ্চমুখ হয়েছেন নাদাল, ‘আমি একটা ব্যাপারে নিশ্চিত, নোভাকের বিপক্ষে জিততে হলে আমাকে সেরা খেলটাই খেলতে হবে।’

মঞ্চ তৈরি, তৈরি লড়াইয়ের কুশীলবেরা। বিশ্বের তাবৎ টেনিসপ্রেমীরা রোমাঞ্চকর একটি ফাইনালের অপেক্ষা করতেই পারে!

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0