default-image

শুরুর সঙ্গে শেষটাও যদি মিলে যায়, মন্দ কী! ড্র হয়ে যাবে চট্টগ্রাম টেস্ট।
গত অক্টোবরে চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিন চা-বিরতি পর্যন্ত নিউজিল্যান্ড ১৮৬ রান করেছিল ২ উইকেটে। কাল শ্রীলঙ্কাও চায়ের পেয়ালা হাতে নেওয়ার আগে ১৯৬ রান করল ২ উইকেট হারিয়েই। প্রথম দিন শেষে ২৮০ রান করতে ব্ল্যাকক্যাপরা হারিয়েছিল ৫ উইকেট। কাল শ্রীলঙ্কা দিন শেষে ৫ উইকেট হারিয়েই করল ৩১৪। গত বছর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সে টেস্টটা পাঁচ দিন খেলে ড্র করেছিল বাংলাদেশ। এত মিলের পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টেও সে রকম কিছুর আশা করতে দোষ কী!
প্রথম দিন শেষেই টেস্টের ফলাফল কল্পনার চেষ্টা বাড়াবাড়ি মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, কুমার সাঙ্গাকারা-মাহেলা জয়াবর্ধনের মতো বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরাও যদি ব্যাটিং স্বর্গের সুবিধা কাজে লাগাতে পারেন, শ্রীলঙ্কান বোলারদের পক্ষে সহজ হবে না তাঁদের আউট করা। এ রকম উইকেটে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের লম্বা ইনিংস খেলার সামর্থ্য আগেই প্রমাণিত। বোলারদের ফাঁদে পা না দিয়ে নির্ভুল ব্যাটিং করে যেতে পারলে সাকিব-মুশফিকরাও যে সাঙ্গাকারা-মাহেলা হয়ে উঠবেন না, সেটি কে বলতে পারে!
তার আগে অবশ্য তুলে নিতে হবে শ্রীলঙ্কার আরও পাঁচ উইকেট। করণীয় কী, দিন শেষে দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা মাহমুদউল্লাহ বলে গেলেন, ‘বল এখনো নতুন আছে, সাত ওভারের মতো বল হয়েছে। কাল (আজ) শুরু থেকে আমাদের লাইন-লেংথ ভালো থাকতে হবে। আজ (কাল) যেমন ভালো বল করেছি কাল তার চেয়েও ভালো বল করতে হবে।’
শ্রীলঙ্কাকে অলআউট করতে সবার আগে ভাঙতে হবে কুমার সাঙ্গাকারা ও কিথুরুয়ান ভিথানাগের জুটি। ভিথানাগে আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছেন। সাঙ্গাকারা তো কাল নিজের ৩৪তম টেস্ট সেঞ্চুরি করে অপরাজিত আছেন ১৬০ রানে। বুঝতেই পারছেন বাকি ৫ উইকেট নেওয়ার প্রথম ধাপটা হবে কত কঠিন।
অবশ্য প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ বোলারদের জন্য প্রেরণার উৎস হতে পারে। টসে জিতে শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেও লাঞ্চের আগেই দুই ওপেনারকে ড্রেসিংরুমে ফেরত পাঠিয়ে দিলেন বাংলাদেশ বোলাররা। দলের ৩৯ রানে সোহাগ গাজীর বলে এলবিডব্লু প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরি করা কৌশল সিলভা। ১০ রান পর আল আমিনের বলে দিমুথ করুনারত্নে পয়েন্টে ক্যাচ দিলেন মাহমুদউল্লাহর হাতে।

৪৯ রানে ২ উইকেট—বোলারদের জন্য আশা জাগানিয়া শুরুই। উইকেট একদমই পেসারদের উপযোগী নয় বলে এই টেস্টে বাংলাদেশ দল পেসার খেলাচ্ছে মাত্র একজন এবং সেই পেসারও সবচেয়ে অনভিজ্ঞ আল আমিন। শুরুর দিকে ন্যাড়া উইকেটে বল ভালোই তুলছিলেন। দিন শেষে বোলিং বিশ্লেষণটাও (১৯-৪-৫৬-১) একেবারে খারাপ নয়। তবে দলে একমাত্র পেসার বলে নবীন আল আমিনের ওপর চাপটা বোধ হয় একটু বেশিই পড়ে গেল। আরেকটা কারণ অবশ্য মাত্র ৪ ওভার বল করেই বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে টান পড়ে রাজ্জাকের মাঠ ছাড়া। সারা দিনে আর মাঠে না নামলেও বিসিবির চিকিৎসক দেবাশিষ চৌধুরী জানিয়েছেন, রাজ্জাকের চোট ততটা গুরুতর নয়। আর কোনো সমস্যা না হলে আজ মাঠে নামবেন এই স্পিনার।
বাংলাদেশ দলের ওপর আসল চাপটা তুলে দিতে পারতেন অবশ্য কুমার সাঙ্গাকারা আর মাহেলা জয়াবর্ধনে। প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ মানেই এই জুটির উঁচু একটা দেয়াল বানিয়ে ফেলা। কাল সে কাজে তাঁরা ব্যর্থই বলতে হবে। টেস্টে যেকোনো উইকেট জুটিতেই সর্বোচ্চ (৬২৪) রানের রেকর্ড যাঁদের, সেই জুটির জন্য ১৭৮ রানের জুটি তো কমই! তৃতীয় উইকেটে সাঙ্গাকারা-জয়াবর্ধনের জুটিটাই শ্রীলঙ্কার ইনিংসের মেরুদণ্ড। নইলে চা-বিরতির পর ৮৫ রানে ৩ উইকেট হারানো শ্রীলঙ্কার অবস্থা প্রথম দিন শেষে আরও খারাপ হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকত না।
দলের ২২৭ রানের সময় মাহমুদউল্লাহর বলে জয়াবর্ধনের এলবিডব্লুতে ভাঙে ভয় জাগানিয়া ওই জুটি। সাঙ্গাকারা-জয়াবর্ধনের মতো দিনেশ চান্দিমাল এবং ম্যাথুসও উইকেটে পড়ে থাকার মন্ত্র নিয়ে নামলে দিনের শেষে আরেকটু চাপে থাকতে হতো বাংলাদেশকে। কিন্তু ৮৫তম ওভারে নতুন বল নেওয়ার পর নিজেদের ভুলেই উইকেট বিলিয়ে দিলেন তাঁরা। দুজনই আউট হয়েছেন তাড়াহুড়োর শট খেলে। সাকিবকে ডাউন দ্য উইকেটে গিয়ে মেরে পয়েন্টে ক্যাচ তুলেছেন চান্দিমাল। সাকিবের বলেই অফ স্টাম্পের ওপর আসা বলের লাইন মিস করে বোল্ড ম্যাথুস।
গত বছর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে প্রথম দিনের শেষ উইকেটটা পড়েছিল দিনের ৯০তম ওভারে। কালও তা-ই, শুধু রাজ্জাকের জায়গায় সাকিব আর ব্রেন্ডন ম্যাককালামের জায়গায় অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। প্রথম দিনের মিল তো এখানেও! দুই ম্যাচেই প্রথম দিনের শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়েছেন প্রতিপক্ষের অধিনায়ক।
প্রথম দিনের ঘটনাপ্রবাহে যখন এত মিল, চট্টগ্রাম টেস্টে ভালো কিছুর আশা কেন করবে না বাংলাদেশ?

বিজ্ঞাপন
খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন